ফর হুম দি বেল টোলস – আর্নেষ্ট হেমিংওয়ে

›› অনুবাদ  ›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  ›› ১৮+  

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আদি-রসের গল্প

অনুবাদঃ তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
উৎসঃ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আদি-রসের গল্প
সম্পাদনাঃ সুকান্ত সেনগুপ্ত

শষ্যা-থলির কবোষ্ণ আবেষ্টনে নিশ্চিন্ত মনে বেশ কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিল রবাট জর্ডান। পিস্তলটা মণিবন্ধে বেধে রেখেছিল সে। সহসা মারিয়ার কোমল করস্পশে শিরশির করে উঠল তার সারা শরীর। মারিয়া শীতে কাপছিল। জর্ডান তাকে বুকে টেন নিল। প্রথমটা সে থলির ভেতর ঢুকতে চায়নি। বারবার বলেছিল, ‘লক্ষীটি, আমায় ছেড়ে দাও। আমায় ভয় করছে। লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল সে। অবশেষে থলিতে একেছিল সে। জর্ডান তার ঘাড়ের নরম জায়গাটায় চুমু খেল। মারিয়া আবার বলে, না, না। আমি কিছুতেই পারব না-আমায় ছেড়ে দাও। লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছে তার মুখ। জর্ডান বলে, “দুষ্টুমি কারাে না মারিয়া।

-আমায় ছাড়।

-“সােনামণি, আমি তােমায় ভালােবাসি।’

—আমিও কি তােমায় ভালােবাসিনা, মৃদু কণ্ঠে মারিয়া বলে।

জর্ডান তার সর্বাঙ্গে আদর করতে লাগল। মারিয়া বালিশে মুখ ঘুজে শুয়েছিল। মুখ তুলতেই তার ভিজে ঠোটে জর্ডানের ঠোটের মিষ্টি ছোওয়া লাগল। মারিয়ার চোখ জলে ভরে উঠল। জর্ডানের বলিষ্ঠ বাহুর মাঝে এখন সে বন্দী। মারিয়ার যৌবনের ফসল, অনতিউচ্চ তপ্ত স্তনে আদর করে সে; অনুভব করল তার যৌবনবতী শরীরের প্রতিটি উষ্ণ খাজ, সৌরভ আর রোমাঞ্চ। মারিয়ার জলে ভেজা চোখে চুমু খেল সে-স্বাদ পেল লবণাক্ত অশ্রুর।

মারিয়া বললে, তােমায় চুমু দিতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু বিশ্বাস কর আমি জানিনা কিভাবে চুমু দিতে হয়।

–থাক, তােমায় আর চুমু দিতে হবে না।’

–তােমায় আমি চুম দেবই। কোন কিছুই বাদ দিতে চাই না। আজ সমস্ত কিছুই করব।’

-এত জামা কাপড় থাকলে ভালাে লাগে না।

-অসভ্য।

 

জর্ডান মারিয়াকে নগ্ন করে। তার নিরাবরণ শরীর নিয়ে খেলা করে। প্রশ্ন করে, কেমন লাগছে?

-খুব ভালাে লাগছে। কিন্তু আমায় তুমি ফেলে যাবে না তো? তােমার সঙ্গে যাব আমি। সব সময়ে তােমাকে পেতে চাই। কোন আশ্রমে যাৰ না আমি।

-“কিন্তু আশ্রমেই যেতে হবে তােমাকে।

-না জর্ডান, না। আমি তােমার সঙ্গে থাকবে। আমি তােমার হব।

শুয়ে আছে তারা, অনুভব করছে মিলনের শিহরণ। কী নিবিড় আনন্দ, গভীর পরিতৃপ্তি? একে অপরের মাঝে হারিয়ে গেছে তারা। কি এক হয়ে যাওয়ার আনন্দের মাঝে কেমন যেন একটা বিষাদের সুর ধণিত হচ্ছে। ভান জিজ্ঞেস করে, মারিয়া, আর কাকে ভালােবেসেছ তুমি ?

-না।’ তবে……

-তবে……কি ?

—“অনেকের পাশবিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল আমাকে। চুপ করে থাকে জর্ডান। তার আবেগে একটু ভাঁটা পড়েছে মারিয়া তা বুঝতে পারে। অদম্য অভিমানে মারিয়ার গলা ধরে আসে। সে বলে, ‘জানি, আমায় আর তােমার ভালােবাসা সম্ভব নয়। বেশ, আশ্রমেই যাব আমি। শুধু তােমায় হয়ে থাকব সে ভাগ্য আমার নয়।

-“ছিঃ মারিয়া। ওসব কথা বলেনা। বিশ্বাস করাে তােমায় আমি ভালােবাসি।

—না গাে, আমি জানি, আর আমায় ভালােবাসতে পারবে না তুমি, কিন্তু চুমু দেওয়ার ব্যাপারে সত্যিই আমি অনভিজ্ঞ। পশুগুলি যখন একে একে আমায় ধর্ষন করছিল প্রতিবারেই মরণপণ সংগ্রাম করেছিলাম আমি। বাধা নিয়েছিলাম, কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করেছি তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছিলাম আমি।

—“থাক না ওসব কথা। আমি তােমায় ভালোবাসি। আমায় একটা চুমু, দেবে মারিয়া ?

জর্ডানরর গালে চুমু দিল মারিয়া। একটু হেসে বলে, “ঠিক হলাে তাে? বল না গাে নাকটা কোথায় ঠেকবে ?

জর্ডান মারিয়ার সারা গায়ে চুমু খেল। মিলনের এ আনন্দ কোনদিন পায়নি জর্ডান। সে মারিয়াকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কি জানতে, আমার কাছেই তুমি আজ শােবে?

-হ্যাঁ। তাই তাে জুতাে খুলে এসেছিলাম।

-ভয় করেনি, তােমার ?

—প্রথমটা ভয় করেছিল খুব। ‘মারিয়া, বলতে পার কটা বাজে এখন?

-কেন তােমার হাতে ঘড়ি নেই ?

-“ঘড়িটাকে চেপে শুয়ে আছ তুমি। দেখব কি করে?”

-কেন, আমার ওপর দিয়ে ঝুকে পড়ে দেখা যায় না বুঝি?

জর্ডান ঘড়ি দেখে। রাত একটা। মারিয়া বলে, “কাধে তােমার দাড়ির খেচা লাগছে।

-“কি করব বল । দাড়ি কামানাের যন্ত্রপাতি সঙ্গে নেই।

-তােমার দাড়ি বাদামী, না?”

-হ্যা

“জান জর্ডান, তােমার আমার মিলনের মধ্যে দিয়েই আমি সেদিনের পাশবিক অত্যাচারের ভয়াবহ স্মৃতিটুকু মুছে ফেলতে চাই। ধর্ষণের পর আত্মঘাতিনী হতে চেয়েছিলাম। আজ মনে হচ্ছে সেদিন যদি আত্মহত্যা করতাম তাহলে আজকের এ চরম পাওয়ার পরিতৃপ্তিটুকু থেকে বঞ্চিত হতে হতাে। পিলার বলেছিল, যদি কোনদিন সত্যিকারের ভালােবাসা পাও তাহলে এ অপমান আর দুঃখের বােঝা আর বইতে হবে না। আজ বুঝছি, ঠিকই বলেছিল সে।’

—মারিয়া, কোনদিন ভাবিনি কেউ আমার হবে। কিন্তু আজ তােমাকে পেয়েছি, নিজেকেও সপে দিয়েছি তােমার কাছে।

এবার আর ভুল হলাে না, মারিয়া ঠিক ঠিক চুমু খেল জর্ডানের ঠোটে। অদ্ভুত একটা অনুভূতি আচ্ছন্ন করল জর্ডানকে। তার মনে হলাে মারিয়ার মন থেকে মুছে দিতে হবে ধর্ষণের ক্লেদাক্ত সেই স্মৃতিটুকু।

রাতের নির্জনতায়, হাড়-কাঁপানাে ঠাণ্ডায় মিলনোত্তর প্রশান্তিতে তারা ঘুমাচ্ছিল। তারার মালা পরে ঝিকমিক করছিল সারা আকাশ। মুহূর্তের জন্য জর্ডানের ঘুম ভাঙল। মারিয়াকে চুমু খেল সে। তার মতাে মারিয়াও আজ তৃপ্ত-ঘুম ভাঙল না তার।

সকালে ঘুম ভাঙল জর্ডানের। মারিয়া নিঃশব্দে কখন চলে গেছে। সে যেখানে শুয়েছিল, সে জায়গাটা তখনও গরম ছিল।

লতাপাতা গুল্ম ঢাকা পাহাড়ী পথ ধরে হাঁটছিল তারা। মাথার ওপর ঝকঝক করছিল পরিছন্ন সর্য। তুষার ভেজা ঠান্ডা হাওয়া লাগছিল তাদের পিঠে। মারিয়ার হাত ধরে হাঁটছিল জর্ডান। পারস্পরিক সম্পর্শটুকু মধুর লাগছিল উভয়ের। সুর্যেরশির ঝরে পড়ছে মারিয়ার রেশমি চুলে, ঝলমলে মুখে। জর্ডানের আলিঙ্গনে ধরা দিল মারিয়া। মারিয়ার জামার আবরণ ভেদ করে তার সুন্দর স্তন দুটি জর্ডানের বুকে এসে লাগছিল। জর্ডান মারিয়ার জামার বােতাম খুলে তার বুকের সৈকতে, স্তনে চুমু খেল। কেপে কেগে উঠছিল মারিয়া। অরণ্যের বুনাে গন্ধ ভাসছিল। মারিয়ার তৃপ্তি-নিমীলিত চোখে রোদ পড়েছে। একবার চোখ মেলে তাকাল সে জর্ডানের দিকে—সুন্দর হাসিতে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

পাহাড়ীর নদীর পাশ কাটিয়ে আবার তারা হাঁটতে লাগল। জডনি বললে, সত্যিই সুশ্রী সুন্দরী তুমি।

মারিয়া বলে, সুন্দরী না ছাই। আচ্ছা জর্ডান, মিলনের এমন অনুভূতি এর আগে আর কোন দিন তােমার হয়েছে ? মনে হচ্ছিল আনন্দে যেন শুন্যে ভাসছিলাম আমি।

-কয়েকটি মেয়েকে ভালাে লেগেছিল, সে তাে নিছক ভালাে লাগা। কিন্তু আর কোনদিন এমন তৃপ্তি পাইনি।’

-সত্যি বলছ ?

‘হ্যা।

-দেখবে এরপর আরও সুন্দর হব আমি। আরও অনেক আনন্দ দেব তোমাকে।

-“আমায় যা দিয়েছ, তুলনা হয় না তার।

 

মারিয়া বলে, লক্ষীটি, আমার পা দুটি ধরাে না-ভীষণ ঠান্ডা হয়ে গেছে।

‘পা দুটো এগিয়ে দাও, আমি গরম করে দিই।

-“ দুষ্টুমি কারাে না, এখুনি আমার পা গরম হয়ে যাবে। আচ্ছা জান তুমি সত্যি সত্যি আমায় ভালােবাস তাে?’

-কতবার বলব বলতো? বিশ্বাস কর, তােমায় আমি ভালোবাসি।’

-আমিও ভালবাসি তােমায়–খুব ভালবাসি। আমি তােমার মেয়েমানুষ তােমার বৌ।

জর্ডান বললে, ‘যদি তােমার শীত না লাগে, জামাটা একটু খুলবে।

‘শীত করবে কেন! তােমার আদরে ছোয়ায় গায়ে আমার পলক লাগে আগুন জলে।

-তােমাকে দেখলে আমার শরীরেও কামনার আগুন লাগে।

-“কিন্তু একটু পরেই তাে তােমার শীত করবে।’

-না গাে না। আমি তাে তােমার মাঝে হারিয়ে যাব।

—“মারিয়া।

-কি বল।

-মারিয়া।

-দষ্টমি করে না। এ সময় কথা বলতে ভালো লাগে না। চুপ।

-শীত করছে?

-না। লক্ষীটি চুপ কর। আমায় অনুভব করতে দাও। উঃ কি অসহ্য আরাম।

-মারিয়া। মারিয়া। মারিয়া।

মিলনের মধর উষ্ণতা অনুভব করার পর নগ্ন দেহে শুয়ে আছে তারা। মারিয়া জিজ্ঞেস করে, “কেমন লাগল তােমার ?

জডনি বললে, “তােমার কেমন লাগল?

ক্লান্তিতে নেতিয়ে পড়েছে জডান আর মারিয়া। মিলনের মধুর উষ্ণতা অনুভব করার পর মহতের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়ে তারা।

 

নিশীথের নির্জনতায় আবার মিলিত হল জর্ডান আর মারিয়া। মারিয়ার যুগল উরুর তপ্ত স্পর্শসুখ অনুভব করছে জর্ডান। তার সুন্দর স্তনদুটি পর্বত শঙ্গের মতাে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার কণ্ঠদেশ যেন মনােরম এক উপত্যকা।

মারিয়া জর্ডানকে চুম দিল। বললে, ভাবতে কষ্ট হচ্ছে, আজ তোমায়, মিলনের চরম সুখটকু দিতে পারব না। ধর্ষিত হবার পর থেকে মাঝে মাঝেই আমার ঐ জায়গাটায় ব্যাথা হয়-আজ যেমন হয়েছে।

জর্ডান বলে, দুশ্চিন্তা করাে না সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন। আর তুমি ব্যথা পাও কিছু থেকে অবশ্যই আমি বিরত থাকব।

-কিন্তু আমার যে ইচেছ করছে। এদিকে ভীষণ ব্যথা।

-“আমি তাে তােমায় জড়িয়ে শুয়ে রয়েছি মারিয়া। এটা কি মিলন নয়।

-‘সান্নিধ্যের এ মাধুর্যেটুকুকে তাে আমি অস্বীকার করছিনে, কিন্তু দে থেকে ফেরার পথে সেই পাহাড়ে সঙ্গমে যে সুখ পেয়েছিলাম-সেই সুখ, সেই

আনন্দ পেতে চাই।

-আজ থাক। পাশাপাশি শুয়ে আজ শুধু ঘুমাবো। সম্ভোগের অনেক রঙীন মুহূর্ত আমাদের প্রতীক্ষায়।’

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *