ইতি গজ – বিবেক কুন্ডু

›› গল্পের অংশ বিশেষ  

…..২০৩২ খ্রিষ্টাব্দ, নিউ অরলিন্স, আমেরিকা, ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারের কাছে এক অভিজাত হোটেলের এক্সিকিউটিভ সাইট।
পরুষ দুই তর্জনীর ডগা ধীরে ধীরে নেমে এল চোখের পাশ বেয়ে। সম্রাজ্ঞীর গাল পেরিয়ে ধীরে ধীরে নাকের ওপর থাকা মধ্যমাদুটোকে ছুঁয়ে অনামিকা এবং কনিষ্ঠার মাঝে কাঁপতে থাকা ওষ্ঠাধরের ওপর হালকা চাপ দিয়ে ঢুকে পড়ল মুখের ভেতর। কানের ওপর একজোড়া বুড়ো আঙ্গুল হালকা চাপে ধীরে ধীরে ওকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছিল বিবিধ জাগতিক শব্দের থেকে। শরীরের কেন্দ্রীয় শক্তিচক্রের সংগে যেন একাত্ম হয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। এই সময় কানের ওপর গরম নিঃশ্বাস পড়তেই নিজের ভেতর এক অদ্ভূত শিহরণ অনুভব করল সম্রাজ্ঞী। মুখের ভেতরে থাকা তর্জনীদুটো কামড়ে ধরল অদ্ভুত কোমলতায়। সঙ্গী পুরুষটি শব্দ করল সামান্য, এরপর এক টানে ওকে উপুড় থেকে চিত করে মুখ নামিয়ে আনল গাঢ় নীল অন্তর্বাসের ওপর। হাতের নিপুণ টানে সেটা খুলে ফেলতেই স্তনের ওপর না কামান দাড়ির স্পর্শে সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল সম্রাজ্ঞীর। হাতের চাপে ঝুঁকে পড়া পুরুষালী মাথাটাকে নামিয়ে আনল নাভিমূলে। সেখানে চুম্বনের মাদকতায় চোখ প্রায় বুজে এসেছিল, হঠাতই তলপেটে এক অদ্ভুত টান অনুভব করল সম্রাজ্ঞী। ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখল ঘরের ছাইরঙ্গা সিলিং ঝুরঝুরে ধূসর পান্ডুলিপির মত খসে খসে পড়ছে। সদ্যোজাত অন্ধকারে ফুটে উঠছে অদ্ভূত একজোড়া মায়াবী চোখ। এরপর ছায়ার মত এক অবয়ব ফুটে উঠল সেখানে, সেই সংগে নুপুরের নিক্কনের শব্দ। অদ্ভুত লয়ে নাচতে শুরু করল সামান্য স্থূল সে অবয়ব। তার হাতদুটি প্রসারিত হল ক্রমশ। আঙ্গুল দেখে নারী বলেই মনে হয়, কিন্তু চুল তার আটসাট এবং ছোট, হাওয়ায় উড়ছে না। আঙ্গুলের নড়াচড়ায় জটিল এক মুদ্রা প্রদর্শন করতে করতে মেঝেয় বসে পড়ল সে। শুরু হল সরীসৃপ ভঙ্গীমায় অদ্ভূত নাচন। হঠাত পায়ের শব্দে থমকে গেল সে। বৃষস্কন্ধ এক পুরুষালী চেহারা ফুটে উঠল ঠিক তার পেছনে। নারীও থেমে গেল অদ্ভুত মুদ্রা প্রদর্শন ভঙ্গীমায়। ক্রমশ স্থবিরতা গ্রাস করে ফেলল ছবিটাকে।
উর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল অর্ধনারীশ্বর অবয়ব। দেখা গেল সাজান বেদীর উপর নাচনভংগীমায় দাঁড়িয়ে এক যোগিনীমুরতি। কিছুক্ষণ আগে দেখা নৃত্যপটিয়সীর হাতের মুদ্রাও যেন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এখানে। বেদীর নীচেই এক পুরুষের মাথা, ফুলের মুকুট যার কপাল ঢেকে রেখেছে। পেছনে ক্রমশ সরছে একের পর এক দেওয়াল, যাদের লিখন ক্ষণিকের জন্য দেখা দিয়েই মিলিয়ে যাচ্ছে।
শেষ দেওয়ালটা ধূলিসাৎ হবার পূর্ব মূহূর্তে তলপেটের উত্তেজনাটা ফিরে এল আবার। ধুলোর ছবির রেশ থাকতে থাকতেই সম্রাজ্ঞী অনুভব করল পুরুষ সঙ্গীটি নীচের আবরণ ছাড়িয়ে হঠাতই প্রবেশ করেছে তার ভেতর। তার ঠোঁট চেপে বসেছে ওর ঠোঁটে। নিম্নাঙ্গে বজ্রকঠিন অংগের ওঠানামা ভেতরের উত্তাপ বাড়িয়ে তুললেও ছবির রহস্যটা কেমন যেন অমনোযোগী করে তুলল ওকে। চওড়া কাঁধটা খামচে ধরতে ধরতেও ছেড়ে দিল সম্রাজ্ঞী। এক ধাক্কায় মানুষটাকে সরিয়ে উঠে বসল বিছানায়। বুকের ওপর চাদরটা টেনে নিয়ে বলল – “সরি, আয়াম নট ইন আ মুড। তাছাড়া প্রোটেকশন ছাড়া আমি এসব প্রেফার করি না।”
সামান্য হাসল সংগীটি। কোমর অবধি চাদরটা টেনে নিয়ে বলল “বেবি, উই জাস্ট স্টার্টেড এনজয়িং ইট। কাম অন।”
“সরি। এখন আর নয়। ইউ ক্যান লিভ।” ব্রা পরতে পরতে জবাব দিল সম্রাজ্ঞী।
“ওয়েল। কাল রাতে পাবে যখন আলাপ হল, তোমাকে এতটা বোরিং মনে হয়নি।” খাট থেকে নেমে জামাকাপড় পরতে শুরু করল ছেলেটা। মাঝপথে হঠাত থেমে গিয়ে বলল “ক্যান উই হ্যাভ আ শাওয়ার টুগেদার? আই প্রমিস, তারপর চলে যাব।”
কটমট করে ওর দিকে তাকাল সম্রাজ্ঞী। দুদিনের জন্য নিউ অরলিন্সে অংকোলজির সেমিনারে এসে এই ভারতীয় ছেলেটার সংগে আলাপ। কাল পাবে দুজনেই বেশী ড্রিংক করে ফেলে গাড়ি ধরে সোজা এসে পড়েছিল হোটেলের বিছানায়। ক্যাসুয়াল ফ্লিং যাকে বলে। কিন্তু ছেলেটা এখন মনে হয় লিমিট ক্রস করে যাচ্ছে।
ঝটপট জামাটা পরে নিল সম্রাজ্ঞী। ওর চোখে চোখ রেখে বলল “একজন এসকর্ট জুটিয়ে নাও বরং। তোমার অশান্ত অঙ্গটা শান্ত হয়ে যাবে। আমার এখন কাজ এসে পড়েছে। প্লিজ লিভ।” “এক মিনিট – সোফায় বসে বলল ছেলেটা – “একটা জিনিস অদ্ভুত লাগল আমার। তোমার নাভিটা পেটের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় নয় কেন? একটু যেন সরে যাওয়া। নাভির শেপটাও অদ্ভুত, অনেকটা বুলেট ইনজিওরির মত। তোমার স্কিনে হাত বুলিয়ে মনে হল তুমি আর্টিফিশিয়ালি বর্ন মানুষ। সেক্ষেত্রে তো নাভি থাকবার কথা নয় তোমার। রহস্যটা কী?”
ভেতরটা কেঁপে উঠল সম্রাজ্ঞীর। দু বছর আগে ভারতে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল একবার। গুলির মধ্যে ভরা একটা এনার্জি ক্যাপসুল এখনও তার শরীরের ভেতরে রয়েছে। মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল সম্রাজ্ঞীর। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল – “অবান্তর প্রশ্ন। এবার না গেলে রিসেপশনে কল করতে বাধ্য হব।”
“ওদের কি বলবে? কাল রাতে তো বয়ফ্রেন্ড বলে রুমে ঢুকিয়ে নিলে। তার চেয়ে রাতটুকু গল্প করে কাটিয়ে দেওয়াই ভাল নয় কি? সকাল হলেই আমি চলে যাব।”
“তুমি কী চাও বল ত? এতক্ষণ এনজয় করছিলাম, এবার কিন্তু তোমার সংগ আমার বেশ বিরক্তিকর লাগছে।”
“যদি বলি আই ওয়ান্ট ইউ টু স্ট্রিপ। তোমার অনাবৃত শরীরটা দেখতে চাই আবার। তোমার নাভিতে যখন ফোরপ্লে করছিলাম, তুমি সিলিং এর দিকে চেয়েছিলে চুপচাপ। কি দেখছিলে বল ত?”
“কিছু না। ধরে নাও ফ্যান্টাসাইজ করছিলাম। নাও গেট লস্ট।….