অবৈধ – সৌরেন দত্ত

›› সম্পুর্ণ গল্প  

    উৎস  : -পরকীয়া প্রেম – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়  সম্পাদিত

উঃ নিঃশ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আবার, বেশ বুঝতে পারছি, যে কোনাে মুহূর্তে আমার দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তখন আমি খবরের কাগজের শিরােনাম হয়ে যাবোঃ বেচারা! জীবনের রঙ কি জানলাে না, পাগল করা মেয়েদের শরীরের ঘ্রাণ, প্রথম বৃষ্টি পড়া মাটির সেঁদো সেঁদো গন্ধ তার আর নেওয়া হলো না, তার আগেই…না, না, আমি বাঁচতে চাই, আমিও আমার অবৈধ বাবা-মায়ের মত একটা বেজন্মা সন্তানের জন্ম দিয়ে প্রতিশােধ নিতে চাই, দেখতে চাই শেষ কি, আমার এ বন্দীদশা যাপন করতে করতে দুপুর গ্রহণ গুণছে? এখন রাত কি দিন ঠিক বােঝা যাচ্ছে না। আমার চোখে ঠুলি পরানাের কতাে কি একটা জিনিষ চেপে দেওয়া হয়েছে, তাই দেখতে অসুবিধে হচ্ছে। আমি এখন কোথায়ই বা, এই সব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। আমি যেন এখন স্বপ্নের দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

আমার এখন ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছে দেবদাস হই। পারুকে না পাই, চন্দ্রমুখীকে তাে পাবাে। এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে প্রায় অধিকাংশ মেয়েই তাে চন্দ্রমুখী, পারুর মতাে কজন সতী মেয়ে আছে। তাই নিদেন পক্ষে চন্দ্রমুখীকে পেলেও চলবে। আমি সেই চন্দ্রমুখীর খোঁজে বেরিয়ে পড়েছি আপনার স্বপ্নের রাজ্যে।

আমার অবস্থা অনেকটা অভিমুন্যর মতো, মায়ের পেটে থাকার সময় থেকেই শুনে এসেছি, আদিবাসী মেয়েদের রঙ কালাে বলে কি হবে ওদের মন খুব ‘ভালাে। আর শরীরের যেন তুলনাই হয় না, যেমন নরম তেমন গরম। এদের হাতছানি আমার বাবা এড়াতে পারেনি। বাবা ঝাড়গ্রামের এক অঞ্চলের ফরেস্ট অফিসার, আর সেই সুত্রে সাওতাল আদিবাসীদের সঙ্গে খুব মেলামেশা এর। ফলেই এক আদিবাসী যুবর্তী মেয়ের প্রেমে পড়ে যান। বলাবাহুল্য, সে প্রেম দেহগত। আমার বাবা একজন লেডী কীলার, তার নজরে একবার যে পড়ে তার রেহাই নেই, তাকে তিনি তার শয্যাসঙ্গিনী না করে ছাড়েন না। এ নিয়ে আমার মার সঙ্গে বাবার কম ঝগড়াঝাটি হতাে না, আমি আমার মায়ের জঠরে থেকে ওঁদের সব কথা শুনেছি। মা বাবাকে বলেছিলেন, “তুমি একের পর এক নতুন মেয়ের মুখ দেখে বেড়াচ্ছাে এদিকে তােমার পুরনাে সঙ্গিনীর খবর কি রাখাে?”..” কি খবর আবার?”-“এসব ব্যাপারে খবর তো একটাই! আবার তােমার মা হতে চলেছি?”- “এ আর এমন নতুন কি কথা আগুনের ওপর ঘি পড়লে সে জ্বলবেই। আর সেই আগুন নেভানােরও ব্যবস্থা আছে। যেমন এর আগে তিনবার করেছিলে।”, “না, এবার আমি তা আর করবাে না। এবার আমি তোমার সন্তানের মা হতে চাই। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করাে রজত।”..” বিয়ে করবে বলেই তাে যখন তখন করা যায় না। আমাকে একটু ভাবার সময় দাও।”…।

“বেশ, সেই দিনটার জন্যে আমি অপেক্ষা করে থাকবাে…” তারপর থেকেই আমার মধুলােভী ভ্রমর বাবাটি উধাও। তখন আমার কুমারী মায়ের গর্ভপাত করার সময় আর ছিল না, খুবই অ্যাডভান্স স্টেজ তখন, প্রায় আটমাস। তাই অগত্যা আমার মাকে দশমাস পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকতে হয় তারপর.. তারপর আমার দুঃখিনী মায়ের কথা, আর আমার পরিণতির কথা এখনি বলতে চাই না। তার আগে আমার বাবার চরিত্রের প্রভাব কিরকম আমার মধ্যে পড়েছিল সেকথাই বলি শুনুন :

নারীলােভী বাবার রক্ত আমার রক্তে প্রবাহিত। বাবার সব গুণ না পেলেও একটা গুণ আমি ঠিক পেয়েছি। আদিবাসীদের সঙ্গে মেলামেশা, ঘনিষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি এখন থেকেই।

রূপবতী চিৎকার করে উঠলাে, উঃ লাগছে, আর পারছিনে। যা করার কারাে আমাকে হত্যা করে করাে, তখন আমি তোমাকে বাধা দিতে আসবাে না।”..“সুন্দরী রূপবতী, তােমার নার্সের চাকরী স্থায়ী করতে হলে তোমার রূপ থেকে আমার মধ্যে একটু তাে খরচ করতে হবে। আর রূপের সঙ্গে তােমার দেহও তাে খরচ করতে হবে। না, আর বাধা দিও না খুকুমনি এবার আমার খোকনসোনাকে তোমার ঘরে ভালােভাবে প্রবেশ করতে দাও | আমার খোকন একটু লম্বা আর বলিষ্ট, তাই তাকে হয়তো তোমার ঘরের দরজায় আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে, তুমি যন্ত্রণা অনুভব করছাে, দরজার কপাট দুটো পুরােপুরি খুলে দাও, তাহলে দেখবে তখন তােমার আর লাগবে না। লক্ষ্মী সােনা, আমার সঙ্গে সহযােগিতা করাে, বাধা দিও না।


আমি এখন আদিবাসী পুরুষদের সঙ্গে নাচছি। আমার পরনে পশুর ছাল ‘আর মাথায় পাখির পালকের মুকুট। আমার সঙ্গে আগুন রঙের স্ত্রীলােকটি উম্মত্তের মতাে নাচছে। তার অনাবৃত বুকে উল্কি আঁকা একটা ছুটন্ত হরিণের পিছনে ধাবমান নিষাদ। শালবনের ভেতরে সেই হেলিকপ্টার নামার হেলিপ্যাডের  চাপন বৈশাখী পুর্ণিমার কাঞ্চন, মেলায় যাবার পথ। দূরে দীঘির জলে জ্যোৎস্না পড়ে চকচক করছে উৎসব মুখর রাত্রি, বাতাসে দিশী মদের গন্ধ, মহুয়ার, মাতাল করা ঘ্রাণ।

দেবলীনা, শুভব্রত, আমার সমবয়সী। আমার সঙ্গে থাকলেও এরা কিন্তু নাচছে না আমাদের সঙ্গে। ওরা আদিবাসীদের ভাষা বুঝেনা বলেই বােধ হয় ওদের সঙ্গ এড়িয়ে দূরে দূরে থাকতে চাইছে। কিংবা এমনও হতে পারে জন্মলগ্ন থেকেই এরা এ ওকে নিজেদের জীবনসাথী করে ফেলেছে। আমার চোখের আড়ালে থেকে শালবনের নৈশলােকে ‘তরুবীথির নিচে মিলন-বাসর রচনা করতে উদ্যত। দেবলীনার চোখে সেই তীব্র চাহনি যা আমার অতল পর্যন্ত দেখতে চায়। ডুমডুম ডুম…ডিডিং, ডিডিং, ডিডিং…ডিং, ডিং, ডিং।

ফরেস্ট বাংলাের ড্রেসিং মিররের সামনে শ্যাম্পু করা অবিন্যস্ত চুল নিয়ে দীঘীতে সাঁতার কাটা সেই মেয়েটি মুখ দেখছে; সায়ার গিট অলগা হয়ে গেছলো ঠিক করছে। সায়ার লেসে নবাবী আমলের জাফরী। পীন পয়ােধরে স্থুলিত প্রায় অন্তবাস। বাংলোর লনের অন্ধারে মাদীগন্ধে বিভোর এক যুবক পদচারণ করছে, হাতে তার একটা জলন্ত সিগারেট শয়তানের চোখের মতাে জ্বলজ্বল করছে। অ্যাপার্টমেন্ট সংলগ্ন টয়লেটের ফোয়ারা থেকে জল পড়ার দুর-দুর শব্দ। অ্যাপার্টমেন্টে আশ্লেষকাতর কণ্ঠস্বর, ‘মাহরী আমি কি তােমার পরপুরুষ, বুকের জামাটি ঘােলাে না, তােমার বুকটা কি সুন্দর, ঠিক যেন পাকা আম টস্টস্ করছে…”

জন্মস্থানের একটা বিশেষ আকর্ষণ যে আছে, তা অস্বীকার করা যায় না, আর তারই টানে আমি ফিরে যাই, নার্সিংহােমের সেই বিষন্ন কেবিনে আমি শুয়ে আছি। নীলাভ একটা আলাের বৃত্ত তার তলা দিয়ে সাদা পােশাকের নার্স হাতে ওষুধ নিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। দূরে, ঠিক কত দুরে, শালবনের জঙ্গল, ‘আদিবাসী, আদিবাসীদের নাচ-গানের দৃশ্য তা বােঝাবার মতাে জ্ঞান আমার এখনও হয়নি। সেই সবুজ অরণ্যানীর শব্দ যেন ভেসে আসে আমার কানে। আবার সেই শব্দ হারিয়ে যায় নার্সদের পায়ের জুতাের খট্ খট শব্দে। আমার বেডের সামনে দিয়ে একদল নার্সকে চলে যেতে দেখলাম।

ডুম, ডুম, ডুম…ভিড়িং, ডিড়িং, ডিডিং…ডি, ডিং, ডিং… নক্ষত্রের নীল আলো স্কুলে শালবনের মাথায় সারি সারি তুরুবিথির কথাগুলাে যেন লালে লাল, আগুন-লাল। আমি এখন আবার শালবনের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি আমার সদ্য বন্ধুর দল আদিবাসী সাঁওতালদের খোঁজে। কিন্তু এই কাউকে তো দেখতে পাচ্ছি না, এমন কি কারাের কোনাে কথাও শুনতে পাচ্ছি না। শুধু বাতাসে শন্ শন্ আওয়াজ, সেই হাওয়ায় আদিবাসীরা সবাই হারিয়ে গেলাে, হারিয়ে গেলাে তাদের বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ, এখন আর শুনতে পাচ্ছি না সেই শব্দ ডুম, ডুম, ডুম..ব্রিডিং, ব্রিডিং, ব্লিডিং…ডিং, ডিং, ডিং…

আমাকে এখন একটা কালাে পুলিশ ভ্যানে তােলা হচ্ছে। চারদিকে কালাে পিচের মতাে অন্ধকার ধিক্ থিক্ করছিল। একজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের নির্দেশে আমাকে এই কালাে ভ্যানে করে নিয়ে চলেছে, দু’পাশে সারি সারি ঘন তরুবীথি। পুলিশ ইন্সপেক্টরের কথায় বুঝতে পারলাম ওরা আমাকে একটা সরকারী হাসপাতালে নিয়ে চলেছে। হাসপাতাল? চমকে উঠলাম, আমার আবার কি হলাে, আমি তাে বেশ ভালোই আছি। তাছাড়া আমার শরীর খারাপ, অথচ আমি জানবাে না? তবে কি ওরা আমাকে চিকিৎসার নাম করে আসলে হত্যাই করতে চাইছে, যেমন করে আমার অবৈধ বাবা আমার মায়ের গর্ভপাত করতে চেয়েছিল? তার মানে এরা অমিকে মর্গে নিয়ে যাচ্ছে, তারপর সেখানে হলে আমার নরক যন্ত্রণা, কাটা-ছেড়া, ছুরি চালিয়ে হৃৎপিন্ডটাকে ফালা ফালা করে কাটবে এ কাজ হবে আমার এই বেজন্মা বাপের! না, তার আগেই আমাকে পালাতে হবে। একটা পাঁচমাথার মােড়ে পুলিশের ভ্যানটা থামতেই আমি ওদের চোখে ধুলাে দিয়ে লাফ দিলাম সেখান থেকে। আবার আমার একা একা পথ চলা। আমার চলার পথে যদি কেউ না আসে তবে একাই আমি পথ চলবাে, পথ চলাতেই আমার আনন্দ।

‘আমার চোখের সামনে একটু আগেই আমার নৃত্য-সঙ্গিনীর নগ্নদেহ হিল্লোল নৃত্য করতে করতে তার জয়ারুর মুখটা যেন নীল জ্বলন্থ নক্ষত্র হয়ে গেলাে। তার মাথায় এখন এক বন্যপাখির পালক।

রাত শেষে ভাের হলো, তারপর সময়ের হাঁটা পথে পায়ে পায়ে সকাল পেরিয়ে দুপুর হলো। চারদিকে এখন শুধু উচ্ছল রােদে দিগন্তু প্রসারী ফসলের মাঠ। মেয়েটার নগ্ন শরীরের নাচন মাঠের অলি দিয়ে যেন হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ক্রমশ এগিয়ে আসে চারদিকে এখন নীল থমথমে আকাশ। আমি একা কোথাও কেউ নেই, শুধু আমার চিৎকার প্রতিধ্বনি তুলে ছড়িয়ে পড়ে—রূপবতী, রূ-প-ব-তী, রূপবতী, হাওয়ার ভেতর শব্দগুলো কুণ্ডলী পাকিঁয়ে যায়। ফসলের মাথায় এখন নীল নক্ষত্রের মতে যোনি। আমি নিঃসঙ্গ, ভীষণ একা। শুভব্রত আমাকে তুমি কোথাও খুঁজে পাবে না। আমি এখন হাওয়ার ভেতর, আলোর ভেতর, ফসলের ভেতর একটা নীল যোনি দেখতে পাচ্ছি।

ফরেস্ট বাংলােয় আবার ফিরে এলাম। প্রতিটি আপার্টমেন্টে এখন শুধু নরনারীর কণ্ঠস্বর। ড্রেসিং মিররে শ্যাম্পুকরা চন্দ্রমুখীর চুল, তার বুকের খয়েরী বোঁটাতে মানুষের মুখের লালার দাগ। চন্দ্রমুখী টাবলেট খেয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়েছে, হিংস্র শ্বাপদের ঝাপিয়ে পড়া আক্রমণে তছনছ করছে সন্ধ্যে থেকে প্রসাধিত চন্দ্রমুখীর দেহকে। মাঝে মাঝে দুটি দেহের উত্তাল রক্তের মাদলের তালে তালে। খাটের শব্দ উঠছে খট, খট, খট। একটা হিংস্র শ্বাপদ চন্দ্রমুখীর জরায়ুর মুখে এখন উন্মত্ত। চন্দ্রমুখী মেঘলা জ্যোৎস্নায় উন্মুক্ত বারান্দা পেরিয়ে কলঘরে গিয়ে ঢুকেছে। ফোয়ারা বেয়ে জয়ের ধারা নামছে ছরছর শব্দ। আমি এখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করি। আমি এখন আর বন্যনাচে অন্যদের সঙ্গে সামিল হই না। আমাকে এখন আর শুভব্রতর সঙ্গে ফরেষ্ট বাংলোর ঘরে ঘরে ঢুকে দেহক্ষুধার খাদ্য খুঁজতে হয় না। আমি এখন একা হলেও ক্লান্তু নই। কারণ আমি এখন আমার জন্মস্থান সেই নার্সিং হােমের বিল্ডিং-এর লনে রূপবতীকে দেখতে পাই, তার স্পর্শ অনুভব করি, আর দেহের মিষ্টি ঘ্রাণ পাই নাকে, তার নরম শরীরের স্বাদ গ্রহণ করতে পারি। আমি এখন আমার নিশ্চিন্তু আরামের বিছানা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছি, হাঁটতে হাঁটতে দীখির সামনে এসে পড়েছি। দীঘির ধারে একজন বিষন্ন মুখের মেয়েকে এক শ্বাপদের দ্বারা আক্রান্ত হতে দেখি, আর তারপর সেই শ্বাপদ মেয়েটিকে ধর্ষণ করে গভীর অরণ্যের ভেতর লাফ দেয়। ঠিক তখন শুরু হয় সেই ধর্ষিতা মেয়েটিকে ঘিরে বন্য হৈ হুল্লোড় এক জায়গায় জড়াে হয়ে কামুক যুবক যুবতী তখন যে দুবোধ ভাষায় গান গায়, যার ভাষা অন্য কেউ আর না বুঝতে পারলেও আমি কিন্তু স্পষ্ট বুঝতে পারি। কারুণ আমি যে জানি তাদের কাম লালসার ফসল তো আমিই, তাদের শ্বাপদ কাম-প্রবৃত্তির ফসল তাে আমিই মাঠে মাঠে যেসব ফসলের চূড়ায় আমি নারী যােনি দেখে এসেছি, তা আমারই এক কামুক মায়ের, যেখানে যে মূর্খ চাষী ফল ফলিয়েছে, সে তার ফসল তুলতে চায় না, সে পলাতক, আমি এখন আমার অবৈধ পিতা-মাতার অপেক্ষায় রয়েছি, কে আমার ভার নেবে শেষ পর্যন্ত কিছুই স্পষ্ট নয় এখন। জানি না শেষ পর্যন্ত আমার আশ্রয় হয়তাে কোনাে অনাথ আশ্রম হতে যাচ্ছে। আমি যুবক-যুবতীদের কাউকে চিনি না সেসব।   আমি দীঘির ধার থেকে সরে গিয়ে আবার শালবনে ঢুকে পরেছি এখন। দুর থেকে আবার ডুম, ডুম, ভুম—ডিডি, ডিডি, ডিডি-ডিং, ডি, ডি, ডিডিং–

আমি আবার জন্মস্থান নার্সিংহোমে চলে এসেছি, সেখানকার আউটডোরের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে আছি। এখন আউটডাের ফাকা রােগী দেখার সময় নয়, তাই এখানে একমাত্র আলো ছাড়া সব আলাে নিভিয়ে দেয়া হয়েছে। সামনের সেই লাল ত্রিকোণ দেখলাম ধীরে ধীরে একটা মুখােশ হয়ে গেলো। তারপর আর একটা জরায়ুর মুখ হয়ে গেলাে। দূর থেকে দেখলাম আমার একদা সঙ্গিনী রূপবতীকে সঙ্গে নিয়ে একটি মস্তান এগিয়ে আসছে, সে এই নার্সিংহােমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, আর ভরমা এখানকার ক্লাস ফোর স্টাফ। আমি সঙ্গে সঙ্গে আউটডােরের রিসেপসনিস্ট কাউন্টারের অনুকার জায়গায় ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিলাম তাদের পরবর্তী কার্যকলাপ দেখার জন্য। একটু পরেই মস্তান যুবক আদিবাসী যুবতী রূপবতীকে গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে আমার সামনে দিয়ে নিয়ে গেলাে একেবারে এক কোণায়, যেখানে আলাে আঁধারির ঋেলা চলছে। তারা গিয়ে বসলো কালাে একটা সােফায়। তারপর সেই সােফায় তাকে চিৎ করে ফেলে দিলাে আর ধীরে ধীরে মেয়েটির অন্তবাস খুলে ফেলে ওকে গভীর ভাবে আদর করতে লাগলাে। তাকে আদর করে আস্তে আস্তে উল্টো দিক করে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে তাকে প্ররােচিত করতে লাগলাে মাস্তান যুবকটি। অবশ্য রূপবতী ঠিক এর জন্যে দেহমনের দিক থেকে একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। সে ভেবেছিল একটু আধটু সেক্স খরচ করে যুবকটিকে খুশি করতে পারলে নার্সিংহােমে তার নার্সের চাকরীটা স্থায়ী করে নেওয়ার সুযােগ আদায় করে নেবে তার কাছ থেকে, কারণ সে তাদের ইউনিয়নের নেতা, আর নেতারাই তাে আজকের দিনে দ্বিতীয় নিয়ােগকর্তা। কিন্তু পরে যে এভাবে যুবকটি কামলালসার কাছে পরাভূত হতে হবে, সেটা তার জানা ছিল না। সে এখন বেশ বুঝতে পারছে ধর্ষিতা হতে চলেছে সে, কিন্তু তার করার কিছু নেই। তার গলা শুনে কেউ এখন আর আসবে না, কাছে কেউ নেই। আউটডোরে এখন কেবল তারা দুজন। এখানে মাস্তান যুবকটি যে শেষ পর্যন্থ জয়ী হবে তাতে কোনাে সন্দেহ নেই। তাছাড়া দৈহিক বলেও মেয়েরা ছেলেদের থেকে অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশের সর্বক্ষেত্রে পুরুষরাই নারীদের ওপরে থাকে। এমন কি নরনারী আদিম প্রবৃত্তি দৈহিক মিলনের ক্ষেত্রেও নারীকে সব সময়েই পুরুষের নিচে শুতে হয়। এক্ষেত্রে পুরুষের চিরাচরিত আকাংখা এবং দৈহিক শক্তির নিরীখে মাস্তান যুবকটি গায়ের জোরে রূপবতীকে সম্পূর্ণভাবে নগ্ন করে (নিজে আগেই নগ্ন হয়েছিল) তার মধ্যে প্রবিষ্ট হতে উদ্যত হলাে। একটু একটু করে রূপবর্তীর শরীরের নিচে, কোমরের আরাে নিচে উরুসন্ধিতে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা অনুভব করলাে, মাস্তান যুবকটি ঠিক মতাে প্রবিষ্ট হওয়ার জন্য তার হাতের স্পর্শে মেয়েটির পুষ্ট উরু প্রসারিত করলাে। রূপবতী চিৎকার করে উঠলাে, ‘উঃ লাগছে, আর পারছিনে। যা করার করাে আমাকে হত্যা করে করো, তখন আমি তোমাকে বাধা দিতে আসবো না।”..“সুন্দরী রূপবতী, তােমার নার্সের চাকরী স্থায়ী করতে হলে তোমার রূপ থেকে আমার মধ্যে একটু তো খরচ করতে হবে। আর রূপের সঙ্গে তােমার দেহও তো খরচ করতে হবে। না, আর বাধা দিও না খুকুমনি এবার আমাকে খোকনসেনাকে তােমার ঘরে ভালোভাবে প্রবেশ করতে দাও।  আমার খােকন একটু লম্বা আর বলিষ্ট, তাই তাকে হয়তাে তোমার ঘরের দরজায় আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে, তুমি যন্ত্রণা অনুভব করছো, দরজার কপাট দুটো পুরোপুরি খুলে দাও, তাহলে দেখবে তখন তােমার আর লাগবে না। লক্ষ্মী সোনা, আমার সঙ্গে সহযােগিতা করো, বাধা দিও না, অন্ধকারে ‘ভালো দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু বেশ বুঝতে পারছি মাস্তান যুবকের চোখ মুখ উদগ্র সঙ্গমেচ্ছায় বিস্ফারিত, স্নায়ুমণ্ডলী উত্তেজিত। উত্তুঙ্গ উত্তেজনার মুহূর্তে দুহাতে রূপবতীর কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে ওপরের দিকে টানলাে, মেয়েটির বিরােধিতা সত্ত্বেও দেহে দেহে যুক্ত হতে বাধ্য হলাে, মাস্তান যুবকটি তার বহু প্রতিক্ষিত আকাঙ্খা চরিতার্থ করতে প্রবিষ্ট হলাে রূপবতীর মধ্যে। রূপবর্তী আর্ত চিৎকার করে উঠলো, হায় ভগবান, আমি ধর্ষিতা হতে চাইনি, উঃ। মাস্তান যুবকটি একতরফা রূপবতীর দেহ উপভােগ করে উঠে দাঁড়ালাে। আসার সময় রূপবতীর কোমর জড়িয়ে ঢুকলেও সে তাকে ধর্ষণ করে একাই বেরিয়ে গেলাে আউটডাের থেকে। আর আমি এখন রূপবতীর বুকে উল্কি আঁকা ছুটন্তু হরিণের পিছনে ধাবমান নিষাদকে দেখতে পাচ্ছি। আগে আমাকে শালবনে তার সঙ্গে নাচ করার জন্য রূপবর্তী যেভাবে আহ্বান করেছিল, এই অন্ধকারের পরিধির মধ্যে দাঁড়িয়ে সেইভাবে হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকলাে। আমি এখন এক নীল নক্ষত্রের মধ্যাহ্নের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। রূপবতী ধর্ষিতা, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার ত্রিভুজ এখন মাস্তান যুবকের যৌবনের জারকরসে সিঞ্চিত। আমি নিজের চোখে দেখেছি আর শুনেছি, রূপবতী স্বেচ্ছায় এই মাস্তানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় দেহ মিলতে প্রবৃত্ত হয়নি, জোর করে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ হেন অবস্থায় আমার কি করা উচিত? আমি কি ওর হাতছানিতে সাড়া দেবে?

পরের দিন। একটানা অবসাদের মধ্যে আমাকে আবার আরেকটা দিন বাচতে হবে। স্বপ্নের সেই ঘনজঙ্গলের শহরে আমি এখন আর ফিরে যেতে পারবাে না। সেই নার্সিংহােমের সামনে দিয়ে যেতে যেতে নার্সের পােশাকে রূপবতীকে হেটে যেতে দেখবো না। আমার মনের দেওয়ালে সেই নিঝর নিসর্গের ছবিটাকে এখন আমার আবার মনে হচ্ছে এক জটিল জরায়ুর মুখ রাত্রির রহস্যে আচ্ছন্ন, যার ভেতর নিহিত আছে আমার বিগত রাত্রির স্বপ্ন। গতরাত্রের সমস্ত ঘটনা আর স্বপ্ন এখন আমাকে ভীষণ আচ্ছন্ন করে আছে। আমি আর শুভব্রত সন্ধ্যায় বেরিয়ে যাই একটা অমােঘ ইচ্ছার তাড়নায়। বদ্ধ ঘরের মধ্যে আবধ্য না থেকে শালবনের একটা নিষিদ্ধ এলাকায় ঘুরে বেড়াই। অস্পষ্ট অন্ধকার দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে। শুকনাে পাতায় নর-নারীর দুটি শরীরের মিথুনাবদ্ধতার শব্দ হয়। নারী সঙ্গোমলোভি ইতস্তুত তৃষ্ণাকাতর যুবক যুবতীরা ঘুরে বেড়ায়। প্রতিদিন আমরা কি ভয়ঙ্কর ভয়াবহভাবেই না বেঁচে আছি হয়তাে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়েছি। জীবনের স্বাদ আমাদের বিষামৃতে ভরা। যেন কোথায় আমরা ভীষণভাবে দায়বদ্ধ। আমার চোখের সামনে আমার মনের দেওয়ালের ছবির জটিল জরায়ুর মুখ। আমি এখন শুভব্রতকে ছেড়ে চলে যেতে চাই। ও ওর সঙ্গিনী দেবলীনাকে নিয়ে পড়ে থাকুক। আর আমি ফিরে যেতে চাই আমার প্রিয়সঙ্গিনীর কাছে যার চোখের ভালবাসার দৃষ্টিতে স্নান করেছি। সেই স্নানে আমার শরীরের সব ক্লেদ আর ময়লা মুছে গেছে। এই ময়লা আর ক্লেদ হলাে আমার মায়ের জীবিত থাকার সময় আমার অবৈধ কামুক পিতার, তার কামনার জারকরস, যা সভ্য সমাজের কাছে ঘৃণিত, নিন্দিত এবং ধিকৃত। শুভব্রত হয়তাে বলবে, চুপ কর গর্দভ, মেয়ের চোখের ভালোবাসার কথা বলছিস? তুই কি দেখেছিস মেয়েদের তলপেটের নিচের সেই জঙ্গলী চোখকে, আরো ভয়ঙ্কর কুৎসিত ভাষায় সে আমাকে খিস্তি করলাে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। হয়তাে সে আবার বলবে, বিয়ে করে বৌ নিয়ে দুদিন রাতে খাট কাপিয়ে ভালোবাসা, তারপর তাে সারা জীবন ছুচোর কেত্তন। শুভব্রত আমায় সঙ্গ ছাড়বে না, হয়তাে আমায় আজ রাতে নিয়ে যাবে সেই শালবনের নিষিদ্ধ এলাকায় সেখানকার আনাচে কানাচে আমাকে শুনতে হবে আশ্লেষকাতর কণ্ঠস্বর, জীবনের রিরংসারমুক্ত পুরুষের কান্না আকুতি। মেয়েদের চপল হাসি। রূপবতীর মতাে যুবতী এবং গৃহবধূ জান্তব ভাবে ধর্ষিতা হবে। আমার দ্বিতীয় রাতের স্বপ্নে আমি আগুন রঙের মিনিস্কার ইন্দ্রজালিক নৃত্য দেখতে পাচ্ছি আমার চোখের সামনে নক্ষত্রোজ্বল যােনি ফসলের মধ্যে আস্তে আস্তে মধ্যাহ্নের মতাে নার্সিং হােমের বিল্ডিং, স্বপ্নের মধ্যে ড্রেসিং মিররে শ্যাম্পু করা চুল, শায়ার পিট আলগা হওয়া কোনাে ঘরের রতিরণক্লান্ত দেহপসারিনীর বুকের খয়েরি চাকতিতে শুভব্রতর লালাসিক্ত ওষ্ঠের দাগ।

দেবলীনা, আমি চলে গেলে শুধু তোমাকেই আমার ঠিকানা দিয়ে যাবাে, আমার ঘরে দেওয়ালের জটিল জরায়ুর মতাে নির্ঝর নিসর্পের ছবিতে তখন দূর আকাশের নীল নক্ষত্রের আলাে এসে পড়বে।

আমার সব আছে, অথচ কি আশ্চর্য সব কিছু থেকেও আমি নেই। একটা ডেলা পাকানাে রূপান্তরিত শরীর আমার। দুদিন আগে অতি ক্ষুদ্র শুক্রকটি থেকে ভ্রুন হয়ে যে আমি জন্ম নিয়েছিলাম, কুমারী মায়ের জঠরের অন্ধকারে থাকার সময়েই শুনেছিলাম, আমাকে এই নিষ্ঠুর পৃখিবীর অনাত্মীয় আকাশের নিচে ওরা ফেলে যাবে আমাকে কোনাে নার্সিংহােমে কিংবা রাস্তার ডাস্টবিনে, ছুরি আর কাচির যৌথ আক্রমণে। কুমারী মায়ের যােনিপথ থেকে বেরিয়ে আসার সময় মনে হয়েছিল, হে ঈশ্বর তুমি কোথায়? আমার ভীষণ ইচ্ছে এখন বয়স্ক পুরুষের মতো বীর্যপাত করি কোনাে অবাঙালী রমণীর যােনির ভিতর, কারণ শুনেছি, অবাঙালী রমণীও আজকাল বারোয়ারি। নরম মাংসের ভিতরে ফোলানাে বেলুনে যদি কোনাে রকমে কাটিয়ে দিতে পারে আমার সৃষ্টি দশমাস দশদিন তাহলে তো আর কথাই নেই। ব্যাটা নিশ্চয়ই জন্মাবে চোটপারিয়ামল হয়ে তারপর? তারপর আমি তখন অবাঙালী বাবার অবৈধ পিতা, ব্যাটা আমার ভেজন পথে টাকার কুমির হয়ে এবং আমার মতে পৃথিবীর যাবতীয় পূর্ণকে নির্বিচারে হত্যা করতাে, যাতে করে তারা শয়তানের আর জন্ম দিতে না পারে। আর সেই অবসরে আমি রাজধানীতে গিয়ে চেষ্টা করে দেখতাম আমার অবৈধ অবাঙালী বাবার কালাে টাকায় কতগুলাে এম. পি. কিংবা এম. এল. এ. কেনা যায়? তারপর? প্রধানমন্ত্রী, না হয় অন্তত কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর আসন আমার পাকা তখন। আমি তখন এক অবৈধ সরকারের নেতা, এবং সেই সঙ্গে সব জংলী কানুনের প্রণেতা। তারপর সকাল হতেই সেই অবৈধ সরকারের রক্ষিতা। দৈনিক পত্রিকাগুলাের প্রথম পৃষ্ঠাতেই দেখতাম, বড় বড় বানারে ছাপ, ভ্রূন হত্যা পাপ নয়। এই নিষ্ঠুর আইনটা পাশ হয়ে গেছে ভোটাধিক্যে। আর তারপরেই দেখলাম, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আমি নিঃসঙ্গ একা, আমার অবৈধ পিতা-মাতা ফেলে গেছে ডাষ্টবিনে।

আমরা কথা বলতে পারি না, তাই জানা নেই ভাষা প্রতিবাদের এবং তার প্রতিকারের। আমাদের ভ্ৰণ-গােষ্ঠীর হয়ে কে যেন প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল, কিন্তু পাত্তা পায়নি, ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছিল। ফেরার পথে দেখেছিল কুমারী জননীর, উরু চিতিয়ে রােদ পােয়ানাের দৃশ্য। এবং সেই শয়তানটা আবার পচা শামুকের গন্ধভরা যােনিদ্বারে তার নাক ঠেকিয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছে জানােয়ারের মতোন। আর ওদিকে তার লিঙ্গাগ্রে মাথা রেখে দু’ন্ড বিশ্রাম নিচ্ছে কুমারী জননী। কিংবা এও হতে পারে তাতিয়ে নিচ্ছে তার রতিক্রিয়ার যন্ত্রটা, যেমন করে হাতিয়ে নেয় হাতলটা ভাঙ্গা থালা-বাসন গোড়া লাগানােওয়ালারা ঝাল দেওয়ার আগে। তারপর রাত্রি নামলে পর চলবে সারারাত ধরে দুই বিপরীত দুই মুখ, দুই বুক, এবং জোড়া উরুর সন্ধি স্থলের যােগাযােগ। অর্থাৎ সঙ্গম। এভাবে আরাে কতো ভ্রূণ হতা সংঘটিত হবে কে জানে।

আমার অবৈধ পিতা রাতের অন্ধকারে আমাকে শহরের এক নিরালা রাস্তার ডাস্টবিনে একটা রেশনব্যাগে পুরে ফেলে রেখে গেছলাে। পরের দিন সকালে একজন কাজের মেয়ে আমাকে ডাস্টবিনে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখে প্রথমে পাড়ার ছেলেদের খবর দেয়, তারা এসে প্রথমে আমাকে রেশনব্যাগ থেকে মুক্ত করে। পুলিশে খবর দেয়। কালাে পুলিশভ্যানে করে আমাকে একটা সরকারী হাসপাতালের সেমটারনিটি সেকশনে ভর্তি করে দেয়। আপাতত একজন মেট্রনের ওপর আমার দেখভালের ভার দেওয়া হয়েছে। নার্সদের কথাবার্তা থেকে আমি জেনেছি, আমাকে দত্তক নেবার জন্য ইতিমধ্যেই অনেকেই আবেদন করেছে। জানি না আমার ভবিষ্যৎ কোথায় নির্ধারিত হবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *