প্রিন্সেস – জীন পি স্যাসন

›› অনুবাদ  

অনুবাদঃ আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

…..সৌদি আরবে পুরুষের মর্যাদার বিকাশ ঘটে নারীর ওপর কর্তৃত্ব প্রয়ােগের মধ্য দিয়ে। সেজন্যে তাকে অবশ্যই তার নারীদের ওপর যৌন প্রভুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে হবে, তা না হলে তাকে নিন্দিত হতে হবে। নারীর নিজস্ব যৌন আকাক্ষা নিয়ন্ত্রণের উপায়ও যেহেতু নেই, সেজন্যে কর্তৃত্ববান পুরুষদের জন্যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তারা সতর্কতার সঙ্গে নারীর যৌন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখে। নারীর উপর সর্বময় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে প্রেমের কোন সম্পর্ক জড়িত নয়। এ নিয়ন্ত্রণ আরােপ করা হয় পুরুষের মর্যাদাহানির ভয় থেকে।….

…..হাদি এবং আলি তাদের সময় কাটাচ্ছিল মেয়েদের দেহ কিনে। ইটালির রাস্তায় দিন অথবা রাতে অসংখ্য সুন্দরী মেয়ে নিজেদের শরীর বেচার জন্যে অপেক্ষায় থাকে, যারা কিনতে পারে তাদেরকে উজাড় করে দেয়। আমি আলিকে বরাবর স্বার্থপর হিসেবেই দেখেছি, নিজের তৃপ্তি ছাড়া সে আর কিছু বােঝে না। কিন্তু হাদি, তার চাইতেও তুখােড় বদমাশকারণ সে একদিকে মেয়ে ভাড়া করে এনে তাদের ওপর উপগত হয়, আবার মেয়েদের অপবাদ দেয় ও ঘৃণা করে তাদের সামান্য ক্রটি দেখলে।….

….একজন বিদেশী ফোন ধরে। সৌদি অথবা ইয়েমেনি ছাড়া অন্য যে কোন বিদেশী হলেই হলাে। তারা তার কাছে জানতে চাইবে যে সে একা কি না এবং নারীসঙ্গ কামনা করে কি না। সাধারণত অপর প্রান্তের উত্তর ইতিবাচক। কারণ সৌদি আরবে খুব কমসংখ্যক মহিলাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় এবং অধিকাংশ বিদেশী আসে একক ভিসায়। সেই পুরুষের যােগ্যতা তাদের কাছে স্বীকৃত হলে

তারা তার দেহের বর্ণনা জানতে চাইবে। উৎফুল্ল হয়ে লােকটি তার নিজের শারীরিক বর্ণনা দিয়ে মেয়েদেরকেও অনুরােধ করবে তাদের দেহের বর্ণনা দিতে।

এরপর ওয়াফা ও নাদিয়া তাদের মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত খুঁটিনাটি বর্ণনা তুলে ধরবে লােকটির কাছে। তাদের মতে, এতে বিরাট আনন্দ। কোন কোন ক্ষেত্রে তারা দিনক্ষণ স্থির করে লােকটির সাথে সাক্ষাৎ করবে পার্কিং লটের । কৌশলে।

আমি খুবই বিস্মিত হলাম আমার বান্ধবীদের পুরুষ সঙ্গী আহরণের প্রক্রিয়ায় । আমি শুনে আরাে হতবাক হলাম যে, তারা যৌন মিলন ছাড়া সবকিছুই করে। কুমারিত্ব খােয়ানাের ঝুঁকি তারা নেয় না। কারণ-এর ফলে বিয়ের রাতে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তাদের স্বামীরা তাদেরকে বাপের বাড়িতে ফেরত পাঠাবে এবং তাদের পিতারাও বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারে। ধর্মীয় নেতারা ‘ বিষয়টি তদন্ত করবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে তাদের জীবন পর্যন্ত যেতে পারে। জীবন না গেলেও তাদের বসবাসের মত জায়গা থাকবে না।

ওয়াফা বলেছে যে, পুরুষদের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে তারা কখনাে তাদের মুখের ওপর থেকে পর্দা সরায় না। শরীর থেকে সব কাপড় তারা খুলে ফেললেও মুখ থাকে নেকাবে ঢাকা। তাদের ক্ষণিকের সঙ্গী পুরুষেরা মুখ থেকে নেকাব অপসারণ করতে মিনতি করে, বলপ্রয়ােগও করে। কিন্তু তারা বলে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন পুরুষ তাদের মুখ না দেখছে, ততক্ষণ তারা নিরাপদ বােধ করে। কোন পুরুষ যদি বেপরােয়া হয়ে উঠে তাহলে তাদের মুখ দেখানাের বিষয় বিবেচনা করতে হয়, কিন্তু তারাও আসলে মুখ দেখতে ততাে আগ্রহী নয় । মেয়েদের মতাে একই ধরনের মজা’ তারাও লুটতে চায়। আমার বান্ধবীরা তাদের ভবিষ্যৎ থেকে বের হওয়ার জন্যে প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে ভবিষ্যৎকে তারা কল্পনা করে অন্ধকার ও সীমাহীন রাতের মতাে।

আমার বান্ধবীদের স্বভাব আলােচনা করে আমি ওরা কাঁদলাম। আমার গলায় আটকে থাকা বিস্বাদের মতােই ঘৃণার উদ্রেক হলাে আমার দেশের রীতির প্রতি। নিয়ন্ত্রণহীনতা, যৌনজীবনের স্বাধীনতা অভাব ওয়াফা ও নাদিয়ার মতাে তরুণীদের বেপরােয়া হতে প্ররােচিত করেছে। তাদের এহেন তৎপরতা ফাঁস হয়ে গেলে জীবনও যেতে পারে।…..

….নাদিয়া এবং ওয়াফার জীবন রক্ষা পেল, কারণ তদন্তে দু’জনের সতীচ্ছদ্যই অক্ষত ছিল। কিন্তু নৈতিকতা কমিটি, ধর্মীয় কাউন্সিল এবং বিশেষ করে তাদের দু’জনের বাবা—কেউই তাদের বলা গল্প বিশ্বাস করে নি যে, তারা শুধু ভ্যান চালককে বলেছিল তাদের পৌছে দিতে। কারণ তাদের ড্রাইভার বিলম্ব করেছিল। আমার ধারণা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা সর্বোত্তম কাহিনীই সাজাতে সক্ষম হয়েছিল।….

…..মেডেলিন বলেছে যে, সুন্দরী পরিচারিকা যখন তাকে ঘুরে দাঁড়াতে বললাে যাতে তার শরীরের বৈশিষ্ট্য ভালাে করে দেখতে পারে, তখন সে বিস্মিত হয়েছিল। পরিচারিকা তার নিতম্বে হাত রেখে মন্তব্য করলাে যে, মনিব মেডেলিনকে তার রুচির চাইতে শুকনাে বলে বিবেচনা করবে এবং সম্ভবত তার পুত্রদের একজন তাকে পছন্দ করবে। মেডেলিন তার কথার অর্থ বুঝতে পারে নি। সারাদিনের অফুরন্ত কাজে জড়িয়ে পড়ে সে।

চারদিন পর পরিবারটি মক্কা থেকে ফিরে এলাে। মেডেলিন দেখলাে, তার নিয়ােগকর্তা নিম্নস্তরের লােক। তারা রুক্ষ্ম স্বভাবের, অশিষ্ট আচরণের। শীঘ্র সে বুঝতে পারলাে যে, তার অনুমান সঠিক। হঠাৎ করে তাদের হাতে অর্থ এসেছে তাদের কোন উদ্যোগ ছাড়াই। কোরআন পাঠ ছাড়া আর কোন শিক্ষা তাদের নেই। অজ্ঞতার কারণে ধর্মের শিক্ষাকেও তারা নিজেদের প্রয়ােজন অনুযায়ী ব্যবহার করে।

কোরআনে মহিলাদের মধ্যম স্তরের বলে উল্লেখ করার বিষয়টিকে পরিবার প্রধান দাসত্ব বলে বিবেচনা করে। মুসলিম বহির্ভূত যে কোন মহিলাকে তারা। বেশ্যা মনে করে। সুন্দরী তরুণী থাই মেয়েদের কাছে যৌন সেবা লাভের জন্যে। পরিবারের পিতা ও দুই পুত্র ব্যাংককের বেশ্যালয়গুলােতে বছরে চার বার করে  গেলেও তাদের যৌন ক্ষুধার কোন পরিতৃপ্তি আসে না। কোথা হতে তারা জানতে * পেরেছে যে প্রাচ্যে মহিলাদের কিনতে পাওয়া যায়, পরিবারকে তারা বুঝাতে } সক্ষম হয়েছে মুসলিম বিশ্বাসের বাইরের সব মহিলা ক্রয়যােগ্য। যখন কোন | পরিচারিকাকে আনা হয়, তখন তারা ধারণা করে যে তাকে পশুর মতাে খাটানাে | হবে বাড়ির লােকদের মর্জি মতাে। । পরিবারের মায়ের মাধ্যমে মেডেলিন শীঘ্র জানতে পারলাে যে, তার উঠতি বয়সের দুই ছেলের যৌন তাড়না নিবারণের জন্যেই তাকে আনা হয়েছে। তাকে। বলা হলাে মেডেলিনকে একদিন পরপর তার পুত্র রাসেল ও দ্বিতীয় পুত্র ফারিসের। সাথে শুতে হবে। কোন আবেগ জড়তা ছাড়াই মেডেলিনকে একথা বলার পর সে বিচলিত হয়ে পড়লাে।

‘কিন্তু যৌন আবেদনময়ী শ্রীলংকার মেয়েটিকে বিস্মিত করে পরিবার প্রধান সিদ্ধান্ত নিলাে যে, মেডেলিন তার যৌন রুচি পূরণের যােগ্য। সে তার পুত্রদের জানালাে যে, তার তৃপ্তি অর্জন হয়ে গেলেই অরা মেডেলিনের সাথে শুতে পারবে।’

আমার দম আটকে যাওয়ার অবস্থা। আমি জানি মারকি আমাকে কি বলতে যাচ্ছে। কিন্তু আমি শুনতে চাই নি।

ম্যাডাম সুলতানা, মক্কা থেকে ফিরে আসার পর প্রথম রাতেই পরিবার প্রধান মেডেলিনকে ধর্ষণ করলাে।’ সে কাঁদছিল। এ সবে সুচনা। কারণ তাকে তার পছন্দ হয়েছিল এবং প্রতিদিন তাকে ধর্ষণ করে যাচ্ছিল।…..

…..আমার ভালাে ঘুম হলাে না অস্থিরতার কারণে। আমার বান্ধবীদের কাছে জানতে চেষ্টা করলাম তাদের বাড়ির মহিলা পরিচারিকাদের ভাগ্যের ব্যাপারে। প্রাথমিক প্রচেষ্টাতেই আমার পক্ষে যা জানা সম্ভব হলাে তা ছিল বহির্বিশ্ব থেকে আমার দেশে আগত মহিলাদের বিরুদ্ধে আমাদের পুরুষদের নির্মম, ভাষায় ব্যক্ত করার অযােগ্য পাপাচারে পূর্ণ কাহিনী। আমি ভারত থেকে আগত শুকুন্তলার কথা শুনেছিলাম। তার পরিবার মাত্র তের বছরের কিশােরীটিকে ৬শ’ রিয়ালে (১৭০ ডলার) বিক্রি করে দিয়েছিল। সারাদিন সে কাজ করতাে আর রাতের বেলায় মেডেলিনের মতাে ধর্ষণের শিকার হতাে। শকুন্তলাকে কেনা হয়েছিল। সে ফেরতযােগ্য সম্পত্তি নয়—সে আর কোনদিন দেশে ফিরে যেতে পারবে না। সে তার নির্যাতনকারীর সম্পত্তি।

আমি সন্ত্রস্তের মতাে শুনলাম যে, এক পরিবারের পুত্র যখন তখন তাদের থাই পরিচারিকাকে ধর্ষণ করলেও মেয়েটি তাকে রক্ষার অনুরােধ জানালে ছেলেটির মা হেসে উড়িয়ে দেয়। মহিলার বক্তব্য ছিল, তার পুত্রের যৌনক্ষুধা নিবারণের প্রয়ােজনে এবং সৌদি মহিলাদের পবিত্রতা রক্ষার জন্যেই তাকে তার নিজস্ব মহিলার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। সে একথা বলারও ধৃষ্টতা দেখায় যে, প্রাচ্যের মেয়েরা কার সাথে বিছানায় গেল সে ব্যাপারে তাদের মাথাব্যথা নেই। সৌদি মায়েদের দৃষ্টিতে পুত্রেরা বাদশাহ।……

….সৌদি সমাজের এই নােংরা দিক সম্পর্কে হঠাৎ করে সচেতন হয়ে আমি আলির কাছে জানতে চাইলাম, সে এবং বাবা বছরে তিনবার করে থাইল্যান্ড ও * ফিলিপাইনে যায় কেন। সে আমাকে ধমক দিয়ে বললাে যে, এগুলাে জানার কোন প্রয়ােজন আমার নেই। কিন্তু উত্তরটা আমি জানতাম। কারণ আমার অনেক বান্ধবীর বাবা ও ভাই একইভাবে সেইসব সুন্দর দেশে যায়, যেখানে অর্থের অধিকারী যে কোন পশুর কাছে তারা তাদের তরুণী মেয়ে ও মহিলাদের বিক্রি করে।…..

……আমার বােরখা পরা শুরু করার পর থেকে আমি সদ্য বিবাহিতা মেয়েদের বাসর রাতের ঘটনা আগ্রহের সাথে শুনেছি। অবশ্য-এর মধ্যে অতি গােপনীয় কর্মের বিস্তারিত আলােচনা থাকে না। কোন কোন সমাবেশে সদ্য বিবাহিতাদের প্রথম যৌনমিলন উপভােগের বর্ণনায় অবিবাহিতা তরুণীরা ব্ৰিত ও বিচলিত হয়। কেউ কেউ বলে যে, তারা তাদের ওপর স্বামীর উপগত হওয়ার সময় আনন্দলাভের ভান করেছে, যাতে তাদের স্বামীরা আরেকটি বিয়ে করার কথা হঠাৎ করে না ভাবে। কিছু মহিলা যৌনকর্মকে ভীতির বিষয় বলে মনে চোখ বন্ধ রেখে স্বামীদের যৌন নিপীড়ন সহ্য করে। কিন্তু কিছু মহিলা এসব আলােচনার মধ্যে সম্পূর্ণ নিরবতা বজায় এবং লজ্জায় নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখে। আসলে সেসব মহিলা তাদের স্বামীদের নিষ্ঠুর যৌন আচরণের শিকার, সারা যেরকম নিষ্ঠুরতার মধ্যে পড়েছিল, প্রায় তেমন।……

….আমার যৌন কেশ বিনাশ করার পর্যায়ে আমি চিৎকার করলাম এবং ফুফুদের । গায়েও আমার হাত পড়লাে। ব্যথায় কাতর হয়ে আমি জানতে চাইলাম, এই বর্বর ” রীতির প্রচলন হয়েছিল কোথায় ? সবচেয়ে বয়স্কা ফুফু আমার মুখের ওপর চড় কষালেন আমার এহেন বেয়াদবির জন্যে। আমার দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, সুলতানা অত্যন্ত অশিষ্ট বালিকা এবং একজন মুসলমানের মেয়ে হওয়ার কারণে তার জানা উচিত যে, পরিচ্ছন্নতার জন্যে মহানবী তার উম্মতের প্রত্যেককে পরামর্শ দিয়েছেন প্রতি চল্লিশ দিনে যৌনকেশ ও বগলের নিচের লােম বিনাশ করতে। আমি পাল্টা চিৎকার করে বললাম যে, বর্তমানে এই রীতি পালনের কোন অর্থ নেই। আধুনিক মুসলমানরা গরম পানি এবং সাবান ব্যবহার করে, যা দিয়ে শরীরের নােংরা ময়লা সহজে ধুয়ে ফেলতে সক্ষম। পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্যে আমাদেরকে আর মরুর বালি ব্যবহার করতে হয় না।…..

…..স্ত্রীদের মধ্যে সমানভাবে সময় বণ্টন করে দিতে হবে। কিন্তু এই ছােট্ট মেয়েটির ক্ষেত্রে তার স্বামী তার প্রতি এতাে মুগ্ধ যে, লােকটির প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনন্দের সাথে মেয়েটির সাথে মিলিত হতে তাদের সময় উৎসর্গ করে দিতেও কার্পণ্য করে নি। মেয়েটি জানালাে যে, তার স্বামী এতে সক্ষম পুরুষ যে, দিনে বহুবার তার সাথে মিলিত হয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বুঝানাের জন্যে সে তার চোখ বড় বড় করে হাত ওপর-নিচ করে চাপ দেয়ার ভঙ্গিতে দেখায়।…..

……আমাদের তরুণী মেয়েদের মধ্যে এতাে পরিবর্তন এসেছে যে, তাদের মধ্যে প্রকৃত কুমারীর সন্ধান পাওয়া দুর্লভ। আলির সপ্রশ্ন দৃষ্টির কারণে বললাম যে, সৌদি মহিলারা দেশে থাকলে তাদের পক্ষে কোন অসদারণের সুযােগ কম। কারণ কোন ভুল করে কেউ জীবন হারানাের ঝুঁকি নিতে চায় না। কিন্তু যখন আমাদের মহিলারা বাইরে যায় তখন আমার বিশ্বাস তারা যৌন সঙ্গী খুঁজে নেয় এবং অপরিচিত কোন লােককে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান উপহারটি প্রদান করে।…..

…..আলি আমার কথায় অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলাে, বিশেষ করে এই চিন্তা করে যে, একজন সৌদি ছাড়া অন্য কোন পুরুষ একজন সৌদি মেয়ের কুমারিত্ব ঘুচিয়ে দিচ্ছে। উত্তেজিতভাবে সে জানতে চাইলাে যে এ ধরনের তথ্য আমি কোথায় পেয়েছি। আমি কণ্ঠ নামিয়ে নিবেদনের ভঙ্গিতে আলিকে আমাদের আলােচনার বিষয় কারাে কাছে প্রকাশ না করতে বললাম। কারণ তাহলে করিম ও বাবা নিন্দিত হতে পারেন। আলির কাছে আমি স্বীকার করলাম যে, আমরা মহিলারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়গুলাে আলােচনা করে থাকি এবং আমি যা বললাম, তা সবার জানা একটি বিষয়। আমাদের দেশ থেকে প্রকৃত কুমারী লাভের দিন শেষ হয়ে আসছে।

আলি ঠোট কামড়ে গভীর চিন্তামগ্ন হলাে। সে আমার কাছে জানতে চাইলাে, মেয়েগুলাে বিয়ের রাতে কি করে, কারণ বিয়ের রাতে যৌনমিলনের ফলে রক্তপাত না হলে সে তাে নিন্দিত হবে এবং তাকে বাপের বাড়িতে ফিরে যেতে হবে। আরবে এখনাে রক্তের দাগলাগা বেডশিটটি বধূর শাশুড়ির হাতে তুলে দেয়া হয়, যাতে তিনি তার পরিচিতজন ও আত্মীয়দের দেখাতে পারেন যে, তার পরিবারে যার আগমন ঘটেছে সে সতী এবং খাটি।

আমি আলির দিকে ঝুঁকে বললাম যে, অধিকাংশ তরুণী মেয়ে তাদের সতীচ্ছদ্য সার্জারি করে ঠিক করে নেয়। কথার সাথে আরাে যােগ করলাম যে, অধিকাংশ তরুণী অজ্ঞাত পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে বারবার তাদের কুমারিত্ব হারায়। একজন পুরুষকে বােকা বানানাে সহজ। ইউরােপে অনেক দক্ষ সার্জন আছেন তারা সুচারুভাবে কাজটা সম্পন্ন করেন এবং সৌদি আরবেও এ কাজের জন্যে অল্পসংখ্যক সার্জন রয়েছেন। আলিকে আরাে শংকিত করার জন্যে আমি বললাম যে, কোন মেয়ে যদি কোন কারণে বিচ্ছিন্ন সতীচ্ছদ ঠিক করতে না পারে তাহলে সে বিয়ের পর যৌনমিলনে লিপ্ত হবার পূর্বে তার যােনিপথে ভেড়ার লিভারের টুকরা টুকিয়ে দেয়। তার স্বামীর পক্ষে পার্থক্য নির্ণয় করা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু আসলে সে দেখতে পায় ভেড়ার লিভার থেকে বের হওয়া রক্ত, তার স্ত্রী সতীচ্ছদ্য বিচ্ছিন্নজনিত রক্ত নয়।……

……কিছুদিন আগে সুলতানা যৌন রােগে আক্রান্ত হয়। বহু বাদানুবাদের পর করিম স্বীকার করেছে যে, সপ্তাহে একবার সে অপরিচিত মহিলার সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। বেশ কিছু পদস্থ যুবরাজ সপ্তাহে একদিন প্যারিসে একটি বিমান পাঠায় দেহপসারিণী সংগ্রহ করে আনার জন্যে। সেখানে নিয়ােজিত একজন মহিলা ফ্রান্সে দেহ ব্যবসায়ে নিয়ােজিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুন্দরীদের নির্বাচন করে পাঠায়। প্রতি মঙ্গলবার তারা সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে প্যারিস ত্যাগ করে। পরবর্তী সােমবার ক্লান্ত বেশ্যারা সৌদি আরব ছেড়ে যায়। করিম তাকে বলেছে যে, সৌদি আরবে প্রধান প্রধান শহরগুলােতে বিশেষ প্রাসাদে একশ’ বেশ্যা রাখার মতাে ব্যবস্থা আছে। রাজপরিবারের অধিকাংশ পদস্থ যুবরাজদের আমন্ত্রণ জানানাে হয় মহিলাদের মধ্য থেকে নিজেদের মনােমত বাছাই করে উপভােগ করার জন্যে। কারণ এসব পুরুষ ও মহিলারা বেঁচে আছে শুধু আনন্দ ভােগের উপাদান হিসেবে অথবা পুত্র সন্তান জন্মদানের জন্যে। যৌন রােগের ঘটনার পর করিম প্রতিজ্ঞা করেছে যে, বিদেশী মহিলাদের সঙ্গে সাপ্তাহিক যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়া বন্ধ করবে। কিন্তু সুলতানা জানে যে, এ ধরনের যৌন ক্ষুধা মেটানাের এমন সুযােগ সে হাতছাড়া করবে না। নির্লজ্জের মতাে সে এ কাজে নিজেকে জড়িয়েই রেখেছিল। স্মৃতি ছাড়া তাদের চমৎকার প্রেমের আর কোন কিছুই অবশেষ ছিল । তবুও সুলতানাকে স্বামীর সাথে থাকতে হবে তার কন্যাদের স্বার্থে।……

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *