….ফোনটা বেজে বেজে কেটে গিয়েছিল, আবার বাজতে শুরু করল। প্রবীর বুঝল খুবই জরুরি ফোন, ধরেই দেখা যাক কী বলে। সবুজ বোতামটা টিপতেই ওপাশ থেকে একটা মেয়ের গলা, “শোনো অশোক কাল তোমার বউ যাচ্ছে কিনা কনফার্ম করে দিও একটা এসএমএস করে। আমি অফিস আসার সময় তাহলে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে আনব। আর প্রোটেকশনের ব্যবস্থা রেখো, হঠাৎ করে কিছু বেধে গেলে লোকলজ্জার এক শেষ হবে। শুনতে পাচ্ছ? কী হলো অশোক? কিছু বলবে তো, নাকি?”
সিঁড়ির মুখে আসতেই একটা চাপা গোঙানির মতো আওয়াজ ভেসে এল। প্রবীর একটু থমকে দাঁড়াল। আওয়াজ ক্রমে বাড়তে ভিতরে ঢুকে এল প্রবীর, শব্দের উৎস সন্ধান করে পৌঁছোল একটা ঘরের সামনে। অন্ধকার ঘর, ভেন্টিলেটার দিয়ে এক ফালি আলো চুইয়ে নামছে শুধু। সে যা দেখছে ঠিক দেখছে তো? চোখ কচলালো একবার। এ বাড়ির মেজোবউ সোহিনীবউদি সদ্য এসে পৌঁছেছে। হয়তো কাপড় ছাড়ছিল। দরজার দিকে উন্মুক্ত পিঠ, একফালি জ্যোৎস্নার মতো পিঠখানি! কিন্তু এ কী দেখছে সে! তুফানদাদাবাবু মেজোবউদির কাঁধখানা ধরে সেই ফরসা পিঠে একটু একটু করে কামড় বসাচ্ছে, আর বউদি একটুও বাধা দিচ্ছে না। তার পিঠের সীমানায় একরাশ গোলাপি গোলাপ ফুটে উঠছে তুফানদাদাবাবুর দাঁতের চাপে। সোহিনী বউদির মুখ থেকেই ওই গোঙানির মতো আওয়াজটা ভেসে আসছে। এই আওয়াজ চেনে প্রবীর, সুখী যে রাতে প্রবীরের হাতে নিদারুণভাবে নিষ্পেষিত হয়, ওর মুখ থেকে এমন আওয়াজ বেরিয়ে আসে। প্রবীর জানে, এ আওয়াজ তৃপ্তির। পা দুটো যেন কেউ পেরেকে আটকে দিয়েছিল প্রবীরের, এক সময় দেখল তুফানদাদাবাবু সোহিনীবউদির আঁচলটা এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে বুকের কাছে মুখ নিয়ে যাচ্ছে। আর পারল না প্রবীর। নিঃশব্দে আবার ছাদেই চলে গেল। ভাবতেই পারছে না শহরের প্রতিটা ঘরে এত অনাচার।…..
