শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  

…..জগন্নাথ জানে লীলা ওকে আগলাবেই। কারণ, লীলার সঙ্গে সামাজিক ভাবে ওর দেওর-বৌদি সম্পর্ক হলে কী হবে, আসলে তলায় তলায় ওদের সম্পর্কটা অনেক আদিম! এই যে লীলার দুই সন্তান, তারা কার? হারু ঘোষের নাকি?

হারু প্রায়ই বর্ধমান, বাঁকুড়া ইত্যাদি জায়গায় যায় সেখানকার চালক- লগুলোর তদারকি করতে। লীলার রাতগুলো তখন কাটে জগন্নাথের সঙ্গেই ।

লীলা বলে, “তোমার দাদার টাকা ছাড়া কিছু নেই। কিচ্ছু না। ব্যাটাছেলে নাকি ও? ওর দ্বারা কোনও কাজ হয় না। কেন বিয়ে করেছিল আমায়! আমার ওপর উঠে একটু নড়াচড়া করেই সব শেষ হয়ে যায় ওর! আমার ওতে হয় নাকি!”

লীলার যে ওতে হয় না সেটা জানে জগন্নাথ। মানে যাকে বলে হাড়ে হাড়ে জানে। বিড়ি খেয়ে দম কমে গিয়েছে জগন্নাথের। তাই আজকাল রীতিমতো কষ্ট হয় লীলাকে সামলাতে। লীলা আঁচড়ে- কামড়ে শেষ করে দেয় ওকে। সেই সব মুহূর্তে আহত বাঘিনির মতো হয়ে যায় লীলা!

আদরের সময় লীলা উত্তেজিত হয়ে বলে, “আমাকে বাঁধো, আমাকে বেঁধে করো। কামড়ে দাগ করে দাও… জোরে কামড়াও… মাগো… এবার এইখানে… হ্যাঁ, এ ভাবে…”

জগন্নাথের ইদানীং কষ্ট হলেও সে সব সামলে আদর-টাদর ভালই পারে এখনও । লীলার মনমতো আদর করতে পারে। তাই লীলা সময় পেলেই এসে জগন্নাথের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর শরীরের বৃত্তি শেষ হয়ে গেলে বলে, “অন্য কোনও রাক্ষসীর কাছে যদি যাও, তা হলে দেখো কী করি?”

হাঁপিয়ে, ঘেমে, চিত হয়ে শুয়ে জগন্নাথ হাসে। প্রাণপণে শ্বাসবায়ু শুষে নিতে নিতে জিজ্ঞেস করে, “কেন, কী করবে?”

লীলা হিসহিসে গলায় বলে, “জগন্নাথ ঘোষ খুন হয়ে যাবে আমার হাতে।”

“তাই?” জগন্নাথ আরও হাসে।

লীলা চিত হয়ে শুয়ে থাকা জগন্নাথের ওপর ওঠে আবার। এলো চুল বুকের ওপর থেকে পেছনে সরিয়ে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। তার পর জগন্নাথকে নিজের মধ্যে গেঁথে নিয়ে বলে, “আসুক কোনও রাক্ষসী, দেখবে!”

জগন্নাথ বুক পকেট থেকে বিড়ির প্যাকেটটা বের করল। তার পর চোয়াল শক্ত করল। ভাবল, লীলা জানে না যে, ওর রাক্ষসী এসে গিয়েছে। জানে না সেই জন্য আজকাল লীলাকে আদর করতে এত পরিশ্রান্ত লাগে, বিরক্ত লাগে ওর!…..

….হারু সে দিন বাড়ি ছিল না। যথারীতি ছেলে আর মেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর লীলা এসেছিল ওর কাছে। জগন্নাথ ঘরের দরজা খোলা মাত্র লীলা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওর ওপর।

তার পরের কুড়ি মিনিট লীলা রীতিমতো যুদ্ধ করেছিল ওর সঙ্গে। সবশেষে লীলার ওপর শুয়ে ওঠাপড়ার মাঝে, মিলনের শীর্ষে পৌঁছোনোর সময় চোখ বন্ধ করে নিয়েছিল জগন্নাথ । তার পর কেঁপে উঠে স্খলন হওয়ার মুহূর্তে যেন মনে মনে দেখেছিল ওর বুকের নীচে লীলা নয়, শুয়ে আছে রতি! আর সেই পাউডারের গন্ধটা আচমকা ভেসে উঠেছিল স্মৃতিতে!

মনের মধ্যে কেমন যে করছিল জগন্নাথের! সেই শিহরনের সঙ্গে সঙ্গে বালিশে মুখ গুঁজে ও সামলানোর চেষ্টা করছিল নিজেকে। আশ্লেষে মুখ দিয়ে রতি নামটা বেরিয়ে আসতে চাইছিল বারবার । আর সেটাকে আটকে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছিল।

লীলা কিছুক্ষণ পরে আবার ওকে ধরে নানা ভাবে চেষ্টা করছিল। কিন্তু কিছুতেই উত্তেজিত হচ্ছিল না জগন্নাথ। বরং কেবলই যেন দেখতে পাচ্ছিল, ওর দিকে চোখ তুলে কেমন একটা মুখ করে তাকিয়ে রয়েছে রতি!

বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পরে হাল ছেড়ে দিয়েছিল লীলা ।

মুখ তুলে বিরক্ত হয়ে বলেছিল, “কী হল তোমার? এমন ম্যাদা মেরে আছ কেন? আর পারবে না? তোমার দাদা চলে আসবে কাল। তার পর তো আর মাসখানেক হবে না। এমন করছ কেন?”

জগন্নাথের বিরক্ত লাগছিল লীলাকে । এই যে সামনে নগ্ন হয়ে বসে রয়েছে! বয়সের থাবা বসানো মুখের রেখা। পেটে চর্বি। শিথিল স্তন। সব দেখে কেমন যেন খারাপ লাগছিল বুঝতে পারছিল এটা জগন্নাথের। অন্যায় হচ্ছে। যে-মহিলার সঙ্গে এত বছর ধরে সহবাস করেছে, তার প্রতি এমন বিতৃষ্ণা আসাটা উচিত নয়। কিন্তু আবার এ-ও মনে হচ্ছিল, ওদের এই সম্পর্কটাই তো অবৈধ! এটা তো সারা জীবন চলতে পারে না!…..

…..রতি কোনও কথা না বলে এগিয়ে এসেছিল ওর দিকে। তার পর একদম সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। বসে থাকা জগন্নাথের মুখের কাছে রতির দুটো বুক, মেঘ ভেদ করে ভেসে ওঠা চূড়ার মতো ভেজা শাড়ির মধ্য থেকে জেগে ছিল ।…..

…..জগন্নাথ মাটির কয়েক হাজার ফুট ভেতর থেকে নিজের গলার স্বর খুঁড়ে বের করে অস্ফুটে জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি কী পাউডার লাগাও?”

রতি থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্ত। তার পর দ্রুত হাতে শাড়ির আঁচল ফেলে দিয়ে ব্লাউজ়ের হুক খুলে দিয়েছিল। এক মুহূর্ত থেমে তাকিয়েছিল জগন্নাথের দিকে। দেখেছিল, জগন্নাথ অপলক তাকিয়ে রয়েছে ওর বৃত্ত দু’টির দিকে ।

রতি আচমকা জগন্নাথের মুখটাকে টেনে নিয়ে ডুবিয়ে নিয়েছিল বুকের মধ্যে। তার পর ঘন শ্বাসের ওঠাপড়ার সঙ্গে আবছা গলায় বলেছিল, “তুমি বলো দেখি কী পাউডার!”

তার পর বৃষ্টি আর বৃষ্টি! ঘরে, বাইরে ও সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে এক মহাপ্রলয়! লেখার সেই পাতা, পেন, ব্যাগ কোথায় যে ছিটকে গিয়েছিল গ্রহ নক্ষত্রের তীব্র আকর্ষণে, তা আর মনে ছিল না জগন্নাথের।

অনেকক্ষণ পরে জগন্নাথের যেন হুঁশ এসেছিল। দেখেছিল, বড় টেবিলের ওপর শুয়ে রয়েছে ও। আর ওর ওপর নিজেকে বিছিয়ে রেখেছে রতি।

জগন্নাথ রতিকে সরিয়ে উঠে বসেছিল। জামাকাপড় পরতে পরতে বলেছিল, “এটা ঠিক হল না রতি।”

রতি বলেছিল, “সব ঠিক হয়েছে! বেশ হয়েছে! আরও হবে!” বলেছিল, “আমি চাই বারবার এমন হোক!”

সেই দিন আর আজকের দিন। এর আরও মধ্যে রতির সঙ্গে জগন্নাথের সম্পর্ক গভীর হয়েছে। শরীরের দেওয়াল টপকে এখন মন খুঁজে পেয়েছে শান্তি। রতিকে শুধু জড়িয়ে ধরে থাকলেও জগন্নাথের ভাল লাগে। ওর গায়ের সঙ্গে লেপটে থাকতে ইচ্ছে করে সারাক্ষণ। রতি কাছে না থাকলে কেমন একটা শূন্য হলঘর যেন বুকের মধ্যে থমথম করে! বাতাসে কমে আসে অক্সিজেন! রাতে ঘুমের মধ্যে রতিকে দেখতে পায় যেন! জীবনের এই জায়গায় এসে এ ভাবে যে কারও সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে, সেটা স্বপ্নেও ভাবেনি জগন্নাথ । রতি বলেছে জগন্নাথকে ভালবাসে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, জগন্নাথকে ওকেই বিয়ে করতে হবে ।

শুধু ওকে কাছে রাখলেই হবে। কিন্তু জগন্নাথ বিয়ে করতে চায় রতিকে। এমন লুকোচুরি আর ভাল লাগে না। লীলাকে আর ও আসতে দেয় না ওর ঘরে। নানান অজুহাতে দূরে রাখে। লীলা রাগ করে। খিটখিট করে। এমনকি, কান্নাকাটিও করে। মাঝে মাঝে ভয় দেখায় বিছানায় অন্য ছেলেকে তুলবে বলে ।

কিন্তু তাতে জগন্নাথের আর কিচ্ছু আসে-যায় না। যা খুশি করুক লীলা। মন ঘুরে গিয়েছে মানে, মন ঘুরেই গিয়েছে। আর লীলাকে সহ্য হচ্ছে না ওর। জীবন জীবন ওকে একটা সুযোগ দিয়েছে। কেন নেবে না সেটা? ও জানে লীলা দু’দিন এ সব করবে, তার পর নিজেই চুপ করে যাবে। লীলা তো আর হারুকে বলতে যাবে না যে, কী সব চলেছে এত বছর ধরে!…..

…..“শুনুন, আর-একটা শর্ত আছে,” বাচ্চু লীলার চোখ থেকে চোখ সরাল না। শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছে ওর। গলা শুকনো।

“কী, বলো?” লীলা তাকাল ।

“দেখব। শুধু একবার। আপনার বুক দুটো একবার দেখব,” বাচ্চু সামান্য হাঁপাচ্ছে উত্তেজনায়।

“কী!” লীলা যেন বুঝতে পারল না!

“বুক দুটো দেখব একবার। অনেক দিনের ইচ্ছে… একবার…” বাচ্চুর শ্বাস ঘন হয়ে এল আরও।

“শয়তান! এত বড় সাহস!” লীলা ফোঁস করে উঠল।

“মার্ডার করতে বলছেন নিজের দেওরকে। সেটা কি কম সাহস হল? আমি কী এমন বেশি চেয়েছি? শুধু তো দেখব। সেই কবে থেকে ইচ্ছে! একবার মাত্র । না হলে বলে দিন আমি চলে যাই।”

লীলা তাকিয়ে রইল ওর দিকে।

বাচ্চু বলল, “আমি তা হলে এলাম।”

“দাঁড়াও,” লীলা চোয়াল শক্ত করল, “আমায় ছোবে না কিন্তু।”

“দেখব শুধু। আর কিছু না,” বাচ্চুর গলায় কোথা থেকে যে এত সাহস এসেছে, ও নিজেই বুঝতে পারছে না।

লীলা চোয়াল শক্ত করল। মাথার দু’পাশের রগ ফুলে উঠছে ওর। লীলা গা থেকে প্রথমে চাদর, তার পর আঁচল সরিয়ে ব্লাউজ়ের হুকে হাত দিল।

বাচ্চুর মনে হচ্ছে বুকের মধ্যে বাজারের সেই শম্ভু ষাঁড়টা ঢুকে পড়ে সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে! হারু ঘোষের স্ত্রী ওর সামনে বুকের কাপড় সরাচ্ছে! এই দৃশ্য ভেবে ও কতবার যে নিজেকে মোচন করেছে তার ঠিক নেই।

লীলা আস্তে আস্তে নীল রঙের ব্লাউজ়ের সামনের হুকগুলো খুলল। তার পর থমকাল এক মুহূর্ত। যেন নিজেকে প্রস্তুত করল এই অবস্থার জন্য। তার পর এক ঝটকায় জানলার পাল্লার মতো খুলে দিল সবটা।

ঘরের ঘোলাটে আলোটা যেন পিটপিট করে উঠল হঠাৎ। ঘরটাও কি কাত হয়ে গেল একটু! বাচ্চুর মুখ হাঁ হয়ে গেল। ও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল লীলার উন্মুক্ত বুকের দিকে। দেখল, ডান বৃন্তের ওপরে মটরদানার মতো একটা লাল তিল! যেন আকাশের বুকে চকচক করছে মঙ্গল গ্রহ! ঈশ্বরের চোখ!……

….. দেখেছে নিতাই নাকি বুকে হাত দিয়ে অসভ্যতা করছিল লীলার সঙ্গে!

বুকে হাত মোটেও দেয়নি নিতাই। লীলা কোনও দিন সেই সুযোগই দেয়নি ওকে। আসলে লোকজন এমন করে বাড়িয়ে বলা পছন্দ করে। আর মালতীদির বাবাটা হাড়বজ্জাত। ওদের একতলার বাথরুম থেকে ওরা যখন স্নান সেরে, বুকে কাপড় বেঁধে বেরোয়, বুড়োটা নিজের বাড়ির দোতলা থেকে উঁকিঝুঁকি দেয়!…..

…..হারু একটা ঢেড়স! ওর দ্বারা যে কিছু হবে না সেটা ফুলশয্যাতেই বুঝে গিয়েছিল। তা ছাড়া হারুর গায়ে কেমন যেন একটা গন্ধ। যেন সারা গায়ে ঘি মেখে এসেছে! বমি আসছিল লীলার। কিন্তু সহ্য করছিল, যে ভাবে মেয়েদের অনেক কিছু সহ্য করে থাকতে হয়। ,

ফুলশয্যার রাতে হারু জল থেকে তুলে রাখা মাছের মতো খাবি খাচ্ছিল ওর ওপর। তার পর কোনও মতে নিজেকে শেষ করে নেমে বলেছিল, “তুমি খুশি তো?”…..

…..জগন্নাথ আচমকা লীলার হাতটা চেপে ধরেছিল কপালে, তার পর কপাল থেকে নিয়ে এসে চেপে ধরেছিল গালে।

লীলা আর পারছিল না। নিশ্বাসে যেন ফুলকি বেরোচ্ছিল। মনে হচ্ছিল পা দুটো তুলোর তৈরি! প্রায় পড়ে যাচ্ছিল ও। জগন্নাথ কোমরটা বের দিয়ে ধরে ফেলেছিল ওকে। তার পর টেনে এনে বসিয়েছিল কোলে।

আর বৃষ্টি পড়ছিল বাইরে। অঝোরে ঝাপসা একটা শব্দ পর্দার মতো ঘিরে রেখেছিল ওদের।

কিছু পরে লীলার ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিল জগন্নাথ। লীলার মাথা হাল্কা লাগছিল। জিভ অসাড়। শ্বাস পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়োচ্ছিল ফাঁকা মাঠ পেয়ে!

ও শুধু অস্ফুটে বলেছিল, “আমায় নেবে না?”

জগন্নাথ লীলাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিল। তার পর দ্রুত হাতে দরজা বন্ধ করে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়েছিল বিছানার কাছে। লীলা নিজেকে উন্মোচিত করতে করতে তাকিয়েছিল জগন্নাথের দিকে। জগন্নাথও দ্রুত নিজেকে মেলে ধরেছিল সম্পূর্ণ, তার পর এগিয়ে গিয়েছিল লীলার দিকে।

বেশ কিছু পরে জগন্নাথের বুকের মধ্যে মিশে থেকে লীলা বলেছিল, “আর কারও কাছে গেলে আমি তোমায় মেরে ফেলব, দেখো!”

সেই উনিশ থেকে এখন বিয়াল্লিশ! তেইশ বছর জগন্নাথ ছাড়া আর কাউকে ভালবাসেনি লীলা।

জগন্নাথ ছাড়া আর কাউকে ভালবাসেনি লীলা। বাচ্চা দুটো পর্যন্ত ওর। আর সে কিনা অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে পার্টি অফিসে শুচ্ছে!…..

….লালু বলে, “ম্যাডাম হেভি কড়া। রাগীও। শুধু ওইটা উঠলে ম্যাডামের শক্ত মনটা আর শক্ত থাকে না। তখন অন্য খেল।”…..“ওইটা উঠলে মানে? কী উঠলে?” কবি অবাক হয়ে গিয়েছিল প্রথম দিন ।

লালু হেসেছিল খুব। তার পর বলেছিল, “সেক্স কাকা, সেক্স! হিট! তখন আমাকে ছেলে ধরে আনতে হয়। বুঝলে? একটা লোক আছে। পাখিদা। এজেন্ট। সে সাপ্লাই করে।”

আর শুনতে চায়নি কবি। লালুর কোনও বোধ নেই। কী সব যে বলে! যার হয়ে কাজ করে মানুষ, তার, সম্বন্ধে এ সব কেউ বলে!

ও লজ্জা পাচ্ছে দেখে লালু হেসেছিল। বলেছিল, “সেক্স শুনেই লজ্জা পেলে! আরে বাবা ওটাও তো একটা নিড, না কি! সাহেব আলাদা থাকেন। কিছু করেন না। তা, ম্যাডাম কী করবেন? বাড়িতে রান্না না হলে মানুষ তো বাজার থেকেই কিনে খাবে, না কি!”…..

…..লালু বলেছিল ওকে। বলেছিল, “মালটার যত হম্বিতম্বি সাধারণ লোকের ওপর। আসলে ওর দাঁড়ায় না। তাই বউ পালিয়েছে!

সেক্স ভাই আসল জিনিস। না দিতে পারলে কোনও পাখি পোষ মানবে না!”…..

….বুড়িদি নিজের পাটকিলে রঙের চুলে হাত বুলিয়ে হেসে বলল, “আহা, ভুল বললাম নাকি! এখানে আসিস কেন জানি না? ঘর বন্ধ করে কী করিস জানি না? ও পারে ঠিক মতো? ওই তো বিশাল ভুঁড়ি!” বিন্দি কী বলবে বুঝতে পারল না। বুড়িদির বয়স হলেও এখনও মুখ অল্পবয়সিদের মতো আলগা । যা খুশি বলে। তাও বলল, “তুমি না!”

বুড়িদি আরও চওড়া করে হাসল। বলল, “মাগি দেখ! ও সব করার সময় তো লজ্জা লাগে না । তখন তো খুব রস! আর আমি বললেই দোষ! আমি বলে আমার ঘরে এ সব করতে দিই। অন্য কেউ হলে কবে মাধুকে বের করে দিত! দেশে বউ-বাচ্চা রেখে এখানে অন্য মাগিকে সোহাগ মারাচ্ছে! আর আমি একটু…”….

…..বৌকে ভালবাসে না বলে মাধু। কান্না-ভেজা মুখ তুলে তার পর মাধু জড়িয়ে ধরে ওকে। গোগ্রাসে চুমু খায়। বিন্দির মুখের মধ্যে জিভ ভরে কী যেন খুঁজতে থাকে। দু’হাত দিয়ে পিষে ফেলতে চায় বিন্দিকে। নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে চায় যেন! বিন্দিও পরে একটা সময় সাড়া দেয়! কিন্তু তাও ও বোঝে, ওর মধ্যেকার আসল যে বিন্দি, সে যেন ওর শরীর থেকে বেরিয়ে, এই ক্রীড়া থেকে দূরে বসে থাকে আনমনে। সে ভাবে যেন কিছু অনুভবই করে না ও। শুধু যেন সহযোগিতা করে। যে ওকে খুব ভালবাসে বলে দাবি করে, তার সঙ্গে সহযোগিতা করে মাত্র!

আজও তাই হয়েছে। মাধু ওর ওপর হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করার সময় বিন্দি কেবল সহযোগিতা করেছে। কেউ ওকে ভালবাসলে ও তাকে ভালবাসতে দিয়েছে মাত্র!…..

…. এ সব যদির কথা নদীতে বিসর্জন দেওয়াই ভাল। ও বলল, “ম্যাডামের মেয়ে এসেছে বিদেশ থেকে। তাই বেশি রাত করতে পারবে না। তুমি ঠিক টাইম মতো ছেলেটাকে পাঠিয়ে দিয়ো কিন্তু।”

“ধুর! তোর শালা এক পোঁ! সব ঠিক হবে। তুই বেকার ঝামেলা করিস না তো! শোন, নেক্সট মান্থে দিল্লি থেকে একটা ছেলে আসবে। অভিনেতা। মুম্বইয়ে ফিল্মে সাইড রোলে টুকটাক কিছু কাজ করেছে। হিরোর বন্ধু, হিরোইনের ভাই টাইপ। চেহারায় হেভি পালোয়ান। তোকে কিছু ছবি মেসেজ করে দেব। ম্যাডামকে দেখাস। তবে রেট গুরু হাই। পার শট পঞ্চাশ হাজার! দু’ঘণ্টা টাইম,” পাখিদা চা শেষ করে পালঙ্কের পাশের একটা টেবিলে রাখল কাপটা।…..

…..গ্রামে থাকার সময় পঞ্চাশোর্ধ মহিলাদের কাকিমা, মাসিমা বা কাউকে কাউকে দিদা বলেও ডাকত লালু। তারা খুব আটপৌরে জীবনযাপন করত। সেই বড় হয়ে ওঠার বয়সে লালু বুঝত, তাদের জীবনে যৌনতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই!

কলকাতা ওর যৌনতার ধারণাও পাল্টে দিয়েছে। এখানে দেখেছে যে, মহিলাদের পঞ্চাশোর্ধ বয়সটা কোনও বয়সই নয়! এই বয়সেও তাদের যৌনতা দিব্যি বেঁচেবর্তে আছে। লালু এখানে আসার পরে বুঝেছে যে, যৌনতাকে পাপের সঙ্গে এক করে ফেলাটা কোনও কাজের কথা নয়। জীবনে যা কিছু অমোঘ, সেই তালিকায় যৌনতাও পড়ে। আর, কে কার সঙ্গে যৌন সম্বন্ধ স্থাপন করতে চায়, সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার! দু’জনের সম্মতি থাকলেই হল। …..

…..পাখিদা টাকাটা বের করে গুনেছিল মন দিয়ে। তার পর হেসে বলেছিল, “লালু! আরে বাওয়া! সত্যি করে লালু ছেলে নোস তো! নতুন চিড়িয়া ধরেছে দেখছি ম্যাডাম! শোন, ম্যাডামকে বলিস ছেলে ঠিক সময় পৌঁছে যাবে।”

“ছেলে! ম্যাডাম যে বললেন কী একটা মাল!” লালু অবাক হয়েছিল। “ছেলেরাই তো মাল বাবা! তোমার ম্যাডামের ছেলে লাগে। মানে সেক্স করার জন্য। বুঝেছ? সেই ছেলে সাপ্লাইয়ের দালালি করি আমি।”

লালু কী বলবে বুঝতে পারেনি। এক ধাক্কায় শরীরের সমস্ত রক্ত মুখে উঠে গিয়েছিল।

পাখিদা হেসে বলেছিল, “যা বাবা! এত লজ্জা পেলে হবে? হাগু হিসুর মতো সেক্সও দরকারি। ম্যাডাম বাড়িতে পায় না, তাই মার্কেট থেকে কিনে নেয়। বুঝেছিস? হাবা কোথাকার!”

পাখিদা এবার পকেট থেকে এক মুঠো বাদাম বের করে ওর হাতে দিয়ে বলেছিল, “শোন, কে কাকে লাগাবে সে সব ভাববি না। তোর কাজ যেটুকু, সেটুকু করবি। তা তোর কাট কত?”…..