একান্ত গোপনে – পার্থ দত্ত

›› সম্পুর্ণ গল্প  ›› ১৮+  

    উৎস  : -পরকীয়া প্রেম – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়     সম্পাদিত (পাতা ১৮২ – ১৯০)

 

শিলিগুড়িতে কালই পৌঁছনোর খুব দরকার প্রিয়ব্রতর, ব্যবসা সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে। কিন্তু এসপ্লানেডের দূরপাল্লার বাসগুমটিতে এসে যখন সে জানতে পারলো শিলিগুড়িগামী শেষ রকেট বাসে একটা আসনও ফাঁকা নেই, আর শেষ রকেট বাস ছাড়তে তখন মাত্র পাঁচ মিনিট বাকী ছিল। প্রিয়ব্রত মাথায় হাত দিয়ে বসলো, নির্ঘাত নতুন কন্টাক্টটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখন উপায়! ঠিক এই সময়ে যেন পরিত্রাতার ভূমিকায় এসে হাজির হলো বছর চব্বিশ-পচিঁশের এক সুন্দরী যুবতী।
টিকিট রিটার্ন কাউন্টারের সামনে এসে মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলো, ‘দেখুন, আমার নাম মণীষা মজুমদার, আমার স্বামী দীপক বিশেষ একটা জরুরী কাজে এখানে আটকে পড়ায় শিলিগুড়ি যেতে পারছেন না। তাই ওঁর টিকিটটা ফেরত নিতে হবে।’
‘শেষ মূহুর্তে টিকিট ফেরত?’ বুকিং ক্লার্ক রমেন খাস্তগির একটু ইতস্তত করলো, হঠাৎ প্রিয়ব্রতর কথা মনে পড়তেই সে কাউন্টারের সামনে তাকালো। প্রিয়ব্রতকে দেখতে পেয়ে সে চিৎকার করে বলে উঠলো, ‘মশাই, এই যে মশাই শুনছেন? একটু আগে আপনি না শিলিগুড়ির একটা টিকিট চাইলেন? যোগাড় হয়ে গেছে? ভাড়ার টাকাটা দিয়ে টিকিটটা নিয়ে যান।’
টিকিটের নাম শুনে প্রিয়ব্রত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো বটে কিন্তু টিকিটটা অন্য এক ভদ্রলোকের, ফেরক দেওয়া হচ্ছে, তবে তার স্ত্রী যাচ্ছে। প্রিয়ব্রতর আপত্তি এখানেই, বাসে মেয়েটি সারারাত তার পাশেই থাকবে। প্রবাদ আছে, ‘পথে নারী বর্জিতা!’ তাই কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে।
তাকে ইতস্তত করতে দেখে বুকিং ক্লার্ক এবার অস্বস্তি গলায় বলে উঠলো, ‘ঠিক আছে, আপনি না নিলে অন্য ইচ্ছুক যাত্রীকে টিকিটটা দিয়ে দিচ্ছি।’
অন্যযাত্রী মানে বছর চল্লিশ বয়সের ষন্ডামার্কা একটা লোককে দেখে মণীষা ঘাবড়ে যায়। সে এবার প্রিয়ব্রতর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো, ‘আপনার তো আজই শিলিগুড়ি যাওয়া খুবই জরুরী। তাহলে যাচ্ছেন না কেন?’ এখানে একটু থেমে মেয়েটি আবার বললো, ‘ঠিক আছে, টিকিটের দাম বাসে উঠে দিলেও চলবে। এখন আমার সঙ্গে আসুন তো। বাস এখনই ছেড়ে দেবে।’
প্রিয়ব্রত আপত্তি করার আগেই মণীষা তার হাত ধরে একরকম জোর করেই তাকে টানতে টানতে বাসে নিয়ে গিয়ে তুললো। টু-সিটেড আসন। মেয়েটি জানালার ধারে বসে প্রিয়ব্রতকে আহ্বান জানালো। ‘বসুন!’
আপনার টিকিটের দামটা?’
‘আরে পালিয়ে তো যাচ্ছেন না, সামনে সারাটা রাত পড়ে রয়েছে, মণীষা হাসতে হাসতে প্রিয়ব্রতর হাত ধরে তাকে পাশে বসিয়ে দিলো একরকম জোর করেই।
মেয়েটির মধ্যে কি জাদু ছিল কে জানে, এবারেও সে কোনো আপত্তি করতে পারলো না।

কাঁটায় কাঁটায় ঠিক ন’টায় রকেট বাস ছেড়ে দিলো, রাত ন’টা শীতের রাত, রাস্তা প্রায় ফাঁকা। রকেট বাস, রকেটের মতো দ্রুত গতিতে ছুটে চললো তার গন্তব্যস্থলের দিকে। ফাঁকা বি টি রোডে আসতেই বাসের গতি দ্বিগুণ হয়ে গেলো। ডানলপ ব্রীজের সামনে হঠাৎ ট্রাফিকের আলোটা লাল হয়ে উঠতেই বাসের চালক দ্রুত ব্রেক কষতেই যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে এ ওর ঘাড়েত লুটিয়ে পড়লো।
এদিকে প্রিয়ব্রত ও মণীষার অবস্থা তথৈবচ। দু’হাত দিয়ে প্রিয়ব্রতর গলা জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে মণীষা। তার বুকের কাঁপন তখন আছড়ে পড়ছে প্রিয়ব্রতের বুকে। ওরা কতক্ষণন যে ওভাবে জড়িয়ে বসেছিল কেউ তা জানে না। পিছনের আসন থেকে এক ছোকরা টিপ্পনী কাটল, কি দাদা, খুব লেগেছে?
এমন একটা নোংরা মন্তব্যের উত্তর দিতে ইচ্ছে হলো না প্রিয়ব্রতের। তার বদলে অস্ফুটে মণীষার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, আরে ছাড়ুন এবার। বাসের যাত্রীরা যে দেখছে…।
দেখুকগে! মণীষা আরও নিবিড় করে প্রিয়ব্রতকে জড়িয়ে ধরে কপট অভিমান করে বললো, বাসের ঝাঁকুনিতে আমার লাগলো, আর ওরা রঙ্গ-রসিকতা করছে? না, ওদের কথায় কান দেবেন না।
আঘাত পেয়েছে শুনে প্রিয়ব্রতর কেমন যেন একটু মায়া হলো মেয়েটির ওপর। তাই সে মণীষার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় লেগেছে?
এইখানে, এই বলে প্রিয়ব্রতর ডানহাতটা ধরে নিজের বুকজোড়ার মাঝখানে চেপে ধরলো মণীষা, ছাড়তে চাইলো না।

প্রিয়ব্রত ঘাবড়ে গেলো। বাস তখন রকেটের গতিতে আবার ছুটতে শুরু করেছিল। ওদিকে বাসের যাত্রীরা আবার আগের মতো ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছিল তখন। প্রিয়ব্রত হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। ওরা এমন রসালো দৃশ্য দেখলে আর রক্ষে ছিল না। রাতের জার্নি বলে বাসের মাত্র দুটি আলো জ্বলছিল, একটা গেটের মুখে, আর একটা ঠিক ওদের আসনের পেছনে। কম পাওয়ারের আলো হলেও মেয়েটির মুখটা বেশ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। অন্য আসনগুলো প্রায় অস্পষ্ট আলোয় ডুবেছিল, তাতে একটা বাড়তি সুবিধে হলো এই যে দুর থেকে ওদের গতিবিধি অন্য যাত্রীদের চোখেই পড়ছে না। তবু সাবধানের মার নেই, প্রিয়ব্রত তার হাতটা মেয়েটির বুকের ওপর থেকে তুলে নিতে গেলে মণীষা এবার আরো জোরে চেপে ধরলো ওর পাখীর মতো নরম বুকের ওপরে। অনুভবে বুঝলো প্রিয়ব্রত অজান্তে কখন যে মণীষার একটি স্তন তার হাতের তালুবন্দী হয়ে গেছে খেয়ালই নেই তার। ব্রাহীন বুক। মেয়েটির স্বাস্থ্য ভীষণ ভালো। তার উপর বিশাল স্তনের চাপে মনে হচ্ছিল ব্লাউজ না ফেটে যায়। সামনের দিকে বোতাম ব্লাউজের। ওপরের দুটি বোতাম খুলে গেছে, স্তনজোড়ার উপরের অনেকখানি উন্মুক্ত, আলোয় উদ্ভাসিত। সংকোচ হচ্ছিল, তাই প্রিয়ব্রত বোতাম দুটো লাগাবার চেষ্টা করতেই মণীষা তার হাত চেপে ধরে অস্ফুটে বলে উঠলো, থাক না, আমার ও দুটো দেখতে কি তোমার খারাপ লাগছে? এই দেখো আমি তোমাকে তুমি বলে ফেললাম।’
‘ঠিক আছে, ও কিছু নয়।’
‘না ঠিক নেই। তুমিও তাহলে আমাকে তুমি করে ডাকবে বলো?’
মণীষা তার মনের কথাটাই বলেছিল। সেও যেন কেমন একটু একটু করে মেয়েটির প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছিল। তাই সে আর আপত্তি করলো না, বললো, ‘ঠিক আছে, তাই বলবো।’ এই বলে প্রিয়ব্রত অবিন্যস্ত শালটা একহাতে তার বুকের ওপর গুছিয়ে বিছিয়ে দিলো। ওপর হাতটা মেয়েটির বুকের ওপরেই তেমনি রাখা ছিল। এর ফলে বাসের অন্য যাত্রীরা জেগে উঠে তাদের দিকে তাকালেও তার হাতের কাজকর্ম তারা আর দেখতে পাবে না, এই ভাবে আশস্ত হলো সে। তার গতিবিধি দেখে মেয়েটি হাসলো, স্থির চোখে তাকালো প্রিয়ব্রতর দিকে। তুমি তাহলে এতক্ষণে সাবালক হলে?’
‘কি করে বুজলে?’
শালটা দিয়ে আমার বুক ঢেকে দিলে কেন?’ মণীষা কপট মুখে বললো, ‘একবার আমার অনুমতি নেবার প্রয়োজন মনে করলে না?’
প্রিয়ব্রত তার ব্লাউজের অবশিষ্ট বোতামগুলো খুলতে খুলতে তেমনি রহস্য করে বললো, ‘এর পরেও কি তোমার অনুমতি নিতে হবে?’
‘না গো না,’ মণীষা ঠোঁট ফোলালো, ‘তুমি কি ঠাট্টাও বোঝো না?’

এতে প্রিয়ব্রতর সাহস আরও বেড়ে গেলো। ততক্ষণে ব্লাউজের সব বোতামগুলো তার খোলা হয়ে গেছলো। স্তনজোড়া পুরুষ্ট, সুগঠিত এবং সুডৌল। প্রিয়ব্রত ভালো করে স্তনদুটি তার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে মৃদু চাপ দিতে শুরু করলো। মণীষা হাত সরিয়ে দিলো না। বরং আবেগকম্পিত গলায় ফিসফিসিয়ে বললো, ‘আরও আরও জোরে টিপে দাও, খুব ভাল লাগছে।’ এই বলে মণীষা হঠাৎ একটা অদ্ভুত কাজ করে বসলো, প্রিয়ব্রতর মাথাটা নিচে নামিয়ে এনে তার ঠোঁটজোড়া নিজের তপ্ত ওষ্ঠ দ্বয়ের কাছে নিয়ে এলো। চুম্বনের জন্য মুখ তুললো মণীষা। প্রিয়ব্রত তার মনের কথা জেনে গেছে ততক্ষণে। তাই সে তার শালটা নিজের মাথার ওপর টেনে বাকী অংশটুকু মণীষার শরীরের ওপরের অংশটুকু ঢেকে দিলো। এখন প্রকাশ পাওয়ার মতো ওদের শরীরের কোনো অংশই খোলা পড়ে রইলো না। নিশির ডাকে সম্মোহিত নারীর মতো দেখাচ্ছিল মণীষাকে। মৃদু হাসলো প্রিয়ব্রত, হঠাৎ আকাঙ্ক্ষিত কিছু পেয়ে যাওয়ার হাসি যেন। এখানে এই চলন্ত বাসের মধ্যে যাত্রীরা সবাই যেখানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঘটনার এমন উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ হঠাৎ কেমন যেন মণীষাকে ভাল লেগে গেল প্রিয়ব্রতর। মণীষাকে আরও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে ওর খোলা প্রশস্ত বুকে হাত বোলাতে বোলাতে প্রিয়ব্রত ওর গলা জড়িয়ে ধরলো। পেলব হাতের স্পর্শে সংবাহনের আরাম দিতে চাইলো মণীষাকে। অকপট হাসিতে প্রিয়ব্রত যেন ওকে ছোট্ট আসন শুইয়ে ওর কোমর জড়িয়ে ধরলো সজোরে, পোশাকের ওপর থেকেই জঘনে চাপ দিলো মণীষার তলপেটে, আর সেই অবস্থাতেই আলো আঁধারির ছায়াঘন অবস্থায় দুটি ছায়ামূর্তি চুম্বিত হয়ে রইল। মণীষার মনে হলো, এই তার স্বামী। ওদিকে প্রিয়ব্রত হয়তো কল্পনা করলো তার বিবাহিত স্ত্রী অনুসুয়াকে, এই মূহুর্তে যাকে সে চাইছে কিন্তু পাচ্ছে না। আর এভাবেই দুটি দেহে দুটি অন্য মন তরঙ্গায়িত হলো। বাসের সেই স্বল্পালোকে প্রিয়ব্রত মণীষার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, ও এখন ওর তপ্ত ঠোঁটে প্রত্যাশী। প্রিয়ব্রত বাসের সেই স্বল্প পরিসরে ঠেস দিয়ে নিজের শরীরের নিচে মণীষাকে শোয়ালো, নিজে তার দেহের ওপর নিজের দেহটাকে কোনোরকমে বিছিয়ে দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরলো সজোরে, শাড়িতে আবৃত মণীষার জঙ্ঘায় এবং তলপেটে চাপ দিতে থাকলো, আর সেই অবস্থাতেই সেই আলো আঁধারিতে দুটি ছায়ামূর্তি চুম্বিত হয়ে রইলো, চুম্বন যতক্ষণ না বিস্বাদ ঠেকলো ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কারোর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইলো না। মণীষার মনে হলো, এই তার স্বামী বিজন, যাকে সে শরীরী সম্পর্কে পেতে চায় না, আর প্রিয়ব্রত হয়তো কল্পনা করলো তার স্ত্রীকে, যাকে সে নিবিড় করে পেতে চায় কিন্তু পায় না কোনো এক কারণে। দুটি দেহে দুটি অন্য মন তরঙ্গায়িত হতে থাকলে তাদের এতদিনের না পাওয়া আকাঙ্ক্ষা হঠাৎ ক্ষণিকের এই প্রাপ্তিযোগ তারা এখন ভরিয়ে নিতে চাইলো কানায় কানায়। কিন্তু তারা এও জানে যে, এই চলন্ত বাসের মধ্যে তাদের সব আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটতে পারে না, সম্ভবও নয়। তবু যেটুকু পাওয়া যায় তাই যথেষ্ট, আর যা না পাবে পথের কামনা বাসনা সব পথেই ফেলে রেখে যেতে হবে।

অনেকক্ষণ পরে মণীষার চোখে-মুখে একটা সুখ-তৃপ্তির ভাব ফুটে উঠতে দেখা গেলো। এবং প্রিয়ব্রতরও। প্রিয়ব্রতই প্রথমে মণীষার কমলালেবুর কোয়ার মতো রসসিক্ত ওষ্ঠ দ্বয় থেকে নিজের ঠোঁটজোড়া বিচ্ছিন্ন করে শান্ত গলায় মিষ্টি সুরে বললো, এবার ছাড়ো।
আর একটু প্লিজ, মণীষা এবার নিজের থেকে সক্রিয় হয়ে দুহাতে প্রিয়ব্রতর গলা জড়িয়ে ধরে তার ঠোঁটজোড়া নিজের ওষ্ঠ দ্বয়ের মধ্যে পুড়ে চোষণে ব্রত হলো। চোষণ অতি দ্রুত হলো এবার, যেন চুম্বনে রসনার শেষ ফোঁটা সে চুষে নিতে চাইছে প্রিয়ব্রতর ওষ্ঠ দ্বয় থেকে। তারপর তখনকার মতো একেবারে নিঃশেষ হয়ে যেতেই সে বিচ্ছিন্ন হলো প্রিয়ব্রতর থেকে।
কেমন লাগলো? প্রিয়ব্রতর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে মণীষা জিজ্ঞেস করে।
তোমার রসালো ঠোঁট নাকি চুম্বন!
দুটোই! এই বলে হাসলো প্রিয়ব্রত। কপট অনুযোগ করে আবার বললৌ, তবে মন ভরলেও দেহ কিন্তু অপূর্ণ রয়ে গেলো।’
এখন এ পর্যন্তই থাক, পথ চলা এখনও শেষ হয়নি, দীর্ঘ পথ এখনও বাকী রয়েছে। মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলে টুকটাক প্রাপ্তিযোগ ঘটলেও ঘটতে পারে তার বেশি কিছু নয়। যেমন এই মূহুর্তে আমা তোমাকে তোমাদের প্রিয় জিনিষটা খাওয়াতে পারি।’
সেটা কি, থামলে কেন? প্রিয়ব্রত অধীর হয়ে বললো, বলো কি সেটা? আমি কি সেটা চোখে দেখতে পারি?
না অনুভবে বুঝে নিতে হবে, মণীষা রহস্য করে বলে তার শালের নিচে প্রিয়ব্রতর মাথাটা আড়াল করে চেপে ধরলো নিজের বুকের ওপর। ব্লাউজের বোতাম খোলা মণীষার বুক। শালের আড়াল হলেও মণীষার লক্ষ্য কিন্তু স্থির ছিল, প্রিয়ব্রতর মুখটা সে তা আকাঙ্ক্ষিত একটা স্তনবৃন্তের ওপর চেপে ধরলো। হ্যাঁ, মণীষঅ খুবই প্রিয়। চোষণে দারুন মজা। এই অভ্যাসটা পুরুষরা তাদের জন্মলগ্ন থেকে শেখে তাদের মায়েদের কাছ থেকে। মণীষার বুকে দুধ নেই, তাতে কি হয়েছে? বাড়িতে তার র-চা খাওয়ার অভ্যাস আছে, র-চায়ে চায়ের ফ্লেভারটা ভাল পাওয়া যায়। সেই রকম র-স্তনেও স্তনের বেশ মাদী মাদী গন্ধ থাকে, হাত দিতে ভাল লাগে, শুঁকতে ভালো লাগে আর চুষতে সে তো স্বর্গসুখ লাভের মতো। প্রিয়ব্রত আর অপেক্ষা করতে পারছিল না, পালা করে মণীষার দুটিস্তন বেশ আয়েস করে চুষতে শুরু করলো। স্ফুরিতক চুম্বনে ও চোষণে রক্তবর্ণ হলো ওষ্ঠদ্বয়, মণীষা স্তন আরও চেপে ধরলো প্রিয়ব্রতর মুখে, চোষণে বৃষ্টি পড়া কদমের মতো কণ্টকিহ হলো স্তনযুগল।
আঃ কি চমৎকার তোমার স্তনজোড়া? একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রিয়ব্রত বলে উঠলো।
ভাললাগছে? মণীষা জিজ্ঞেস করলো।
দারুণ!
কলেজে ইকোনোমিক্সে পড়েছিলাম ‘ল অব ডিমিনিশিং-এর’ কথা। ভালো জিনিষ বেশি খেলেই তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। আর নয়, ওঠো এখন। উঃ তোমার শরীরটা কি ভারি!
এই সময় পিছনের আসনের এক যাত্রীর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তার আড়মোড়া ভাঙ্গার শব্দ হতেই মণীষা প্রিয়ব্রতকে ঠেলা দিলো, এই ওঠো, কেউ বোধহয় জেগে উঠেছে।
প্রিয়ব্রত দ্রুত মণীষার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠে বসলো।
স্যরি! মণীষা মুখ টিপে হাসলো। দুঃখ করো না প্রিয়, পরে আমি তোমাকে সুদে আসলে পুষিয়ে দেবো।
প্রমাস?
প্রিয়ব্রতর হাতে মৃদু চাপ দিয়ে মণীষা বললো, হ্যাঁ, শপথ নিলাম!
মাঝরাতে বাস এসে থামলো মালদার। অনেকক্ষণ থামবে এখানে।
কিছু খাবে? প্রিয়ব্রত জিজ্ঞেস করলো।
যা খাইয়েছ, এরপর অন্য আর কিছু খাওয়ার ইচ্ছে নেই, রহস্যময় হাসি হেসে মণীষা বললো। এত সব খাওয়ার পরেও তোমার খিদে পেয়েছে!
তেমন করে খেতে দিলে কই? প্রিয়ব্রতও কপট অনুযোগ করতে ছাড়লো না।
সে তোমার দুর্ভাগ্য, পিছনের আসনের দিকে তাকিয়ে অর্থপুর্ণ হাসি হাসলো মণীষা। মণীষা কি বলতে চাইছে তা বুঝতে অসুবিধে হলো না প্রিয়ব্রত।
বেশ, অন্তত এক কাপ কফি?
তা মন্দ হয় না, যা শীত পড়েছে, শরীরটা একটু গরম না করে নিলে নয়!
সে কি তুমি গরম হওনি? মণীষার একটু আগের রসিকতার বদলা হিসেবে বললো, এত গরম খাওয়ার পরেও-
এ গরম সে গরম নয়। মণীষাও রসিকতা করতে ছাড়লো না। তাছাড়া কি এমন গরম করতে পারলে তুমি?
সুযোগ পেলে দেখো তোমার মধ্যে কেমন আমি আগুন জ্বালিয়ে দেই। হাসতে হাসতে বললো প্রিয়ব্রত।
তার আগে আমিই তোমার মধ্যে আগুন ছড়িয়ে দেবো।
না তুমি তা পারবে না, প্রিয়ব্রত এবার একটা মোক্ষম রসিকতা করলো, দেশলাইকাঠিটা কেবল আমার কাছেই আছে, তোমার কাছে নয়।
দুষ্টু কোথাকার, মণীষা কপট ধমক দিয়ে প্রিয়ব্রতর প্যান্টের বোতামের ওপর মৃদু চাপ দিয়ে বললো, এই দেশলাইকাঠির জন্য এতো দেমাক তোমার?
হ্যাঁ অবশ্যই। আর একটা কাঠিই যথেষ্ট, তোমার সারা অঙ্গে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে আমার এই দেশলাইকাঠিটা। তা জ্বালবো নাকি?
না, না, দোহাই তোমার, মণীষা তাকে থামিয়ে দিয়ে অনুরোধ করলো, লক্ষীটি, এখানে লংকাকান্ড বাধিয়ে বসো না, শিলিগুড়িতে চলো, সেখানে তুমি যত খুশি আগুন জ্বালাও, আমার দেহ পুড়িয়ে ছাই করে দাও না কেন আমি কোন ভাবেই আপত্তি করবো না।
কথা দিচ্ছ?
কেন, একটু আগেই তো আমি তোমাকে কথা দিয়েছি। মণীষা বললো।
ঠিক আছে, আমি তাহলে কফি আনতে চললাম। হ্যাঁ, তাই যাও।

* * *

কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে প্রিয়ব্রত এই প্রথম মণীষার পারিবারিক প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু করতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, তোমার বাড়িতে কে কে আছেন?
স্বামী আর দত্তক নেওয়া একটি ছেলে।
দত্তক নেওয়া ছেলে? প্রিয়ব্রত একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলো, কেন, তোমাদের বিবাহিত জীবনের কোনো ফসল তুলতে পারোনি?
অনেক দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমার স্বামী ইমপোটেন্ট, বাবা হওয়ার অযোগ্য।
তাই বুঝি? প্রিয়ব্রত দুঃখ প্রকাশ করলো, আমি দুঃখিত।
না, না, এতে দুঃখ পাওয়ার কি আছে? বিষণ্ণ গলায় মণীষা বললো, এ আমার দুর্ভাগ্য। আর তাই তো তোমার মতো একজন ভাল বন্ধু পেয়ে আমি লোভ সামলাতে পারিনি। আমার কথা থাক, এখন তোমার কথা বলো। তোমার বিবাহিত জীবন কি রকম বলো।
স্ত্রী ও একটি বছর তিনেকের ছেলে নিয়ে আমার সংসার বেশ সুখেই কাটছিল, কিন্তু ভগবান বোধহয় সব সুখ একসঙ্গে দেন না। তা না হলে আমার স্ত্রী হঠাৎ পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে পড়বে কেন বলো? প্রায় এক বছর হলো, স্ত্রীর সঙ্গে আমার শারীরিক কোনো সংযোগ নেই। আর তাই বোধহয় আজ হঠাৎ তোমার এমন মধুর সঙ্গ পেয়ে আমি একটু বেহিসেবীপনা করে ফেলেছি।’
না, না, এটাইতো প্রকৃতির ধর্ম, নারী পুরুষ একত্রিত হলে এমনি হয়। তুমি এমন কিছু বেহিসেবীপনা করোনি। আমার বিশ্বাস, শিলিগুড়িতে গিয়ে আমি অতৃপ্ত জীবনে আরও বেশি করে তৃপ্তি আনতে পারবো। স্বামী নেই, ওখানে গিয়ে তুমি আমার বাড়িতেই উঠবে। আমার ছেলে বেলা এগারোটায় ফিরে আসে, আশাকরি তার আগেই তোমাকে পরিপুর্ণ তৃপ্তি দিয়ে ফেরাতে পারবো।
সকাল হতেই রকেট বাস এসে পৌঁছলো শিলিগুড়িতে। কালবিলম্ব না করে বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রিয়ব্রতকে সঙ্গে নিয়ে মণীষা সোজা তাদের হিলকার্ট রোডের বাড়িতে ফিরে এলো। তখন বেলা প্রায় নটা। বাড়ি ফাকা। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে গেছে কাজের মেয়ে শান্তি, তাকে একেবারে নিয়েই ফিরব এগারোটার পর। এই দুইঘন্টা, ন’টা থেকে এগারোটা তাদের মিলনের স্বর্গরাজ্য বলে মনে করলো মণীষা। এত বড় বাড়িতে তারা দুজন এখন। টয়লেট থেকে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয় নিলো তারা।
টয়লেট থেকে বেরিয়ে এসে মৃদু হাসলো প্রিয়ব্রত, বিজয়ীর হাসি। আর এখানে এই নির্জন বাড়ির মধ্যে হঠাৎ কেমন যেন ভালো গেলো মণীষার প্রিয়ব্রতকে।
ওর কাছে গিয়ে ওর খোলা প্রশস্ত বুকে হাত রাখলো, কাঁধের পেশীতে হাত বোলালো, তারপর গলা জড়িয়ে ধরলো। পেলব হাতের স্পর্শে সংবাহনের আরাম দিতে চাইলো প্রিয়ব্রতকে। প্রিয়ব্রত হাসছে। কপট হাসিতে প্রিয়ব্রত যেন ওকে অবশ করে দিতে চাইছে। মণীষা ভাবছে, এই সময় হঠাৎ যদি ওর স্বামী এসে হাজির হয় ওদের এভাবে মিলিত হতে দেখে দেখুক। একটা ক্লীবকে ও আর ভর পাবে না, ও এখন ওর মনের মানুষের সন্ধান পেয়ে গেছে। প্রিয়ব্রতকে কথা দিয়েছে ও । কথা রাখতে উদ্যোগী হলো মণীষা। যেন ওর পুরুষ কৌমার্য হরণ করছে এমনভাবে প্রিয়ব্রতকে সজোরে নিজের দিকে আকর্ষণ করলো মণীষা, ওকে ঘর্ষণ করলো নিজের নগ্ন দেহে, তারপর প্রিয়ব্রতর পরনের পোশাক টেনে খুললো, হাত দিয়ে অনুভব করলো ওর উদ্যত রিরংসার ফলা, ছাড়লো না, মুঠোয় ধরে রইলো।
প্রিয়ব্রত অস্ফুটে বলে উঠলো, কি সুন্দর বুক তোমার মণীষা।
আর তোমার এই সোনারকাঠিটাও কম সুন্দর নয় প্রিয়ব্রত, দৈর্ঘে-প্রস্থে আমার স্বামীরটার থেকে দ্বিগুণ, যেকোনো মেয়ের কাছে এটা লোভনীয়।
প্রিয়ব্রতর সারা শরীর টান-টান হয়ে উঠেছে। সত্যিকার পুরুষমানুষ। উপযুক্ত শৃঙ্গার আবিষ্কার করতে চায় প্রিয়ব্রত। টের পেয়েছে, মণীষার তৃপ্তি-সাধন খুব সহজ নয়। তাই শৃঙ্গ ওকে অবশ না করলে শুধু মোনার কাঠির স্পর্শে ওর রাগমোচন হবে না। ওর দেহ বেয়ে খানিকটা নামলো প্রিয়ব্রত, মণীষার স্তনের অগ্রভাগে মন্ডলীকার কালো দাগযুক্ত জায়গায় মুখ রাখলো, লেহন করলো স্তনটা উৎফুল্ল স্তনের খানিকটা মাংস দুই পাটির সবগুলো দাঁত দিয়ে বৃত্তাকারে গ্রহণ করে মৃদু চাপ দিলো। এক স্তন থেকে প্রিয়ব্রতর মাথাটা তুলে আর এক স্তনে আনলো মণীষা এবং বললো, এটাকেও একটু দেখো! মণীষার নিঃশ্বাসে হল্কা, নাকের পাটা ফুলছে, কথা জড়িয়ে আসছে, কোমল গোপনাঙ্গ আর্দ্র হচ্ছে। মণীষার নাভিমূলে হাত বুলোলো প্রিয়ব্রত। একটু একটু করে আরও নিচে উরুসন্ধিতে উত্তাপ অনুভব করলো, হাতের স্পর্শে দুই উরু প্রসারিত করলো মণীষা। আবেগকম্পিত গলায় বললো, আর পারছেনে। নিতম্ব ওপরের দিকে বার বার ঠেলে তুলতে মণীষা ওর ত্রীভুজে বিদ্ধ করাতে চাইছে প্রিয়ব্রতর সোনার কাঠি, দুহাতে ওর পুরুষকঠিন পশ্চাদভাগ টেনে আনছে নিজের কাঁকালের দিকে। প্রিয়ব্রত বেশ বুঝতে পারছে মণীষার চোখ মুখ উগ্র সঙ্গমেচ্ছায় বিস্তারিত, স্নায়ুমন্ডলী উত্তেজিত। উত্তুঙ্গ উত্তেজনার মুহুর্তে দুহাতে মণীষার কোমর জড়িয়ে ধরে চাপ দিয়ে ওকে ওপরের দিকে টানলো প্রিয়ব্রত, যুক্ত হলো দেহে দেহে প্রবিষ্ট হলো মণীষার মধ্যে। মণীষা অধীর আনন্দে বলে উঠলো, আঃ!
কি সুন্দর তোমার ত্রীভুজ মণীষা।
ভাল্লাগছে? আরও জোরে…।
কিন্তু প্রিয়ব্রত তাড়াহুড়ো করছে না দেহে দেহে দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে নিস্ক্রিয় প্রিয়ব্রত আবেশে চোখ বুজে উপভোগ করছে। ওদিকে মণীষা আ স্থির থাকতে পারছে না। কেমন নির্লজ্জের মতো বললো, ও, আর একটু, আর একটু…
এবার সক্রিয় হলো প্রিয়ব্রত এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই ওর উত্তাপে যৌবনের যারকরস বিন্দু বিন্দু হয়ে ঝরে পড়তে থাকলো মণীষার দেহে অভ্যন্তরে। দুজনেরই এক সঙ্গে রাগমোচন হলো। আর অবসন্ন দুটি দেহ ওই অবস্থায় পড়ে রইলো আরও কিছুক্ষণ।
মণীষার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টয়লেটে গিয়ে ঢুকলো প্রিয়ব্রত, মণীষাও অনুসরণ করলো ও কে। এ ওর মিলনহজনিত সমস্ত ক্লেদ, ময়লা ধুয়েত মুছে সাফ করে দিলো। টয়লেট থেকে বেরিয়ে এসে প্রিয়ব্রত ঘড়ির দিকে তাকালো, সাড়ে দশটা। বললো, তোমার ছেলের ফেরার সময় হয়ে এলো, এবার যাই।
আবার কবে দেখা হবে? মণীষার চোখে আকুতির ছায়া পড়ে।
আবার দেখা কেন, এই তো ভাল, মৃদু হেসে প্রিয়ব্রত বললো, পথের দেখা পথেই তো শেষ হলে ভালো হয়, তাই না।
মণীষা ফ্যালফ্যাল করে প্রিয়ব্রতর গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো। কি উত্তর দেবে ও? এই মুহুর্তে ওর সারা দেহ-মনে প্রিয়ব্রতর সুখ-স্মৃতি জড়িয়ে আছে, অন্য কথা ভেবে সেটা ও মুছে দিতে চাইলো না।
_______________

Please follow and like us:

One thought on “একান্ত গোপনে – পার্থ দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *