রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  ›› ১৮+  

……….যদিও শ্রীপাটে সর্বদাই শ্রীরাধাকৃষ্ণের রতিরঙ্গেই সকলে তুষ্ট থাকেনি। নিজেরাও সকাম হয়েছে।……
…….কৃষ্ণের রতিক্রীড়া নিরন্তর। কৃষ্ণ সচ্চিদানন্দ। কৃষ্ণেই অদ্বৈততত্ত্ব স্বতঃস্ফুর্ত। রাধা কৃষ্ণের গ্লদিনী শক্তি। ……ময়না বৈষ্ণবীর কানে এসেছে এই যে তার গুরু এবং পঞ্চবুধুরি শ্রীপাটের প্রধান শ্রীকৃষ্ণপাদ প্রভুজি মহারাজ গোপনে বিশাখা বৈষ্ণবীর বিলাসী। | সত্য-মিথ্যা জানে না সে। জানার চেষ্টাও করে না। …….ব্রহ্মচর্য পালন করা সত্ত্বেও দু-একজনের পদস্খলন হয়েই যায় বৈষ্ণবীদের সান্নিধ্যে। ……

…….অন্যান্য সব মঠের মতােই ঘােষপার-মঠে বৈষ্ণবীর সংখ্যা কম। ময়না বৈষ্ণবীকে বাদ দিলে আছে আরও তিনজন। তারা রাঁধে-বাড়ে। মঠের নিত্যকর্ম করে। আর মঠের উনুনেই ময়না বৈষ্ণবী মাধুকরীর চাল ফুটিয়ে খায়। কারও সঙ্গে প্রয়ােজনের অতিরিক্ত বাক্যালাপ করে না। কিন্তু এই চার বৈষ্ণবী যেহেতু একই ঘরে শয়ন করে সেহেতু মাঝরাতে এদের একেকজনের উঠে যাওয়া সে টের পায়। সে বুঝতে পারে, এদের কারও কোনও নির্দিষ্ট সঙ্গী নেই।

…….একত্র বসবাসেই সংযমের পরীক্ষা মহাপ্রভু গােপীদাসের এই বাণীর মর্মার্থ কেউ গ্রহণ করেনি। গােটা মঠকে একটি লীলাক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ময়না বৈষ্ণবী এসব দেখেও দেখে না। ……

…….যখনই মঠে আসে এই শংকর- দু-চারজন মেয়েকে আনে সঙ্গে করে। বৃদ্ধা নয়, মধ্যবয়সিনী নয়। প্রত্যেকেই তরুণী, যুবতী। তারা প্রত্যেকেই বৈষ্ণবী হয়ে মঠের সেবা করার সংকল্প নিয়েছে। তার ভাবতে অবাক লাগে। এত মঠই-বা কোথা! এত সেবিকাও বা লাগে কেন? কোথা হতে আসে এরা! কোন মঠে সেবা করতে যায়! বৈষ্ণবী হতে চায়, মঠের সেবা করতে চায়, এমন যৌবনবতী মেয়েরা কেন শংকরেরই চোখে পড়ে যায় সর্বত্র ! যেন সে ঠেকা নিয়েছে, সকল নারীকে বৈষ্ণবধর্মে মতি দেবে। ……

…….মঠে এইসব মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা বৈষ্ণবীদের সঙ্গে নয়। বাৎসরিক মহােৎসবের অতিথিরা এলে যে ঘরগুলিতে থাকে, তারই একটা তাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ….

……. সে তখন উঠে বসল। ঘরের এখানে-ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুমিয়ে আছে রামি, প্রমি ও কেতকী বােষ্টুমি। কেউ কাত হয়ে, কেউ চিৎ হয়ে। কারও শাড়ি হাঁটু অবধি উঠে গেছে। কারও মুখে জ্যোৎস্নার আলােয় মাধবীলতার ছায়ার আলপনা। প্রমি বােষ্টুমির বুকের কাপড় সরে গেছে। সেফটিপিন-লাগানাে ব্লাউজের অভ্যন্তর হতে উকি মারছে উথালি বুক।

এই ব্যথাতেও ময়না বৈষ্ণবীর হাসি পেল। এই মুহূর্তে এই ঘর ফাদ হয়ে আছে। এমন সব দৃশ্য দেখলে যে-কোনও চিরব্রহ্মচারী পুরুষেরও কামপ্রবৃত্তি জেগে উঠবে। ঘুমন্তু মেয়ের শিথিল পেটবুক-হাত, অসাবধানী পােশাক আর বাহুল্য বিবর্জিত মুখ-চোখ বড় মনােরম। সব মিলিয়ে কী রকম স্বপ্নের মতাে লাগে। এই দেখে, হতে পারে কোনও পুরুষের কাম জাগে, কারও জাগে স্নেহ। ………

………..তবে শংকরের রেখে যাওয়া মেয়েকে প্রথম রাত্রেই ব্যবহার করার ক্ষমতা ধারণ করে নিঃসন্দেহে একজন। ময়না বৈষ্ণবী জানে, এই রাতে সে কোনও ব্যবহৃত নারীকে আহ্বান করেনি। …….তার ঠোট কেঁপে কেঁপে উঠছে। বেঁকে যাচ্ছে বর্ণনার কষ্টে। ময়না বৈষ্ণবী তাকে স্পর্শ করে থাকছে। সে বলছে- রাতে খাওয়ার পর ঘরে গেছি, এক দিদি এসে ডাকল। বলল, বাবাজি ডাকছে।

– কোন বাবাজি ? – ওই যে, বড় ঘরে থাকে। যেখানে আমরা ছিলাম তার নীচের ঘর। – তাের সঙ্গে আরেকজন এসেছে? — সে আলাদা। সে আমার চেনা নয়। শংকরকাকার চেনা। – হুঁ! তা কী বলল বলরাম বাবাজি ?

– বলে, মা আমার মাথাটা একটু টিপে দিবি আয়। আমি মাথা টিপলাম কিছুক্ষণ। আমার হাত ধরে বলে, আয় দেখি, বােস আমার সামনে। বাড়ির জন্য মন খারাপ করছে? বাঃ! কী নরম হাত! আর একটু সেবা কর তাে মা। যা আলােটা নিবিয়ে দিয়ে এসে মাথাটা আর একটু টিপে দে। আমার কোনও সন্দেহ আসেনি দিদি। বাপের বয়সি মানুষ। আলাে নিবিয়ে যেই না মাথায় হাত দিয়েছি, অমনি আমায়…।

…. আমি বললাম, ছাড়াে ঠাকুর। করাে কী! আমি চেচাব। বলে, চেচালে কেউ আসবে না। সেবা করতে বেরিয়েছ, করাে। আমার শাড়ি-কাপড় সব… কী আর বলব দিদি ! | ময়না বৈষ্ণবীর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠছে। কী ব্যভিচার! এই তবে চলে! যে-সব মেয়ে আনে শংকর, তারা সব এমনই সেবায় লাগে। …..

………..জাহিরা গভীর মানবিক ধর্মবােধে গণিমিঞার সেবা করে চলেছে রাতদিন। দুলুক্ষ্যাপা জাহিরার অবস্থা বােঝে। আপাদমস্তক সুস্থ এবং সুস্বাস্থ্যবতী নারী সে। সারাক্ষণ রােগীসঙ্গ তাকে তৃপ্ত করে না। তা ছাড়া, আখড়ায় এসে পড়ার প্রথম থেকেই জাহিরা দুলু বাউলের কাছে ঘেঁষতে চেয়েছে। দুলু বাউল তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে বারবার। এখন দীর্ঘকাল শরীর অভুক্ত থাকায় এ নারী উন্মাদিনী হয়েছে। এক একবার দুলুক্ষ্যাপার মনে হয়, জাহিরা যা চায় তা দেওয়া কঠিন নয়। কিন্তু ফিরে ভাবলেই মন গুটিয়ে আসে। কিছুতেই জাহিরার শরীরে সে মনস্থাপন করতে পারে না। জাহিরার সঙ্গে মিলিত হতে গেলে জাহিরাকে গণিমিঞার অনুমােদন সংগ্রহ করতে হবে। বাউল সমাজে এমনই নিয়ম।……….

……..তবু কী এক আশ্চর্য নির্বন্ধ, কী এক কঠোর কর্তব্যবােধে সে গণিমিঞাকে ছেড়ে যাবার কথা ভাবতেও পারে না। শুধু যদি তার একটি সুন্দর সমান্তরাল জীবন থাকত, যদি একজন পুরুষ পেত সে, সব কষ্ট ভুলে থাকতে পারত। একজন পুরুষ, দুলুক্ষ্যাপার মতাে একজন, যে দিনের শেষে অন্তত একবার জাহিরা বলে আদরের ডাক দিত, সন্ধান করত কবে সে ঋতুমতী হবে, আর ঋতু হলে বড় আহ্লাদে, বড় প্রাণে, তারা সঙ্গম করত। হয় না, গণিমিঞা বিছানায় পড়ে যাবার পর আর হয় না জাহিরার জীবনে। এই অসুস্থতার ভিতরেও কী এক কামনায় গণিমিঞা অবশ আঙুলে তার শরীরের তটভূমি হাঁটকে বেড়ায়। অশক্ত ঠান্ডা আঙুলের চালনায় তার গা গুলিয়ে ওঠে।………..

……..একটি সবল মানুষ এক লাফে তার বুকের ওপর চড়ে বসে তখন। হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে। বৈষ্ণবীর চোখ বিস্ফারিত হয়ে যায়। ভয় আর বিস্ময় সেই চোখের মণিতে লেগে থাকে। অন্য একজন তার হাত দুটি বাধে। বস্ত্রখণ্ড দ্বারা বাঁধে তার মুখ আর বন্ধনকালে সে পায় সেই হাতে লেগে থাকা চন্দনের গন্ধ। টান লেগে তার শ্রীকণ্ঠ জড়িয়ে থাকা তুলসীর মালা ছন্ন হয়ে যায়। তার দু’চোখ এখন ত্রস্ত। সেই ত্রাসের ওপর পুরুষটির তুলসীর মালা দোলে। এবং পরমুহূর্তে যন্ত্রণাময় হয়ে যায় তার ভুবন। কেননা লােকদুটি তাকে ছেড়ে। তৎপর বিবস্ত্র করে তাকে। সৎ দেহখানির বাঁকে বাঁকে ফুটে ওঠে দাত ও নখরের হিংস্র রাগ। সে অসহায় গাভীর মতাে পা দাপায়। তখন একজন তার পা চেপে ধরে। অন্যজন বিদ্ধ করে তাকে এবং চরম উল্লাসে দাত দ্বারা তার স্তনবৃন্ত ছিড়ে নেয়। …..খােলা আকাশের নীচে ময়না বৈষ্ণবী পড়ে থাকে উলঙ্গ, একা, ধর্ষিত ও মৃত।

………সে চাষিদের ঘর থেকে দিয়ে যাওয়া নতুন ধানের চালগুলি নাড়াচাড়া করে। আর ভাবে। তাদের সেই প্রথম ঘনিষ্ঠতার দিনগুলি। খােলা উঠোনের প্রান্তে, একটুখানি ঘেরা স্নানের জায়গায় তােলা জলে স্নান করত যখন সে, দাওয়ার কোণ থেকে তাকে অপলক দেখত অলক। মােমে জলের ছিটে পড়লে যেমন ছিরছির করে জ্বলে, সেরকম জ্বলত তার চোখ। সে তখনও শারীরিক অন্তরঙ্গতার কথা ভাবতেও পারত না। শরীরের শুচিতা বিষয়ে সে ছিল পূর্ণ সচেতন। অলকের দৃষ্টির সমুখে সে ভেজা শাড়িটি দিয়ে শরীর ঢাকত বারবার। আর কোন মন্ত্রবলে দক্ষিণ স্তন আবৃত করলে উন্মুক্ত হয়ে যেত বাম স্তন। তার লজ্জা ছাপিয়ে সেই শক্তিমান মন্ত্র তাকে করে দিত নিরাবরণা। এবং অলক দৃষ্টি দ্বারা তার শরীরকে স্পর্শ করলে সে যে-শিহরণ বােধ করেছে, সেরকম আগে হয়নি। তখন যেন এক অনন্ত খেলা চলছিল তাদের। সব শােক সব কষ্টের উর্ধ্বে, সব দারিদ্র্য সব জঠরজ্বালার উর্ধ্বে এক উন্মাদনার খেলা। আর সে-খেলা চলতে চলতে একদিন সে স্নানের শেষে ভিজে কাপড়ে ঘরে গিয়ে দরজায় আগল তুলল না। হয়তাে সেই মন্ত্রের শক্তিতে ঘটে গেল ভুল। যখন তার ভেজা শাড়ি স্খলিত, শতছিন্ন সায়া সে গলিয়ে দিচ্ছে মাথা দিয়ে, তখন অলক এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছিল তাকে। সে তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বাধা দেয়নি, আপত্তি করেনি, শুধু বলেছিল—তােমার দাদা কোথায়?

—ও ঘরে ঘুমােচ্ছে। গলায় শ্লেষ্মা নিয়ে বলেছিল অলক। সে জোর করে অলককে ছাড়িয়ে দিতে পারছিল না। শুধু বলেছিল—ছাড়াে আমাকে! ছাড়াে! কী করছ!

সে টের পাচ্ছিল তার সদ্যস্নাত শরীরের ওপর অলর্কের শরীরের উত্তাপ। অলক তাকে পেষণ করতে করতে বলেছিল–এত শরীর তােমার, এত ভরাট শরীর, এ নিয়ে তুমি কী করবে শিখারানি?

সে আত্মসমর্পণ করেছিল। যেন সত্যিই স্বামী উন্মাদ হলে নারী তার ভরাট শরীর নিয়ে কী করে!  স্নান করতে করতে সে অসহায় দর্শনীয় হয়ে যায়। এমনই অসহায়তা, অপর পুরুষেরা, তার ভরাট শরীরের ভাবনায় শুকিয়ে মরে আর ভাল করে মরণ ঘনিয়ে এলে ওই শরীরেই ঝাপ দেয়। তখন মরতে হয় দুজনকেই। অসহায়তা আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধলে তবেই না হয় মরণক্টাপ, তবেই না ভরাট নারী সমর্পণ দেয়। এবং সেই সমর্পণের আড়ালে শিখারানি টের পাচ্ছিল অলক বড় কর্কশ। বড় নির্মম।

সেদিন বহুকালের ক্ষুধার্ত শরীর সেই নির্মমতা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু যখন আরও অনেক সঙ্গমের দিন তাকে পেরােতে হল, সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অলক আসে তার যখন ইচ্ছে এবং শিখারানির প্রস্তুতির পরােয়া না করেই শুকনাে খটখটে যােনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে দেয়। নখ বসিয়ে দেয় দেহে এবং স্তন দংশন করে রক্তাক্ত করে দেয়। শিখারানি ছটফট করে। যন্ত্রণায় তার দমবন্ধ হয়ে আসে। সঙ্গমের স্পৃহা বায়বীয় হয়ে উড়ে যায়। অলক তাকে বিপুল শক্তিতে চেপে রাখে তখন। তার চোখ বিস্ফারিত হয়ে যায়। …..তবু অলককে প্রত্যাখ্যান করতে ইচ্ছে করে না। স্থালিত শিথিল আগ্রহের মধ্যে তার মনে হয়, এই বুঝি ‘অলক তার নখর থাবায় স্তনের বদলে গলা টিপে ধরবে। মরতে মরতে বাঁচে যে মানুষ তারও মরণভয় যায় না। আর এই সমস্ত কথাই তার বুকের মধ্যে চাপ হয়ে থাকে। কাকে। বলবে! কারওকে বলা যায় না। কারওকে বলা যায় না যে এক রাত্রে অশােক এসে ঢুকল তার। ঘরে। সে বলেছিল—ছিঃ ! অশােক বলেছিল—ছি কীসের আঁ? ছি! সতী সাজছ সাজো। কিন্তু তুমি কী সতী আমি জানি না?

প্রতিহত করতে চেয়েছিল সে অশোেককে। বলেছিল কী জানো তুমি? আমি কিন্তু চিৎকার করব অশােক। 

– কে আসবে? তােমার বর? সে এখন জাগবে না। অলক আসবে না। পাড়ার লােক? আসুক। আমি বলব অলকের সঙ্গে তুমি… –অশােক।

—অলককে যা দিয়েছ, তা আমাকে দিতে দোষ কী! তােলাে। শাড়ি তােলো। তােমার যা শরীর—অলকের ওই চিমড়ে শরীরে তার খাই মেটে নাকি?

সে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অশােক জানল কী করে? অলক বলেছে? অলক কী বলেছে? কান্না পেয়ে গিয়েছিল তার। জীবনের নিরাপত্তার জন্য সতী সাজছে সে! সতী!

আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল সে। তিনজন পুরুষের মধ্যবর্তী থাকতে থাকতে তাকেই মেনে নিয়েছিল স্বাভাবিক। বরং অশােকের আগমন সে পছন্দই করতে শুরু করেছিল। কারণ সে দাঁত ও নখরযুক্ত হয়ে ওঠে না। উন্মত্ত হয়ে ওঠে না সে। আসা মাত্র ঝাপ দেয় না যােনিতে। ধীরগামী সে। অপেক্ষা করে। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে একসময় প্রবিষ্ট হয়। এবং সে বারবার শিখারানির মুখচুম্বন করে। এই বস্তুটির প্রতি শিখারানির অসীম দুর্বলতা। অমর ঘােষাল কখনও তাকে চুম্বন করেননি। অলকও নয়। | অশােক প্রায়ই বাইরে থাকে বলে আসে কম। কিন্তু অলকের প্রাত্যহিক আগমন। মাঝে মাঝে সকল স্বাভাবিককেই তার লাগে অস্বাভাবিক। তার মনে হয়, আর পারছে না। এ জীবন। আর সইতে পারছে না। ইচ্ছে করে, ছেড়েছুড়ে চলে যায় কোথাও। প্রায় বেশ্যা জীবন যাপনের। 

গ্লানি আসে তার। ঘটনাচক্রে তিন ভাইয়ের ভােগ্য রমণী হয়ে ওঠা শিখাৱানি পরিত্রাণ পেতে চায়। কিন্তু কোথায় যাবে? ঘরে দু’জন ভক্ষক। কিন্তু বাইরে হাজার। | তিনজন পুরুষ তার মধ্যে গমন করেছে, কিন্তু একবারের জন্যও মাতৃত্বলক্ষণ আসেনি তার দেহে। সে বুঝেছে, সে বন্ধ্যা। ঈশ্বর সকল দিকেই তাকে মেরেছেন।……..

……. শিখারানি হয়তােবা এই দিনে নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করছে এক অলৌকিক বলে। এবং তখন দৈহিক ভােগসুখেও তার মন লাগছে না। অলক তখন এমনকী মন্দিরের মধ্যেও, সেঁটে ধরে তাকে, আর বলে—তুমি কি সত্যিকারের সতী হয়ে যাচ্ছ নাকি | শিখারানি? বলে আর হাসে। হাসে আর শাড়ি তুলে ….. সঙ্গম সেরে নেয়।….

………সে ব্যাগ থেকে মােড়ক বার করল। অল্প সিঁদুর নিয়ে তুলতুলির সিথিতে ছুঁইয়ে দিল অনির্বাণ। তুলতুলি হাসল। পরস্পরকে চুম্বন করল তারা। আজ তারা জানালার পর্দা টেনে দিয়েছে। পরস্পরের জিভের স্বাদ নিতে নিতে অনির্বাণ টের পেল তার শরীর, এই মৃত্যুপর্বেও জেগে উঠছে দারুণ। সে ব্যাকুলভাবে বলল—তুলি। ঘন শ্বাসের সঙ্গে তুলতুলি বলল-বলাে। আমাকে দেখাবি একবার?

—এটা? সে তুলির স্তন স্পর্শ করল। তুলতুলির মুখ রাঙা হয়ে উঠল লজ্জায়। কিন্তু এখন সে স্ত্রী। পরলােকগামিনী। কী অদেয় থাকবে অনির্বাণকে! চাদরের নীচে একটি একটি করে সে অনর্গল করল বুক। পিঠে হাত দিয়ে খুলে দিল বুকের বন্ধনী। একবার ভীরু চোখে ঝােলানাে পর্দার দিকে তাকিয়ে এক ঝটকায় সরিয়ে দিল আবরণ। অপলক দেখল অনির্বাণ। আলতাে স্পর্শ করল বামস্তন। দক্ষিণ স্তন। আবেশে বন্ধ হয়ে আসছে তুলতুলির চোখ। চাদর টেনে অনির্বাণ নিজেই আবরণ দিল। বিহুল গলায় বলল কী সুন্দর! তুলি! এই দেখে আর মরতে ইচ্ছে করে রে।………

………মৌসুমির হাঁটু দুটি ভাঁজ করা। চাদর সরে গেছে গা থেকে। হারাধনের চুলগুলি তিনি আঁকড়ে ধরেছেন প্রানপণ। ….সে তখন হুক খুঁজছে। ব্লাউজের হুক খুঁজছে। এবং দুটিমাত্র নয়। যা সে এতকাল অধিকার করেছে, সেই দুটি মাত্র নয়। সে খুলে চলেছিল একের পর এক, ক্রমাগত এবং সম্পূর্ণ। ব্লাউজের নীচে বুক দুটি আগলে থাকা অন্তর্বাসে লেগে তার মুখ জ্বালা করছিল। খুলতে হয়, কী করে খুলতে হয় জানে না সে, কিছু পেতে হকপাক করছিল। মৌসুমি তখন নিজেই দু’ হাত পিঠে নিয়ে হুক আলগা করে দেন। বিশ্বস্ত নাইলনের ফিতে ছিটকে উঠেছিল তাতে। যেন তাদের পাহারাদারি অপসারিত করে অনর্গল করা হল দুর্গদুয়ার। সে ঠেলে দিয়েছিল বন্ধন। তা উঠে গিয়েছিল মৌসুমির গলার দিকে। যেন গলা জড়িয়ে ধরতে চায়। তার হাতে এসেছিল দুটি স্তন। ভরাট ও উম্মুখ। সে নাভি পর্যন্ত শুকিয়ে যাওয়া পিপাসায় মুখ রেখেছিল বৃন্তে। জিহ্বা, ওষ্ঠ এবং দন্ত দ্বারা সে পর্যায়ক্রমে মথিত করেছিল। মাঝে মাঝে থামছিল। দেখছিল। শক্ত ও ফুঁড়ে-ওঠা কালচে বৃন্তদ্বয় শ্বেতাভ স্তম্ভের পর জেগে ছিল উন্মুখ প্রত্যাশায়। সে দেখতে দেখতে, মুগ্ধ হতে হতে বলেছিল—কী সুন্দর তুমি!…….

……কিংবা টেনে নেয় বুকের গন্ধ। ওই প্রত্যুষেই দুটি ভরাট স্তন তাকে পীড়ন করতে থাকলে সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। একটি সম্পূর্ণ নারীশরীরের পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়।……

……..সে মৌসুমি-..কে কখনও বলেনি সে দেখেছে নীলছবি বা যৌনপ্রক্রিয়া। বলেনি কেননা যৌনতা বিষয়ে কোনও কথাই তাদের হয় না। শুধু  ..কে জড়িয়ে গভীর আশ্লেষে পড়ে থাকার সময় তার ইচ্ছে হয়েছে নগ্ন পিঠ দেখার। নগ্ন জানু জমা যােনি শ্রোণী দেখার। সেইসব ইচ্ছে সে প্রকাশ করেনি। ঠেলে দিয়েছে ভিতরে। ইদানীং সে প্রত্যহ উন্মুক্ত করছিল ..র বুক এবং বৃন্তে ঠোট রেখেও অতৃপ্ত হয়ে থাকছিল পূর্বাপর। গত সপ্তাহে .. তাকে জামা খুলতে দেননি। কেন সে বােঝেনি। সে তার সকল চাঞ্চল্য সমেত শুধু ছুটে ছুটে গেছে। মা তাকে টানেন এবং ঠেলে দেন। চরম উন্মত্ত করে বেঁধে ফেলেন শাসনে। সে …য়ের দ্বারা পীড়িত হয়, শান্তিও লাভ করে। অর্ধ-উন্মােচিত তাদের এ সম্পর্কের সমূহ উদ্দামতা তাকে ক্রমশ ঠেলে দিচ্ছে বিবাহপরিণতির দিকে। সে সম্মােহিতের মতাে মৌসুমি-…য়ের শর্ত পালন করছে কোনও পরিণতি জেনেই। কিংবা, হতে পারে, মৌসুমির আদেশকে আশ্রয় করে আছে তারই উন্মাদ জৈব তাড়না!…….

……..এই প্রথম স্পর্শ করল সে স্ত্রীকে। হাত ধরল। এবং, ধরা মাত্র, লকলকে শিখা জ্বলে উঠল শরীরে। জ্বলন্ত হাতে সে যত বেশি করে খুঁজল এক শরীর, ততই বেড়ে উঠল দেহের দীপনমাত্রা। মেয়েটির ঠোটের সংকোচ পােড়াল সে। দেহের লজ্জা ছাই করে দিল। বড় দ্রুত বড় অস্থিরতায় সে ঝাপ দিল আর কুমারীবৃন্তকে দংশন করল। দুই পায়ের খাজে উন্মত্ত পুরুষকে স্থাপনের অভিপ্রায়ে দাপিয়ে বেড়াল সে আর মেয়েটি তীব্র যন্ত্রণায় খামচে ধরল বিছনার চাদর। চোখে জল আসছে তার কিন্তু স্বামীকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরতে পারছে না সে। বিয়ে হওয়া মাত্রই যে পুরুষ স্বামী হয়ে ওঠে না তা উপলব্ধি করছে সে। এমন অপরিচয়ে দেইদান বড় কঠিন। বড় লজ্জা ও অপমানের। তবু, সে বলতে পারছে না ছেড়ে দাও। সমাজ যে-অধিকার দিয়েছে তার স্বামীকে, সংস্কারবশত তার দায় নিতে বাধ্য থাকছে সে। ভাবছে না, এ তাে ধর্ষণ প্রকারান্তরে। ভাবছে না। শুধু সইছে। তীব্র যন্ত্রণা! তীব্র, তীব্র, তীব্র যন্ত্রণা! এত কঠিন এই যৌনকাজ? এমন মর্মবিদারক? ভাবছে নবপরিণীতা স্ত্রী। আর স্বামীটি চূড়ান্ত ধাক্কায় তাকে ভেদ করতে করতে স্বলিত হচ্ছে, মুখ ঘষছে বুকে, আর বলছে- …….

………এই তিনমাসে, একত্র শয়ন করলেও তারা সঙ্গম করেনি। আলিঙ্গনও করেনি কারণ সম্ভবত প্রেমের আকুল আকর্ষণ তারা অদ্যাবধি বােধ করেনি পরস্পরের প্রতি। কিংবা, দুলুক্ষ্যাপার হৃদয়ে যে-তীব্র আকর্ষণের সঞ্চার, তা এখনও বিস্ময়বােধ দ্বারা আচ্ছন্ন। তার জন্য বরাদ্দ ক্ষুদ্র ঘরখানিতে, এক নির্মোহ শয্যায় সে যে শয়ন করেছে সহজেই, এও এক বিস্ময় দুলুক্ষ্যাপার। এবং একই শয্যায় পার্শ্বে নারীকে নিয়ে শয়ন করার মধ্যে যে বুভুক্ষা রচিত হয়, নারীর মধ্যেও রচিত হয় যে-ইচ্ছা, তাকে সংযত করার শক্তি দুলুক্ষ্যাপার যেমন আছে, আছে তারও। ওই ক্ষুদ্র মেয়েটির! ……..আজ, আজই তাদের প্রথম রাত্রি। সহযাত্রার তিনমাস অতিক্রম করে আজ সে, ওই বুড়িয়া নামের মেয়ে রজঃস্বলা হয়েছে।……..

…..ক্ষুদ্র ঘরখানিতে মুখখামুখি দাড়াল মধ্য পঁয়তাল্লিশের দুলুক্ষ্যাপা ও একুশবর্ষীয়া বুড়িয়া। এই প্রথম পরস্পরকে আলিঙ্গন করল তারা। বুডিয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে বলল: আপনি কী সুন্দর!

লণ্ঠনের আলােয় সামান্য কঁপছিল ছায়াগুলি। পাশের ঘর থেকে ভেসে আসছিল শ্লেস্মাজড়িত কাশির শব্দ। দুলুক্ষ্যাপা দু’হাতে বুড়িয়ার মুখ ধরে বলল– সুন্দর। আপনিও।

বুড়িয়াকে নির্বন্ত্র করতে থাকল সে। বুড়িয়া নিজের মুখ ঢাকল না। অঙ্গ ঢাকল না। লজ্জার জড়িমা তাকে ঘিরল না এতটুকু। যেন এ তার রােজকার কাজ ~~ এমনই সহজ সে। এই গ্রামে, এই আখড়ায়, বড় বেমানানভাবে নিম্নতটে অন্তর্বাস পরিহিতা সে। অন্তর্বাসের মধ্যে রজঃশােষক বিজ্ঞানসম্মত তুলাপিণ্ড। দুলুক্ষ্যাপা থমকাল। বুড়িয়া অপেক্ষা করছিল। তার ক্ষীণ স্তন। সরু দেহ। চোখ দুটি ছাড়া আর সমস্তই সাধারণের চেয়েও সাধারণ। দুলুক্ষ্যাপা এখনও তার স্তনপীড়ন করেনি। সে অন্তর্বাসের মধ্যেকার তুলাপিণ্ড দেখতে দেখতে সরিয়ে রাখল সযত্নে। ……. বুড়িয়াকে শুইয়ে যােনিতে প্রণাম রাখল সে। …….কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকল দুলুক্ষ্যাপা। তারপর বলল না। আমি কুমার নই। আপনি কুমারী না হলেও আপনাকে গ্রহণ করলাম আমি। নিজেকে মুক্ত করল সে। এবং বুড়িয়ার মধ্যে গমন করল ধীরে! এতকালের ক্ষুধাতাড়িত চিত্ত ও দেহে সে এখন গুরুর অংশ মাত্র। চোখ বন্ধ করে গুরুদেহের কল্পনার মধ্যে সে নিজেকে সংযত রাখতে চাইল। রজঃকালে সে নারী শরীরের ভিতরে শুক্ৰবীজ প্রবেশ করাতে পারে। উভয়ের মূলবস্তু বড় পবিত্র। তবু, সে আত্মহারা হতে চায় না। প্রায় কুড়ি বৎসর পর নারীসঙ্গ করতে গিয়ে কাঙালপনা করতে চায় না। ……. এখন যােনিপথের তারল্য এবং উষ্ণতা, নরম কামড় তাকে মুহুর্তে স্খলিত করে দিতে চাইছে। গুরুদেহের পরিবর্তে চোখের পাতায় এসে দাঁড়াচ্ছে বুড়িয়ার নগ্নতা। সে গমন করছে। বুড়িয়া শব্দ করছে। সে যুদ্ধ করছে। বুড়িয়া শব্দ করছে। সে নয়, সে নয়। গুরুই করছেন এ সাধন, এমন ভাবনার মধ্যে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে করতে সে অবশেষে সকল সংযম ভেঙে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছে। টের পাচ্ছে শুক্রবস্তুর তীব্র নির্গম। সে আঁকড়ে ধরছে বুড়িয়ার দেহ। এবং শিথিল হয়ে যাচ্ছে তার লিঙ্গ। বুড়িয়া দুই জানু দিয়ে আঘাত করছে তার শরীরকে। বলছে- কী করছেন? কী করলেন? হাহাকার উঠে আসছে সেই স্বরে। ……

………দুলুক্ষ্যাপা দুলেন্দ্র। এই নামটুকুর জন্য সে এসেছে এতদূর। কিছুদিন হল লােকটার সঙ্গে শারীরিক মিলন ঘটিয়েছে সে।……দুলুক্ষ্যাপা শেখাচ্ছে তাকে প্রলম্বিত সঙ্গম। দেখাচ্ছে বজোলি মুদ্রা। যদিও বিফল হয়েছে বারংবার। প্রত্যহই, বুড়িয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করা মাত্র স্খলন হয়ে গেছে তার। তখন, ওই সুন্দর বৃহৎ পুরুষ সর্বস্বান্ত মানুষের মতাে ভেঙে পড়েছে। যন্ত্রণায় বিকৃত হয়ে গেছে তার মুখ। দুলক্ষ্যাপা জানিয়েছে তাকে। বহুকাল আগে এক নারী এসেছিল তার জীবনে। চলে গেছে। তারপর সে আর সঙ্গম করেনি। বুড়িয়া বিশ্বাস করেছে এ কথা। বিশ্বাস না করার কোনও কারণ নেই। কপট সততার ছলনা করার কোনও প্রয়ােজন তাদের নেই। এই অনভ্যাস দুলেন্দ্রকে করেছে দীর্ঘসঙ্গমের অনুপযুক্ত। এবং হয়তাে তার মধ্যচল্লিশে পৌঁছে যাওয়া, হয়তাে গঞ্জিকা সেবনের প্রভাব। তবু দুল ক্ষ্যাপা তাকে শেখাতে চেষ্টা করছে সব। যা সে জানে। সে জানছে, যেমন করে জানে গুরুমুখী বিদ্যার শিক্ষার্থী জানছে তাত্ত্বিকভাবে। …….দুলেন্দ্রর সঙ্গ পেতে তার দেহবােধ জাগছিল। বসন্তের উন্মাদ হাওয়ায় প্রবল যৌনাকাঙ্খী সে। খুলে ফেলল আবরণ। লণ্ঠনের স্তিমিত আলােক তার দেহে। দুলুক্ষ্যাপা এই নগ্নতায় স্তব্ধ হয়ে যায়। বুড়িয়া এগিয়ে আসে। দুলুক্ষ্যাপার হাত রাখে নিজের দক্ষিণ স্তনে। সে এখন বিলাসী। কামিনী। নারীর দক্ষিণ স্তন বিলাসের। বাম স্তন সন্তান পালনের জন্য নির্দিষ্ট।

সে দুলুক্ষ্যাপার বামস্তনে মুখ রাখে। মধ্যচল্লিশের ঈষৎ পুষ্ট স্তনবৃন্ত শক্ত হয়ে ওঠে সেই স্পর্শে। সুখে আর্তনাদ করে দুলুক্ষ্যাপা আর বুড়িয়া শােষণ করে চলে স্তন। কৃষ্ণ তার কামিনী গােপীদের স্তন পান করতেন। সমুদ্র মন্থনের বিষে জর্জরিত শিব পার্বতীর ভরাট, দুগ্ধবতী, পবিত্র সুধভাণ্ডের মতাে স্তন পানে সুস্থ হয়েছিলেন। স্তন পানে সাধকের নারীর প্রতি মাতৃভাব আসে। সন্তানহীনা বা কুমারীর স্তন রজঃকালে শােষণ করলে ছ-সাত মাসের মধ্যে স্তনরস অবিরল ধারায় বর্ষিত হয়। এই রসের নাম সুধা। এমনকী বাউলতত্ত্ব বলে পুরুষের স্তন নিয়মিত শোষণ করলে রস দান করে। সে রসকে কী বলে? বুড়িয়া জানে না।………..

…….বুড়িয়ার দেহ দেখে দুলু বাউলের মনে হল, এ যেন তার কিছু থাকা। নিঃস্বও নয়, বিপুলও নয়। সে আপনার বড় কোলে ছােটখাটো রােগা-সােগা মেয়েটিকে বসিয়ে চুম্বন করল। বুড়িয়া গলা জড়িয়ে ধরল তার। দুলু বাউলের মনে হল, এই মেয়েটি অনায়াসেই তার দুহিতা হতে পারত। মনে হওয়া মাত্র সে আবার চুম্বন দিল বুড়িয়ার কপালে। এই চুম্বনে যৌনাবেগ ছিল না। কিন্তু বুড়িয়া মেয়েটি যৌনাবেগ উপভােগ করে। সে নিজের জিহ্বা প্রলম্বিত করল। হাতের মুঠোয় নিল দুলু বাউলের শুক্রতট। সাধনক্রিয়া শুরু করল দু’জনে। গােড়া থেকেই আজ দুলু বাউল রইল সংযত। নিজেকে উন্মত্ত হয়ে উঠতে দিচ্ছিল না সে। লিঙ্গও সে ব্যবহার করছিল। সে অঙ্গুলি মধ্যমা প্রসারিত করছিল। বুড়িয়া তীব্র হতে হতে একবার আঁকড়ে ধরছিল তার বাহু, একবার তার হাত টেনে স্থাপন করছিল স্তনে, একবার উন্মত্তা হয়ে ঝাপ দিচ্ছিল দুলুক্ষ্যাপার বুকে আর ক্ষেপি-পাগলির মতাে শােষণ করছিল দুলু বাউলের ঈষৎ পুষ্ট মধ্যচল্লিশের স্তন। দুলু বাউল বিস্ফারিত হতে চাইছিল কিন্তু সংযত হওয়ার যুদ্ধ সে চালিয়ে যাচ্ছিল নিরন্তর। প্রতিদিন সে হেরে যায়। প্রতিদিন এই তরুণ মেয়েটির সম্পূর্ণতা আসার আগে সে স্খলিত হয়ে যায়। আজ সে হারতে চায় না। এবার থেকে হারতে চায় না। কারণ তার মােহাচ্ছন্নতা কেটে যাচ্ছে। নারীদেহের সান্নিধ্যে বিবশ বিহ্বলতা কেটে যাচ্ছে। সে ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে তার আত্মবিশ্বাস। আত্মসংযম। যার দ্বারা, বহু নারীর চোখে মুগ্ধতা দেখেও সে কখনও আপনাকে হারায়নি। এখন তার মনে হচ্ছে, ময়না বৈষ্ণবীর মৃত্যুশােক তাকে এত বিহুল করেছিল, এত গভীরভাবে, তীব্রভাবে অধিকার করেছিল যে সে আর আপনাতে আপনি ছিল । না হলে এই ছােট মেয়েটিকে সে প্রতিহত করতে পারত। 

সে লণ্ঠন এনে কাছে রাখল আর আলােয় ভরে তুলল যােনি। সে ধীরে ধীরে মৃদু স্বরে বিবরণ দিতে থাকল সেই যােনিরূপের। যেন এক চঁাদ ফুটে আছে, যেন এক ফুল ফুটে আছে, যেন এক বনবীথিকায় রচিত হয়েছে চিত্রকূট পর্বত। বড় কাব্যিক সেই বর্ণনা। বুড়িয়া শুনছে আর শিউরে উঠছে। সে উত্তাল হচ্ছে, তাপিত হচ্ছে আর গলছে। গলতে গলতে দ্রবীভূত হয়ে যাচ্ছে অসহায়। দুলু বাউলের বাহু খামচে ধরে সে বলছে—তুমি তুমি তুমি এত পারাে!

সে নিজের বুকের ওপর টেনে নিচ্ছে দুলু বাউলকে। দুলু বাউল এতক্ষণ পর, নারীদেহের ওপর শুয়ে, নারীদেহকে ব্যবহার করে, স্বহস্তে মুক্ত করছে নিজেকে।

বুড়িয়া হাঁপাচ্ছে তখন। বলছে—আজ আমার খুব ভাল লেগেছে দুলেন্দ্র। দুলুক্ষ্যাপা চমকে উঠে বসছে। বলছে-কী বললেন? -বললাম, আজকের মতাে ভাল আমার আগে কখনও লাগেনি। দুলু বাউল এক মুহূর্তের জন্য উদাস হয়ে গেল। এই বাক্যবন্ধ, আজ আমার খুব ভাল লেগেছে দুলে, কোন অতীত থেকে উঠে আসতে চাইছে তার কাছে! | পাশাপাশি শুয়ে পড়ল তারা। পােশাক পরল না। এই ভীষণ জ্যৈষ্ঠে নগ্নতা বড় আরামের। এই প্রথম, যৌনতা মিটে যাবার পরেও বুড়িয়া জড়িয়ে ধরল দুলু বাউলকে। দুলু বাউল অন্ধকারে হাসল, বুড়িয়া টের পেল না। আজ দুলু বাউল তৃপ্ত। তৃপ্ত কারণ আজ সে জয়লাভ করেছে। আজ তার আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। আজ সে বিহুল হয়ে যায়নি। কিন্তু তার বুকের মধ্যে ঘুরে-ফিরে বেড়াচ্ছে বিস্ময়। কে, কে, কে? এই মেয়েটি কে? সে বুড়িয়াকে প্রশ্ন করে আমার মতাে বুড়াে লােককে আপনার পছন্দ হল কেন?…..

…….

রতির ঘরে রতন কালা।

রতির তরে লিঙ্গারতি

রতির ঘরে যােনির প্রদীপ

সঙ্গমে ঘাের আগুন জ্বালা

বুড়িয়া উচ্চারণ করে। কিন্তু জানে সে, মন্ত্র বাউলের কাছে প্রধান নয়। মন্ত্র শুধু গুরুকে মনে জাগিয়ে রাখার উপায়। দীক্ষায় গুরু জ্ঞানের শলাকা ছুঁইয়ে শিষ্যের দৃষ্টির উন্মীলন করেন। বাউলের দীক্ষা শুধু মানসিক জ্ঞানে পূর্ণ হয় না। মহম্মদ সাঁই বললেন—আজ তােমার মাসিকের কোন দিন? বুড়িয়া বলল—দ্বিতীয় দিন।

এঃ! মহম্মদ সাঁই মুখবিকৃত করেন। বলেন—আজ তা হলে দীক্ষা পূর্ণ হবে না। কাল তােমাকে শেখাব কী করে দীর্ঘস্থায়ী দেহমিলন সম্ভব হয়।

বুড়িয়া ভাবছিল, সে যে এইসময় রজঃস্বলা থাকবে, তা এই ব্যক্তি কী করে জানলেন! তাকে কি এই মর্মে খবর দেওয়া হয়েছিল? তখন মহম্মদ সাঁই দু’হাতে তার মুখ ধরেন। বলেন—জিহ্বা দাও।

সে ইতস্তত করে। ঘরে কোনও শব্দ নেই। লণ্ঠনের আলােয় মহম্মদ সাঁইয়ের বলিরেখাযুক্ত মুখে ছায়া পড়ে। কালাে ওই মুখের দিকে তাকিয়ে বুড়িয়ার কণ্ঠ শুকিয়ে যায়। গুরুর দেহের কটু ঘ্রাণ তাকে বিপর্যস্ত করে। তবু জোর করে সে। পারতে হবে তাকে। পারতেই হবে।…..

…..সে এক টানে খুলে নেয় তার ছােট্ট রঙিন শহুরে আবরণ। তার লজ্জা, সংকোচ, শিক্ষা, সংস্কার সবই সেই আবরণের সঙ্গে নির্গত হয়ে যায়। রক্ত নিঃসরণ কড়ােয়ায় ধরে দিতে দিতে সে দুলু বাউলের দিকে দেখে। পাথরের মতাে বসে আছে লােকটা। সহসা তার ক্রোধ জন্মায়, ঘৃণা জন্মায় মানুষটির ওপর। কোনও পুরুষ কী করে তার নিজস্ব নারীকে অন্য পুরুষের সঙ্গমে দেয়? হােক গুরু! তবু তবু তবু!…..

….গুরু শয়ন করেন। সে বসে৷ গুরুলিঙ্গ এই বার্ধক্যেও দীর্ঘ, পুরু এবং সবল। সে স্পর্শ করা মাত্র তা উত্থিত হয়। সে চোখ বন্ধ করে লিঙ্গে মুখ রাখে আর দেহ কঁপিয়ে, সত্তা আলােড়িত করে, বিকট বিকৃত শব্দ করে। বমি উঠে আসে তার। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে সে আর রমন করে টানা। চোখ থেকে জল পড়ে তার। একসময় তার মাথা ভার হয়ে আসে। সে চৈতন্য হারাতে থাকে…..

……..ঘট হতে ফুল পড়ল এবার। সকলে উলু দিয়ে, শাঁখ বাজিয়ে নমস্কার করল। এবার লাজের মাথা খাওয়ার পালা। সকল আলাে নিবিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকল পুরুষ বিস্মৃত। শুখা, ফসলহীন আবাদি জমিতে এসে দাড়াল এয়ােতিরা। নিচ্ছিদ্র অন্ধকার দেখে সকলে গােল হয়ে দাড়াল। সবচেয়ে যুবতী তিন নারী অনাবৃত হয়ে দাড়াল খােলা আকাশের তলায়, মানবীর ঘেরাটোপে। একজন শুয়ে পড়ল মাটিতে। চিৎ হয়ে। অন্য দু’জন ভাজুই মায়ের ঘটের জল ছিটিয়ে দিতে থাকল তার দেহে। এমনি করে একে একে তিনজনেই ভিজিয়ে ফেলল সর্বাঙ্গ।

আকাশ হতে কামাতুর ইন্দ্র দেখলেন এই দৃশ্য। ছিটেফোটা মেঘ হয়ে তিনি জমে উঠলেন আকাশে। বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বেন ধরণীতে। রমণ করবেন যুবতীদের।……..

……….আকাশে ভােরের আভা লাগছিল। এ সময়ে কারও চোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসে, কারও জাগে কামভাব। অলক ঘােষালেরও জেগেছিল কামভাব আর সে শিখারানির ঘরে এসে তার শাড়ি তুলে দিচ্ছিল। বাস্তবের এই সংঘটন স্বপ্নে রূপ নিচ্ছিল নিজের মতাে করে। আর শিখারানি উঠে বসেছিল। এবং অলককে দেখে, নিজের উন্মুক্ত অনাবৃত নিম্নভাগ দেখে, বহুদিন পর সংকুচিত হল সে। ঘৃণাবােধ আর পাপবোধ, বিরক্তি আর ঈর্ষা— এতগুলি অনুভূতির ঠিক কোনটি বা কতগুলি তাকে অধিকার করে নিল সে জানে না নিজেও। সে শুধু এক ঝটকায় নামিয়ে দিল শাড়ি আর বলল—না।

-না ! না কেন?!

অলক হাত বাড়াল ফের। ঘরের আঁধারে তার মুখ স্পষ্ট হল না। শুধু চোখ দুটি শ্বাপদের মতাে জ্বলে উঠল। শিখারানি ওই চোখ দেখে ভীত হল। তবু, জোর টেনে, চাপা স্বরে বলল যা হয়েছে, হয়েছে। আর না।।

অলক কঠিন হাতে শিখারানির পা চেপে ধরল। যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল শিখারানি। অলক দাঁতে দাঁত দিয়ে বলল—ছেনালি কোরাে না। দেরি করতে পারছি না আমি। | পুরুষ-শক্তির জোর দ্বিগুণ হল কাম অভীপ্সায়। শিখারানির আবরণ রইল না। পদদ্বয়ের মধ্যবর্তী অবকাশ বিস্তারিত হল। অলকের শক্ত ও কর্কশ জানু পুনঃপুনঃ আঘাত করল বর্ণময় দ্বীপের ত্রিভুজ। সে আঘাতে স্বেদসিক্ত হয়ে গেলে, নারীদেহটি অভ্যন্তরে হয়ে উঠল কামবিরােধীভাবে শুষ্ক। শ্বাসবায়ু আটকে রইল তার কণ্ঠের কাছে।

পুরুষ অধিকার নিতে চাইছে যে-দেহের, সে প্রতিবাদ চায় কিন্তু জানে না প্রতিবাদ। একা নারীর বিরুদ্ধপক্ষ একা পুরুষ, অতএব যুদ্ধ অসম হলেও চলতে পারে কিছুক্ষণ। কিন্তু এক যােদ্ধা সমর্পণ করেই বসল নিজেকে, শুধু প্রতিটি চাপ এবং কামুক শক্ত লিঙ্গের প্রতিটি উন্মত্ত প্রবেশের তলা থেকে সে বলতে থাকল লজ্জা করে না? অন্য মেয়ে দেখে তপ্ত হয়ে ফেরা আর আমার কাছে এসে দেহ মেটাও। লজ্জা করে না। …….

……মানুষটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। একে সে চটাতে চায় না। তবু, নারীর মােহ সম্মােহনের মতাে। বর্ষার এই ঘিরে আসায় সে পাগল হয়ে উঠছে। নেমে আসা অন্ধকারের সুযােগে সে দু’হাতে সাপটে ধরছে বর্ষার পেছনদিকের দুটি তাল করা মাংসের ডেলা আর সামনের মাংস দুটির দিকে হাঁ-মুখ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তার হাত ছাড়িয়ে ছিটকে সরে যাচ্ছে ‘বর্ষা। হাসছে। বলছে—কী অসইভ্য আপনে অলকদা! বাবারে কইয়া দিমু অখন।……

…..সে লজ্জায় কুঁকড়ে যেতে চাইত। কী বলবে সে, কী করবে, দিশেহারা, বলত—কী কথাই কও মিঞা। সারা অঙ্গ গয়নায় ঢাকলে কতখানি সুনা লাগবে কও!

—সব দিমু তুমারে। জগতের সকল সুনা ঢালিয়া দিমু দেহে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে বলত সে। এইখানে দিমু। এইখানে, এইখানে, এইখানে। বলত আর কামড়ে কামড়ে ধরত তার অঙ্গগুলি। তার স্তন, তার নাভি, তার যােনিদেশের নিকটবর্তী মাংস। সে শিউরে শিউরে উঠত আর ভাবত কী পাগল! কী পাগল লােকটা। এইসব জায়গায় বুঝি গয়না পরে কেউ! সােনা পরে!…..

……এই গন্ধ আকবর আলির ঘ্রাণে পৌছােল আফসানার খুসবু হয়ে। আফসানার বুকে, বাহুমূলে, নাভিতে, নাভির নীচেকার নরম ঘন অন্ধকারে সে যে কতদিন পেয়েছে এই গন্ধই। এতটুকু শব্দ যাতে বাইরে না পৌছােয় তারই প্রয়াসে তাদের নীরব যৌথ ছটফটানি কী পরম সুখের!……

…….মৌসুমি বুকে চেপে ধরেন তার মুখ তখন। সে ওই পরিচিত গন্ধের বুকে নাক ঘষে ঘষে বৃন্তে ঠোট চেপে ধরে ব্লাউজের ওপর দিয়েই প্রথমে বস্তুটি চিনতে বুঝতে খুঁজে নিতে অসুবিধে হয় না তার কারণ সে ছোঁয়া মাত্রই বৃন্তগুলি ব্লাউজের ওপর দিয়ে ফুটে ওঠে, যেন ছিড়ে বেরুতে চায় বস্ত্র-আবরণ।……..

………পদ্মার জন্ম

চণ্ডীকে ছলনা করে লুকিয়ে শিব একাকী বৃষপৃষ্ঠে আরােহণ করে পুস্পবনে বিহার করতে এলেন। ফুলের সৌরভে, রূপে, ফলের মমতায়, সবুজ শাখা প্রশাখাগুলির প্রাণময় আন্দোলনের মধ্যে পরাগ ও রেণুর কারসাজিতে শিবের কামাসক্তি তীব্র হল। এমনই সে কামাতুরতা যে শিব অস্থির হয়ে উঠলেন। এইসময় কালীদহের তীরে একটি ফলবতী বিল্ববৃক্ষে যুগ্ম বেলফল দেখে শিবের ভ্রম হল, এ যেন গৌরীর স্তনযুগল। উন্মত্ত হয়ে তিনি ফল দুটিতে আলিঙ্গন দিলেন। চরম সঙ্গম কল্পনায় শিবের মহারস স্খলিত হল। ব্যাঘ্রচর্মের আচ্ছাদনকে অন্তরাল করে সেই স্মৃলিত রস পদ্মপত্রে পড়ল। পদ্মের নাল বেয়ে সকল মহাবীর্য চলে গেল পাতালে আর সেখানে ওই বীর্য হতে এক অপরূপা কন্যার জন্ম হল। নাগরাজ বাসুকী তাকে প্রতিপালন করতে লাগলেন। নাম দিলেন তার পদ্মাবতী।………

………শিবের মহিমা

দিন যায়। পদ্মা একদিন ষােড়শী রূপসী যুবতী হয়ে উঠলেন। দেবী তিনি। সকলই অবগতা। বাসুকীকে একদিন বললেন—ভাতঃ! তুমি আমাকে ভ্রাতৃস্নেহে প্রতিপালন করিয়াছ। তােমার অপার স্নেহে আমি কখনও কারও অভাব বােধ করি নাই। কিন্তু আজ পিতৃসন্দর্শনে যাইতে বড় ইচ্ছা করে। তুমি অনুমতি দাও। | বাসুকী পদ্মাবতীর পিতৃপরিচয় সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি বললেন—অবশ্যই যাইবে তুমি পদ্মা। তােমার পিতা মহাদেব এক্ষণে কমলবনে বাস করিতেছেন। তুমি সেই স্থলে গিয়া তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ কর।।

পদ্ম কমলবনে শিবের কাছে গিয়ে দাড়ালেন। রূপসী, নবযৌবনা, সালঙ্কারা পদ্মাবতীকে দেখে শিব মদনে মােহিত হলেন। কামানলে অস্থির হয়ে তিনি পদ্মাকে রমণ করতে উদ্যত হলেন। সেই উম্বিতলিঙ্গ কামনামত্ত মহাদেবের দেহালিঙ্গনের আবেষ্টনীতে লজ্জায় স্বেদাপ্লতা হলেন পদ্মা। বললেন—নিবৃত্ত হও পিতঃ ! নিবৃত্ত হও! আমি তােমার আত্মজা। | প্রথম প্রতিক্রিয়ায় শিবের আলিঙ্গন শিথিল হল। কিন্তু তার পরেই তাঁর মনে হল, এই নারী অনিচ্ছুক, তাই মিথ্যা বলে প্রবঞ্চনা করছে। তিনি পুনরালিঙ্গনে উদ্যত হয়ে বললেন—চতুরা সুন্দরী, এত সহজে ভুলিবার পাত্র নহে এ ভােলানাথ। আইস। আলিঙ্গন দাও। আমার কামনা চরিতার্থ কর।

—পিতঃ, স্মরণ কর। পুষ্পবনে আমার জন্ম দিয়াছিলে তুমি।

—শােন অনন্যা, মধুরা, বিলাসিনী! কী চাহ তা বল। এমন যৌবন লইয়া একাকিনী আমার সম্মুখে আসিয়া এমন ছলনা করিতেছ কেন? তােমার বাসনা প্রকাশ কর। তােমার অভীপ্সা আমি নিশ্চিতই পূরণ করিব। তুমি কি জ্ঞাত নহ আমার পরিচয়? জান না কি আমি মহাকাল। অমিত শক্তিধারী। যে-কোনও প্রাণীর যে-কোনও বাসনা পূরণে সক্ষম। এক্ষণে আমার কামনা অধীর হইয়াছে। তুমি ধরা দাও। | এবার পদ্মাবতী দারুণ ক্রুদ্ধ হলেন। ক্রোধে বিষ-নয়নে শিবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপ করলেন। বিষের আঘাতে শিব অচেতন হয়ে পড়ে গেলেন।……..

……….প্রণয়িনী হতে সাধ জাগে তার। একান্ত ঘন গুঞ্জরণ-সাধ জাগে। প্রেম-রচনার অভীপ্সায়, এক ছুটির দুপুরে সে বাড়িয়ে দিয়েছিল ওষ্ঠ। চেপে ধরেছিল ইচ্ছুক স্তন হারাধনের বুকে। হারাধন তাকে সরিয়ে দিয়েছিল ঠেলে। বলেছিল- ছিঃ ! এই দিনের বেলায়!……

……….তার হাত, কাপা হাত, মৌসুমির কপাল, বুক, পেট, নাভি হয়ে নেমে আসে পায়ের পাতা পর্যন্ত। উঠে যায়। নেমে আসে। উঠে যায়। মৌসুমি এক ঝটকায় পাশ ফেরেন। শাড়ির প্রান্ত উঠে আসে আরও। ‘আবার চিত সাঁতারের মতাে ভেসে ওঠেন তিনি। বড় খােলামেলা এ শরীর এখন! বড় মােহ! বড় মাদকতা! হারাধন অশান্ত হয়ে ওঠে! অস্থির! একটানে ছিড়ে নেয় বুক-ঢাকা জামাটির হুক। বক্ষবন্ধনী না থাকায় নির্বাধ হয়ে যায় স্তন। নির্বাধ হয়ে যায় সকল মুহূর্ত। সকল আবেশ। উরুসন্ধিতে হাত রাখে সে। টের পায় উষ্ণতা। টের পায় ইচ্ছুক, থরােথরাে পেশিগুলি। এই প্রথম। এই প্রথম এই স্পর্শ। কী নরম! কী উন্মাদ! কী অপার! তখন ঝাপিয়ে পড়েন মৌসুমি তার ওপর। বিকারগ্রস্তের মতাে বলেন—তুই আমার। তুই আমার! হারাধন তােকে আমি আর কারও হাতে কেন দিলাম! কী করলাম আমি! কী করলাম। | অনাবৃত হয় ত্রিশ স্পর্শ না করা পুরুষের বুক কাঁধ পিঠ। অনাবৃত হয় মাংসল পেট। উন্মুখ লিঙ্গ ছেড়ে নেমে আসে পােশাক। মধ্য চল্লিশ নারীর হাত তাতে ঝাপ দেয়। মুঠিতে তুলে নেয় রতিসুখ। মৌসুমি আর্তনাদ করেন—নে নে নে।

পিচ্ছিলতায় মাখামাখি হয়ে যায় অপমান! গ্লানি। মিথ্যাচার। সততা। দাম্পত্য। প্রেম। 

সব বাধা উড়ে গেছে আজ। খুলে গেছে সব গ্রন্থি। সব। সকল সম্পর্কের মিছে মিথ্যে সাজিয়ে তােলা ওই পরিহার করে উঠেছে নির্মম সত্য হাতে যৌন অভিজ্ঞতা।

সময় পেরিয়ে গেছে কত! কতদুর ভ্রমণের নেশা তার পায়ে পায়ে জড়িয়েছে মহাকাল। তারই একটি কোণে তারা। …….. আজ পাশাপাশি আলিঙ্গনে নগ্ন রুপােলি ইলিশ। সারা দেহে মাখা আছে পরাগ রেণুকা। দেহে লিপ্ত।

…….শুয়ে ছিল। শুয়ে ছিল তারা আশ্লেষে-রমণে ক্লান্ত। আজ কতদিন পর বাঁধ ভেঙে গেছে। দেহে আছে দেহেরই পূর্ণ সমর্পণ। মৌসুমি-..র দেহ, ভরা শরীরের নগ্ন রূপ ঢাকা আছে। হারাধন পুরুষের বুকের পিঠের নীচে। সেই আদিকালে যে-রকম ছিল। মায়ের-ছেলের মধ্যে ছিল না নিষেধ, পিতা ও পুত্ৰী চিহ্নিত হত না পৃথক, জন্মের লগ্নে ঘােষণা নারী বা পুরুষ এবং সেই তার একমাত্র পরিচয়। লিঙ্গ পরিচয়। আদিম সেই বােধে মা নেই বাবা নেই ভাই নেই বােন নেই—শুধু ভেসে থাকে যৌনক্ষুধার তৎপর আসঙ্গলিপ্সা। দীর্ঘ বিবর্তন যতগুলি নিষেধ কুড়িয়ে নাম দিল সভ্যতা—অদ্যাবধি তা নস্যাৎ হতে পারে। হয়। হারাধন এক যুবাপুরুষ, সকল নিষেধ ভুলে গভীর প্রবেশ করে নিষেধ-বিস্মৃত শ্ৰীমতীর অভ্যন্তরে।। মৌসুমি বলছেন-হারাধন! -বলাে …! -এত আনন্দ আমি কখনও পাইনি। –জানি …।

শরীরে এত সুখ থাকে! এত! ওঃ ভগবান! এতকাল পর, আমার ঋতু যখন বন্ধ হতে চলেছে, এতকাল পর, আমি বুঝলাম !………

………আর অনির্বাণ দাঁতে দাঁত চেপে লাজুর মুখােমুখি দাঁড়ায়। তার হাত ঘামছে। পা ঘামছে। শরীর ঝিমঝিম করছে। সে শক্ত হয়। শক্ত হতে চায়। তবু ভয় করে তারা বিষম ভয়ে অস্থির-অস্থির পাগল-পাগল লাগে। এখুনি, এখুনি, ঘােমটা উন্মােচিত করলেই সে দেখবে, সে দেখবে, কাকে কাকে কাকে? হা হা লাজু, লাজুই তাে, লাজুকে। হা হা লাজুকে।

সে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কাঠের মতাে দাড়িয়ে থাকা লাজুকে বিবস্ত্র করতে থাকে অনভ্যস্ত হাতে তার সারা শরীর হতে বড় বড় ফোটায় নেমে আসে স্বেদবিন্দু। সে চোখ খােলে কিন্তু লাজুকে দেখে না। দেখে না তার অপরিপক্ক স্তন, আধফোটা, তুলতুলিরই মতাে অবিকল; দেখে তার চোখ হতে গড়িয়ে পড়া অশ্রু অবিরল, তুলতুলিরই মতাে। দেখে না সে। দেখতে চায় । বরং সে দেওয়ালঘড়ি দেখে। আর ছুটে গিয়ে আলাে নিভিয়ে দেয়। ফিরে আসে। শ্বসে প্রশ্বাসে, জোরে, ঠেলে দেয় মেয়েটিকে। দ্রুত দ্রুত দ্রুত হাতে মুক্ত করে স্বদেহের নিম্নবরণ। এবং চড়ে বসে। পাগলা ঘােড়ার মতাে চড়ে বসে পর্বতে গিরিখাতে অরণ্যানী জুড়ে। আঘাতের পর আঘাতের পর আঘাত করে গুহার প্রাচীরে। ফিনকে ওঠে লাভার রুধির। যে-মিলন মধুর হওয়ার কথা ছিল, যে-স্মৃতি মহিমামণ্ডিত করে রাখার কথা ছিল আজীবন, যে-সম্পর্ক আবেগ-ধােয়া হয়ে, অমলিন বিশ্বাস ও নির্ভরতা হয়ে, ক্রমশ রচনা করতে পারত সুখ ও শান্তির নিবিড় জগৎ— তার সবটাই হয়ে গেল প্রয়ােজনের শুষ্ক কর্কশ কঙ্করে লিপ্ত হয়ে গেল যজ্ঞের নিষ্ঠুর উপকরণ।………..

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *