অনঙ্গরঙ্গ (Ananga Ranga) – কল্যাণমল্ল
ইংরেজি অনুবাদ: রিচার্ড ফ্রান্সিস বার্টন
বাংলা অনুবাদ: অপু চৌধুরী
ভূমিকা
পার্বতী তোমাকে শুদ্ধ করুন, যিনি শম্ভুর ললাটে অগ্নি দেখে গঙ্গাজলের মতো শুভ্র হাতের নখ লাক্ষারসে রাঙালেন; যিনি শম্ভুর কালো কণ্ঠ দেখে নিজের চোখে অঞ্জন পরালেন; আর যিনি আয়নায় শম্ভুর ভস্মমাখা দেহ দেখে কামকাতর হয়ে শরীরের লোম খাড়া করেছিলেন।
আমি তোমাকে আহ্বান করছি, হে কামদেব! তোমাকে, যে খেলাচ্ছলে ভরা; তোমাকে, যে চঞ্চল; যে সকল সৃষ্ট প্রাণীর হৃদয়ে অবস্থান কর; যে যুদ্ধের সময়ে সাহস জাগাও; যে শম্ভর অসুর ও রাক্ষসদের ধ্বংস করেছিলে; যে রতিকে তৃপ্ত কর এবং সমগ্র বিশ্বের প্রেম ও আনন্দকে পূর্ণ কর; তুমি সর্বদা প্রফুল্ল, অস্থিরতা ও ক্লান্তি দূর কর, এবং মানুষের মনে প্রশান্তি ও সুখ দাও।
আহমদ শাহ ছিলেন লোদী বংশের গৌরব। তিনি ছিলেন এক সমুদ্র, যার জল ছিল শত্রুদের বিধবার অশ্রু, এবং তিনি ন্যায়োচিত খ্যাতি ও সুপ্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন। তাঁর পুত্র লাদা খান, যিনি কামশাস্ত্রে পারদর্শী, এবং যাঁর পদ অন্য রাজাদের মুকুটে অলকিত হয়েছিল, তিনি যেন সর্বদা বিজয়ী হন।
মহান রাজঋষি ও প্রধান কবি কল্যাণমল্ল, যিনি সকল শিল্পকলায় পণ্ডিত, বহু জ্ঞানী ও সাধুর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন, বহু কবির মতামত যাচাই করেছিলেন এবং তাঁদের জ্ঞানের আসল রস আহরণ করেছিলেন। অবশেষে তিনি তাঁর রাজাকে আনন্দিত করার উদ্দেশ্যে এক গ্রন্থ রচনা করলেন, যার নাম দিলেন অনঙ্গরঙ্গ।
এই গ্রন্থ সর্বদা বিচক্ষণদের কাছে সমাদৃত হোক, কারণ এটি নিবেদিত তাঁদের উদ্দেশে, যারা মানব-আনন্দের রহস্য অনুধাবন করতে চান, এবং যারা প্রণয় ও রতিলীলার বিজ্ঞান ও সাধনায় অভিজ্ঞ।
এটি সত্য যে মানুষের জগতে স্রষ্টাজ্ঞান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আনন্দ আর কিছু নেই। তবে এর পরেই—এবং কেবল এর অধীন—আসে এক সুন্দরী নারীকে লাভ করার আনন্দ ও তৃপ্তি। মানুষ বিবাহ করে অবিরাম মিলন, ভালোবাসা এবং শান্তির জন্য, এবং প্রায়ই সুন্দরী ও আকর্ষণীয় স্ত্রী লাভ করে। কিন্তু তারা স্ত্রীকে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারে না, এবং নিজেরাও তাঁদের সৌন্দর্যের পূর্ণ ভোগ উপভোগ করতে পারে না। এর কারণ, তারা কামশাস্ত্র বা কিউপিডের শাস্ত্র সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, এবং নারীর বিভিন্ন স্বভাব-ভেদ না বুঝে কেবল প্রাণীসুলভ দৃষ্টিতে তাদের বিবেচনা করে। এ ধরনের মানুষকে মূর্খ ও অশিক্ষিত বলে গণ্য করতে হবে। এই গ্রন্থ রচিত হয়েছে এমন জীবনের অপচয় রোধ করার জন্য, এবং এর অধ্যয়ন থেকে যে সুফল পাওয়া যায়, তা নিম্নলিখিত শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে—
“যে ব্যক্তি প্রেমকলার জ্ঞান রাখে, এবং নারীকে বিভিন্নভাবে উপভোগ করার কৌশল বোঝে—
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন তার কামনা শান্ত হয়, তখন সে স্রষ্টার কথা চিন্তা করতে শেখে, ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করে এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন করে।
ফলে সে পুনর্জন্ম থেকে মুক্ত হয়; এবং জীবনের শেষ হলে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি স্বর্গে গমন করে।”
এভাবে, এই গ্রন্থ পাঠ করলে সবাই বুঝতে পারবে, নারী কতটা এক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের মতো, যাকে দক্ষ হাতে বাজালে সে দিতে পারে অনিন্দ্যসুন্দর সুর, জটিলতম রাগরাগিণী, আর দেবতুল্য পরমানন্দ। অবশেষে এটুকু মনে রাখতে হবে, এই গ্রন্থের প্রতিটি শ্লোক দ্ব্যর্থবোধক, বেদান্তের মতো; এবং তা দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়—একবার আধ্যাত্মিক অর্থে, আবার প্রেম-সংক্রান্ত অর্থে।
অধ্যায় ১
প্রথম পরিচ্ছেদ
নারীর চার প্রকার ভেদ
প্রথমেই জানা উচিত, নারীদের স্বভাব বা প্রকৃতিকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। সেগুলো হলো:—
১. পদ্মিনী ২. চিত্রিণী ৩.শঙ্খিনী ৪. হস্তিনী
এই চারটি ভেদই আবার মুক্তির (মোক্ষ) চার অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রথমটি হলো সায়ুজ্য, অর্থাৎ দেবতাত্মায় সম্পূর্ণ লীন হওয়া। দ্বিতীয়টি সামীপ্য, অর্থাৎ দেবতার সান্নিধ্যে জন্মগ্রহণ করা। তৃতীয়টি সারূপ্য, অর্থাৎ দেবতার অবয়ব ও দেহধারণে সাদৃশ্য লাভ করা। আর চতুর্থটি হলো সালোকে, অর্থাৎ বিশেষ কোনো দেবতার স্বর্গলোকে বাস করা।
“নারী” শব্দের অর্থই হলো নারি = ন আরি, অর্থাৎ “শত্রুহীন”; আর এটাই মোক্ষেরও স্বরূপ, কেননা সকলেই তাকে ভালোবাসে, এবং সে সকল মানুষকে ভালোবাসে।
পদ্মিনী হলো সায়ুজ্য-মোক্ষ, যা আবার খড়গিনী-মোক্ষ নামেও পরিচিত—যেখানে মানুষ নারায়ণে লীন হয়, যিনি ক্ষীরসমুদ্র বা সাত সমুদ্রের একটি সাগরে বিরাজমান, এবং যাঁর নাভি থেকে উদ্ভূত হয়েছে পদ্মফুল।
চিত্রিণী হলো সামীপ্য-মোক্ষ, যেমন দেবরূপে জন্ম নিয়ে বহু আশ্চর্য কার্য সম্পাদন করা। শঙ্খিনী হলো সারূপ্য-মোক্ষ, যেমন মানুষ বিষ্ণুর রূপ ধারণ করে দেহে শঙ্খ, চক্র এবং দেবতার অন্যান্য চিহ্ন বহন করে। আর হস্তিনী হলো সালোকে-মোক্ষ, যেমন বিষ্ণুর স্বর্গে গমনকারীরা তাঁর রূপ-গুণযুক্ত দেহ, হাত-পা প্রভৃতি নিয়ে অবস্থান করে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
নারীর চার শ্রেণির বৈশিষ্ট্য
এখন শুনুন, কিরূপে এ চার শ্রেণির নারীদের চিহ্নিত করা যায়।
পদ্মিনী বা পদ্ম-নারী — যার মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণ পাওয়া যায়, তাকে পদ্মিনী বলে। তাঁর মুখ পূর্ণিমার চাঁদের মতো মনোহর; তাঁর দেহ মাংসল কিন্তু নরম, সরষে ফুল-এর মতো কোমল; তাঁর ত্বক সূক্ষ্ম, কোমল ও পদ্মের মতো ফ্যাকাশে, কখনোই শ্যামবর্ণ নয়, তবে যৌবনের উচ্ছ্বাসে মেঘের মতো আভা ছড়ায়। তাঁর চোখ মৃগশিশুর মতো উজ্জ্বল ও সুন্দর, সঠিক কাটাকুটি করা, আর কোণে হালকা লাল আভা। তাঁর স্তন দৃঢ়, পূর্ণ ও উঁচু; তাঁর গলা শঙ্খের মতো সুন্দর ও স্বচ্ছ, এতটাই কোমল যে তার ভিতরে লালার আভাস দেখা যায়। তাঁর নাক সোজা ও মনোরম; তাঁর নাভি অঞ্চলে তিনটি ভাঁজ থাকে। তাঁর যোনি খোলা পদ্মকলির মতো, আর তাঁর প্রেমরস সদ্য ফোটা শাপলার মতো সুগন্ধময়। তাঁর হাঁটা রাজহংসের মতো মনোহর, কণ্ঠস্বর কোকিলপাখি -এর মতো মধুর ও নিচু স্বরে। তিনি শুভ্রবস্ত্র, উৎকৃষ্ট অলঙ্কার ও বিলাসবহুল পোশাক ভালোবাসেন। তিনি অল্প আহার করেন, হালকা ঘুমান, এবং যেমন ভদ্র ও বুদ্ধিমতী, তেমনি ধার্মিক; সর্বদা দেবতার পূজায় এবং ব্রাহ্মণদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। এ-ই হলো পদ্মিনী।
চিত্রিণী বা শিল্প-নারী — তিনি উচ্চতায় মধ্যম, না ছোট না বড়। তাঁর চুল কালো মৌমাছির মতো, গলা পাতলা ও শঙ্খের মতো গোলাকার, দেহ কোমল; কোমর সিংহের মতো সরু; স্তন দৃঢ় ও পূর্ণ; উরু সুন্দর, নিতম্ব ভারী। যোনিতে চুল অল্প, মন্স ভেনেরিস (যোনিদেশ) গোল, নরম ও উঁচু। তাঁর প্রেমরস উষ্ণ, মধুর মতো গন্ধযুক্ত, এবং অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হয়ে মিলনের সময় শব্দ করে। তাঁর চোখ ঘোরে, হাঁটা হাতির দোলনের মতো কৌতুকপূর্ণ, আর কণ্ঠস্বর ময়ূরের মতো। তিনি ভোগ-বিলাস ও বৈচিত্র্য পছন্দ করেন, গান ও নানা কলায় আনন্দ পান, বিশেষত হাতের কাজের শিল্পে। তাঁর কামনা প্রবল নয়, আর তিনি টিয়াপাখি, ময়না প্রভৃতি পোষা প্রাণী ভালোবাসেন। এ-ই হলো চিত্রিণী।
শঙ্খিনী বা শঙ্খ-নারী — তিনি পিত্তপ্রকৃতির, তাঁর ত্বক সর্বদা উষ্ণ ও হালকা হলুদাভ বা বাদামি। দেহ ভারী, কোমর মোটা, কিন্তু স্তন ছোট; মাথা, হাত ও পা লম্বা ও সরু; তিনি চোখের কোণ দিয়ে তাকান। তাঁর যোনি সর্বদা প্রেমরসে সিক্ত, যা স্পষ্টতই লবণাক্ত, এবং স্থানটি ঘন চুলে আবৃত। তাঁর কণ্ঠস্বর কর্কশ ও ভারী, বরং গম্ভীর স্বরে; হাঁটা দ্রুতগতি; আহারে সংযমী; তিনি লাল রঙের পোশাক, ফুল ও অলঙ্কার ভালোবাসেন। তিনি আকস্মিক কামোন্মাদে আক্রান্ত হন, তখন মাথা গরম ও মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয় ; মিলনের সময় স্বামীর শরীরে নখ বসান। তাঁর স্বভাব ক্রোধপ্রবণ, কঠোর, উদ্ধত ও কুটিল; সর্বদা ঝগড়াটে ও দোষ ধরায় ব্যস্ত। এ-ই হলো শঙ্খিনী।
হস্তিনী বা হাতি-নারী — তিনি খাটো, দেহ মোটা ও রুক্ষ; ত্বক যদি ফর্সা হয় তবে মৃতসাদা; চুল হালকা লালচে, ঠোঁট মোটা; কণ্ঠস্বর কর্কশ, রুদ্ধ ও গলা থেকে বেরোয়; গলা বাঁকানো। হাঁটা ধীর, ঢিলেঢালা; অনেক সময় এক পায়ের আঙুল বেঁকে থাকে। তাঁর প্রেমরস হাতির কপাল থেকে বসন্তকালে ঝরা তরলের মতো গন্ধযুক্ত। তিনি প্রেমক্রীড়ায় ধীর, দীর্ঘ মিলনেই কেবল তৃপ্তি পান, আসলে যত দীর্ঘ হয় তত ভালো, কিন্তু কখনোই যথেষ্ট হয় না। তিনি ভোজনরসিক, লজ্জাহীন ও ক্রোধপ্রবণ। এ-ই হলো হস্তিনী।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
নারীদের চার শ্রেণির সর্বাধিক ভোগ-উপভোগের দিনসমূহ
এইভাবে নারীর চার শ্রেণি নির্ধারণ করার পর, প্রধান কবি কল্যাণমল্ল একটি সারণি দিলেন, যেখানে উল্লেখ আছে কোন শ্রেণির নারী কোন দিনে মিলন থেকে সর্বাধিক আনন্দ পায়। এই সময়গুলো মুখস্থ করে রাখা প্রয়োজন। আর মনে রাখতে হবে, যে দিনগুলো এখানে বলা হয়নি, সেদিন যত মিলনই হোক, তাদের কামনা পূর্ণ হবে না। এখন পড়ো এবং মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করো।
সারণি
- প্রতিপদ (১ম দিন), দ্বিতীয়া (২য় দিন), চতুর্থী (৪র্থ দিন), পঞ্চমী (৫ম দিন) — পদ্মিনীকে তৃপ্ত করে।
- ষষ্ঠী (৬ষ্ঠ দিন), অষ্টমী (৮ম দিন), দশমী (১০ম দিন), দ্বাদশী (১২শ দিন) — চিত্রিণীকে তৃপ্ত করে।
- তৃতীয়া (৩য় দিন), সপ্তমী (৭ম দিন), একাদশী (১১শ দিন), ত্রয়োদশী (১৩শ দিন) — শঙ্খিনীকে তৃপ্ত করে।
- নবমী (৯ম দিন), চতুর্দশী (১৪শ দিন), পূর্ণিমা (পূর্ণচন্দ্র), অমাবস্যা (অন্ধকার রজনী) — হস্তিনীকে তৃপ্ত করে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
যে সময়ে সর্বাধিক আনন্দ পাওয়া যায়
মহিলারা, লক্ষ্য করা উচিত, তাদের প্রকৃতি ও স্বভাব অনুযায়ী উপভোগের সময়ের ব্যাপারে ভিন্নতা পছন্দ করে। যেমন—পদ্মিনী রাত্রিকালীন মিলন মোটেই পছন্দ করেন না; তিনি বরং একেবারেই তা অপছন্দ করেন। যেমন সূর্যকামল (দিনের পদ্ম) সূর্যের আলোয় বিকশিত হয়, তেমনি তিনি দিনের আলোতেই, এমনকি কোনো তরুণ স্বামীর সঙ্গেও, পূর্ণতৃপ্তি পান।
চিত্রিণী ও শঙ্খিনী হলো চন্দ্রকামলা বা রজনীপদ্মের মতো, যা চন্দ্রালোকে ফোটে; তাই তারা রাতেই আনন্দ উপভোগ করে। আর হস্তিনী, যে প্রকৃতিতে সবচেয়ে স্থূল, এই সূক্ষ্ম পার্থক্যের তোয়াক্কা করে না।
সুতরাং, নিচে দেওয়া সারণিগুলোতে দেখা যাবে দিন ও রাতের পাহার অনুযায়ী কোন শ্রেণির নারী সর্বাধিক আনন্দ উপভোগ করে।
সারণি I — রাত্রিকালীন সময়
- ১ম পাহার (সন্ধ্যা ৬টা–রাত ৯টা): চিত্রিণী, হস্তিনী
- ২য় পাহার (রাত ৯টা–মধ্যরাত ১২টা): হস্তিনী
- ৩য় পাহার (রাত ১২টা–ভোর ৩টা): শঙ্খিনী, হস্তিনী
- ৪র্থ পাহার (ভোর ৩টা–সকাল ৬টা): পদ্মিনী, হস্তিনী
সারণি II — দিবাকালীন সময়
- ১ম পাহার (সকাল ৬টা–৯টা): পদ্মিনী
- ২য় পাহার (সকাল ৯টা–দুপুর ১২টা): পদ্মিনী
- ৩য় পাহার (দুপুর ১২টা–বিকেল ৩টা): পদ্মিনী, হস্তিনী
- ৪র্থ পাহার (বিকেল ৩টা–সন্ধ্যা ৬টা): পদ্মিনী, হস্তিনী
এখানেই দেখা যাচ্ছে, চিত্রিণী ও শঙ্খিনী দিবাকালীন মিলন থেকে কোনো তৃপ্তি পায় না।
এইভাবে প্রধান কবি কল্যাণমল্ল লাদকান রাজার কাছে বর্ণনা করলেন, কিভাবে নারী চার প্রকারে বিভক্ত, প্রত্যেকের দেহ ও মনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, এবং কীভাবে চন্দ্রের অবস্থান ও দিন-রাত্রির সময় অনুযায়ী তাদের ভোগ-উপভোগের সময় নির্ধারিত হয়।
অধ্যায় ২
নারীর মধ্যে কামনার আসন
এখন পুরুষদের আরও জানা উচিত যে নারীর দেহের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে কামনা অবস্থান করে। আর সেই অঙ্গগুলিকে চন্দ্রকলার নামে পরিচিত প্রাথমিক আদর-স্পর্শ দ্বারা উত্তেজিত করলে, স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে গভীর সুখ ও আরাম অনুভব করে।
অন্যদিকে, যদি চন্দ্রকলার নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট আদর না করা হয়, তবে কোনো পক্ষই সম্পূর্ণ তৃপ্ত হবে না; বরং উভয়ের মন অন্যত্র আকৃষ্ট হবে, এবং তারা পরকীয়া-সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে কলহ, হত্যা এবং অন্যান্য মারাত্মক পাপে জড়িয়ে পড়বে। এই সবই এড়ানো সম্ভব, যদি চন্দ্রকলা অধ্যয়ন করে মনে রাখা হয়।
কামনা নারীর ডানদিকে অবস্থান করে শুক্লপক্ষে—অর্থাৎ চাঁদের উজ্জ্বল পক্ষ, অমাবস্যা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত (পনেরো দিন সহ)। আর বিপরীতে কৃষ্ণপক্ষে—অর্থাৎ চাঁদের অন্ধকার পক্ষ, পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত—তখন কামনা নারীর বাঁদিকে অবস্থান করে। আলো ও অন্ধকারের প্রভাবে এই পরিবর্তন ঘটে বলে মনে করা হয়; নচেৎ কামনার আসন সর্বদা এক জায়গাতেই থাকত।
এখন সাধারণ নিয়ম থেকে বিশেষে এসে, কবি কল্যাণমল্ল চার শ্রেণির নারী সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি পদ্মিনী দিয়ে শুরু করেন এবং দেখান—প্রথমত, কোন অঙ্গে কামনা অবস্থান করে; দ্বিতীয়ত, কীভাবে তা তৃপ্ত করা যায়। স্বামীকে আদর চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না তিনি স্ত্রীর দেহের লোম খাড়া হতে দেখেন, আর শীৎকার শব্দ শুনতে পান—অর্থাৎ দাঁত চেপে শ্বাস টেনে নেওয়ার অজ্ঞাত স্বর। তখনই বোঝা যাবে যে স্ত্রী চরম সুখে পৌঁছেছে।
সাধারণ সারণি III
কোন দিনে কোন অঙ্গে কামনা, আর কীভাবে আদর করতে হবে
- শুক্লপক্ষ (১৫তম দিন, পূর্ণিমা): ডান দিক — মাথা ও চুল → চুল ধরে আদর করা, মাথা ও আঙুলে সোহাগ।
- কৃষ্ণপক্ষ (১ম দিন, অমাবস্যা): বাঁ দিক — মাথা ও চুল → একই প্রক্রিয়া।
- শুক্লপক্ষ (১৪তম দিন): ডান চোখ → চুম্বন ও আদর।
- কৃষ্ণপক্ষ (২য় দিন): বাঁ চোখ → চুম্বন ও আদর।
- শুক্লপক্ষ (১৩তম দিন): নিচের ঠোঁট → চুম্বন, নরমভাবে কামড়ানো ও চিবানো।
- কৃষ্ণপক্ষ (৩য় দিন): উপরের ঠোঁট → একই প্রক্রিয়া।
- শুক্লপক্ষ (১২তম দিন): ডান গাল → একই।
- কৃষ্ণপক্ষ (৪র্থ দিন): বাঁ গাল → একই।
- শুক্লপক্ষ (১১তম দিন): গলা → হালকা নখ দিয়ে আঁচড়।
- কৃষ্ণপক্ষ (৫ম দিন): গলা → একই।
- শুক্লপক্ষ (১০ম দিন): শরীরের পার্শ্বদেশ → একই।
- কৃষ্ণপক্ষ (৬ষ্ঠ দিন): শরীরের পার্শ্বদেশ → একই।
- শুক্লপক্ষ (৯ম দিন): স্তন → হাতে ধরে আস্তে আস্তে মর্দন।
- কৃষ্ণপক্ষ (৭ম দিন): স্তন → একই।
- শুক্লপক্ষ (৮ম দিন): নাভি → হাতের তালু দিয়ে হালকা চাপড়।
- কৃষ্ণপক্ষ (৮ম দিন): নাভি → একই।
- শুক্লপক্ষ (৬ষ্ঠ দিন): নিতম্ব → ধরে চেপে ধরা, মুষ্টি দিয়ে টোকা।
- কৃষ্ণপক্ষ (১০ম দিন): নিতম্ব → একই।
- শুক্লপক্ষ (৫ম দিন): যোনি → লিঙ্গের ঘর্ষণে।
- কৃষ্ণপক্ষ (১১তম দিন): যোনি → লিঙ্গের ঘর্ষণে।
- শুক্লপক্ষ (৪র্থ দিন): হাঁটু → হাঁটু দিয়ে চাপ, আঙুলে আদর।
- কৃষ্ণপক্ষ (১২তম দিন): হাঁটু → একই।
- শুক্লপক্ষ (৩য় দিন): পায়ের পিণ্ডলী → পিণ্ডলী দিয়ে চাপ, আঙুলে আদর।
- কৃষ্ণপক্ষ (১৩তম দিন): পায়ের পিণ্ডলী → একই।
- শুক্লপক্ষ (২য় দিন): পা → আঙুলে চাপ, আঙুল ঢুকিয়ে আদর।
- কৃষ্ণপক্ষ (১৪তম দিন): পা → একই।
- শুক্লপক্ষ (১ম দিন): বড় আঙুল → একই।
- কৃষ্ণপক্ষ (১৫তম দিন): বড় আঙুল → একই।
সারণি IV
পদ্মিনীর জন্য বিশেষ আদর
- প্রতিপদ (১ম দিন): গলা—জোরে জড়িয়ে ধরা; গাল—চুম্বন ও আঁচড়; কোমর—নখ দিয়ে আঁচড়; পিঠ—আঁচড় ও মুষ্টি দিয়ে টোকা; পার্শ্বদেশ—নখ দিয়ে আঁচড় ও চাপ; উদর—নখ দিয়ে আঁচড় ও চাপ; ঠোঁট—নরম কামড় ও চুম্বন; চোখের মাঝখান—চুম্বন।
- দ্বিতীয়া (২য় দিন): গাল—চুম্বন ও আঁচড়; স্তনদেশ—নখ দিয়ে চাপ; উরু—নখ দিয়ে আঁচড় ও চাপ; ঠোঁট—চুম্বন; পা—নখ দিয়ে আঁচড় ও চাপ।
- চতুর্থী (৪র্থ দিন): স্তন—আস্তে আঁচড়; স্তনদেশ—চেপে ধরা ও মর্দন; বাহু—হঠাৎ ঝাঁকুনি; ঠোঁট—নরম কামড় ও চোষা।
- পঞ্চমী (৫ম দিন): চুল—ডান হাতে আস্তে বুলানো; স্তনদেশ—চেপে ধরা ও ঘষা; ঠোঁট—নরম কামড়; স্তনবৃন্ত—চুম্বন, নরম চিমটি ও বুড়ো আঙুল-তর্জনী দিয়ে ঘষা।
সারণি V
চিত্রিণীর জন্য বিশেষ আদর
- ষষ্ঠী (৬ষ্ঠ দিন): নিচের ঠোঁট—চুম্বন; গলা—আলিঙ্গন; কোমর—নখ দিয়ে আঁচড়।
- অষ্টমী (৮ম দিন): যোনি—লিঙ্গপ্রবেশ; গলা—দুই হাতে শক্ত করে ধরা; নাভি—নখ দিয়ে চাপ; ঠোঁট—দ্রুত কামড়; স্তন—হাতে ধরা।
- দশমী (১০ম দিন): যোনি—বাম হাতে ঘষা ও আঁচড়; গলা—আঙুল বুলানো; কোমর—বাম হাতে ঘষা; স্তন—বাম হাতে ঘষা; কান—আঙুলে আদর; উরু—বাম হাতে ঘষা; দেহমধ্যভাগ—বাম হাতে ঘষা; পিঠ—বাম হাতে ঘষা ও মুষ্টি টোকা; কপাল—জোরে চুম্বন।
- দ্বাদশী (১২শ দিন): নিচের ঠোঁট—খুব আস্তে কামড়; গলা—শক্ত করে আলিঙ্গন; কান—নখ বসানো; বুক—চুম্বন ও চাপ; চোখ—বন্ধ করানোর মতো আদর; চুল—আস্তে টানা।
সারণি VI
শঙ্খিনীর জন্য বিশেষ আদর
- তৃতীয়া (৩য় দিন): দেহ—পেঁচানো; নিচের ঠোঁট—কামড়; বাহু—? (টেক্সটে অস্পষ্ট); স্তন—রুক্ষ আঁচড়ে দাগ ফেলা।
- সপ্তমী (৭ম দিন): দেহ—শক্ত করে আলিঙ্গন; উদর—নখ দিয়ে আঁচড়; বুক—নখ দিয়ে চাপ; গলা—নখ দিয়ে আঁচড়; কান—নখ দিয়ে চাপ; পা—নখের দাগ ফেলার মতো চাপ; মুখ—চুম্বন; যোনি—লিঙ্গের জোরে মিলন।
- একাদশী (১১তম দিন): দেহ—জোরে আলিঙ্গন; যোনি—লিঙ্গ দিয়ে আঘাতের মতো মিলন; ঠোঁট—চুম্বন ও চোষা।
- ত্রয়োদশী (১৩শ দিন): স্তন—চেপে ধরা যতক্ষণ না শীতকার শোনা যায়; মাথার নিচে—নখ দিয়ে অক্ষর আঁকার মতো দাগ।
সারণি VII
হস্তিনীর জন্য বিশেষ আদর
- নবমী (৯ম দিন): যোনি—জোরে লিঙ্গপ্রবেশ, এমনকি হাতে ঘষা; নাভি—বারবার হাত বুলানো; ঠোঁট—চুম্বন ও চোষা; পার্শ্বদেশ—আঙুলে চাপ ও নরম আঁচড়; স্তন—চেপে ধরা, মর্দন, পাকানো;
- চতুর্দশী (১৪শ দিন): যোনি—লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে কোমর বাঁকানো; চোখ—চুম্বন;
- পূর্ণিমা: ঠোঁট—বিভিন্নভাবে চুম্বন; পার্শ্বদেশ—জোরে টানা; স্তন—জোরে টানা; বুক—নখ দিয়ে আঁচড়ে দাগ ফেলা; স্তনবৃন্ত—চুম্বন ও বুড়ো আঙুল-তর্জনী দিয়ে ঘষা; দেহ—বিভিন্নভাবে আলিঙ্গন; চোখ—চুম্বন; বগল—আঁচড় ও গুদগুদানি। “গুদগুদানি” শব্দের অর্থ হলো tickling—
অর্থাৎ হালকা করে আঙুল বা হাত দিয়ে শরীরের কোনো অংশে (যেমন বগল, পায়ের তলা, কোমর ইত্যাদি) ছুঁয়ে এমনভাবে নাড়াচাড়া করা যাতে হেসে ওঠার মতো অস্বস্তিকর, কিন্তু মজাদার অনুভূতি হয়। - অমাবস্যা: যোনি—ফুলের মতো খুলে টানা; ঠোঁট—বিভিন্নভাবে চুম্বন; পার্শ্বদেশ—নখের দাগ ফেলে আঁচড়; স্তন—নখের দাগ ফেলে আঁচড়; বুক—নখ দিয়ে আঁচড়ে দাগ; স্তনবৃন্ত—হাত বুলিয়ে বুড়ো আঙুল-তর্জনী দিয়ে ঘষা; দেহ—বিভিন্নভাবে আলিঙ্গন; চোখ—চুম্বন; বগল—আঁচড় ও গুদগুদানি।
উপসংহার
এখানেই শেষ হলো চন্দ্রকলার সারণিগুলো। এর সঠিক অধ্যয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে পুরুষেরা নারীদের তৃপ্ত করতে সক্ষম হবে, এবং এমনকি সবচেয়ে দৃঢ়স্বভাবী স্ত্রীকেও নিজের ইচ্ছার অধীন করে নিতে পারবে।
অধ্যায় ৩
নারী ও পুরুষের বিভিন্ন প্রকার
প্রথম পরিচ্ছেদ
পুরুষ
পুরুষ তিন শ্রেণির হয়ে থাকে—
১. শশ, অর্থাৎ খরগোশ-পুরুষ বা Hare-man
২. ঋষভ, অর্থাৎ বলদ-পুরুষ বা Bull-man
৩. অশ্ব, অর্থাৎ ঘোড়া-পুরুষ বা Horse-man
এদের স্বভাব ব্যাখ্যা এবং দেহের বিশেষ লক্ষণ দ্বারা চেনা যায়।
শশ বা খরগোশ-পুরুষ—
তার লিঙ্গ উত্থানে ছয় আঙুলের বেশি দীর্ঘ হয় না, আনুমানিক তিন ইঞ্চি। দেহ খাটো ও পাতলা, তবে গড়ন সুন্দর ও অনুপাতে গড়া। হাত, হাঁটু, পা, কোমর ও উরু ছোট হয়; উরু অন্য চামড়ার তুলনায় কিছুটা কালো। মুখাবয়ব পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে গড়া; মুখ গোলাকার; দাঁত ছোট ও সুন্দর; চুল মসৃণ; চোখ বড় ও খোলা। স্বভাব শান্ত; ধর্মের জন্য সৎকর্ম করে; নাম করার আকাঙ্ক্ষা রাখে; বিনয়ী; খাদ্যগ্রহণে সংযত; কামেচ্ছা অল্প। তার কাম-সলিলা বা বীর্য কখনোই দুর্গন্ধযুক্ত নয়।
ঋষভ বা বলদ-পুরুষ—
তার লিঙ্গ নয় আঙুল লম্বা, প্রায় সাড়ে চার ইঞ্চি। দেহ শক্ত ও দৃঢ়, কচ্ছপের মতো; বুক মাংসল, পেট শক্ত; উপরের বাহু সামনের দিকে বাঁকানো। কপাল উঁচু; চোখ বড়, লম্বাটে, কোণে গোলাপি আভা; হাতের তালু লালচে। স্বভাব ক্রুর, অস্থির, রাগী; তার কাম-সলিলা সর্বদা প্রস্তুত।
অশ্ব বা ঘোড়া-পুরুষ—
তার লিঙ্গ বারো আঙুল দীর্ঘ, প্রায় ছয় ইঞ্চি। দেহ লম্বা ও বৃহদাকৃতি, তবে অতিরিক্ত মাংসল নয়। সে শক্তিশালী নারীদেরই ভালোবাসে, কোমল গড়নের নয়। দেহ লোহা সদৃশ দৃঢ়; বুক প্রশস্ত, পূর্ণ ও মাংসল; কোমরের নিচের অংশ দীর্ঘ; মুখ ও দাঁত, গলা ও কানও দীর্ঘ; হাত ও আঙুল অস্বাভাবিকভাবে লম্বা। হাঁটু কিছুটা বাঁকা, এবং পায়ের নখেও তার ছাপ দেখা যায়। চুল লম্বা, মোটা ও ঘন। তার দৃষ্টি স্থির ও কঠিন, চাহনি বদলায় না; কণ্ঠস্বর ষাঁড়ের মতো গভীর। মনোভাব বেপরোয়া, কামুক, লোভী, ভোজনপ্রিয়, অস্থির, অলস ও ঘুমকাতুরে। ধীরে হাঁটে, এক পায়ের সামনে অন্য পা ফেলে। যৌনক্রিয়ায় সে তেমন আসক্ত নয়, কেবল চরমসুখ আসন্ন হলে। তার কাম-সলিলা প্রচুর, লবণাক্ত এবং ছাগলের মতো গন্ধযুক্ত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
নারী
যেমন পুরুষ তিন প্রকারে বিভক্ত হয় লিঙ্গের দৈর্ঘ্য অনুসারে, তেমন নারীর চার শ্রেণি (পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী ও হস্তিনী) আবার যোনির গভীরতা ও বিস্তৃতি অনুসারে তিন ভাগে বিভক্ত। এরা হলো—
১. মৃগী বা হরিণী — Deer-woman
২. বাদবা বা অশ্বিনী — Mare-woman
৩. কারিণী — Elephant-woman
মৃগী বা হরিণী—
তার যোনি ছয় আঙুল গভীর। দেহ কোমল, কিশোরীর মতো নরম। মাথা ছোট ও সুন্দর অনুপাতের; স্তন উঁচু; পেট টানটান ও পাতলা; উরু ও যোনি-মূল মাংসল; কোমরের নিচের গড়ন মজবুত; বাহু বড় ও গোলাকার। চুল ঘন ও কোঁকড়ানো; চোখ কালো পদ্মের মতো; নাসারন্ধ্র সূক্ষ্ম; গাল ও কান বড়; হাত, পা ও নিচের ঠোঁট লালচে; আঙুল সোজা। কণ্ঠস্বর কোকিলের মতো; হাঁটা হাতির দোলনের মতো। খাবারে সংযত, কিন্তু যৌনসুখে আসক্ত; স্নেহশীলা হলেও ঈর্ষাপরায়ণ; কামনায় দমন না হলে চিন্তাশীল। তার কাম-সলিলা পদ্মফুলের মতো সুগন্ধযুক্ত।
বাদবা বা অশ্বিনী—
তার যোনি নয় আঙুল গভীর। দেহ কোমল; বাহু কাঁধ থেকে মোটা; স্তন ও নিতম্ব প্রশস্ত ও মাংসল; নাভি উঁচু, তবে পেট বেড়িয়ে থাকে না। হাত-পা ফুলের মতো লালচে ও অনুপাতময়। মাথা সামনের দিকে হেলে থাকে, লম্বা ও সোজা চুলে ঢাকা। কপাল পশ্চাদপসারিত; গলা দীর্ঘ ও বাঁকা; গলা, চোখ ও মুখ প্রশস্ত; চোখ গাঢ় পদ্মপাপড়ির মতো। তার হাঁটা সুশোভন; ঘুম ও ভোগ ভালোবাসে। স্বভাব রাগী ও পরিবর্তনশীল, তবে স্বামীর প্রতি স্নেহশীলা। যৌনসুখে সহজে চরমসুখে পৌঁছায় না। তার কাম-সলিলা পদ্মফুলের মতো সুবাসিত।
কারিণী বা হাতিনী—
তার যোনি বারো আঙুল গভীর। দেহ অশুচি; স্তন বৃহৎ; নাক, কান ও গলা মোটা ও দীর্ঘ; গাল ফুলে থাকে; ঠোঁট লম্বা ও বাইরে বাঁকানো; চোখ ভয়ংকর ও হলদেটে; মুখ প্রশস্ত; চুল ঘন ও কালচে; হাত, পা ও বাহু ছোট ও মোটা; দাঁত বড় ও কুকুরের মতো ধারালো। খাবার সময় কোলাহল করে; কণ্ঠস্বর কর্কশ; ভীষণ ভোজনরসিক; জোড়গুলো নড়লেই কটকট শব্দ হয়। স্বভাবে পাপিষ্ঠ ও নির্লজ্জ; পাপ করতে দ্বিধা নেই। কামনায় উত্তেজিত হলে সহজে তৃপ্ত হয় না; দীর্ঘ মিলন চায়। তার কাম-সলিলা প্রচুর এবং হাতির কপাল থেকে যে রস ঝরে তার মতো।
উপসংহার—
জ্ঞানী মানুষ মনে রাখবেন, সব বৈশিষ্ট্যই সব নারীর মধ্যে স্পষ্টভাবে থাকে না; অভিজ্ঞতাতেই বোঝা যায়। অনেক সময় দুই প্রকারের বৈশিষ্ট্য মিশে থাকে, আবার তিনটিও একত্রে থাকতে পারে। তাই গভীর অধ্যয়ন ও বিচক্ষণতার প্রয়োজন, যেন সঠিক চন্দ্রকলা ও অন্যান্য আদর প্রয়োগ করা যায়। নইলে মিলনের ফল সন্তোষজনক হয় না।
শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলা হচ্ছে—পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী, হস্তিনী; শশ, ঋষভ, অশ্ব; এবং মৃগী, বাদবা, কারিণী—এসব শ্রেণি সচরাচর শুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় না। তাই এগুলির মিশ্রণ বুঝে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করাই কর্তব্য।
নারীর চরমসুখের লক্ষণ
মিলনকালে নারী যখন আনন্দ পেতে শুরু করেন, তখন—
- চোখ আধখোলা ও জলে ভরে যায়,
- শরীর শীতল হয়ে ওঠে,
- শ্বাস প্রথমে দ্রুত ও খণ্ডিত হয়, পরে দীর্ঘশ্বাসে বেরোয়,
- নিচের অঙ্গগুলো প্রথমে শক্ত হয়, পরে ঢিলে হয়ে প্রসারিত হয়,
- স্নেহ ও প্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে—চুম্বন, খেলা-ধুলা ও ইশারায়,
- অবশেষে তিনি অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছান।
এই সময় আর কোনো আদর বা আলিঙ্গনে তার আগ্রহ থাকে না। তখন জ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে চরমসুখ সম্পূর্ণ হয়েছে, এবং নারী পূর্ণ তৃপ্তি পেয়েছেন। সুতরাং, তখন আর মিলন চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
