শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  ›› ১৮+  

২.

……শুভদীপ তখন তার নরম বর্তুলে হাত রাখত। চাপ দিত। নিষ্পেষণ করত। তার সারা শরীরের ক্ষুধা, ওই মুহূর্তে, ওই নিষ্পেষণের মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে চাইত সে।…….

……..সেই তমস পেরিয়ে চওড়া পুরু পিঠ। প্রস্থই অধিক হয়েছে ক্রমশ। দৈর্ঘ্য ছাপিয়ে। কায়িক স্ফীতিকেই যেন সে বরেণ্য ধরেছে। এই প্রস্থেরই, স্ফীত প্রস্থেরই উল্টো পিঠে কণ্ঠ হতে নেমে আসা উত্তাল স্তনদ্বয়। ভারী ও তুমুল। বুকে কোনও উপত্যকা রাখেনি তার পেশির অপরিমিত, অযোগ্য বিস্তার। ভারী-ভারী-ভারী স্তন। শাসরুদ্ধকারী স্তন—যা সে প্রথমবার স্পর্শ করেছিল, তার সরু, কোমল, সাদাটে আঙুল দ্বারা স্পর্শ করেছিল না-দেখেই। কাম ছাড়া, তীব্র খিদে ছাড়া, এতটুকু মায়া ছিল না তার আঙুলের শীর্ষদেশে।…………

…….মিথ্যার প্রলেপ দিয়ে পরস্পরের ঠোঁটে তুলে দেয় পবিত্র চুম্বন, ভানের ভিতর নারীর স্তনবৃন্তে মুখ রাখে পুরুষ আর উরুর ভাঁজে কৃতকর্ম সংগোপনে রেখে নারী দুই উরু উন্মোচিত করে দেয়।……..

…..সে ছটফট করছে। মুঠোয় ধরছে। চন্দ্রাবলীর স্তন। বড় ভারী স্তন। মেদবহুল পেটের মধ্যে হাঁটু চেপে রাখছে। এখন, এই প্রক্রিয়ার আগে তার শীত চলে যাচ্ছে। এক কামভাবে কানের লতিতে আগুন। সে তার শিশ্ন সম্পর্কে অতি বিচলিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এলেন। …….

…..বিজ্ঞাপনের মেয়েটি এখন অনেক বেশি আবেদনপূর্ণ। প্রায় ত্রিমাত্রিক হয়ে উঠেছে তার অবয়ব। সে মেয়েটির চোখ দেখে। বুকের খাঁজ। উরুর মসৃণতা দেখে আর ঠোঁটের আকর্ষণ। তার মেয়েটিকে ছুঁতে ইচ্ছা করে আর সেই মেয়ে বিজ্ঞাপনের ছবি থেকে নেমে তার গা ঘেঁষে চলে যায়। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে দেখে। সে স্পষ্ট দেখতে পায় ঘাড় ফেরানো চাউনির মধ্যে আকর্ষণ। সে আকর্ষণ অনুসরণ করে এবং বুঝে পায় না বিজ্ঞাপনের মেয়েটি ছোট পোশাক খুলে সালোয়ার-কামিজ পরে নিল কখন। ছোট চুলে কখন বসিয়ে নিল সুদীর্ঘ বিনুনি। সাদা ত্বক কোন জাদুবলে হয়ে গেল মাজা-মাজা। শুধু আবেদন এক। দৃষ্টি ও দেহের আবেদন সদৃশ। ……শুভদীপ থমকে দাঁড়ায়। শীত-পরাস্ত কপালে বড় বড় স্বেদবিন্দু জমে। আঠাশ বছর বয়সে এই প্রথম সে কোনও শরীর বিকিকিনির মুখোমুখি। …….তিনশোই সে দিতে পারে সর্বোচ্চ দাম। বিজ্ঞাপনের মেয়ে নিজেকে বার কয়েক নিলাম করে। অতঃপর তিনশোতেই রাজি হয়ে যায়। শুভদীপকে সঙ্গে আসতে বলে। শুভদীপ সঙ্গে-সঙ্গে যায়। সম্মোহিত। অথবা স্বগোথিত। কিংবা আবেশদীর্ণ। মেয়েটি শরীরে শরীর ঘষটে চলে। বুক ছুঁইয়ে দেয় গায়ে। একসময় জানায়, শুভদীপ মদ খেতে চাইলে তিনশোয় হবে না। আরও পঞ্চাশ লাগবে।………..মেয়েটি আলো-আঁধারি পেরিয়ে যাচ্ছে। সেও যাচ্ছে। আর পেরিয়ে যেতে যেতে জেনে যাচ্ছে মেয়েটির নাম মালবিকা।

মালবিকা? সে চমকে উঠছে। তার জীবনের প্রথম নারীর নাম মালবিকা। মালবিকা সিনহা। সে ডাকত মালবিকাদি। কারণ সে ছিল অন্তত বারো বছরের বড়। অপার সৌন্দর্যের ওপর মেদের প্রলেপ পড়ছিল তার তখন। অল্প পরিচিতি ছিল আগে। স্কাউটের সমাবেশে সেই পরিচয়ে গাঢ়ত্ব জমে। এবং একদিন মধ্যরাতে তাঁবু থেকে তাকে ডেকে নেয় মালবিকাদি। এবং তাঁবুগুলির পেছন দিকে, অল্প দুরে, একটি পাইনাসের তলায় তার ঠোঁট পুড়িয়ে দেয়।

সেদিন সে শরীরের স্বাদ জেনেছিল প্রথম। ভরাট স্তনের ওপর হাত রাখার অসম্ভব উত্তেজ সে অনুভব করেছিল প্রথম। মালবিকাদি ঘাসের ওপর শুয়ে, অভিজ্ঞ হাতে তাকে শরীরে নিয়েছিল। একুশ বছর বয়স তখন তার। সে তীব্র আকাঙ্ক্ষায়, উন্মাদনায়, উত্তেজনা ও উদ্বেগে, প্রথম নারীভেদের পুলকে ও সীমাহীন অনভিজ্ঞতায় ঘটিয়ে যাচ্ছিলসংঘর্ষ। সে টের পাচ্ছিল, ঘাস ও মাটির ঘর্ষণে তার হাঁটু ছড়ে যাচ্ছে। দুই হাঁটু ছড়ে যাচ্ছে। তার বিশ্বাস হচ্ছে না শুভদীপ এই প্রথমবার।

ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল সে। কিন্তু পরের রাত্রে আবার জেগে উঠেছিল আহ্বানের প্রত্যাশায়। প্রথম বিদীর্ণ করার কারণে তার ব্যথা জমেছিল। এমনকী মূত্রত্যাগ করার সময় জ্বালা। সুখমিশ্রিত সেই ব্যথাবেদনাকে, জ্বালাপোড়াকে সে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছিল বারবার।

মোট দশদিনের সমাবেশে সে মালাবিকাদির সঙ্গে মিলিত হয়েছিল তিনরাত্রি। এবং তাকেই নির্বাচন করার জন্য অসহ পুলকে ও গর্বে সে আপ্লুত ছিল সারাক্ষণ।……

………..মালবিকা দরজায় আলতো টোকা মারে আর দরজা খুলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে কে যেন দ্রুত পায়ে চলে যায়। শুভদীপ দেখতে পায় কেবল এক অপস্রিয়মাণ প্রলম্বিত ছায়া। সে থমকে দাঁড়ায়।মালবিকা তার হাত ধরে একটি ঘরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। বন্ধ করে দেয় দরজা। বাতি জ্বালে এবং শুভদীপ কিছু বোঝার আগেই এক টানে কামিজ অপসারিত করে। শুভদীপের দু’হাতে নিজেকে জড়িয়ে পিঠের দিকে নিতে নিতে অন্তর্বাস খুলে দেবার তাগিদ দেয়। শুভদীপের গলা শুকিয়ে কাঠ। সে কোনওক্রমে, কেবল বলতে পারে, তার জল চাই। সবার আগে এক গেলাস বিশুদ্ধ পানীয় জল।

টেবিলে জলভর্তি প্লাস্টিকের বোতল রাখা ছিল। বাঁ হাতে এগিয়ে দেয় মালবিকা। ডান হাত পেতে দেয় প্রাপ্য অর্থের জন্য।

৩.

এই বয়সের পুরুষ যত জন আসে, বেশিরভাগেরই তেমন অভিজ্ঞতা থাকে না দেখেছে সে। তারা আসে, দরজা বন্ধ হতেই খুলে ফেলে পোশাক। আর তাড়াহুড়ো করে সঙ্গমে পৌঁছে যায়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে জানে না আনন্দ, জানে না উপভোগ। শুধু ভোগ জানে। যেহেতু অর্থের বিনিময়ে আসে সেহেতু অজ্ঞতার সঙ্গে লিঙ্গ মিশে এক ধরনের ক্ষুধা মেটাবার জান্তবতাই শুধু প্রকাশ পায়। যতখানি পারে, মাংস ঘাঁটা শুধু।

যখন তার সঙ্গে মধ্যবয়সী নয়, বৃদ্ধ নয়, শুধু কোনও যুবকের দেওয়ানেওয়া হয়, তখন সে সুখ প্রার্থনা করে। কামনা করে উপভোগ্য। পেশাদারিত্বের বাধ্যতামূলক দেহদানের যন্ত্রণার বাইরে শৈল্পিক কামকলার আনন্দ পেতে ইচ্ছে করে তার।………..

……..ভালবাসা এই ছেলেটির মধ্যে কোথাও সংগোপনে রাখা আছে ভালবাসা, বুঝেছে সে। প্রাথমিক জড়তার পর সে যখন ধারে ধীরে শরীরে আসছিল, তখন, যেভাবে চুম্বন করছিল গালে ও কপালে, বন্ধ করে চোখ, যেভাবে আলতো হাত বুলিয়েছিল নাভিতে আর গহন অরণ্যময় গিরিখাত গভীরতায়, যেভাবে ঠোঁটের নরম দ্বারা চেপেছিল স্তনবৃন্ত–তাতে তার বার বার মনে হয়েছিল, এক শরীরে শুয়ে অন্য কোনও শরীরকে সে মনে মনে ডাকছে।

তার ভাল লাগছিল খুব। আবেশ। গভীর আবেশ। ছেলেটি তার আঙুলের পরিচালনে এই বহুজনে অভ্যস্ত শরীরকে দিয়েছিল অপূর্ব তরঙ্গরেখা। সে চুরি করে ভালবাসা নিচ্ছিল তখন। রাহাজানি ছিল। সে জানে, চূড়ান্ত খরিদ্দার, বেশ্যার শরীরে ভালবাসা আঁকে না কখনও। তারা উচ্ছল সুখ আঁকে, বিষণ্ণ আঁচড় আঁকে, যন্ত্রণার কামড় একে দাগ করে দেয়। কিন্তু ভালবাসা আঁকে না ভুলেও।

অভ্যস্ত ছেলেটি। বুঝেছিল সে।………..

….দিঘা নিয়ে গিয়েছিল তাকে। নিরঞ্জন। নিরঞ্জন জানা। পাঁচ হাজারের চুক্তি। চার দিন তিন রাত্রি থাকা। মা তখন সদ্য এসেছে হাসপাতাল ফেরত। হাঁ-মুখ সংসারে টাকার গভীর আর্তি। পাঁচ হাজার টাকা তার লেগেছিল অপূর্ব আশীর্বাদ। সে গিয়েছিল সহজেই আর ফিরেছিল একরাশ যন্ত্রণা ও সংক্রমণ নিয়ে।

কোনও মানুষের যে এতখানি খিদে থাকতে পারে–সে জানত না। কিন্তু এইরকম, সারা দিনমান নিম্নাঙ্গসেবী মানুষ আর দেখেনি। নিরঞ্জনের ক্লান্তি নেই। সে তখন বার করত গাজর, মুলো, পটল, বেগুন এবং মোমবাতি। বিমুখ যোনি হয়ে যেত শুকনো খটখটে। দারুণ যন্ত্রণা হত। সে আপত্তি করেছিল। হাত পা ছুড়েছিল। নিরঞ্জন জানা তখন অরগা দুটি খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেলে এবং প্রহারে ভরিয়ে দেয় গাল। শেষ দিন সে যন্ত্রণায় কঁকিয়েছিল সারাক্ষণ। কেঁদে ফেলছিল মাঝে মাঝে। নিরঞ্জন জানার দয়া হয়নি। প্রাপ্য বুঝে নিয়েছিল।

৭.

……..বেড়াতে তারা ভালবাসত দু’জনেই। কিন্তু এই কয়েক মাস কেটে গেলেই যে ভ্রমণপিপাসা জেগে উঠত তাদের, তার মধ্যে শরীরও ছিল অনেকখানি। সে তো জেগেই থাকত, তৃষ্ণার্ত হয়েই থাকত মহুলির দ্বারা। সুতরাং সে শুধু মোচন করত নিজেকে। নিজের মোচন ঘটাত। উপভোগ করত না। উপভোগের জন্য তার চাহিদা সুন্দর শরীর। খেত, ক্ষীণ, নরম ও ভরাট। সুদৃশ্য ও সুগঠিত। মহুলির শরীর। যা সে সম্পূর্ণ পায়নি কখনও। এমনকী মহুলির না হলেও মালবিকাদির শরীর। কিন্তু সে কালকের মালবিকা মেয়েটির সাদামাটা বুক পেট নিমতল সৌন্দর্যের তরে চায় না। এবং বিরাট, বিশাল, কালো ও কুদর্শনে তার তৃপ্তি ছিল না এতটুকু। তবু শরীরের এত তীব্র খিদে সে চলে গিয়েছিল তালসারি। গিয়েছিল মাইথন। এবং কোণার্ক।……..

………শুভদীপ সমুদ্র থেকে চোখ ফিরিয়ে চন্দ্রাবতীতে নিবদ্ধ করতে চায়নি। কিন্তু চন্দ্রাবলী দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার। এবং একটি ইচ্ছার কথা জানায়। খোলা আকাশের নীচে, গায়ে রোদুর মেখে, ধুলোবালি জড়িয়ে সঙ্গমের ইচ্ছা। স্বপ্নের পুরুষের সাথে সঙ্গম।

অতএব সে তার দীর্ঘ কেশ মুক্ত করে দেয়। দোপাট্টা ফেলে দেয় বালুকাবেলায়। হাওয়ায় দোপাট্টা উড়ে যেতে থাকে। কামিজ খুলে ফেলে সে। অন্তর্বাস খুলে ফেলে। উথলে ওঠে কালো ভারী স্তন। সালোয়ার খুলে ফেলে। মেদবহুল পেট নেমে আসে নিষিদ্ধ বস্তার মতো। এবার সে শেষতম অন্তর্বাসে টান দেয়। তার চুল ওড়ে। পোশাক বিক্ষিপ্ত ছড়িয়ে যায়। মত্ত হস্তিনীর মতো হেলেদুলে সে এগোয়। চোখের পলক ফেলে না। শরীরের মেদ-মাংস থরথর নড়ে।…………

…….এবং স্নান করা মাত্রই শুভদীপের তীব্র কাম জাগে। তৎক্ষণাৎ কামার্ত পুরুষ হিসেবে সে চন্দ্রাবলীকে শুইয়ে দেয় বিছানায়। চন্দ্রাবলী এতটুকু আপত্তি করে না।

বরং নিজেকে সমর্পণ করে।

এবং যখন সে অন্তঃস্থিত, যখন তার দেহ সংলগ্ন হয়ে আছে চন্দ্রাবলীর দেহে, যখন পরস্পরের পরামরাজিতে ঘটে গিয়েছে আলিঙ্গন—যখন সে, শুভদীপ, স্বদেহ প্রকাশ করে নগ্ন রাত্রির দেহে শুয়ে আছে টানটান আর আবিষ্ট নিদ্রার ন্যায়—তখন তার পিঠে হাত রেখে, গালে চেপে গাল, তাকে আবার পুরনো প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয় চন্দ্রাবলী। জিজ্ঞাসা করে, সে কি তবে ভালবাসাবিহীন শরীর সংযোগ করে? কেন করে? কেন?

ঘোর টুটে যায়। শুভদীপ কঠোর মুখে তাকায় তখন। উঠে পড়তে থাকে। সংলগ্ন স্নানঘরে যায় আর পোশাকে আবৃত করে দেহ। চন্দ্রাবলী শুয়ে থাকে। খোলা। আনমনা। উদাস। শুভদীপ সহ্য করতে পারে না। যে-দেহে সে উপগত হয়েছে কয়েক মুহূর্ত আগে, স্বেচ্ছায়, স্বকামনায়, সেদেহ অবান্তর মনে হয়। উন্নত পেট ও বিপুল বক্ষদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে।………

…..চন্দ্রাবলী কাদছে। হো-হো কাঁদছে। বালিশে মুখ চেপে শব্দ কামড়ে কাঁদছে। খোলা চুল ভোলা পিঠময়। কান্নার দমকে ভারী নিতম্বে দোল লাগছে। তার খেয়াল নেই সে নগ্ন। অনাবৃত। কাদছে। আর শুভদীপের আরাম হচ্ছে। ………

৯.

………অলকবাবু বেশ্যাদের দালাল। বেশ্যাপাড়ার ছিচকে দালাল নন। তার কাজ বড় মাপে। প্রতিষ্ঠিত, ক্ষমতাবান মানুষদের জন্য সমাজবালিকা সরবরাহ করেন তিনি। এই বালিকারা কেউ-ই নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়। হাড়কাটা গলি বা কালীঘাট বা ইকবালপুরও সোনাগাছিয়ার নয়। এরা থাকে বড় ফ্ল্যাটে, বিলাসে, আরামে।

এই অলকবাবুর কিছু খদ্দের আছেন মহিলা। তাঁদের উচ্চপদস্থ বা ব্যবসায়ী স্বামীরা ব্যস্ত থাকেন সারাক্ষণ। হুট করতেই দেশে বিদেশে চলে যান। উপোসী ও উপেক্ষিতা স্ত্রীরা তখন পুরুষ খোঁজেন। প্রেম নয়, ভালবাসা নয়। শুধু দেহ। তাঁরা দেহ খোঁজেন। তরুণী হলে পুরুষ শিকার সহজ। কিন্তু প্রৌঢ়া হলে, ঠোঁটে যতই রং থাকুক, ব্লাউজের পরিমাপ যতই হোক অন্তর্বাসের মতো সরু, পুরুষ পাওয়া সহজ হয় না। তখন দালাল লাগে।

অলকবাবু অনেক খদ্দের দিয়েছেন তাকে। প্রথমে তাঁর প্রস্তাব ছিল মহিলা খদ্দের নেবার। সে তখন তার অপারঙ্গমতা জানায়। অলকবাবু তখন ভাবনাচিন্তা করে অন্য প্রস্তাব পাড়েন। বড় বড় শহরে যেমন হচ্ছে, তেমন তিনি চালু করেন এ শহরেও।

এক-একটি বাড়িতে কয়েকজন মহিলা সমবেত হন। সেখানে মঞ্চের মতো নাচের জায়গা করা হয়। সেই মঞ্চে সে নাচতে নাচতে একটি একটি করে পোশাক খুলতে থাকে। শর্ত, কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। একঘণ্টা নাচের জন্য কুড়ি হাজার টাকা।

সে নাচে। খুলে ফেলে আঁটো পোশাক। খুলে ফেলে উৰ্ববসনা হাত মোজা। খুলে ফেলে প্যান্ট এবং জাঙ্গিয়া পরে নাচতে নাচতে একসময় অন্তর্বাসও খুলে ফেলে। তখন.. তুমুল হর্ষধ্বনি ওঠে। মহিলারা, চুম্বন ছুড়ে দেন। কেউ কেউ শর্ত ভুলে তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য ছুটে আসেন। অনেকে এ ওর ব্লাউজ খুলে স্তনে হাত রাখে। সে নাচে। মুক্ত হয়ে নাচে। আর নগরদেবীরা পরস্পর কামড়াকামড়ি করে চরম কামনায়।………

১২.

…..সে মুগ্ধ চোখে তাকাত মহুলির দিকে। মহুলি তাকে আহ্বান করত। সে একটা অদ্ভুত আবেগে ছটফট করত তখন। দিশেহারা লাগত তার। মহুলির বুকে মুখ ঘষত সে। কামিজের ওপর দিয়ে কামড়ে ধরত স্তন। মহুলি চুল খামচে ধরত তার। তার হাত যোনি স্পর্শ করতে চাইত। ঠিক সেই মুহূর্তে মহুলি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিত তাকে। কেউ এসে যেতে পারে বলে ভয় দেখাত।……

১৪.

……….এখন সে বিশ্বাস করতে চায় এ গন্ধ এই সব রক্তময় মাংসবতী দেহ থেকে আগত এবং তখন, এই সব অপার্থিব গন্ধ ছাপিয়ে তার নাকে লাগে মন্থলির গায়ের গন্ধ। ম্যাকসি তুলতেই ঝাপটা লেগেছিল নাকে আর. আর…সে সবিস্ময় আবিষ্কার করেছিল কোনও অন্তর্বাস নেই। মহুলির কোনও অন্তর্বাস নেই।

সে তখন উন্মত্তের মতো কামড়ে ধরেছিল ঊরু আর হাত রেখেছিল যোনিতে। আর মহুলি তার মাথা চেপে ধরেছিল।

শুনতে শুনতে, এইসব শুনতে শুনতে চন্দ্রাবলী গাড়ির দেওয়ালে মাথা রেখেছিল। দৃষ্টি বাইরে। উদাস। গালের প্রতিটি রেখা যন্ত্রণাময়। চোখের প্রতিটি কাঁপন কষ্টে ভারী। সে, শুভদীপ, তখন উল্লসিত হচ্ছিল মনে মনে এবং অগ্রসরমাণ।

মহুলি তার মাথা চেপে ধরেছিল আর সে তখন চূড়ান্ত, সে তখন কাণ্ডজ্ঞানহীন, মহুলিকে বিছানায় শুইয়ে দেয়, শুইয়ে দেয় আর নিজেকে মুক্ত করে এবং… এবং মহুলি তাকে নিরস্ত করে। হাঁপাতে হাঁপাতে, উত্তেজিত থাকতে থাকতে নিরস্ত করে এই বলে যে সে এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ নেই।

নিরস্ত। নিরস্ত বলেছিল সে চন্দ্রাবলীকে। প্রকৃতপক্ষে নিরস্ত নয়, বরং নিষেধ। কর্কশ নিষেধ। আচমকাই উঠে বসে তাকে এক ধাক্কায় ছিটকে ফেলেছিল মহুলি, আর সে, যেমন করে মানুষ গায়ে পড়া টিকটিকিকে ছিটকে ফেলে দেয়, তেমনি চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিল। টিকটিকির মতো তারও সাদা পেট উন্মুক্ত ছিল। মুহূর্তে তার সমস্ত কাম জল হয়ে যায়। লজ্জায় শিশ্ন নুয়ে পড়ে।………

১৭.

…….ঘরে নিয়ে গিয়ে মেয়েরা তার পোশাক খুলে তাকে নগ্ন করে দেয়, সে লজ্জায় সংকুচিত হয়ে গেলে বলে, সকলেই তো মেয়ে, তার লজ্জার কিছু নেই, সে স্নান করে নিলেই আবার তাকে পোশাক-আশাক ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সে তখন ভয় পেতে থাকে একটু কিন্তু স্নান করে নেয়। আর স্নান হয়ে গেলে, জামা-কাপড় ফেরত চাইলে, সেই মেয়েরা তাকে টেনে-হিচড়ে নগ্ন অবস্থায় নিয়ে যেতে থাকে।………..

…..তখন সে নগ্নভাবে নীত হয় সেই মামির কাছে। মামি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার শরীর দেখে। সারা শরীর দেখে। স্তন অপুষ্ট বলে মন্তব্য করে। কিন্তু সে যে ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে খুবই আকর্ষণীয় একটি ‘মাল’–তাও সে শুনতে পায়।……

……..পরদিন থেকে সর্বাংশে প্রস্তুতি শুরু হয়। যেহেতু ওই তেরো বছর। বয়সে তার দেহ সম্পূর্ণ মুকুলিত হয়নি, স্তন ছিল অপরিপূর্ণ, যোনিমুখ শক্ত ও ক্ষুদ্র সেহেতু তাকে নগ্ন শুইয়ে দেওয়া হয় বিছানায়। হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় শক্ত করে। মুখে গুঁজে দেওয়া হয় কাপড়। নড়তে পারেনি সে, চিৎকার করে যন্ত্রণা প্রকাশ করতে পারেনি যখন প্রায় টানা পাঁচ-ছ’ ঘন্টা তাকে এভাবে শুইয়ে রাখা হয়েছিল এবং ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বড় লম্বা মোমবাতি।

পাগল হয়ে যায়নি সে, মরে যায়নি যন্ত্রণায়। এমনকী অজ্ঞানও হয়ে যায়নি। সে যখন নগ্ন হয়ে শুয়ে ছিল আর মুখে কাপড়, তখন এক বৃদ্ধা ভাবলেশহীন মুখ নিয়ে তার পাশে বসে। না। তার মাথায় কপালে হাত বুলিয়ে দেয় না স্নেহভরে। বরং এক কটুগন্ধী তেল হাতে মেখে সে তার স্তন মুঠোয় ধরে টানে। বার বার টানে। টেনে যায় এবং দুলতে থাকে, ঠোঁট বেয়ে লালা গড়িয়ে পড়ে। থামে না, যতক্ষণ না সে নিজেই ক্লান্ত হয়ে যায়।

এবং এ রকমই চলতে থাকে দিনের পর দিন। পাঁচ দিন স্থায়ুতো। অথবা সাত দিন। এখন আর মনে নেই তেমন। শুধু মনে আছে, সে প্রাণপণে পালাতে চাইছিল। ………

……..পুনর্বাসন কেন্দ্র। সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র। হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের রক্ষাকল্পে নির্মিত। আর সেখানেই এক রাত্রে তার শরীর থেকে পোশাক খুলে নেয় তাদের দেখাশুনোয় নিয়োজিত রাধামাসি। জোর করে একটি ফাঁকা ঘরে তাকে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে শেকল তুলে দেয়।

কিছুক্ষণ পর এক বিশালাকার মাতাল পুরুষ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ঘরে ঢোকে। দেখে ত্রাসে সে থর থর কাঁপতে থাকে। আর তারকাঁপন দেখে লোকটি হা-হা শব্দে হাসে। দুই হাত মেলে তাকে ধরার জন্য এগোয়। সে প্রাণভয়ে ছুটে পালাতে থাকে এ-কোণ থেকে ওই কোণ। বেশিক্ষণ পারে না। দু’হাতে কলবন্দি ইদুরের মতো তাকে টিপে ধরে লোকটা। এবং ধর্ষণ করে।……..

…..যোনিপথ ছিঁড়ে-খুড়ে গিয়েছিল তার। সারা শরীর আঁচড়ে-কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। সাতদিন বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেনি সে। জগৎ সংসারে যা কিছু পরিবর্তন এর মধ্যে ঘটেছিল তার মধ্যে এও ছিল যে সেই দানব-সদৃশ লোকটি পুলিশের পোশাক পরে আরক্ষাকর্মী হয়ে যায় এবং সে লোকটিকে নগ্ন ও মাতাল অবস্থার পর সরাসরি সুস্থ পুলিশ হিসেবে দেখে।

প্রতি রাতে একজন-দু’জন করে সেই পুনর্বাসন কেন্দ্রের সমস্ত পুরুষকর্মী তাকে ধর্ষণ করেছিল। ভয় দেখিয়েছিল যদি সে ওপরতলায় নালিশ করে দেয় তবে খুন করে ফেলবে। পেট ভরে খেতে দেয়নি। কেন্দ্র থেকে দেওয়া পোশাকও তারা আত্মসাৎ করেছিল। সে স্বীকার করে, আজও স্বীকার করে, সেই মামির বাড়িতে সে পেট-ভরা খাবার অন্তত পেয়েছিল।

একদিন, আরও দু’জন মেয়ের সঙ্গে পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে সে পলায়ন করে। আবার তারা একটি দালালের কবলে পড়ে এবং আবার সেই মামির পাড়ায় গিয়ে ঠেকে।……..

২০.

……..সে তখন চুল আঁচড়ে, চশমা পরে, চন্দ্রাবলীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়েছে টান-টান। উঁচু মনে হয়নি কোল। ঘাড় টনটন করেনি।.শুতেশুতে কবে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। সে তখন চন্দ্রাবলীর হাতে হাত রাখে, আকাশের দিকে তাকায়। গাঢ় নীল আকাশ দেখে চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না। সে চন্দ্রাবলীকে দেখে। চন্দ্রাবলীর ভারী স্তন আলগোছে তার কপাল স্পর্শ করে যায়। তার শরীরে শিহরন লাগে। …..

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *