শঙ্খিনী – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  

…..সপসপ শব্দ তুলে রাত্রি ড্রয়িংরুম থেকে ডাইনিং হল, ডাইনিং হল থেকে গেস্টরুম, গেস্টরুম থেকে বেডরুম ঘুরে ফিরে আসছে ডাইনিং হলে। তারপর আবার ঢুকে পড়ছে গেস্টরুমে, গেস্টরুম থেকে বেডরুমে আবার—যেন এইবার তার শরীর পথ পেয়েছে আর সে উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে এ-ঘর থেকে ও-ঘর। ও-ঘর থেকে এ-ঘর। এভাবেই যেতে গিয়ে রাত্রি একবার ঘষে যাচ্ছে রুণুর শরীরের সঙ্গে। যেভাবে দেশলাই ঘষে যায় বারুদের প্রলেপে, সেভাবে ঘষে যাচ্ছে এবং জ্বলে উঠছে যেন। যেন শাপমুক্ত হচ্ছে।
রুনুর আত্মাপুরুষও জেগে উঠেছে সেই ধাক্কায়। সে সঙ্গে সঙ্গে টেনে নিয়ে জাপটে ধরছে রাত্রিকে। কটিদেশ ধরছে মুঠোয়। আঁচল টেনে নামাচ্ছে-টোচ্ছে আঁচল মাটিতে। রুণু নিজের মুখ ভরে দিচ্ছে রাত্রির মুখে, চুম্বনরত অবস্থায় সে স্তনে হাত | রাথছে। থাবায় ধরছে স্তন। রাত্রি ছটফট করছে—দু’ বাহুর বেড় দিয়ে রুর গলা জড়িয়ে ধরে খিমচে ধরছে চুল। সে সমস্ত শরীরে মুখ ঘষছে রাত্রির। অস্থির হাতে খুলতে চাইছে ব্লাউজ-ভেজা সিল্কের ব্লাউজ কামড়ে ধরে আছে রাত্রির শরীর। খােলা যাচ্ছে না। খুঁজে | খাজে বসে গেছে এমন। ধৈর্য বলে কিছু নেই এখন আর-রুম্পু ব্লাউজ ছিড়ে ফেলছে। অন্তর্বাস ছিটকে পড়ছে। সে শাড়ি খুলে আনছে হাতে। ওলট-পালট করছে দুটো শরীর– ধাক্কা খাচ্ছে দেওয়ালে, আসবাবে। সে নগ্ন করে ফেলেছে রাত্রিকে, নিজেও পােশাকশূন্য। তার দৃঢ় পুরুষাঙ্গের দিকে তাকিয়ে তখনই প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছে মেয়েটা এবং সমস্ত  শরীর ছেড়ে দিচ্ছে কণুর হাতে। সে দেখছে রাত্রির স্তনবৃন্ত কঠিন হয়ে জেগে আছে—এ | ঢলে পড়া আসলে তীব্র নিষ্পেষণের আনন্দে ঘটছে বলে বুঝতে পারছে না সে আরও আদর ঢালছে তখন রাত্রির শরীরে পাতে কেটে ধরেছে বেলু কুড়ির মতাে স্তনবৃন্ত। শুইয়ে দিচ্ছে খাটে। রুণু নিজেও বুঝতে পারছে না, কোনটা আগে করবে–আগে দেখবে রাত্রির উপচানাে শরীর না আগে ভােগ করবে।
তখন সে রাত্রির উরুসন্ধিস্থলে মুখ রাখছে এবং তার জিভে উঠে আসছে কুমারী শরীরের আগেয়জল। রাত্রি কেঁপে কেঁপে উঠছে—একবার শক্ত হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়, | একবার নরম হয়ে যাচ্ছে আবেগে। রুণু রাত্রিকে উরু ভাঁজ করতে শেখাচ্ছে যখন তখন দু’জনের মুখ থেকেই বেরােচ্ছে অদ্ভুত সব শব্দ যা আসলে ধ্বনি—যা সারা পৃথিবীতে স্থান, কাল, পাত্র ব্যতিরেকে এক এবং অনন্য। শ্রুতিতে-শ্রবণে, অনুভবে!
সে রাত্রির মুখ দেখে নিচ্ছে এবং আন্দাজ করতে চেষ্টা করাছে কতখানি যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে রাত্রি এবং তারপর অব্যর্থভাবে স্থাপন করছে নিজেকে আর চাপ দিচ্ছে। চিৎকার করে উঠছে রাত্রি, কেঁদে ফেলছে নখ বসিয়ে দিচ্ছে কণুর পিঠে কিন্তু ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার বদলে আঁকড়েই ধরছে তাকে—ওই যন্ত্রণা তবুও মেয়েটা পেতে চাইছে বারংবার।
তারা পূর্ণরূপে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে যখন পরস্পর, বিছানায় চাদরে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত, গড়িয়ে পড়ছে আর মিশে যাচ্ছে আরও আরও সঙ্গমের ইতিহাসের সঙ্গে যা বাইরের পৃথিবীর অজানা। তখন চাদরটা হয়ে উঠছে বৃষ্টি ভেজা কাদামাটি যার ধারণ ক্ষমতা অসীম, অনন্ত।…..

…..‘কোথায় গেলে আজ রাত্রি?’ রাত্রি পাশে এসে বসলেই তার নানা রকম কুবুদ্দি মাথায় খেলে। সে তখন রাত্রির স্তনে হাত রাখে, নাভি খোঁজে, ঘাড়ে সুড়সুড়ি দেয়।…..

……যতদিন কাটছে রাত্রি তাকে এক নতুন স্বপ্নের মধ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যখন গভীর রাতে নিস্তব্ধ পৃথিবীর সাক্ষাতে সে রাত্রির পাতলা তামাটে পেটে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে সন্তান কামনা করে, লজ্জিত যোনিমুখের দিকে তাকিয়ে বােঝার চেষ্টা করে কী আশ্চর্য জাদুতে……

……রণদেব তখন হয়তাে সিগারেট ঠোটে চেপে মাথা এগিয়ে দিচ্ছে মিসেস সরকারের দিকে আর হাসতে হাসতে তাতে অগ্নিসংযােগ করছেন ইনা সরকার, যেন ওইটাই, পুরুষদের সিগারেটে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হবে এবং তাই ঝুঁকতে হবে, কুঁকলে আঁচল খসে পড়বে বুকের, সুবিশাল বুক এবং সুগভীর খাঁজ উন্মুক্ত হবে কিছুক্ষণের জন্য—সেইটাই, সেই মুহুর্তগুলাের জন্যই অমন ব্লাউজ বানিয়েছেন উনি, সরু স্লিভ, এক খাবলা বগল বেরােনো, ডিপ ডিপ কাট এবং রপ্ত করেছেন অসতর্ক হওয়া, প্রথলভ হওয়া!…..

……একটা মেয়ের শরীরের চিন্তায় ঝুঁদ হলে বাকি সব চিন্তা, দায়িত্ব, কর্তব্য পিছু হটে যায়।
যদিও চুম্বন মাত্র অভিজ্ঞতাও তার আজও হয়নি— নারী শরীরের প্রায় কিছুই জানে না। অথচ জাগ্রত স্বপ্নে সে পাগলের মতাে খুলে খুলে ফেএেকটা অস্পষ্ট মুখের মেয়ের পােশাক, শাড়ি, ব্লাউজ, ব্রা, শায়া। আর কিছু না আর কিছু না শুধু একটু টু মারবার মতাে অন্ধকার গর্তের নেশায় সে মাথা কুটে মরে, সেই কল্পিত ঠিকানায় পুরুষের সর্বস্ব নিয়ে পৌঁছােতে পারার ইন্দ্রিয়-আনন্দু মরিয়া হয়ে তখন মুকুল বের করে দিতে থাকে আর সতর্কতায় সমস্তটুকু ধরে দাহ্ ধুতিতে আর বাকি রাতটুকুর জন্য চিৎপাত হয়ে পড়ে থাকে বিছানায়, নিঃসাড়ে। আর তখনই সে বুঝতে পারে যে নীপাটাও এক এক দিন এমনই ছটফট করে ঘুমােয় না!……

…..অল্পবয়সি বউগুলাে বিনা সংকোচে বুকে খালি একটা সায়া বেঁধে এখানেই সেরে নেয় শরীরের আচমন। বিহারি, খেটে খাওয়া রমণী, টাটকা ভরভরন্ত শরীর। পায়ে রুপাের মল, হাতে রুপাের কঙ্কন, মেটে লাল সিদুর ধুয়ে গলে পড়ে মুখ বেয়ে। আদুর পিঠ, কাঁধের শ্যামলিমা, ভিজে সায়ার মধ্যে থেকে ফুটে ওঠে স্তনবৃন্ত, উরু অবদি সায়া তুলে সাবান মেখে স্নান করে দিনে দু’বার তিনবার। ওইটুকু পথ ওদেরই কারণে সব সময় জলে থই থই। উলটো দিকের বাড়ির বাসিন্দারা ওতেই অভ্যস্ত। কেউ ওদের কিছু বলে না, কাউকে কিছু বললেই মুশকিল, সবই খাটা পায়খানা আর দুটো দিন সাফাই না হলে তার যে কী হাল হয়!
ওই পথটা এই ভােরেই দখল করে নেয় অদ্ভুত মেয়েগুলাে। মুকুল যেতে আসতে আড়চোখে দেখে ওদের।
এক উদ্ভিন্নযৌবনার পা ঘষা পর্ব চলছে এখন—মেয়েটার প্লাস্টিকের চটি আর মল পরা পায়ের মােটা উরু সাবানে ঢেকে গেছে তবু বােঝা যাচ্ছে কী নিখুঁত গড়ন ওই যুবতীর পায়ের। দেখে মুকুলের মনে হল স্বপ্নে যে শরীরগুলাে আসে সেগুলাে এই ধরনেরই যেন বা।……

….সেদিন কী মনে হতে বাথরুমের বড় আয়নাটার সামনে রাত্রি নগ্ন হয়ে দাড়াল। না, নগ্নতা নিয়ে আর কোনও ভয় নেই তার, কত—কতবার সে নগ্ন হয়েছে রণদেবের সামনে নগ্ন না হলে রণদেব তাকে গ্রহণই করত না কখনও।
সে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল নিজের শরীর। অটুট যৌবনবতী সে এখনও কোথাও কিছু টাল খায়নি। মেদহীন, ভরাট, কোমলাঙ্গী সে। তবু রণদেব আজ উদাসীন। তবু রণদেব আজ অসংখ্য নারীতে আসক্ত।
আয়নার সামনে দাড়িয়ে সে নিজের তলপেট থেকে মধ্যপেট—ছুঁয়ে ছুঁয়ে ওঠা নামা করাল হাত, ছ’টা বছর হয়ে গেল একটা বাচ্চা এল না এই পেটে! হে ভগবান, হে ঠাকুর, একটা বাচ্চা, একটা শিশু।……

……..রণদেব তাকে সরাতে চায় গায়ের জোরে কিন্তু কিছু অতিরিক্ত শক্তিতে ভর দিয়ে রাত্রি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে স্বামীকে, ঠোট ভরে দেয় ঠোটে, পাগলের মতাে রণদেবের হাত টেনে এনে রাখে স্তনে, তবু ছিটকে যেতে চায় রণদেব! সে ঠেলে ফেলে দেয় রণদেবকে বিছানায়। রণদেব তার চুল মুঠো করে ধরে, স্তন চলে যায় হাতে, ঠেলে দেয় রণদেবও রাত্রিকে এবং পরমুহূর্তেই টেনে নেয়, ভেঙে যায় প্রতিরোেধ রাত্রি জঙঘায় স্পর্শ পায় জাগতে থাকা পুরুষাঙ্গের, টের পায় কীভাবে কাদছে তার যােনি।
তখন ভূমিকম্প হয় বন্ধ ঘরের ভেতর। চুড়ান্ত সঙ্গমের কালে আর্তনাদ করে রাত্রি ‘আঃ, আঃ, আঃ, তবে বলাে, আঃ, আমি পাগল কিনা?
সমস্ত নারী-পুরুষ সম্পর্কের পৃথিবী নিয়ম করেছে— হবে দুই মাত্র পরিণতি, এক সম্পর্কের হয় মৃত্যু হবে নয় সম্পর্কের মধ্যে যৌনতা হবে। এই মুহূর্তে ‘যৌনতা’- এই পরিণতি বােধহয় মেনে নেয় জ্ঞানী মানুষ রণদেব, মেনে নেয় অভিমানী রাত্রি। রণদেব বলে-“না, না!’ বলে বলতে বলতে নাক ঘষে স্তনবৃন্তে নেশাগ্রস্তের মতে। কাতরায়– “আর বলব না, ওঃ, ওঃ!’ বলে– কুঁৱকরে বলেছি, বােঝাে না?
তখন বিছানা ভেসে যায় চাঁদের আলােয়, জুই ফুলের গন্ধের ঝাপটা এসে লাগে নাকে। মৈথুনরত যুগলের একজন কাদে আর তাই দেখেনজন হাসে নিষ্ঠুরের মতাে, বলে আরও চাই?’ বলে—“রাত্রিমণি, এবার পোস মানো!’…..

……চিঠিটার মুখ বন্ধ করে সে নিঃশব্দে উঠল, নিঃশব্দেই দরজা খুলল, দাড়াল গিয়ে ডাইনিং স্পেসে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দেখল রণদেব ইজিচেয়ারের হাতলের ওপর পলাকে বসিয়েছে!
আর পলার লং-স্কার্ট তােলা, সাদা ধবধবে উরুতে হাত ঘুরছে দেবের, ব্লাউজের বােতামগুলাে সব ক’টা খােলা। অল্প আলাে জ্বলছে ঘরে। সেই মালায় রাত্রি দেখল রণদেবের ডান হাতটা ঢুকে গেছে ব্লাউজের ভেতরে আরক্টে স্তনবৃন্ত লেহন করছে রণদেবের জিভ। সে দাড়িয়ে থাকল– রণদেবের জিভ পর স্তন, বগল সব ঘুরে ঘুরে এসে কামড়ে ধরছে স্তনবৃন্ত বার বার— অদ্ভুত এক খেলা যেন- পলা রণদেবের মাথাটা চেপে ধরে হাসছে, হাসতে হাসতে শিউঞ্জে উঠছে, হাসছে, চোখে তখন পরে নিয়েছে রণদেবের চশমা। আদিম মজার ক্রীড়ায় পলা এক একবার সরিয়ে নিচ্ছে নিজের স্তন, ঠেলে দিচ্ছে রণদেবের মাথা— রণদেব তখন মুখের দিকে তাকাচ্ছে পলারঅসীম ধৈর্য— তাড়াহুড়াে করছে না— পলা কচি মেয়ে, পরক্ষণেই ফিরিয়ে দিচ্ছে নিজেকে, ঠেসে ধরছে বক্ষযুগল যা নিটোল। এক তরুণীর সম্পদ।…..

……মেশানাে শিফনের ওড়না—ছােটমামু পাঠিয়েছে বরােদা থেকে। তার পাঁচফুট পাঁচ ইঞ্চির শরীরকে সম্পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছে পােশাকটা। এই পােশাক পরে সে ধীরে পা রাখে রাস্তায়। সচরাচর তাড়াহুড়াে করে না–তারপর সােজা মুখ করে হাঁটে। চলতে চলতে অন্য মেয়েদের মতাে কখনও নিজের বুক নিয়ে অস্বস্তিতে ভােগে না সে। অপ্রস্তুত মুখে ওড়না টানে না বারবার। প্রকৃতি তাকে দিতে কসুর করেনি কোনও—ঢেলে দিয়েছে।……

……প্রকাণ্ড রাগ ফুটে বেরােয় মামুর আক্রমণের ধরনে, গলার স্বরে! তার চুলের মুঠি চেপে ধরে মামু-টানাটানিতে চুল ছিড়ে যায়। তার ভারী, এক তাল স্তনে ধাক্কা লেগে যায় এ সময়—বুক টনটন টনটন করে যন্ত্রণায়!……

……রুপুদার আসছি বলাটা যেন কী রকম। হঠাৎ-ই সে এলামেলাে হয়ে গেল যেন তাতে। দ্রুত হয়ে উঠল নিশ্বাস। হাত কাঁপছে। কিছুতেই তুর্থ সুস্থির হতে পারছিল না আর। স্নানে গেল, শাওয়ারের তলায় দাড়াল। কী ভেবে শাড়ি পরল। ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছিল তার, সে এ ঘর ও ঘর করছিল এবং টের পাচ্ছিল যােনিতে ভেজা ভাব। সেটা গড়িয়ে আসছিল উরু বেয়ে, হাঁটু বেয়ে। যেন তার পিরিয়ড হয়েছে এমনটাও ভাবল সে একবার !…..

…..প্যাসেজে ঢুকে এসে দরজা বন্ধ করে দিল রুপুদা। এবং জড়িয়ে ধরল তাকে প্রবলভাবে। তরীও প্রাণপণ চেপে ধরল রুপুদাকে।
তাকে দেওয়ালে চেপে ধরে চুমু খাচ্ছিল যখন রুপুদা তখন একটা শক্ত গর্জে ওঠা জিনিসের চাপ উরুতে অনুভব করে সে দিশেহারা হয়ে গেল যেন!
এক রকম পাঁজাকোলা করে তাকে বড় ঘরের খাটে এনে গড়িয়ে দিল রুপুদা। নিজের জামার বােতামগুলাে খুলে জামাটা মাটিতে ছুড়ে দিল। তারপর নেমে এল তরীর ওপর। মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে দিল শরীর দিয়ে। ঠোটে গ্রাস করে নিল ঠোট।
তারা কেউ কোনও কথা বলতে পারছিল না। তুলনাহীন আনন্দে বুজে আসছিল চোখ। তারপর রুপুদা তার ব্লাউজ খুলতে চেষ্টা করল আর খেপে গেল, ‘শাড়ি ফাড়ি পরতে গেলি কেন? আমি কি ব্লাউজ খােলা জানি? তুই খুলে নে!
ব্লাউজ খুলতে না খুলতে রুপুদা ঝাপিয়ে পড়ে খুলে নিল অন্তর্বাস। টানাটানিতে খুলে এল শাড়ি। রুপুদার হাত কাপছিল। সে আটকাল রুপুদাকে এবং খুলে ফেলল সায়া।
রুপুদা হাত রাখল তার যৌনাঙ্গে। এবার সে বাধা দিল। স্তনবৃন্ত থেকে মুখ সরিয়ে দু’হাত দিয়ে তার হাত চেপে ধরে রুপুদা দেখতে লাগল তাকে। অপলক। ‘আমার লজ্জা করছে রুপুদা। বলল সে। “প্লিজ, কিছু করিস না, আমাকে দেখতে দে। গেঁথে যাক আমার চোখে তাের এই ডিটি! ওফ, স্বপ্নে আমি বুঝতে পারি না যখন তাের কোথায় কী আছে, কেমন দেখতে সেসব তখন সারারাত ধরে আমি একটার পর একটা তাের পােশাক খুলতে চেষ্টা করি আর ব্যর্থ হই। এভাবে পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি পুট! আমি শান্তি চাই, মুক্তি চাই। আমাকে সব কিছু করতে দে আজকে। বাধা দিস না।’
সে চোখ মেলে তাকাল যখন তখন তার চোখের সামনে হা- খাৈলা উদ্ধত তলােয়ারটি। এই প্রথম সে স্বচক্ষে দেখছে এমন একটা জিনিস,তার ভয় করছে দারুণ সে দৃশ্যে। রুপুদা বলল, ‘ধর!’ আর তরী ধরল। রুপুদা বলল, কী করে করে পুট? সে থতমত খেয়ে গেল, আমি তাে জানি না দু’জনের কপালেই দুশ্চিন্তার রেখা। রুপদা চেষ্টা করছে কিন্তু হচ্ছে না, পিছলে ওপরে উঠে এসে উরুর খাঁজে, এদিক ওদিক ধাক্কা খাচ্ছে পুরুষাঙ্গটা। সে বলছে, “আমার লাগছে।’
আমারও তাে লাগল রে! আছে না নেই তাের?
সে রেগে গেল, বাজে কথা বলবে না। ছেড়ে দাও,’ বলে সে উরু এবং নিতম্ব সরিয়ে নিতে গেল যেই, অমনি রুপুদা হুমড়ি খেয়ে পড়ল তার ওপর আর তার নাভিতে বিধে গেল পুরুষের তীক্ষা।
কিছু একটা হল সেই মুহূর্তে। তার তলপেটের ওপর ছিটকে পড়ল গরম সান্দ্র একটা কিছু! যা রুপুদার শরীরজাত। রুপুদার হতাশ গলা পেল সে, “যাঃ, বাইরেই হয়ে গেল।’
তার একই সঙ্গে হাসি পেল আর দুঃখ বােধ হল। যে কুমারী সেই কুমারীই এখনও রয়ে গেল তরী তবে। রুপুদা ডাকল তাকে, হয়ে গেল কিন্তু এটা নেমে গেল না তাে? আশ্চর্য! আর একবার ট্রাই নিই আয়!
তখনই ঢং ঢং ঢং করে তিনটে বাজল ঘড়িতে আর ধড়মড় করে উঠে পড়ল সে। যে কোনও মুহূর্তেই ফিরে আসবে এবার মন্দারমাসি। সময় শেষ তাদের! আজকের মতাে।…..

…..‘এরকম পিঠ কাটা ব্লাউজ কেন পরেছ তুমি? সাদা সাদা পিঠটা সবাইকে দেখাতে ভাল লাগে তােমার এত ?…. তুমি নিজেকে দেখেছ কখনও আয়নায়? তােমার রূপের মধ্যে কোনও তারল্য নেই। ছলনা নেই, কপটতা নেই। সােজা সাপটা রূপ। তুমি যেভাবে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাে সেরকম ভাবে খুব কম মেয়েকে কথা বলতে দেখেছি আমি। তােমার এই বুক পিঠ নাভি দেখানাে সজ্জার প্রয়ােজন আছে কোনও ?’ “এগুলাে আমার শখ করে বানানাে ব্লাউজ। ‘আঁচল টানাে তরী।……

……হঠাৎ কী হল তার—কোন অবচেতনের ধাক্কায় কে জানে এমন করল সে, গিয়ে বসে পড়ল রুপুদার পায়ের কাছে আর হাফ প্যান্টের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিল। স্পর্শ করল নরম, ঠান্ডা জিনিসটাকে।
এ অবস্থায় তরী কখনও দেখেনি এটাকে। এমন ন্যাতানাে, তলতলে হয়ে থাকা অবস্থায় দেখেনি। যখনই তার বিন্দুমাত্র কাছে এসেছে রুপুদা এটা জেগে উঠেছে আর ফুসেছে, তাণ্ডব করতে চেয়েছে তার শরীরে প্রবেশ করে—যা সম্ভব হয়নি।
তখন অবাক হয়ে কান্না ভুলে তাকিয়ে আছে রুপুদা তার দিকে। হাত দিয়ে ধরেছে কবজিটা তার শক্ত করে, কিন্তু সরিয়েও দিচ্ছে না হাত। সে মুঠোয় পিষছে, চটকাচ্ছে, হাতের উলটো পিঠ ঘষছে ওটায়—কিন্তু কিছু হচ্ছে না, রক্ত বিশ্বাসঘাতকতা করছে কিংবা রক্তেই নেমেছে তরীর আঘাত? নাকি রুপুদা মেনে নিয়েছে তার চলে যাওয়াটা–আগেই?……

……টেস্টও শেষ হল, রেজিষ্ট্রিও হয়ে গেল তরীর। দু’ চারদিন বাদে মাসিমণিকে বলে সে দিঘায় চলে এল শঙ্খর সঙ্গে।…..

…কোনও করুণ অনুসন্ধানে অনুসন্ধানে এবার আর ব্যর্থ হল না বেলা। বাইরে তখন পাখির চিৎকারের মতাে রােদ। তার চেঁচামেচিতে ঘর অন্ধকার করে দিয়ে সেই অন্ধকারেই তার সর্বস্ব নিল শঙ্খ।
সে ভাবল ডাক্তার তাে, তাই এসব জানে। শরীরই ডাক্তারের সাধনার বিষয়। নারীশরীরও হাতে ঘেঁটে, ছুরি দিয়ে কেটেকুটে মুখস্থ করেছে কত রাতের পর রাত। রুপুদার মতাে অন্ধ হয়ে মাথা খুঁড়ে মরতে হল না, কোনও সাধ্যসাধনা ছাড়াই সমস্ত সমাপন হল। সেও আলােকপ্রাপ্ত হল ও প্রথমবার শরীরে ঠাই দিল পুরুষকে।
তার লাগল প্রথমবার, সামান্য রক্তাক্ত হল সে, জল পড়তেই ভীষণ জ্বলতে লাগল যােনি। খাওয়া নেই, স্নান নেই— বার বার মিলন এবং ঘুম— এই করে দুপুর গড়িয়ে গভীর রাত হয়ে গেল। শঙ্খর শরীরের নীচে শুয়েশুয়ে অদ্ভুত লাগছিল তার। অত্যন্ত আপন মনে হচ্ছিল শঙ্খকে। নির্ভরযােগ্য ও মূল আশ্রয়স্থল বলে মনে হচ্ছিল। যেন তার আর নিজের জন্য কী-ই বা ভাববার আছে- এখন থেকে সব ভাবনা শঙ্খর, কেননা, সে অনুভব করল আজ শঙ্খই তার বাপ, মা, ভাই, বন্ধু, স্বামী-একাধারে সব!….

…….আগে তাে শুধু ব্রাহ্মণ হলেই চলবে শুনেছিলাম। আর্য ভুমি? শরীরই যার সমস্ত সাধনার বিষয়, শরীর ঘেঁটেই যার দিন রাত কাটে সেই তোমার শরীর নিয়ে এত নাক সিটকানি কেন! একটা মেয়েকে মানুষ হিসেবে তো কখনও দেখতে চেষ্টা করলে
না। মেয়ে মানেই তােমার কাছে আলাদা আলাদা কুত্যু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রদর্শনী। নাভি দেখা যাচ্ছে, পিঠ দেখা যাচ্ছে নয় বুক বেরিয়ে প্রঞ্জল, ব্যস!…..

…..শঙ্খ তাকে শুইয়ে দেয়। উঠে আসে শরীরে। অদ্ভুত কায়দায় নিজের পা দিয়ে তরীর পা দুটো তুলে হাঁটু মুড়ে দেয়। রুপুদা যদি এটা জানত তা হলে তাদের হতে পারত… !
শঙ্খ বলল, তুমি বেশ মােটা হয়েছ। মােটাসােটা না হলে আরাম হয় না। নরম নরম গদিতে না ডুবতে পারলে ভাল লাগে? আরও খাও, আরও মােটা হও।’
একজন ডাক্তারের কী করে মেদ পছন্দ হতে পারে? শরীরে বাড়তি মেদ যে শরীরকে বিসদৃশ করে তােলে, শুধু তাই নয়, মেদ থেকেই শরীরে অদ্ভুত কিছু রােগের উৎপত্তি হয়। আরবান সােসাইটিতে মেদ হল অভিশাপের মতাে। কারণ সেখানে মানুষের ভালমন্দ খাওয়ার ক্ষমতাও বেশি এবং কর্মজীবন কায়িক পরিশ্রমনির্ভর নয়!
বুক এবং পাছা খুব ভারী হয়ে গেছে তরীর। মুখেও এমনকী মাংস জমেছে। হ্যা যথেষ্ট মােটা হয়েছে তরী। এ বাড়িতে একে তেল মশলা গড়িয়ে যাওয়া রান্না। ভাজাভুজির প্রাচুর্য। বাইরে বেরােনাে, দৌড়ঝাপ এসব বন্ধ। শুয়ে বসে, গল্পের বই পড়ে, টিভি দেখে সময় কাটায় তরী এখন। মােটা হওয়ার জন্য কুড়ি বছর বয়স কেউ বলবে না তাকে, প্রায় পঁচিশ-ছাব্বিশ দেখায়। ফলে আজকাল তার সব সময় একটা হাঁসস ভাব। ব্লাউজের শেষ বােতামটা আটকালে দমবন্ধ লাগে। অন্তর্বাসও ব্যবহার করে না বাড়িতে।……

……এই এতগুলাে মাস শঙ্খ তাকে ছুঁয়েও দেখেনি। সাত মাসের পর যখন ফাড়া কেটে গেছে বলে মনে হল ওর তখন একদিন রাতে তরীকে নগ্ন করে এক অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় মিলিত হল শঙ্খ। তাকে চিৎপাত করে ফেলে পাদুটো ভাঁজ করে দিল। তারপর নেমে গেল নীচে আর নিতম্বের দিক থেকে প্রবেশ করল তার শরীরে এমন ভাবে যেন সে শঙ্খর ওপর একটা লম্ব। অল্প ধাক্কাতেই দুলে দুলে উঠল তার শরীর, ভয় হচ্ছিল তরীর। সে বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরে দুলুনিটা ঠেকাতে চেষ্টা করল।
দুটো বছর ধরে তাকে এসব করছে শঙ্খ। সে জানে বীজমুক্তির সময় শঙ্খ তাকে কীভাবে চেপে ধরে, কী বলাতে চায় মুখ দিয়ে, কেমন দ্রুত হয়ে ওঠে ওর শ্বস। সেদিন তাড়াতাড়ি বলল তরী—না, না ভেতরে না!……

…….সুইট লেডি ইজ মাইন! কল্লোল এসব বলতে বলতে তার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে, কপালে, ঠোটে আঙুল বােলাচ্ছে, আঙুল দিয়ে ছবি আঁকছে তলপেটে, নাভিতে। সে আরামে অবশ হতে হতে মুঠো করে ধরছে কল্লোলের জামা। অমনি জামাটা খুলে ফেলছে কল্লোল। সে আবার সিটিয়ে যাচ্ছে।…..
…..‘রিল্যাক্স তরী, ক্রিজ নষ্ট হলে আমি অফিসে ফিরব কী করে? কাম অন, ইউ আর নট আ ভার্জিন!
ভার্জিন হলে ভাল হত? তার লেগেছে। ভার্জিনিটিতে লেগেছে।
‘ভাল? ভার্জিন মেয়েদের সঙ্গে সেক্স হয় নাকি? সেক্স করতে হয় তার সঙ্গে যার। সেক্সের অভিজ্ঞতা আছে!
তরী রেগে গেছে। আহত ও অপমানিত হয়েছে। ‘ছাড়াে প্লিজ, আমার ভাল লাগছে না। এসব কী মানসিকতা? সেক্স হয় ভালবাসার লােকের সঙ্গে, সে ভার্জিন হলে বা না হলেই বা কী? তুমি যে ভাবে বিচার করলে সেটা হৃদয়হীন যৌনতার কথা, যা আমি ভাবতে পারি না।’
‘পাগলামি কোরাে না, আমি তােমাকে বলতে চেয়েছি যে ইউ আর বিহেভিং লাইক আ ভার্জিন। আমি তাে একটা সুস্থ পুরুষ না কী, ইমপােটেন্ট তাে নই। এতক্ষণ ধরে আদর করছি, আমার কী অবস্থা হচ্ছে ভাবতে পারাে, তবু তােমার ওপর ছেড়ে দিয়েছি ব্যাপারটা। অন্য কেউ হলে ছিড়ে খেয়ে ফেলত পাওয়া মাত্র।……

……কল্লোল ঝাপ দিচ্ছে তার মধ্যে। পাগলের মতাে সমস্ত পরিধেয় বস্ত্র টান মেরে খুলছে। সেও ছটফট করছে এক গগনচুম্বী বাক্তি অনেক নীচে নেমে গিয়ে চেঁচাচ্ছে কল্লোল, ‘মাই গড, এতক্ষণ ধরে এত সহ্য করছ তুমি! এ তাে পায়ের পাতা অব্দি গড়িয়ে এসেছে।’বলে সত্যিকারের একটা বাঘ হয়ে লাফ দিয়ে তার যােনিপথে প্রবেশ করছে কল্লোল আর তারপর ঠেলছে তাকে, ঠেলছে, ঠেলছে…
ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাচ্ছে স্বর্গের কিনারে। সে উন্মাদিনী, আর্তনাদ করছে। কল্লোলকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে কাদছে, এবার মরে যাব, মরে যাব!’ মাই গড, তরী। তােমার হচ্ছে।’ হাঁ হচ্ছে… একেই যে হওয়া বলে বুঝতে পারছি কল্লোল।
‘আই ক্যান ফিল হার, অ্যামেজিং, থ্রব করছে, আই অ্যাম ইন হার গ্রিপ, শ্যাল আই কাম তরী?
না, না কল্লোল। আরও আরও আরও দাও আমাকে। “ওঃ, আবার হচ্ছে তােমার…।’ ‘আমার আগে কখনও হয়নি জাননা, এতদিন মিলনে শুধু কষ্টই হয়েছে আমার…’ সে কাঁদছে। আমি শুনেছি হয়, ভাবিনি এ জন্মে আমারও হবে। থ্যাঙ্কস কল্লোল, থ্যাঙ্ক ইউ।’ ‘কেঁদো না, জাস্ট স্কুইজ কর, অ্যান্ড লেট মি মেক লাভ!……..

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *