রোমান্স – অ্যানীস নীন

›› অনুবাদ  ›› সম্পুর্ণ গল্প  ›› ১৮+  

    উৎস  : -পরকীয়া প্রেম – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়  সম্পাদিত

“প্যারিসে বিশ শতাব্দীর বিশ ও তিরিশ দশকে অ্যানীস নীনের বোহেমিয়ান লাইফস্টাইল আজ আর অপরিচিত নয় পাঠক পাঠিকাদের কাছে। সেই সঙ্গে বহু বিতর্কিত গ্রন্থের বিখ্যাত লেখক হেনরি মিলারের সঙ্গে তার গোপন সম্পর্কের কথাও সর্বজনবিদিত। যার প্রতিফলন হয় হেনরি এন্ড জুন ছবিতে। সেই অ্যানীস নীন আমেরিকায় পাড়ি দিয়ে একের পর এক ইরোটিক গল্প লিখে যান, যার সম্মানিক মূল্য ছিল প্রতি পৃষ্ঠা এক ডলার। সেই সব বিশ্ববিখ্যাত ইরোটিক গল্পের মধ্যে এই গল্পটিও অন্যতম।”

ফরাসী দেশের একজন স্বনামধন্য বীর এবং নাইট এক সময় একজন অতীব সুন্দরী। মহিলার প্রেমে পড়ে যান, আর সেই মহিলাটিও নাইটকে সন্তুষ্ট রাখার জন্যে এবং তার মন পাবার জন্যে তার সব কিছু উজাড় করে দিতেন, এমন কি নারীর সব থেকে মূল্যবান সতীত্ব—সেটাও তিনি খরচ করে বসেছিলেন নাইটের জন্যে। ভদ্রমহিলা তখন নাইটের কাছে সম্পদলোভ্যা হয়ে ওঠেন, নাইট যা চান তাই দেন তিনি, না। চাইতেই নিজের থেকে তিনি তার দেহের নৈবেদ্য সাজিয়ে অপেক্ষা করে থাকতেন প্রতি রাত্রে। কিন্তু হঠাৎ একদিন রাজার কুমে নাইটকে যুদ্ধে যেতে হলো স্পেন এবং অন্যত্র। সুন্দরীর কাছ থেকে বিছিন্ন হওয়ার পর মন খারাপ হলেও যুদ্ধে গিয়ে নাইটের সুনাম আরো বেড়ে গেল। রাতারাতি আরো বিখ্যাত হয়ে উঠলেন তিনি। যুদ্ধ শেষে তিনি বীর নায়কের মতো দেশে ফিরে এলেন।

ওদিকে নাইটের অনুপস্থিতিতে তার প্রেমিকা আর অপেক্ষা করে থাকতে পারলেন না। জীবনের নিঃসঙ্গতা কাটাবার জন্যে তিনি একদিন বিয়ে করে বসলেন এক বয়স্ক বুদ্ধিমান ভদ্রলোককে। রাজদরবারে দারুণ খাতির তার। ভদ্রলোক মহা খুশি। কিন্তু বাড়িতে ফিরলে তার সেই খুশির আমেজটা নিমেষে কপূরের মতো উবে যায় যেন।তার স্ত্রী সেক্স ছাড়া আর কিছু বোঝে না। কিন্তু সে জানেনা, সেক্স ছাড়াও দাম্পত্য জীবন অন্য কিছু দিয়েও পরিপূর্ণ করে তোলা যায়। স্ত্রীর সঙ্গে কিছুদিন ঘর করবার পরেই ভদ্রলোক যেন বুঝতে পারেন তার মতো জ্ঞানী-গুণী মানুষের যে ধরনের বউ পাওয়া উচিত ছিল তা তিনি পাননি।

নাইট দেশে ফিরেই তার প্রেমিকার বিয়ের খবর শুনে প্রথমে একটু মুষড়ে পড়লেও একটুও দমলেন না, কিংবা একেবারে হাল ছেড়ে দিয়ে বসলেননা।একদিন তার প্রেমিকার সঙ্গে, বর্তমানে ভদ্রলোকের স্ত্রী, দেখা করতে গেলেন তার স্বামীর বাড়িতে। ভদ্রলোক দারুণ আলাপী এবং অমায়িক।নাইটকে তিনি খুব খাতির করে আপ্যায়ন করলেন। সোজা তার শয়নকক্ষে নিয়ে গিয়ে বসালেন তাকে সম্মানিত অতিথির মতো। পরে নৈশভোজের পর দামী মদ খাওয়ালেন। নাইট দারুণ তৃপ্ত। তবু যেন কিসের অভাব! তা তার সেই অভাবটা পূরণ করতে এগিয়ে এলেন ভদ্রলোকের স্ত্রী, নাইটের প্রাক্তন প্রেমিকা। ভদ্রমহিলা নাইটকে আদর আপ্যায়ন করতে চাইলেন ঠিক আগের মতো। একটুও বদলাননি তিনি।

ভদ্রমহিলার মনের ভাবটা টের পেয়ে আড়ালে তিনি তার প্রাক্তন প্রেমিকার কানে কানে ফিসফিস করে আগের মতো প্রেম নিবেদন করে বললেন, মানুষের ইচ্ছে থাকলে একটা না একটা উপায় ঠিক হয়ে যায়। তোমার স্বামী ঘুমিয়ে পড়লে তুমি আমার ঘরে চলে এসো।” | ‘অসম্ভব!’ভদ্রমহিলা দু পা পিছিয়ে গিয়ে হতাশার সুরে বলে উঠলেন, “ওঁর ঘুম ভীষণ হাল্কা। তাছাড়া মাঝে মাঝে আমার গায়ের ওপর হাত রেখে ঘুমোন। তাই আমার আশঙ্কা, ঘুমের মধ্যে আমাকে না পেলে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।” | “আচ্ছা, আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে?”নাইট জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার স্বামী কি শুধু তোমার গায়ে হাত দেন, না অন্য কিছুও করেন?”

“না, এ বয়সে অন্য আর কি করতে পারেন?” বলে ভদ্রমহিলা রহস্যময় হাসি হাসলেন।

নাইট বুঝলেন, ভদ্রমহিলার বয়স্ক স্বামী বয়সের ভারে তার যৌন ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন বোধহয়। ভালই হয়েছে, নাইট সঙ্গে সঙ্গে খুশি হলেন এই ভেবে যে, ভদ্রলোক তার প্রেমিকাকে বিয়ে করে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেও তার প্রেমিকার দেহ খুন করতে পারে নি। আর তার প্রেমিকাও তার অক্ষত সতীত্ব রক্ষা করে আসছে তার জন্যে। এইসব কথা ভেবেইট এবার তার প্রেমিকাকে বললেন, তাহলে তো ভালই হলো প্রিয়তমা। তুমি অন্য একটি মেয়েকে ওঁর পাশে শোয়াতে পারবেনা? তোমার বাড়ির পরিচারিকা কিংবা অন্য কোনো মেয়ে যে কিনা তোমার হয়ে প্রক্সি দিতে পারে।” | “উত্তম প্রস্তাব!” ভদ্রমহিলা আনন্দে নেচে উঠলেন। চটজলদি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তার ব্যক্তিগত তরুণী পরিচারিকাকে কাছে ডেকে বললেন, “তোমার জন্যে আমি তো অনেক কিছু করেছি। এবার তুমি আমার একটা উপকার করবে?”

“বেশ তে কি করতে হবে বলুন”, পরিচারিকা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে বলে উঠল, “আপনার কুম মতো কাজ করতে আমি এক পায়ে খাড়া।”

“তাহলে শোনো বাছা, ভদ্রমহিলা অতঃপর তার কাজের কথাটা চটপট সেরে নিতে চাইলেন”, ঐ যে নাইট ভদ্রলোককে দেখছ, “দূরে নাইটের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন তিনি, “আজ উনি আমাদের অতিথি হলেও ওঁর সঙ্গে আমার ভালবাসা দীর্ঘদিনের। ঘটনাচক্রে,বলতে পারো আমার অধৈর্যপনার দরুনই ওঁর সঙ্গে আমার বিয়েটা হতে পারে নি। তাই ওঁর সঙ্গে আমাকে কয়েকটা জরুরী কথা বলতে হবে, আর সেটা আমি গোপনে সারতে চাই, আজ রাতেই। সেজন্যে তোমাকে অনুরোধ করছি, আজ রাতে বিছানায় আমার জায়গায় তুমি শোবে। আমার স্বামী, মানে তোমার মনিব, রাতে ঘুমের ঘােরে মাঝে মাঝে আমার গায়ে একটু হাত রেখে থাকেন, তারপর আবার পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। হ্যা, উনি যখন তোমার গায়ে হাত রাখবেন, তুমি একটুও নড়বে না। কথাও বলবে না, স্রেফ চুপটি করে শুয়ে থাকবে। দেখো, এমন কোনো কাজ করবে না, মানে আমি কি বলতে চাইছি বুঝতে পারছ তো! আমার স্বামীর স্পর্শ সুখ পেয়ে উত্তেজনাবশে এমন কোনো কাজ করবে যাতে তিনি টের পেয়ে যান, আমি তার পাশে শুয়ে নেই, আমার বদলে তুমি”

পরিচারিকা জিভ কেটে বলে, “ছিঃ ছিঃ আমি কেন অমন খারাপ কাজ করতে যাব? তাহলে তো আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, আমার তরফ থেকে কোনো অন্যায় কাজ হবে না।” এই কথা বলে রাজী হয়ে গেল পরিচারিকা।

রাতে ভদ্রমহিলার স্বামী এবং প্রেমিক নাইট যুদ্ধবিগ্রহের গল্প শেষ করে আর এক দফা মদ্যপান সাঙ্গ করে এ ওর কামরার দিকে পা বাড়ালেন। | মনিব পত্নীর নির্দেশে অন্ধকারের মধ্যে ভদ্রলোকের শয়নকক্ষে পরিচারিকাটি লুকিয়ে বসেছিল। এক সময় সেই ভদ্রলোক রোজকার অভ্যাস মতো বিছানায় শুয়ে পড়লেন ঘরের আলো নিভিয়ে। পরিচারিকাটি প্রস্তুত হয়েই ছিল। ঘরের আলোটা নিভে যেতেই গুটি গুটি পায়ে বিছানায় উঠে ভদ্রলোকের পাশে শুয়ে পড়ল একটু পরেই। ভদ্রলোকের অভ্যাস ছিল বিছানায় শোয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়তেন। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। পরিচারিকাটি ভয়ে সিঁটকে রইল, তখন তার মনিব ঘুমের ঘঘারে তার গায়ে হাত রাখলেন, তাকে চিনতে পারলেই সমূহ বিপদ, কেলেঙ্কারির একশেষ একেবারে।

ওদিকে ভদ্রলোক ঘুমিয়ে পড়ামাত্র ভদ্রমহিলা তার স্বামীর ঘর থেকে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেলেন তার প্রেমিক নাইটের ঘরের উদ্দেশ্যে। একটু পরেই দেখা গেলো নাইটের পাশে ভদ্রমহিলা এবং স্বামীর পাশে পরিচারিকা শুয়ে আছে। ভদ্রলোক প্রায় সারাটা রাত ঘুমিয়ে কাটালেন। নাইট কিন্তু সারা রাত জেগে রইলেন, ভদ্রলোকের স্ত্রী মানে তার প্রেমিকার সঙ্গে স্ফুর্তি করে প্রায় সমস্ত রাতটাই কাটিয়ে দিলেন। কিন্তু

ভদ্রলোক অভ্যাস মতো নিজের স্ত্রী ভেবে ভোর রাতে হাত রাখলেন তরুণী পরিচারিকাটির গায়ে। আজ হঠাৎ তার হাতটা গিয়ে পড়ে পরিচারিকার বুকের ওপরে। চমকে উঠলেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে। তার ঘুম গেলো ভেঙে। অন্ধকার ঘর, কিছুই দেখা যায় না। তবে সেই অন্ধকারেই মেয়েটির বুকে হাত রেখেই তিনি বুঝতে পারলেন, মেয়েটির স্তন দুটি, সুউচ্চ চূড়ার মতন আর একটু যেন মাংসল। খানিক পরেই তার হাতের স্পর্শ পেয়ে স্তনের বৃন্তদ্বয় আরো বেশি শক্ত হয়ে উঠলো। কেমন যেন সন্দেহ হলো ভদ্রলোকের। তিনি তার সেই সন্দেহ নিরসন করার জন্যে মেয়েটি বুকের ওপর রাখা হাতটা ধীরে ধীরে নিচে,নাভীর অনেক নিচে নামিয়ে নিয়ে গেলেন, একেবারে মেয়েটির গোপন অঙ্গের প্রান্ত ভাগে তার চঞ্চল হাতটা এসে ঠেকলো এক সময়। মেয়েটির দুই উরুর সন্ধিস্থল অসম্ভব ফোলা-ফাপা, একটু বেশি মাংস যেন সেই জায়গাটায়। সেখানে হাত রেখে তিনি বুঝলেন, না, কোনো মতেই এ তার বৌ হতে পারে না।

সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রলোক ভাবলেন ওঁরা নিশ্চয়ই তার সঙ্গে চালাকি করেছে। মনে মনে তিনি ভাববেন, একটু ধৈর্য ধরে দেখা যাক, ওরা কি করে—

ওরা দুজনে এমন কি করতে পারে সেটা অনুমান করে নিয়ে চুপচাপ শুয়ে না থেকে তিনিও সুন্দর করে একটা চুমু দিলেন মেয়েটির সিক্ত ঠোটে। মেয়েটি প্রথমে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে থাকলেও ভদ্রলোকের ক্রমাগত চুমুর প্রত্যুত্তরে বুঝি বা সে-ও একবার তার মনিবের ঠোটে চুমু খেয়ে ফেলল। শুধু তাই নয়, দু’হাত দিয়ে সে তার মনিবের গলা জড়িয়ে ধরল আবেশে, উত্তেজনায়। তরুণী পরিচারিকার কাছ থেকে সাড়া পেয়ে এরপর ভদ্রলোক স্ত্রীর সঙ্গে ঠিক যা যা করতেন, মেয়েটির সঙ্গেও ঠিক তাই করতে শুরু করলেন এক এক করে। প্রথমেই মেয়েটিকে পোষাকমুক্ত করে নিজেও তিনি পোকমুক্ত হলেন। তারপর দুটি দেহ মিশে গিয়ে একাকার হয়ে গেল। ভূমিকম্পের মতো দুজনের দেহ থরথর করে কেঁপে উঠতে থাকল, সেই সঙ্গে বিছানাটাও!

সেই অবস্থায় চরম উত্তেজনাময় মুহূর্তে উপনীত হওয়ার আগে ভদ্রলোক চিৎকার করে বলে উঠলেন, “নাইট মশাই, আপনি কোথায় ? কি করছেন! আপনিও কি আমার মতো—”

ভদ্রলোকের গলার আওয়াজ শুনেই চমকে উঠলেন নাইট। সেই সঙ্গে ভদ্রমহিলাও আঁতকে উঠলেন। তারা ধরা পড়ে গেছেন স্বামীর কাছে। তাহলে এবার কি হবে? | সাড়া না পেয়ে ভদ্রলোক আবার জোরে হাঁক দিলেন, “কথা বলছেন না কেন নাইটমশাই?” নাইট এবার জবাব দিলেন, “কেন, কি হয়েছে?”

আমি আপনাদের একটা সুখবর দিতে চাই, এ ধরনের বিনিময়ে আমি খুব আগ্রহী, আমি খুব তৃপ্তি পাচ্ছি।”

“কিসের বিনিময়ে?” নাইট তো শুনে থ।

“কেন, এই সহজ কথাটা বুঝতে পারলেন না? এই যে বিনিময় করেছেন আজ রাতে! একটি প্রৌঢ়া, বিবর্ণ, অসতী,ব্যবহৃতা মহিলার বিনিময়ে যে টাটকা, তাজা, আমার কথার বাধ্য আর আমার মনের মতো মেয়েটিকে দিয়েছেন, তার জন্যে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সত্যি কথা বলতে কি জানেননাইটমশাই, বিয়ের পর এতো আনন্দ আমি কখনো পাইনি। এই অভূতপূর্ব আনন্দ পাইয়ে দেবার জন্যে আর একবার আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” | ওদিকে তরুণী পরিচারিকাটি হতবুদ্ধি হয়ে নিঃশব্দে পড়ে রইলো ভদ্রলোকের ভারী শরীরের নিচে। এটাই তার প্রথম এ ধরনের সুখ প্রাপ্তি। তাই স্বভাবতই ভদ্রলোকের থেকে একটু বেশি অভিভূতা সেও।

ভোর হয়ে আসছিল। নাইট তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে পড়ে কোনো রকমে গায়ে পোষাক চাপিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তারপর এক লাফে তার ঘোড়ার পিঠে উঠে বসে ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন নিমেষে। এমন কি ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলাকে ধন্যবাদ জানাতেও ভুলে গেলেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *