প্রজাপতি – সমরেশ বসু

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  ›› ১৮+  

১.

……….ওর গোলাপী আঁচল খসা দেখে। চুলের আলগা খোঁপা খুলে পড়েছে। আর ডোরা কাটা কাটা ব্লাউজটা তো দারুণ—ভাবলেই নিজের হাতটা চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।

খেতে হবে না। দু’ হাত পাইপ প্যাণ্টুলের পকেটেই পুরে দিই। কিন্তু, সত্যি, ওর ব্লাউজের নীল, লাল, হলদে রঙের ডোরাগুলো কাঁধের কাছ থেকে নামতে নামতে এমন ঠেলে উঠেছে, অদ্ভুত! আর কেমন, উঠেছে যেন ঢেউ দিয়ে, নেমেছে গোল হয়ে। বুকের দু’ দিকের কোন দিকেই কাপড় নেই। বোতাম পাটিতে বোতাম নেই, ঠিক উচ্চিংড়ের মত দুটো সেপটিপিন লাগানো। যেন চেয়ে আছে। গোটা আঁচলটা বাঁ হাতের ওপরে। ব্লাউজের নিচে ও আর কিছু পরেনি। পরলে ঠিক বোঝা যেত। আর ওগুলো পরলেই আসল জিনিস সব এমন ঠাস বুনোট খোঁচা পাথরের মতন লাগে—বিচ্ছিরি!………..

……….মেমসাবেরা শেদে যাওয়া চুলে কালো রঙ মেখে, বুক থেকে কপাল অবধি রঙ পালিশ দিয়ে, কাতলা মাছের পেটিওয়ালা বুক, নিজের মেয়েটির মত বানিয়ে, খাই-খাই করে বেড়াচ্ছে। ‘হ্যালো সুখেন’ ‘ও সুখেন’—যেন সুখেন ছাড়া প্রাণ বাঁচে না। ……….

….একবার মহাভারতে না কিসে পড়েছিলাম, অশ্বমেধের ঘোড়া যখন ফিরে আসে, অর্থাৎ জিতে ফিরে আসে, তখন বলি দেওয়া হয়। তার তারপরে, রাজার যে আসল রানী, পাটরানী, তাকে তার সঙ্গে ওই সব করতে হয়। সেই বইটার ছবির মত। সত্যি ওরকম করত নাকি, কে জানে। নাকি খালি গুলবাজাকি। কিন্তু রামায়ণ মহাভারতে কি মথ্যা কথা লেখে।………

২.

………শিখার পিছনটাও দারুণ, না? একটু একটু লম্বা ঘাড় আর কাঁধটার ঠিক মাঝখানে, স্লাইট উঁচু লাগছে। যেন ওখান থেকেই পিঠটা নেমেছে একদিকে। আর মাথাটা নিচু বলে, মনে হচ্ছে, ঘাড়টা নেমে গেছে আর-একদিকে। আর খুলিটার নিচে, ঘাড়ের ওপর কুচো কুচো চুলগুলো, দেখলেই মনে হয় ওখানটা খেয়ে দিই। জামাটাও এমন, পিঠের অনেকখানি দেখা যায়। দেখেই মনে হয়, পিঠটা খুব মিহিন একটু রোঁয়া রোঁয়া ভাবের। জামার নিচেটা আলগা হয়ে রয়েছে। হাত দিলেই ঢুকে যাবে। এখন ওর জামার ডোরাগুলোকে মনে হচ্ছে যেন শিকের গরাদের মত। তার নিচে, আবার সেই পিঠ, শিরদাঁড়াটা একটু একটু ফুটে আছে। সকালবেলা তো এখন, চানটান করেনি। শায়াটা আলগা আলগা, গোলাপী রঙের মোটা শাড়িটা কোনরকমে গোঁজা। তার জন্যেই কোমরের খানিকটা দেখা যাচ্ছে। শিরদাঁড়ার হাড়টা সেখানেই একটু দেখা যাচ্ছে। তারপরেই পিঠটাকে চিরে, ঠিক যেন একটা সরু নালি। ওর নিশ্চয় খেয়াল নেই, শায়াটা অত ঢ়িলে হয়ে গেছে। পিঠের যেখানে শেষ, আর কোমরের যেখানটায় সুরু, সেই সরু জায়গাটা ছাড়িয়ে, নিচের চওড়া দিকে বেশ খানিকটা দেখা যাচ্ছে। আর একটু নিচেটাই কেমন, আমি জানি। স্‌সাহ্‌ আমার হাত দুটো যেন কেঁই কেঁই করে ওঠে হ্যাঙলা কুকুরের মত।………….

……………..চ্যাটার্জি কী কাণ্ডটাই না করছিল। ওদিকে তো সালোয়ার কামিজের বুক পাছা ফেটে যাবার যোগাড়, কিন্তু খুকীটির কাকু কাকু বলে আদর কাড়বার কী ঘটা! এই বুক চেপে চেপে জড়িয়ে ধরে, নয় তো উরত চেপে কাকুকেই কাইচি মেরে হুড়োহুড়ি করে ফেলে দিতে চায়। কী? না, খুঁকি কাকুর সঙ্গে একটু হুড়যুদ্ধ করছে। আর কাকুটিও তেমনি। যা তুলে নেবার, তা তুলে নিচ্ছে। কখনো গাল টিপে দেয়, ঠোঁটে একটু টোকা মেরে দেয়, ঘাড়ে হাত দিয়ে ঝাঁকানি দিয়ে দেয়। কিন্তু একটু দূরে দূরে, একেবারে দঙ্গলের মাঝখানে না। উ-ই বিচুলির টিবিটার কাছে, পুকুরটার আমবাগানের ছায়ায়, ঝোপঝাড়ের আশেপাশে।……….

…….মিত্তিরের মেয়ে, নামটা ছিল জিনা—উহ্ রে স্‌সা—কী নাম, একেবারে রণরণানো। আমি ওর হাতটা ধরে ফেললাম, ‘পড়ে যাবে, আমার হাত ধর।

হাত না একেবারে ডানাটা চেপে ধরলো। ব্যস, কাকুর পাওয়ানা সুরু হয়ে গেল, আমিও তখন চ্যাটার্জি কাকু। কনুইটা ওর শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে ছুটলাম। ……..

……আরে, আমার তখন গাছের মটরে নজর ছিল নাকি। আমার যা পাবার ঠিকই পাচ্ছিলাম। আর কচি কচি মটর দানা ওর মুখে পুরে দিচ্ছিলাম। দিতে গিয়ে দু-একবার আদর করে গালটা টিপেও দিচ্ছিলাম। আর ও, সেই যে এক বুলি শিখেছে, খালি লাভলি লাভলি বলে, আমার পিঠের ওপর ধামসাচ্ছিল। দে দোল দোল, ধামসা। খুব ধামসা। এদিকে ধামসানি, ওদিকে কচি মটরের রসে মুখ ভরপুর। তখন হাতটা দু-একবার বেমক্কা এদিক ওদিক করলাম। ব্যস, বুঝে নিলাম, পুরোপুরি চ্যাটার্জি কাকু হয়ে গেছি। ……

…..জিনা বেশ মজাই পেল তাতে। উরে স্‌সাহ্‌, এক চোখ বুজে, চোখ মারল আমাকে। আমি তো ওর হাত ধরেছিলাম। তখন হাত দিয়ে, প্রায় বগলদাবা করে নিলাম। মাইরি, আমার যেন মনে হল, আদুরে খুকিটি শিখার থেকে বড় বড়। অথচ, জিনার বয়স তো না কি চৌদ্দ। চৌদ্দ! কিড়! কাকুরা তো তাই বলে, কিডি’। আর শিখা তো একুশ না বাইশ। শিখাকে সবাই যত বাড়াতে পারেনি, খুকিটিকে দেখছি, চ্যাটার্জি তার থেকে অনেক বেশী বাড়ন্ত গড়ন করে তুলেছে।

স্‌সাল্লা! হলুদ রঙের সরষে খেতটা পেরিয়ে, ওকে প্রায় শূন্যেই তুলে নিলাম। ও খিল খিল করে হাসলো। হাত দিয়ে আমার ঘাড়টা আঁকড়ে ধরলো। কসম! মনে হলো, সত্যি সরষে ফুল দেখছি।

না না, সরষে ফুল কী। আমার ঠিক মনে হল, আমি ক্ষ্যাপা ষাঁড় হয়ে গেছি। লাল রঙ দেখা ষাঁড়। কিছুটা দূরেই আখের খেত দেখে রেখেছিলাম। ওকে নিয়ে সেখানে গেলাম। আড়ালে গিয়ে খেতের ধারে দূবঘিাসওয়ালা একটা ছোট জায়গায় ওকে নামালাম। সেখান থেকে কেউ আমাদের দেখতে পাচ্ছে না। পেছনে, ডাইনে, বাঁয়ে দেখে নিলাম। খাসা! দরজা বন্ধ করা ঘরেও এত নিরিবিলি আর ফাঁকা মনে হয় না। বাঁ দিকে ঘন বাঁশবন। ডান দিকে আর পেছনে, খালি ধান কাটা মাঠ, অড়হর মটর সর্ষে আখের খেত। একটা মানুষ কোথাও নেই, মাথার ওপরে তো খালি আকাশ। সামনে লম্বা আখের খেত। দুবাঘাসের ওপর প্রজাপতিটা আমার বুকের কাছে।

জিনা তখনো হাসছিল ঘাসের ওপর পড়ে। আমিও ওর পাশে, ঠ্যাঙ ছড়িয়ে দিয়ে, একটা হাত ওর কোমরের ওপর রেখে খুব হাসছিলাম। ওকে হাসি বলে নাকি। মাতলামি বলে, সত্যি, কয়েক পাত্র চড়ালে যে রকম হয়, ঠিক সেইরকম মনে হচ্ছিল। মাথায় কিসসু ছিল না, প্রজাপতিটার শরীর ছাড়া। ওকেই বোধহয় নেশা চড়ে যাওয়া বলে। হাসতে হাসতেই, আমি ওর দুই বিনুনি দুদিকে ছড়ানো, ঘাড়ের মাঝখানটায় হাত দিয়েছিলাম। আঙুল দিয়ে ওখানে একটু বিলি কাটতেই, ‘উহ্’ বলে একেবারে চিত হয়ে পড়েছিল। বলেছিল, সুড়সুড়ি দিও না সুখেনদা।’

সুড়সুড়ি লাগবেই তো। কিন্তু ও চিত হয়ে পড়তেই আমি একটা হাত ওর বুকের নিচে,পেটের ওপর রেখেছিলাম। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে যে উড়নিটা থাকে, সেটা রেখেই এসেছিল। কামিজটা ছিল বোধহয় কটস-উলের। বেগনি রঙ, তাতে আবার ফুল ফুল ছাপ। কিন্তু ফেটে যাবার যোগাড় যে! মিসেস মিত্তির, আমার মিত্তির বউদিরও যে এত না। বলেছিলাম, সুড়সুড়ি দিই নি তো ‘ বলেই হাতটা বুকের ওপর তুলে দিয়েছিলাম। তারপরে যেন খুবই মজা করছি, এমনিভাবে আমার মুখটা চেপে দিয়েছিলাম ওর কাঁধের কাছে। আমনি কোমরটাকে ঢেউ দিয়ে তুলে, হিসহিস করে হেসে উঠেছিল। ঘাসের ওপর পা দাপিয়ে, ঘাড় গলা কুঁকড়ে বলেছিল, “উহ্ম, সুখেনদা, কাতুকুতু লাগছে। আমার নেশা তখন চরমে। বলেছিলাম, মুখে কী মেখেছ বল তো, ব্রিলিয়ান্ট গন্ধ ” বলেই ঠোঁট দুটো ওর গালে চেপে দিয়েছিলাম। প্রজাপতিটা হাসতে হাসতে কাত হয়ে পড়েছিল। পড়লে কী হবে, দাঁতাল কখনো ওসব মানে! আমার যেখানকার হাত সেখানেই ছিল। আমার হাত তো না, চ্যাটার্জি কাকুর হাত। তার হাতে যেমন স্নেহ, স্নেহ না, স্তেহ বল, আমার হাতেও তখন সেইরকম। বড্ড স্তেহ, বাঘের যেমন মাংসে। বী হাতটা ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম ওর ঘাড়ের নিচে দিয়ে। গালে ঘষতে ঘষতে, ওর ঠোঁটের ওপর ঠোঁট চেপেছিলাম। যেমন ছেলেমানুষকে আদর করতে হয়। ছেলেমানুস তো।

তবে জিনা কিন্তু বড় মেয়েদের মত করেনি। এরকম অবস্থায় শিখারা হলে যা করতো। এমনভাবে তাকাতো আর এমন দু-চারটে কথা বলতো, ব্যস, তুমি কত। তাতে যেন আরো নেশা, আরো চড়া। সেখানে ধমকই ঠমক। জিনা কিন্তু হাত পা ছোঁড়াছড়িই বেশী করছিল। হাসছিল, আবার উহ্ আহ্ করছিল। কাত হয়ে, উপুড় হয়ে,চিত হয়ে, মাদী বিড়ালের মত ওলট-পালট খাচ্ছিল।

খাক না, আমার কাজ আমি করে যাচ্ছিলাম। অন গড় বলছি, তখন যদি কোন লোক এসেও পড়তো-না, আমি মানতাম না। ………

………আমিও মানিনি, মানতামও না। চ্যাটার্জি কাকুর কাজ আমার হাত করে যাচ্ছিল, প্রজাপতিটা তেমনি ওলট-পালট ছটফট করে যাচ্ছিল, আর হাসতে হাসতেই উহ্ আহ্ করছিল। আমার তখন সালোয়ার কামিজের ওপর এমন রাগ হচ্ছিল, প্রায় ঘেন্নাই বলতে হয়। শায়া শাড়ি তার চেয়ে অনেক ভাল, কোন ঝামেলা নেই। আমার আর তখন হাসি ছিল না। হয়তো শিখা থাকলে বলতো, সুখেনদা, তোমাকে খুনীর মত দেখাচ্ছে। আমার চোখের সামনে সেই ছেলেবেলার দেখা আমেরিকান আর বেশ্যাটার চেহারা ভাসছিল। আমি সালোয়ারের ফিতেটা খুঁজে টানাটানি করছিলাম। জিনা এঁকেবেঁকে গড়িয়ে তখন প্রায় আখ খেতের মাটিতে গিয়ে পড়েছে, সুখেনদা, প্লীজ, হি হি হি, প্লী—জ, ভীষণ কাতুকুতু—হি হি হি—উহ্ উহ্?

কিন্তু সালোয়ারের দড়িটা খুঁজে পাইনি। শেষটায় প্রায় জিনা চীৎকার করেই উঠেছিল, ব্যথা লাগলে বা হঠাৎ চোট লেগে গেলে যেরকম কেঁদে চেঁচিয়ে ওঠে, সেই রকম শব্দ বেরিয়েছিল ওর গলা দিয়ে, আর আচমকা এমন গুটিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল যে, আমি থমকে গিয়েছিলাম।…………
……কী বিচ্ছিরি হয়েছিল মেয়েটার গোটা চেহারা, মুখটা মনে হয়েছিল, একটা বয়স্ক মেয়েছেলের মুখ, খুকীর ভাঁজও ছিল না। তার ওপরে বুকটার চেহারা এমন বদলে গিয়েছিল, দু’টো মালসার মত ছড়িয়ে গিয়েছিল। ………..
……আসলে ওই চ্যটার্জি শুয়োরটার ওপর হিংসায় আর রাগেই বোধহয় ওরকম করেছিলাম, তবে জিনাকেও কি ভাল বলা যাবে! কাকুর আদর খেয়ে খেয়ে তো বারোটা বাজিয়ে বসে আছে। যাক গে, তখন আর সুড়সুড়ি কাতুকুতু হাত-পা ছোঁড়াছুঁড়ি কিছুই ছিল না। কিন্তু মেহেও অরুচি, মেজাজ একদম খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ওসব চ্যাটার্জি কাকুরই পোষায়, চল্লিশ পঞ্চাশের খোকা কার্তিকের, মাংসের তাল নিয়ে খানিকটা রগড়ারগড়ি। ওদের দম আর কত হবে!……….

৩.

………..শিখার মুখটা প্রায় দেওয়ালের কাছে কি না। আমার মুখ বাড়িয়ে এতটা দেখবার উপায় নেই। কিন্তু যা দেখলাম না, তাতেই মেজাজটা একদম বেকায়দা হয়ে গেল। যা ভেবেছিলাম, ঠিক তা-ই, শিখা ব্লাউজের ভিতরে কিছু পরেনি। আর সামনের দিকে ঝুঁকে আছে বলে, ডোরা-কাটা-কাটা শিকের গরাদ জামাটা বেশ খানিকটা ফাঁক হয়ে পড়েছে। আর তার ভিতর দিয়ে, উহ্রে বাবা, হাতে একেবারে বিদ্যুৎ খেলে গেল। বলেছিলাম, সকালবেলার শিশির শুকিয়ে যাবার পরেই, নধর কপিপাতার মতন—ঠিক সেইরকম দেখাচ্ছে। তাতে আবার যেমন, কেমন একটা পাউডার লাগানো ভাব থাকে না, ঠিক যেন সেইবকম, একটা বেশ চোখ-জুড়ানো শ্যামলা শ্যামলা চিকচিকনো রঙ। মাঝখানের ফাঁক, আর দু’ পাশে গোল হয়ে ওঠা ওটা—ওটাকে সত্যি আমার মাংসপিণ্ড বলতে ইচ্ছে করে না। মাংস ভাবলেই যেন এ জিনিস সে জিনিস থাকে না, সত্যি। মাংস বলে আমার মনেই হয় না, যেন অন্য কিছু, আর কিছু। ওই যে বইয়ে লেখে না, স্তন—আরো যেন কী সব বলে না—কী—-কী যেন—গুলি মারো, শিখার ওই বুক দুটোকে আমার স্তন বলতে ইচ্ছা করে। হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়ছে, পীনপয়োধরা—নাহ, হাতটাকে এবার কামড়ে দেব, নয়তো ক্যাত করে একটা লাথি মারব।

আচ্ছা, ওরকম গোল হয়ে বেড়ে উঠেছে বলেই, ওখানকার চামডাটা কি ওরকম দেখায়, যেন খুব ছোট ছোট বিন্দু বুকে ছড়ানো। যেমন হয় না, গায়ে অনেক সময় কাঁটা দিয়ে উঠলে, গায়ে কী রকম কুঁড়ি কুঁড়ি ফুটে ওঠে, সেই রকম দেখাচ্ছে। আর ওখানটা—বুকের মাঝখানটা আর গোল বুক দুটো হাতমুখের রঙ থেকে বেশী ফরসা। এমন কি বাঁ দিকের জামায় এতটা ঢল খেয়েছে, বা দিকের সবটুকু প্রায় পুরোই দেখা যাচ্ছে। যেখানটা ইঞ্চিখানেক জায়গা যেন গোল করে খয়েরি রঙ লাগানো, ওখানটা যে কেমন, সবই আমার জানা। ওর গাটা তো আমার চেনা, সবরকম স্বাদই নেওয়া আছে, তবু একটা ভিখিরির মত হ্যাঙলাপনা, কিছুতেই আমার যেতে চায় না। কেন, আমি তাই ভাবি। ব্যাপারটা তো সেই একই। যতবারই কিছু করতে যাব, ঘুরে ফিরে সেই একরকমই লাগবে। অথচ মনে হয়, প্রত্যেকবারই যেন নতুন লাগবে। এই যেমন, এসব ভাবতেই মনে হচ্ছে, মনে হচ্ছে থাকতে পারছি না, ফুরিয়ে যাচ্ছে, এখনি হাতটা বাড়িয়ে দিই।……………..

৫.

……..আর আমি ওর জামার মধ্যে একটা হাত টুকিয়ে দিলাম! ও আমার সেই হাতটা টেনে তুলতে চাইল কিন্তু এত শক্তি ওর নেই, তা ছাড়া এমনভাবে ধরেছি, বেশী টানাটানি করলে ওরই লাগবে—কাদা ডলে ঠেসে ছেড়ে দেব। কোথায় সুখ, স্‌সাহ্‌ কে জানে, সুখের আমি কিছু জানি না, বুঝি না, ………..

………কথা বলতে বলতে হাতকে আমি থামিয়ে রাখিনি, কিন্তু আমার কথা শেষ হবার আগেই, শিখা আবার একটা ঝটকা দিল, জোরে শব্দ করে কিছু বলতে গেল আর শব্দটা বেরুনো মাত্রই আমি ওর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দিলাম—দুটো ঠোঁট, কী তার স্বাদ কিছুই জানি না………….

৬.

…..সেইসব কথা আমার মনে হয়েছিল, ওর বুকের মধ্যে আমার মুখটা ডুবিয়ে দিই। মনে হতেই আমি ওব দিকে তাকিয়েছিলাম, ওর বুকের দিকে। একটা বাসন্তী রঙের জামা, মোস্ট অর্ডিনারি, তাতে আমার জামার হাতায় ফুল আঁকা, আর একটা লাল লাল ভাবের—ঠিক লাল, না, টকটকে লাল না, লাল ভাবের শাড়ি পরে এসেছিল। আমি ওর ডানা দুটোর দিকে, নতুন চিকচিকে লতার মতন রঙের ডানা, গলা কাঁধের দিকে তাকিয়েছিলাম, আর বুকের দিকে তাকিয়ে, মনটা কী রকম করে উঠেছিল—যা তার আগে কোনদিন মনে হয়নি। তার আগে তো অনেক মেয়ের সঙ্গেই মিশেছি, হাত মুখ দিয়েছি, কিন্তু ওর সামনে সেগুলো মনে করতে গিয়ে কেমন যেন একটা বিঘনি বিঘনি ভাবই লেগেছিল, এমন কি বিচ্ছিরি গন্ধের কথা পর্যন্ত মনে পড়ে গিয়েছিল, সেগুলো যেন সত্যি মাংসপিণ্ডই।……..

৮.

……….আমি মঞ্জরীর দিকে তাকালাম। সাবান আর তেল মেশানো চকচকে শাড়িটার মধ্যে শুধুমাত্র ব্রেসিয়ার। কোলের কাছে ওকে টেনে নিলাম—এরকম অনেকবারই নিয়েছি, শিবেও জানে, আর মঞ্জরী তো জানেই। আমি শিখাকে কখনো কিছুই দিইনি, কিন্তু ওকে প্রায়ই দিই, যা পারি জিনিসপত্র, কাপড়চোপড়, টাকা-পয়সা, যখন যা পারি, কিন্তু শিখাকে কোনদিন দিইনি। শিখা চায়নি আমিও দিইনি—ওকে কিছু দেবার কথা মনে হলেই আমার ঘাড়টা যেন কেমন বেঁকে যায়, ‘না, থাক’ এইরকম মনে হয়। মঞ্জরীকে দিই, ও চায়, ওকে আমি দিই, অনেকেই দেয়, শিখাকেও হয়তো অনেকে দেয,আমি দিই না। মঞ্জরীকে আমি দিই, ও আমাকে দেয়, অথচ শিখাকে আমি দিই না, শিখা আমাকে দেয়, সেইজন্যে আমি ওদের মেলাতে পারি না, আমি কখনো মঞ্জরীকে মারতে পারি না, থাপ্পড় বা ওইরকম কিছু, কিন্তু শিখাকে মেরেওছি। মঞ্জরীকে আমার শুধু ডলতে পিষতে কাতুকুতু দিতে ইচ্ছা করে, শুতে ইচ্ছা করে, এখনো তাই করতে লাগলাম : ওর গা-টা ঠাণ্ডা, ভেজা ভেজা, জলে ভেজানো বলের মতন। ও এখন চান করে এসেছে, তাই বললো, এইমাত্র চান করে উঠেছি। তা হোক, ওকে আমি আটকে রাখব না, এখুনি ছেড়ে দেব,–কিন্তু এই মেয়েটার এই এক বিচ্ছিরি, মুখে কী রকম উনুনের ছাই ছাই গন্ধ। তা হোক গে, ওকে কাঁথার ওপরে টানলাম। ও কী বুঝলো, বললো, ‘দাঁড়ান, দরজাটা দিয়ে আসি।…..

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *