ধর্মযাজক ও পল্লীবধূ সমাচার – গিয়ােভানি বােকাসিও

›› অনুবাদ  ›› সম্পুর্ণ গল্প  ›› ১৮+  

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আদি-রসের গল্প

অনুবাদঃ অবনী সাহা
উৎসঃ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আদি-রসের গল্প
সম্পাদনাঃ সুকান্ত সেনগুপ্ত

ভারালাজো-নামটা সবাই জানেন। এখান থেকে বেশী দূরে নয়। সেখানে একজন মাননীয় যাজক থাকেন। যেমন শক্ত সামর্থ তেমনি মেয়েদের বিষয়ে উৎসাহী পুরুষ। পড়াশােনায় খুব যে দড় তা নয়, কিন্তু মুখে বেশ কিছু উচু দরের আধ্যাত্মিক উপদেশাবলী মজুদ থাকতাে। আর তা দিয়েই প্রতি রােববার তাঁর যাজন এলাকার ভক্ত নরনারীদের আপ্যায়ন করতেন। যখন তাঁর পরষে যজমানেরা. বাড়ী থাকতাে না, যাজক মশাই মহা উৎসাহের সঙ্গে তাদের বউদের খবরাখবর নিতে বেরুতেন। কাউকে দিতেন পবিত্র বারি, কাউকে একটা কি দুটো মোমবাতির পােড় টুকরাে, তাছাড়া তার আশীবাদ।

শিষ্যাদের মধ্যে একজন সম্পর্কে তার দুর্বলতা ছিলাে সব চাইতে বেশী । তার নাম মােননা বেলকোলাের। সে ছিলাে বেনটিভেনা ডেল ম্যাজো নামে একজন কৃষি শ্রমিকের বউ। নিঃসন্দেহে সে যেমন যৌবনবতী তেমনি মনােমুগ্ধকর এক পল্লীবালা। গােলগাল চেহারা দেখতে অনেকটা তামাটে রঙের টসটসে চেরী ফলের মতাে। সারা গায়ে এমন পটের ছবির মত মেয়ে আর ছিলােনা। তার উপর যখন সে খঞ্জনী বাজিয়ে গান গাইতাে, ‘তুমি যা চাইছে বধু একদিন আশা পূর্ণ হবে।’ আর যখন একটা রুমাল উড়িয়ে ঘরে ঘরে নাচতে, তখন তাে পাড়ার অনেক ছােকরারাই মনে দাগ কেটে যেতাে।

আমাদের যাজক মশাই মেয়েটির এই সব গুণপণায় এমন মুগ্ধ হয়েছিল যে চিত্তবিক্ষেপের দ্বার তাড়িত হয়ে তিনি সারা গায়ে ঘুরে বেড়াতেন যদি একবার তার দেখা মিলে। রােববারের সকালে গির্জায় তার দেখা পেলে, তিনি কানে কানে আবৃত্তির ভঙ্গীতে মনের কিছু কথা বলতে চেষ্টা করতেন। গাধার মতাে কর্কশ কণ্ঠে চিৎকার করে বলতেন। কিন্তু বধুটির দেখা না পেলে কদাচিৎ মুখ খুলতেন। মােটামটি তিনি তার এই মনােভাব গােপন রাখার চেষ্টা করতেন। বধুটির স্বামী বেনটিভেনা ডেল ম্যাজো বা প্রতিবেশীরা তার ব্যবহারে কোন অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করতাে না।

মােনা বেলকোলােরের, আরও ঘনিষ্ঠ হবার জন্য সুযােগ পেলেই যখন তখন তিনি কিছু না কিছু উপহার দিতেন। কখনও তার নিজের বাগানের একগুচ্ছ তাজা রসুন, কখনও এক ঝড়ি বরবটি, বা এক গােছা পেয়াজ জাতীয় গাছ । রাস্তায় দেখা হলে, অতি দীন ভাবে তার দিকে তাকাতেন। বােকার মত আসক্ত ও অনুরাগী ব্যক্তির মতাে ফিস ফিস করে ন্যাক্কার জনক কথা তার কানে কানে বলতেন কিন্তু মেয়েটি এসব ভ্রূক্ষেপ করতাে না। বরং এমন নাক উচিয়ে পথ চলতাে যেন আশে পাশে যাজকটি নেই।

যাহােক একদিন, ধর্মযাজক মশাই উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে গ্রামের পথে ঘুরে বেড়াছিলেন। বেলা তখন দুপুর গড়িয়েছে। এমন সময় তার দেখা হয়ে গেলো বেনটিভেনা ডেল ম্যাজোর সঙ্গে। সে প্রচুর মালপত্র চাপিয়ে আগে আগে একটা গাধাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যাজক মশায় তাকে সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন, কোথায় যাচ্ছো হে ?

বেনটিভেনা উত্তর দিলাে, সত্যি বলছি যাজক মশাই, কিছু কাজ কারবারের জন্য শহরে যাচ্ছি। এগুলাে নিয়ে যাচ্ছি উকিলবাবুর কাছে।

যাজক মশাই খুশীতে ডগমগ হয়ে বললেন, বেশ বেশ, যাও বৎস। আমার আশীবাদ রইলাে। তাড়াতাড়ি ফিরে এসাে। আর হ্যাঁ, যদি ল্যাপশিও বা নালডিনাের সঙ্গে তােমার দেখা হয়, তাহলে আমার শস্য আছড়াবার কাঠের জন্য চামড়ার ফিতে গুলাে নিয়ে আসতে বলাে তাদের। ভুলে যেও না যেন। বেনটিভেনা শপথ করে বললো, সে এ সম্পর্কে দেখবে।

তারপর ফোরেন্সের দিকে পা বাড়ালাে সে। আর যাজক মশাই ঠিক করলেন, হ্যা, বেলকোলাের কাছে যাবার সময় এসেছে। ভাগ্য পরীক্ষা করা যাক। এই ভেবে ঘােড়ার মতাে ছুটে চললেন তিনি। তার প্রেমাস্পদার বাড়ীর দরজা পর্যন্ত পৌঁছবার আগে আর থামলেন না।

ঈশ্বর এখানকার সকলের মঙ্গল করুন। কেউ কি বাড়ী আছে? ডাকলেন তিনি।

বেলকোলের উপর তলায় ছিলাে। তার গলার আওয়াজ শুনে সে নিচে নেমে এলাে।

ও, যাজকমশাই, আপনি। আসুন আসন। এই দুপুরের গরমে গ্রামে টো টো করে ঘুরছেন কেন ?

যাজকমশাই উত্তর দিলেন, ঈশ্বরের ইচ্ছেয়, আমি তােমাকে কিছুক্ষণের জন্য সঙ্গ দিতে এসেছি। তােমার স্বামী শহরে যাচ্ছে, আমার সঙ্গে দেখা হলো ।

বেলকোলাের একটা আসনে বসে একগাদা বাধাকপির দানা ছাড়তে লাগলাে। এগুলাে ওর স্বামী সকালে এনেছিলাে। | যাজকমশাই বললেন, কাছে এসো বেলকোলাের। আর কতদিন আমাকে নিরাশ করবে ?

বেলকোলাের হাসতে হাসতে বললাে, আমি আপনার কী করেছি !

কিছুই না, কিন্তু মুশকিলটা কি জাননা, ঈশ্বরের আদেশে আমি তোমার সঙ্গে কিছু একটা করতে চাই কিন্তু তুমি আমাকে তা করতে দাও না। আশীর্বাদ করুন। বললো বেলকেলাের। কিন্তু যাজক মহােদয়গণ ঐ ধরণের কাজ করেন না।

যাজকমশাই উত্তর দিলেন, আমরা অবশ্যই করি। কেন, আমরা কি পথিবীর মানুষ নই। অধিক বলতে কি, আমরা বরং ঐ কাজ অন্য মানুষের চেয়ে অধিক দক্ষতার সঙ্গে করে থাকি। জানাে কি জন্যে? কারণ যখন আটা ভাঙানাে কলের জলভাণ্ড পণ থাকে তখনই আমরা পেষাই করি। কাজেই যদি তুমি রোদে তােমার খড় শুকোতে চাও, তবে তােমার জিব্হা চালনা বন্ধ কর। ওটা নিয়ে আমাকে কিছু করতে দাও।

আপনি কোন ধরণের খড়ের কথা বলছেন। আপনারা যাজকেরা সবাই সমান আপনিও তো চেহারা পত্রে একটি হাড় কেপণ। বেলকোলাের বললাে।

তুমি শুধু বল, তুমি কি চাও? তুমি তাই পাবে। উত্তর দিলেন যাজক মশাই। এক জোড়া ছােট্ট সুন্দর জুতাে বা মাথায় রেশমী কার কিংবা উলের কোমর বন্ধনী অথবা অন্য কিছু। বেলকোলাের বললাে, আমাকে বলতেই হবে, সবই খুব খাসা পছন্দ। কিন্তু আমার ওগুলাে সবই আছে। তবে সত্যিই যদি আমাকে মনে ধরে থাকে, তবে আমার একটা উপকার করুন, তারপর আপনি যা বলবেন তাই করবাে।

বল কী উপকার করতে হবে। আমি সানন্দে তা করবাে। বললেন যাজক মশাই।

সুতরাং বেলকোলোর বললাে আমাকে আগামী শনিবার ফোরেন্স যেতে হবে। আমি যে উল বনছি তাই দিয়ে আসতে। আমার চরকাটাও মেরামত করতে হবে। যদি আমাকে পাঁচ পাউণ্ড ধার দেন, যা আপনার মতাে মানুষ সহজেই পারে, আমি বন্ধকদারের সঙ্গে দেখা করে আমার কালাে কোটটা আনবাে, আর কোমর বন্ধনীটা, যা আমি রােববার পােরবাে। আমি ওটা বিয়ের দিন পরেছিলাম, বুঝলেন! আর যতদিন ওটা বন্ধক থাকবে, আমি গির্জা বা অন্য কোথাও যেতে পারবাে না। আমার এই উপকারটুকু করুন আমি সব সময় একান্ত আপনার হয়ে থাকবাে।

যাজকমশাই বললেন ঈশ্বর আমার সহায় হােন। আমি সঙ্গে টাকা নিয়ে যেতে আসিনি। নইলে আমি আনন্দের সঙ্গে তােমাকে দিতাম। তবে আমার উপর ভরসা রাখতে পারাে, শনিবারের মধ্যে তুমি টাকা পাবে। 

বেলকোলাের বললো, ও বুঝেছি, আপনারা সবাই এই রকম অনেক শপথ করেন, কিন্তু পরে তা রাখতে পারেন না। আপনি কি ভাবেন, আপনি আমাকে বিলিউজা পেয়েছেন, যে নাকি শূন্য হাতে চলে গিয়েছিলো, যাকে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হয়েছিলো শেষ পর্যন্ত! আপনি তার কী করেছিলেন শুনি ? ঈশ্বরের নামে বলছি, আপনি অত সহজে আমাকে বােকা বানাতে পারবেন না। আপনার সঙ্গে যদি টাকা না থাকে তাহলে চলে যান, নিয়ে আসুন গে।

যাজক মশাই বলছেন, কাছে এসাে। টাকার জন্য এখন আমাকে আবার সারা পথ ভেঙে যেতে এবং ফিরে আসতে বলােনা গাে। যখন তুমি নিজেই দেখছো, তােমাকে পাবার জন্য আমি কত উদগ্রীব। আমার আসার ফাকে অন্য কেউ এসে আমাদের প্লানটা ভেস্তে দিতে পারে। ঈশ্বর জানেন আর কবে আমি এমন সুযোেগ পাবো।

বেলকোলের বললে, ওটা অবশ্য আপনার নিজের কথা। যদি আপনি যেতে চান তাে যান। নইলে অন্য জায়গায় আপনার সুযােগ খুজে নিন গে।

যাজকমশাই যখন দেখলেন, মেয়েটি তাঁর আদেশ মানতে রাজী নয়, তখন তিনি নরম হয়ে বললেন, বেশ আমি বলছি, আমি কী করবাে। তুমি যখন বিশ্বাস করছো না যে আমি তােমাকে টাকা দেবাে, তখন আমি আমার এই সুন্দর নীল আলখাল্লটা জামিন হিসেবে তােমার কাছে রাখবাে।

বেলকোলাের তার দিকে তাকিয়ে বললাে, এক্ষণি দেবেন। তা এর দাম কত হবে?

কত দাম? যাজক বললেন, আমি বলছি এটা খাটি উলের তৈরী। অন্য কিছুর নয়। মাত্র দিন পনেরাে আগে আমি পুরােনো কাপড়ের ব্যবসায়ী লােটোর কাছ থেকে কিনেছি। ঠিক সাত পাউন্ড দিয়ে।

সত্যি। বেলকোলোর বললাে। ঈশ্বর আমার সহায় হােন, আমি একথা কোন দিন বিশ্বাস করবো না। যাহোক, একবার দেখি এটা।

যাজকমশাই, প্রলুব্ধ হয়ে আলখাল্লাটা খুলে তাকে দিলেন। আর সে ওটাকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে বললাে, চলুন যাজকমশাই, আমরা গোলা বাড়ীতে যাই। কেউ ওর ধারে কাছে যায় না।

সুতরাং তারা গােলা বাড়ীতে গেলাে। সেখানে তিনি মিষ্টি চুমোয় চুমোয় তাকে অভিভূত করে ফেললেন। তারপর তার সঙ্গে অনেকক্ষণ রতিক্রিয়ায় মগ্ন রইলেন। শেষে এক সময় গিজায় ফিরলেন। সেখানে একটা বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা ছিলাে তার।

গিজায় ফিরে তিনি সব ক’টি মােমবাতির শেষাংশ জড়ো করে দেখলেন সারা বছরের অর্ঘ সরুপ পাওয়া মোমবাতি বেচে পাঁচ পাউন্ডের অর্ধেকও হবে না। নিজেকে তার, একটা গাধা বলে গাল দিতে ইচ্ছে হলো। নইলে কিনা একটা মেয়ে মানুষের কাছে তার নিজের আলখাল্লাটা খুলে রেখে আসেন। সুতরাং তিনি ভাবতে লাগলেন কী করে পয়সা না দিয়ে আলখাল্লা উদ্ধার করা যায়।

যাজকমশাই সুচতুর ব্যক্তি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে একটা উপায় বের করলেন কী করে ওটা ফেরত পাওয়া যায়।

পরিকল্পনাটির চুড়ান্ত রূপ দিলেন তিনি।

পরদিন ছিলাে একটা খানাপিনার দিন। তিনি এক প্রতিবেশীর শিশু পুত্রকে মােনা বেলকোলোের বাড়ীতে পাঠালেন। মােনা যদি দয়া করে তার হামামদিস্তাটা ধার দেন। কারণ বিসিও দল পােগিও আর নটা বুগলিও পরদিন সকালবেলা যাজকের সঙ্গে প্রাতরাশ করবেন, আর সেজন্য তিনি একটা সস তৈরী করবেন।

বেলকোলাের হামানদিস্তাটি পাঠিয়ে দিলাে। প্রাতরাশের সময় হয়ে এলাে এবং যাজকমশাই জানতেন বেনটিভেনা ডেল ম্যাজো আর বেলকোলাের এ সময় খাবার টেবিলে বসবেন। তিনি গির্জায় একজন কর্মচারীকে ডেকে বললেন, মােনা বেলকোলােরকে হামামদিস্তাটা ফেরৎ দিয়ে এসাে, আর বলবে ফাদার এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আর যে ছেলেটি এটা নেবার সময় আলখাল্লা জামিন রেখে গেছে সেটা ফেরত দিন।

সুতরাং কর্মচারীটি হামামদিস্তাটা নিয়ে বোকোলােরের বাড়ী গেলাে। দেখলাে সে বেনটিভেনার সঙ্গে টেবিলে বসে প্রাতরাশ করছে।

হামামাদস্তাটা টেবিলের উপর রেখে, সে যাজকমশায়ের বারতা জানালাে।’

আলখাল্লার কথা শুনে বেলকোলোর কিছু বলতে যেতেই, বেনটিভেনা তাকে থামিয়ে রাগত স্বরে বললাে, যাজমশারের কাছ থেকে জামিন নিয়েছে, এসব কী ব্যাপার ! যীশুর নামে বলছি, তােমার সম্পর্কে আমার ভালাে ধারণা ছিলাে। এক্ষুণি ভিতরে যেয়ে আলখাল্লাটা নিয়ে এসে ফেরৎ দাও। শীগগির যাও। এখন থেকে মনে রেখাে, যাজকমশায় যদি কোন কিছু চান, তাঁকে তা দেবে। এমনকি যদি আমাদের গাধাটাকে চান তাও।

বেলকোলাের গজগজ করতে করতে উঠে দাঁড়ালো। নিজে নিজেই কী সব বিড়বিড় করে বললাে, তারপর বিছানার পায়ের কাছে রাখা সিন্দুকের কোনাে জায়গা থেকে আলখাল্লাটা বের করে আনলো। গির্জার কমচারীকে সেটা দিয়ে বললাে, ষাজকমশাইকে এই কথাটা জানিও। বেলকোলাের ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলেছে, এমন ঘৃণ্য ব্যবহারের পর আপনি আর সস তৈরীর জন্য কোনদিন তার হামামদিস্তায় পেষাই করতে পারবেন না।

কর্মচারিটী আলখাল্লাটা ফেরত নিয়ে যাজকমশায়কে দিল। তারপর বেলকোলেরের কথাগুলাে জানালাে।

শুনে যাজকমশাই অট্টহাসিতে ভেঙে পড়ে বললেন, এরপর তার সঙ্গে দেখা হলে বলাে, সে যদি আমাকে তার হামামদিস্তায় না দেয়, তবে আমিও তাকে আমার হামামদিম্ভার ডাটি দেবােনা। একটা ছাড়া আর একটার চলে না।

বেনটিভেনা মনে করলো তার বকুনি খাওয়াতেই তার স্ত্রী এমন কথা বলেছে, তাই সে এ নিয়ে আর কিছু ভাবলাে না। কিন্তু বেলকোলাের তাকে এমন বােকা বানানাের জন্য যাজকের উপর ভীষণ চটে গেলাে। এমন কি বাকী গ্রীষ্মকাল অর্থাৎ আঙ্গুর তােলার সময় পর্যনত তার সঙ্গে কথা বললাে না। ইতােমধ্যে সেই যাজকটি নরকের ভয় দেখিয়ে দিন দিন তার জীবনকে এমন ভীত সন্ত্রত করে তুলেছিলাে, যে সে একমাত্র মদ ও কিছু বাদামভাজা খাইয়ে শান্তি স্থাপন করলাে।

তখন থেকে তারা দুজনে বহুবার একত্রে গােগ্রাসে পানাহার করেছে এবং পাঁচ পাউণ্ড দেবার পরিবর্তে যাজকমশায় তার খঞ্জনীতে নতুন একটা ঢাকনি করে দিয়েছেন, এবং তাতে অপুর্ব কৌশলে একটা ছােট্ট ঘণ্টা জুড়ে দিয়েছেন। বেলকোলাের এবার খুব খুশী।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *