জল মাটি আগুনের উপাখ্যান – আবুল বাশার

›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  

……শাড়ি-পরা শিমুল নাভির গর্ত দেখতে দেয় না। তলপেটটা কি সামান্য ঠেলে ওঠেনি । এই জন্যেই সালােয়ার-কামিজ পরেনি।….

……..—আমাকে একটু ব্যাকে নেবে মদনদা ? বলে শিমুল মদনের হ্যান্ডেল ধরে নিস্পাপ ভঙ্গিতে সম্মুখে এসে দাঁড়াল। চুলে শ্যাম্পুর গন্ধ, শরীরে চন্দন। ধক করে শ্বাসে ঠেলে এল। রসবতী খেজুর গাছের মাথার মৌজের গন্ধে চন্দন মেশালে এবং বকুল দ্রব করলে যা হয়, সেই মূর্ত অবয়ব, আজ তার নাভির উপরে নীচে মৃদু রােমের আভায় সুগােল গহ্বর প্রকাশিত, কারণ ওখানে তেরছে এসে ঠাকুরের দীপালােক, গলিত ঘি-তেলের জ্যোৎস্না লেগেছে। আকাশে চাঁদ টই দিচ্ছে, নীচে জাগ্রত বাসন্তী যৌনতা।……

……..স্ত্রীদের ব্যবহৃত হাতিয়ার ভৈরবের মাটিকে পিটিয়ে চলে রাতেও। দানাে মদনের বাঁজা বউয়ের গতর ঢলিয়ে ওঠে। গায়ে ঘাম, কপালে ঘাম, গলা বয়ে নামা বুকের উপত্যকা এবং স্তনদ্বয়ের খাঁড়ি চুইয়ে যাওয়া ঘাম—সবই দেখে, এক্ষণে মদন দেবনাথ। মনের মধ্যে ছবি দেখা, হুতােশি ছবি।……

……..মদন ভাবছিল, মিতবউ যখন বাতায় ঝােলা দড়ি ধরে মাটির লেই লাথিয়ে চলে তখন কী কী ঘটনা হয় তার শরীরকে ঘিরে। বেশ বড় বড় বুক দুটো কাপড়ের আড়ালে উছলে উছলে নড়তে থাকে। বালির মিশেল দিতে দিতে মাটিকে লাথানােপায়ের ফর্সা গােছ, মৃদু রােম, আরও উপরে ধবল মসৃণতা, উঠোনে কুকুরের জিভের মতাে দৃষ্টি লেলিয়ে বসে বিড়িফোঁকা মদন ভেবেছে একদিন সে ঝাপিয়ে পড়বে বউটার উপর।

এ রকম সেক্সি বউ কটা আছে দিগরে ? এদিকে মিতে তাে কোমরধসা, দু’বছর আগে চাকপুজোর ফুল পাড়তে গিয়ে ধসে গেল।……..

………চাকের ভক্তির উপর, আসনের উপর, নারী বসেন, নাম মৃত্তিকা। তীব্র ঘূর্ণনে পাকে পাকে উঠে দাঁড়ায় নারীদেহ। চাপে চাপে বসে যায়। বোঁটায়, স্তনে, গলায়, কোমরে, নাভিতে, উরুতে, যােনি-জঙ্ঘায়, পেলব-পায়ে নেচে ওঠে মাটি ; আঙুল, আঙুলের খাঁজ কী দুঃসহ শিল্পী-পুরুষের ; চিরকাল কাঁদায় মৃত্তিকাকে। নারী কাঁদবে বলে জলে ভেজে, রজঃরসে স্ফীত হয়, শুয়ে পড়ে, কাত হয়, কোমর বাঁকায়, চিত হয়–সব হয়। নারী কি শুধু কামকেন্দ্র, আর কিছু নয় ?……..

……..দু’হাত উধ্বে তুলে মাথার ঝােড়া ধরে গুহার কাছে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপছে মৃন্ময়ী। একবার দুবার জলের পথে ভুল পা ফেলে হড়কে গভীর জলে চলে গিয়ে কপাল অবধি ডুবে গিয়েছিল। চুল ভিজে গিয়েছে। অনেকটা জল ঢুকেছে পেটে। কাপড় ভেজা। বুকের ভেজা পাতলা কাপড়ের তলে পুষ্ট বুক চাঁদের আলােয় স্পষ্ট। কাঁধের দু পাশ বেয়ে দড়ির মতন নেমেছে ভেজা শাড়ি। ব্লাউজ নেই। ফলে বাহুমূল নিরাবৃত। পিঠেও কাপড় ঠিক নেই, উপরে ঠেলে লেপ্টে লেগে রয়েছে। ফাঁসের ঝুঁটি কাঁধের উপর খাড়া এবং প্রায় চুড়াে হয়ে ঠেলে উঠতে চাইলেও ভিজে বাবুইয়ের বাসায় মতন সেঁতিয়ে আধখােলা হয়েছে।

গালে ভেজা চুল লেপ্টানাে। চোখে ভয় আর কাজল। কপালে, নাকের গােড়ায়, ঠোঁটে, গলায় জলের ফোঁটা। অথচ ঠোট শুকনাে। মদনের এখন মিনুর অধরকে ওষ্ঠ ও অধর দিয়ে উষ্ণ আর রসাল করতে তীব্র বাসনা হয়। স্নায়ুতে চরম উত্তেজনা আগুনের খড় ধরে পুড়ে যাওয়ার মতাে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ছুটছে।……..

……মৃন্ময়ী জানে না উঠোনে কে এসে দাঁড়িয়েছে। পাল বাড়িতে নেই। আগুন উসকে দিয়ে বাজারে গেছে কী একটা আনতে। একা পােন আগলাচ্ছে মিনু পাল। ওর দুই কাঁধের দু’পাশে জড়াে হয়ে নেমেছে দড়ির মতন শাড়ির বহর। একটি বুক সম্পূর্ণ প্রকাশিত, তাতে লেগেছে কৃষ্ণচূড়া রঙের আগুনের জিহ্বা। সমস্ত ফসা মুখে নিস্পাপ আগুন। স্কন্ধে, গলায়, থুতনিতে আগুনের উষ্ণ ফাগ। ঘাম চিকচিক করছে। আগুনের এমন ভয়াবহ তাপে কী সুন্দর দেখাচ্ছে মিতবউকে।

…….মদনকে ঘরের চৌকির উপর বসাল গা ধরে মৃন্ময়ী। ঘরের তাকে ক্ষীণ শুভ্র দীপালােক। বাইরে সন্ধ্যার আকাশে স্নিগ্ধ চাঁদের বাঁকা ফালি। একটি কেমন ঘােরলাগা কিরণ, আঁধারকে মেজে ঈষৎ পরিপাটি করেছে। ঘরে ছায়ার মতন বসেছে ওরা।

ওই দীপালােকে গায়ের বসন সম্পূর্ণ ফেলে দিল মিতবউ। বললআমাকে নেবে ? সব রাগ, সব অপমান, সব জ্বালা যদি মেটে আমি রাজি ! আর আমার কিছুই দেওয়ার নেই তােমাকে।

– মিতিন! – বলাে !

– আজ যে কিছুই নেই আমার। সব চলে গেছে। চাইলে আর কিছুই দিতে পারব না।

– তােমার অন্তর, তা-ও কি নেই ? – আমি অভিশপ্ত মিতবউ।

– যে-পাপে পুড়েছি, সেই পাপ আজ সত্য হােক নাম! বলে মৃন্ময়ী দুহাতে নাম মদনকে জড়িয়ে ধরে বুকের দিকে টানল। উঠে দাঁড়িয়ে নামের মাথাকে নগ্ন বুকে চেপে ধরল। শিশুর ঠোঁটের মতন নামের ঠোট নগ্ন বুকের বৃন্ত খুঁজে নিতে চাইল। মৃন্ময়ী আশ্চর্য হল, এই দুবৃত্ত এক শিশু ছাড়া কিছু নয়। নারীসঙ্গের কোনও অভিজ্ঞতাই লােকটার নেই। হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাইত জোর করে ! তখন একে দস্যু মনে হত ! | এ মুহূর্তে অনেকটাই শিশুর বিস্ময় আর শিশুরই দস্যুতা যেন। বুকের সঙ্গে চেপে শিশুকে যেভাবে অন্তরে মেশাতে চায় মন, মৃন্ময়ীর তেমনই আকাঙক্ষা হয়।

নামের রাগ নেই, অপমানের জ্বালা নেই, ক্ষুধার্তও মনে হয় না একে, কেবলই এক শান্ত দুর্মর পিপাসা শরীরে জড়ানাে। শরীর কখনও কি অন্তর হয়ে ওঠে। চাকের মাটির মতন শরীরই অন্তরময় হয়! সামান্য বিদ্যা হলেও মাটির এই স্বভাব তাে মৃন্ময়ীর চেনা। এ উপমা তার কাছে কঠিন নয়।

তা হলে কি নারী তার পুরুষের দেহকে অন্তর রূপে পেতে চায় চিরকাল ! এত কোমল কেন নামের দেহ! এত হালকা, এত নম্র, এত আলাদা !

নামের মিলন-মুহূর্তে এবং মিলন শেষে মনে হল, নারীদেহ কি এতই সকৃতজ্ঞ হয় !……

……..চাঁদ এক উত্তম প্রকাশক। কিন্তু তবু দুই নরনারী গােপন। চিত হয়ে শুয়ে পড়ে মৃন্ময়ী। দুই জানুর মধ্যে নেয় নামকে। কাপড় তার জড়াে হয়ে কোমরে নেমে আসে। নদী থেকে গােপন হাওয়া এসে তার গােপন অঙ্গ স্পর্শ করে হিম-উষ্ণ মদিরতায়। নাম কুক্ষির মাটি খামচে নেয় মুঠো করে, মিতিনের বুকে মাখাতে মাখাতে মিনুর শরীরকে চরম উত্তেজনার স্তরে তুলে দেয়। নদীর কুক্ষি শীৎকারে, সম্ভোগে ব্যাপৃত-বিহুল। ওদিকে ঝােড়া খুপড়ি নিয়ে এতক্ষণে মদন পাল। গাভলায় নেমে এসেছে। তার আগে চারবাবলাতলায় উবু হয়ে বসে পেচ্ছাব করতে করতে দেখেছে বাবলার গায়ে সাইকেল হেলান দেওয়া।…….

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *