উনিশ শতক – বাঙালি মেয়ের যৌনতা – অর্ণব সাহা

›› পত্রিকার অংশ বিশেষ  ›› বই এর অংশ / সংক্ষেপিত  ›› ১৮+  

পৃষ্ঠা: ৩৮ – ৪৪

…অন্দরমহলের মেয়েদের যৌনসক্রিয়তা, মৈথুনে উদ্যোগী ভুমিকা এবং মেয়েদের সমকামী আচরণের বিবরণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় উনিশ শতকের কেচ্ছাপত্রিকা ‘সম্বাদ রসরাজ’ -এ (১৮৪৯)। অধিকাংশই নাম গোপন করে বা ছদ্মনামের আড়ালে কলকাতার বিভিন্ন অভিজাত পরিবারের মেয়েদের যৌন আচরণের রসালো বিবরণ। যেমন নির্জন দুপুরে বাড়িতে আসা ফিরিওয়ালাকে সিডিউস করছে এক গৃহবধু। ফিরিওয়ালার জবানিতেই শোনা যাক তার বৃত্তান্তঃ

ধনমনী আমাকে ডিকায়া বাড়ীর ভিতর লইয়া গেলেন। তিনি এখন যুবতী হইয়াছেন, দুটো মাই উঁচো হইয়া উঠিয়াছিল…আমরা ছোটলোক, বাঁ উরোতের কাপড় প্রায় তুলিয়াই রাখি। বসিতে কি প্রকারে কাপড় সরিয়া আমার সেইটি বাহির হইয়া পড়িয়াছে, তাহার গড়ন কিছু লম্বা কচি ওলের কোঁঢ়ার মত, ধনমনী তাহার পানেই চিহিয়া রহিয়াছেন আমি আগে ইহা জানিতে পারি নাই…যখন জানিতে পারিলাম ঐদিগে তাহার চোখ পড়িয়াছে তখন আমারো গা শিউরে উঠিল, সুতরাং মেয়েমানুষ দেখিয়া পুরুষের গা শিউরিলে যা হয় তাহাই হইল আমি আর তাহাকে কাপড় ঢাকা দিলাম না, তাহার উদ্গম হইতে লাগিল…তখন আমি লজ্জার মাথা খাইয়া বলিলাম ঠাকুরানি তুমি উহার পানে চাহিয়া রহিয়াছিলে বুকের কাপড় ফেলিয়া দিয়াছ, ওকি বুঝিতে পারে না, প্রস্তুত হইয়া উঠিয়াছে, তুমি বাঁচাও বাঁচে মারাও মরে…ধনী এই কথা শুনিয়া একটুকু হাসিয়া আমাকে ঘরের ভিতর লইয়া গেলেন এবং আমার কোমরে দুই পা তুলিয়া দিয়া তায়তায় লাগাইয়া কহিলেন দে, দে, দেরে, ফিরিওয়ালা দে…

অপর একটি সংখ্যায় “অল্প বয়সে পতিহীনা কোন কূলবালা অবলা” ‘রসরাজ’-সঁম্পাদককে চিঠি লিখে জানাচ্ছে নিজের দাদার সঙ্গে তার  শারীরিক সস্পর্ক গড়ে উঠেছে ৷ অন্য একটি সংখ্যায় “শিমুলিয়ার মধ্যস্থিত
কোন পাল মহাশয়ের পুত্র’ এবং তার বিধবা বড়ো ভগিনী’-র কামলীলার বিস্তাবিত বিবরণ ছাপা হয়েছে :

ভগিনী অমনি বক্ষের কাপড় খুলিযা কহিলেন ভাই, এই  দেখ, সমুদয় বক্ষেতেই বেদনা হইয়াছে… ইহা শুনিবামাত্র ভ্রাতা শীঘ্রগতি ভগিনীর বক্ষমূলে হস্তঁপ্রদানপূর্বক মহামন্ত্র পাঠ করত  ডলিয়া দিতে দিতে তৎস্থানের উচ্চমাংসও মলিয়া দিতে লাগিলেন  এবং ক্রমে ক্রমে ২হস্ত অধোগামী করিয়া তলপেট এবং নিতম্বের
বসন খুলিয়া হস্তঁ অধোগামী করিয়া বূলাইতে বূলাইতে অনঙ্গে মোহিত হইয়া জ্যেষ্ঠা ভগিনীকে আলিঙ্গন দিলেন, এমতকালীন ভগিনী আলুথালু বেশে শিহরিয়া কহিলেন., যাদূমণি, ও কি, শীঘ্র ছেড়ে দেও, কে দেখিরে, কে শুনিরে…এখনি গোল করিয়া তুলিবে…তখন ভ্রাতা কহিলেন যেখানে বিবর সেইস্থানেই ভুজঙ্গ, তুমি এই ত্রাস কর, কিছু ভয় নাই, একটু চুপ করিয়া থাক, আমি যে তূকতাক মন্ত্র জানি, কে কি করিতে পারে, সকলের মুখ বন্ধ করিয়া রাখিব…এই কথা বলিয়া ভগিনীকে এমন আরাম করিতে লাগিলেন, ভগিনী কেবল আঃ আঃ শব্দ করিতে বিলক্ষণ আরোগ্যা হইলেন….

আবার বাড়ির চার দেওয়ালের কড়াকড়ির বাইরে, তীর্থদর্শন গিয়ে কলকাতার বড়োবাড়ির মহিলারা নিজেদের মতো করে যৌনসুখ উপভোগ করছে, এমন বিবরণও পাওয়া যায় ৷ “বল্লভপুরের দ্বাদশ গোপাল” দর্শন করতে গিয়ে কলকাতার কুলবধুরা এক সমবেত যৌনাচারে মেতে ওঠেন-“তাহারা সেই স্থানে যাইয়া বারোয়ারী নারী হয়েন”। প্রত্যুক্ষদর্শীর বর্ণনায়ঃ

কলিকাতা নগরের যেসকল স্ত্রীলোকেরা দূগ্ধফেনবৎশয্যায় শয়ন করেন তহারাও সেই ঘরে মাদুরের উপর পড়িয়া গেলেন…যাহারদিগের বক্ষস্থলে গুটী উঠিয়াছে তাঁহারাও যেমন, যাহারদিগের বক্ষস্থলে পাশের বালিশ ঝুলিয়াছে তাঁহারাও সেইরূপ মুল কর্ম্মে সকল সমান…পুরুষেরা ঘরে ঘরে করেন তথাচ মেয়েদের কূটকুটোনী বারণ করিতে পারেন না, এদিকে বাড়ীতে কড়াকড়ি চৌকী, ওদিকে মেয়েরা বাহিরে যাইয়া দুই
চক্ষের ব্রত করে আমি তাহারদিগকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম তোমরা দ্বাদশ গোপাল দেখিতে আসিয়া এই প্রকার লম্বা গোপাল ঢুকাইঁতেছে ইহাতে কি তোমাদের কর্ত্তারা ক্রোধ করিবে না, স্ত্রীলোকেরা কহিলেন আমরা ভঁয় করি না, সকল ঘরেতেই এ
কান্ড আছে কোন্ বেটা কি বলিৰে, আমাদিগের মান্য লোকেরাই সম্পর্ক বাছেন না. ..এক়জন প্রকাশ্য বৌও হইয়াছে আপনে শুনিয়াছেন, পরম ধার্ম্মিকবতার আর একজন শাশুড়ীর সঙ্গে ছিলেন…তবে আমরা কেন ছাড়িব…

‘সম্বাদ রসরাজ’ পত্রিকার সবচেয়ে সেনসেশনাল রিপোর্টাজ ছিল কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে কেচ্ছা। কারণ এই পত্রিকাগোষ্ঠীর লোকজন ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিপক্ষ গোষ্ঠীর ৷ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বন্ধুবান্ধব সমভিব্যহারে পায়ুকামে লিপ্ত এই অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী বন্দুবাসিনী, বন্ধু ক্ষেত্রমোহনেব স্ত্রী মণিমঞ্জরী সহ পরিবারের অন্দ্ৰরমহলের মেয়েদের যৌনতার বিস্তত ছবি এঁকেছেন ৷ একটি সংখ্যায় বিন্দুবাসিনীর নিজের জবানিতে জানানো হয়েছে দেওরের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কের কথা ৷ অপর একটি সংখ্যায় পাই মেয়েদের সমকামিতার
উম্মূক্ত বর্ণনা ৷ এখানে বিন্দুবাসিনী প্যাসিভ, সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে ক্ষেত্রমোহনের স্ত্রী মণিমঞ্জরী ও তার শাশুড়ি ৷ বর্ণনায় স্ত্রীসমকাম বোঝাতে চলতি স্ল্যাং হিসাবে ‘চাক্তিমৈথুন’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছেঃ

ক্ষেত্রের স্ত্রী মণিমঞ্জরী আসিয়া কহিল ও সৈ ৰিন্দু ওরা যদি পুরুষে  পুরুষে করিতে করাইতে পারে তবে কি আমরা মেয়েরা মেয়েরা পারিনা, চল আমরা চাক্তিমৈথুন করি…বিন্দুবাসিনী যদিও দেবরগামিনী বা বহুপুরুষ বিলাসিনী হইয়াছে তথাপি চাক্তিমৈথুন জানে নাই, সে কহিল সখি মণিমুঞ্জরি, চাক্তিমৈথুন কেমন, তাহাতে কি মেয়েদের হয়, যুবতী  বিন্দুবাসিনীর এই কথার আভাস পাইয়া ঘাগি কুটনী ধুমসী মাগি ক্ষেত্রের  মাতা পুত্রবধূ মণিমঞ্জরিকে পশ্চাত্তে রাখিয়া অগ্রে আসিয়া বিন্দুর মুখচুম্বন  করিয়া কহিল, প্রাণ বিধুমুখি, চাক্তিমৈখুন জান না, এইখানে শোও, আগে শিখাই, এই কথা বলিয়া মার্গী ৰিন্দুকে কর্ম্মের মত ধরিয়া বসিল, মণিমঞ্জরী বলে শাশুড়ী কর কি, আমি আগে করিব, মূক্তামনী, বিশ্বেশ্বরী, তাঁরিনী. প্রভৃতি সখীরাও যো পাইয়া উম্মত্তা হইয়া উঠিল…

… নারায়ণ চট্টরাজ-এর লেখা ‘কলিকৌতুক’ নাটক থেকে ৷ সহজিয়া বৈষ্ণবদের আখাড়ায় জনৈক আনকোরা তরুণ সন্ন্যাসীকে যৌনমিলনে প্রলুব্ধ করছেন এক অভিজ্ঞা বৈষ্ণবী ৷ তরুণ বৈষ্ণব সখীচরণের জবানিতেই শোনা যাক সেই ঘটনা :

একবার ওনাতে আমাতে উত্তরপ্রদেশ যেতে যেতে একদিন শিষ্যি বাড়িতে পৌঁছতে না পেরে পথের মাঝে এক মুদিখানায় থাকলাম, রাত্রিতে উনিও যে ঘরে আমিও সেই ঘরে  শুলাম ৷  (অতঃপর) মা গোঁসাই আমাকে বোল্লেন বাছা সখীচঁব়ণ ৷ আমার চরণ দুটো আজ বড় দরজ কোচ্চে, তুই নাকি একটু তেল টেল দিতে পারিস? আমি বল্লাম পারব না কেন মা গোঁসাই ৷ আচ্ছা দিচ্ছি ৷ এই বোলে আমি তেলের বাঁশ থেকে তেল বের কোরে ওনার চরণতলে বোসে তেল দিতে লাগলাম ৷ উনি বোল্লেন একটু ভাল করে টিপে টেপে ওপর তাকাৎ দিয়ে দে, আমি যেন চঁরণতলে বোসেই হাটু তাকাৎ টিপতে টিপতে লাগলাম, উনি বোল্লেন ও ভাল হচ্ছে না, একটু সরে এসে  ভাল কোরে দে, আমি আর একটু সোরে নে হাঁটুর একটু ওপর তাকাৎ যেন তেল দিতে আরম্ভ কোরলাম ৷ উনি বোল্লেন আ মর বেটা! ও যে হোলো না, তুই আর একটু সরে আয় না, আমি তোর দাবনার উপর পা দেই, তুই ভাল কোরো দাবনার ওপর তাকাৎ টিপেটেপে দে, কি কোবরো আবার আমি তাই  কোরতে লাগলাম, তখন উনি বোল্লেন সখীচরণ তুই বৃন্দাবন  দেখেছিস? তাতেই আমি বোল্লাম কোই না! মা গোঁসাই বোল্লেন একটু ওপর পানে হাত দে দেখ না, ঐখানে গুপ্তবৃন্দাবন আছে ৷ বাবাজি ৷ আমি তখন এতো তো বড় জানিনে শুনিনে ৷ আমাকে বোল্লেন আমি তাই কোরলাম, উনি বোল্লেন দেখলি, আমি  বোল্লাম দেখলাম মা গোঁসই দেখলাম ৷ তাতেই আবার. উনি বোল্লেন দেখলি তো পরিক্রমা কর ৷ আমি বোল্লাম মা গোঁসাই পরিক্রমা কেমন কোরে করে তাতো আমি জানি না, উনি বোল্লেন রোক্ তবে আমি দেখাই, এই বলে উঠে, বলেন সনাতন কোই। তা নৈলে কি পরিক্রমা হয় ? আমি বলি তা তো জানি না, উনি বোল্লোন থাক আমি জানাচ্ছি এই বলে আমার সনাতনের সঙ্গে বৃন্দাবনের পরিক্রমা কোরতে লাগলেন…

বলাই বাহুল্য ‘সনাতন এখানে ‘পুরুষাঁঙ্গ’ এবং ‘গুপ্তবৃন্দাবন” এখানে  স্ত্রী-যোনির সাংকেতিক নাম ৷ ……….

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *