একা কৃষ্ণা – অশোককুমার সেনগুপ্ত

›› গল্পের অংশ বিশেষ  

…..গ্রীষ্ম-মধ্যাহ্নের তাপপ্রহারে ক্লান্ত শরীরটা আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দু কাঁধে লম্বা ফিতেয় কোলান ব্যাগ দু’খানা ভারী বোধ হয়। দোহারা দেহরেখাটি ঈষৎ নত হয়ে পড়ে। গঠনে কার একটা শক্ত ভাব আছে। লম্বা পানা মুখ, আয়ত চোখ, উন্নত নাক। রূপসী নয়, কিন্তু সরু কোমর, ভারী নিতম্ব এবং উঁচু বুকের মধ্যে রৈখিক রমণীয় আকর্ষণ খুবই গভীর। নিখুঁত দাঁতের সারিতে হাসির ঝিলিক এবং চাউনিতে নাকি কৃষ্ণার এক অদ্ভূত রহস্য। অনীশ প্রায়ই বলে। অনীশ কৃষ্ণার প্রেমিক। বেকার, গ্র্যাজুয়েট।….

…..অনীশকে ঘিরে কৃষ্ণার ইদানীং বড় শংকা। কি যে হয়ে যাচ্ছে ও। এই যে কাজটা আচমকা করে বসল, এটা কি নিছকই উত্তেজনা! কৃষ্ণাকে কিছু পাইয়ে দেবার চেষ্টা! তাদের ভালবাসায় এ ক’বছরে কফা তো দেখেছে অনীশ কত ধীর, স্হির, কত ভদ্র, মার্জিত। তাদের ভালবাসারও যেন অদৃশ্য এক * সীমারেখা অনীশ । তুলে রেখেছে। শরীরের ক্ষুধা কি ওর নেই ! আছে বৈ কি। কিন্তু তার মধ্যে প্রাবলাকে ইচ্ছে করে ও সংযত রাখে অবশ্য ঘনিষ্ঠতার যোগ জোটেই বা কোথায়। যেটুকু জোটে, কৃষ্ণা দেহ জুড়ে এক অদ্ভুত কাতরতা অনুভব করে। সমস্ত তন্ত্রীতো এই পুরুষের হাতে রিনরিন করে বেজে উঠতে চায়। কিন্তু আলতো স্পর্শ, সামানা আদরেই তা তা সীমাবদ্ধ জৈন কোথাও এক অদৃশ্য একটি সতত তাদের উপর নিবন্ধ। বড় অভাব তাদের হাওড়া শহরে বসার জায়গার। কখনও কখনও অবশ্য কদমতলা পেরিয়ে, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ের জলায় গিয়ে তারা বসে। বেশির ভাগ সময় গলির লাইট পোস্টের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা। আচমকা লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে কৃষ্ণার সারা শরীর কি যে আকূল হয়ে ওঠে। তবে ওই টুকুই। সময় সময় কৃষ্ণার নিজেকে বড় লোভী মনে হয়। মনে হয়, আকাঙ্ক্ষাটা মেয়েমানুষ হিসেবে তার তরফেই কম থাকার কথা। কিন্তু কেন যে থাকে না। কেন যে শরীর অমন করে এগিয়ে যায়। নিজেকে সে কখনও কখনও বলে, ঠিক নয় কৃষ্ণা, এটা ঠিক নয়। উত্তরও দেয়, কিন্তু কি করব বল। শরীরে আমার বড় জ্বালা। সংসার এই দু’বছরেই আমার পৃথিবী বদলে দিয়েছে। আমার সুখ বলতে তো কেবল অনীশ। আমার সারা শরীরের দাহ তো অনীশের স্পর্শই মুছিয়ে দেয়। ওকে স্পর্শ করলে আমার যে তখন মনে হয়, দেহ যেন হাল্কা। আমি আকাশে উড়তে পারি। আমি অসম্ভব কোন কিছু করে ফেলতে পারি।……