অহর্নিশ – হর্ষ দত্ত

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  

…..একদিন তাে সব জায়গায় হাত দিতে দিয়েছিলে। তােমার ওই ভারী বুকদুটোর চেয়ে ওখানটা নরম। মনে আছে, জ্যোতিতে শোলে দেখতে গিয়ে তােমার ওখানে হাত রেখেছিলাম। তুলতুলে, ভিজেভিজে জায়গাটায় পৌঁছে আমার আঙুলগুলাে পাগল হয়ে গেছিল! তুমি বাধা দাওনি! সেই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।……

……… সীতেশ আর ওকে কোনও সুযােগ দিল না। ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দিল। টেনে ছিড়ে ফেলল সুনন্দার জামা। শাড়িটাকে পাগলের মতাে টেনে খুলতে খুলতে প্রায় ঘরের কোনায় চলে গেল। সুনন্দা চোখ বুজে সমস্ত শক্তি দিয়ে পেটিকোটটা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করল। এছাড়া সুনন্দার সামনে অন্য কোনও পথ নেই। এক প্রৌঢ় পুরুষ এক প্রৌঢ় মহিলাকে ধর্ষণ করেছে– এ-খবরের মধ্যে কোনও উত্তেজক ইঙ্গিতও নেই, বিকৃতি আর বিচ্যুতি ছাড়া।……..

…….সীতেশের দৃঢ় পুরুষাঙ্গ নেমে আসছে ওর শরীরে তীব্র আঘাতে। সুনন্দার শুষ্ক যােনিপথ প্রদাহে ভরে যাচ্ছে। ওর বুক, ঠোঁট শুষে নিতে চেষ্টা করছে সীতেশ। ঠিকমতাে পারছে না। হাপরের মতাে নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সুনন্দা। হালকা মদের গন্ধও নাকে এসে লাগছে। গা গুলিয়ে উঠছে সুনন্দার। ওর গােপনাঙ্গে মুখ নামিয়ে লালা ঢেলে দিচ্ছে সীতেশ। আর কতদুর প্রবেশ করতে চায় ও, আর কতদুর! শরীর মুচড়ে কান্না ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। এই পাপ থেকে, নির্যাতন থেকে, ধর্ষণের বীভৎস আয়ােজন থেকে ওকে উদ্ধার করার কেউ নেই।

তৃপ্তি অতৃপ্তির মাঝামাঝি একটা জান্তব শব্দ বেরিয়ে আসছে সীতেশের মুখ থেকে। নিঃশেষ হওয়ার আগে পরিমল যে-শব্দ করত অপরাধীর মতাে, সন্তর্পণে, নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে! অতিদ্রুত লিঙ্গ শিথিল হয়ে গেছে। তবু শ্রান্ত শরীর সীতেশ টেনে তুলতে পারছে না। অথবা সুনন্দার দেহ আঁকড়ে পড়ে থাকতে চাইছে। যে-দেহ ওকে কিছুই দিল । ঘৃণা আর বাধকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।……..

…….জীবক আদৌ শােনেনি। শােনার মতাে কারণ এবং সময় কোনওটাই সেদিন ওদের হাতে ছিল না। তা ছাড়া পারঙ্গমার সতর্কীকরণের ধ্বনি ইথার তরঙ্গে ভাসছিল অন্য বার্তা নিয়ে। জীবকের মনে হয়েছিল, পারঙ্গমার ধমক আসলে আকাঙক্ষার ওপর আবরণ। কিন্তু সে আবরণ স্বচ্ছ। ওরই মতাে এই নারীর বুকের ভেতর তিরতির কাঁপছে সহস্র, সবুজ কামনার পাতা। পাগলের মতাে প্রথম থেকেই ওরা পরস্পরকে আদর করেছে। গালে, ঠোঁটে, মুখে, মুখের ভেতরে। বুকে, স্তনে, নাভিমূলে। কিন্তু তার নীচে পারঙ্গমা ওকে নামতে দেয়নি। জীবক নিজেকে সংবৃত রাখতে পারছিল না। উন্মােচনের উন্মাদনা ওকে অস্থির করে তুলছিল। কিন্তু পারঙ্গমা শেষ দরজাটুকু কিছুতেই খুলতে দেয়নি। যে-জোর খাটালে মিলনের ছবিটা এক মুহূর্তে ধর্ষণে রূপান্তরিত হয়ে যায়, সেই শক্তিকে দু’হাতে পারঙ্গমা ঠেকিয়ে রেখেছিল।…………

Please follow and like us:

Leave a Reply