শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

›› বই এর অংশ / সংক্ষেপিত  

……….প্রভু! দ্রৌপদী এতক্ষণ অন্তরালে ছিলেন। এইবার তিনি তার ভ্রাতাদের সঙ্গে আসছেন। তিনি কে আপনি জানেন। অর্জুন আপনার সখা, দ্রৌপদী আপনার সখী। যজ্ঞাগ্নি থেকে তার জন্ম। কী কাণ্ডই না তখন হত এই ভারতে। হরিদ্বারে গঙ্গার তীরে মহাপ্রাজ্ঞ, মহাতপস্বী ভরদ্বাজ মুনির আশ্রম। আকুমার ব্রহ্মচারী, তিনি একদিন গঙ্গায় স্নান করতে গেছেন। সেখানে আগে থেকেই অপ্সরা ঘৃতাচী স্নান করছিলেন। তীরে উঠে দাঁড়িয়েছেন। এমন সময় তীব্র বাতাসে তার বস্ত্র উড়ে গেল। তিনি সম্পূর্ণ উলঙ্গ। আকুমার ব্রহ্মচারী ভরদ্বাজ সেই অপূর্ব নগ্ন নারীশরীর দর্শনে এতটাই উত্তেজিত হলেন রেতঃপাত হয়ে গেল। সেই বীর্য তিনি একটি কলসে ধারণ করলেন। যজ্ঞকলসে বীর্য। যজ্ঞকলসকে বলা হয় দ্রোণ। ধীমান ঋষি ভরদ্বাজের সেই অমােঘ বীর্য থেকে দ্রোণের জন্ম হল। ভরদ্বাজের সখা রাজা পৃষতেরও এই একই সময় দ্রুপদ নামে একটি পুত্র হল।……..

……..‘এরপর যজ্ঞবেদি হতে প্রকাশিত হলেন কুমারী পাঞ্চালী। দেখলেই বােঝা যায়, কন্যা সৌভাগ্যবতী, অঙ্গসমূহ দর্শনীয় লােচন অতিকৃষ্ণ বিস্তৃত। ব্যাসদেবের বর্ণনা,

শ্যামা পদ্মপলাশাক্ষী নীলকুঞ্চিত মূর্ধর্জা।
তাতুঙ্গনখী সুশ্চারু পীনপয়ােধরা।।
মানুষং বিগ্রহংকৃত্বা সাক্ষাদমনবর্ণিনী।
নীলােৎপলসমাে গন্ধো যস্যাঃ ক্রোশাৎপ্রধাবতি।।
যা বিভর্তি পরং রূপং যস্যাঃমাস্তাপমা ভুবি।
দেবদানব যক্ষাণামী পিসতাং দেবরুপিণীম্।।

‘প্রভু! ব্যাসদেব পাঞ্চালীকে কত যত্নে গড়েছেন। তিনি কৃষ্ণবণা, নয়নদ্বয় পদ্মপত্রের মতাে বিশাল, কেশ নীলবর্ণকুঞ্চিত, নখসমূহ, তাম্রবর্ণ, উন্নত ভ্রূযুগল ও স্তনদ্বয় সুন্দর ও স্থূল। সাক্ষাৎ অমরকন্যা যেন মানুষের রূপ ধারণ করে অবতীর্ণ হলেন। তার শরীর থেকে নীলপদ্মের গন্ধ এক ক্রোশ দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল।……..

…….‘ওই দেখুন, পদ্মের মতাে কোমল দুটি করে নিজের মুখ ঢেকে মৃদুভাষিণী কৃষ্ণা ফুলে ফুলে কাঁদছেন। এই দৃশ্য ব্যাসদেব চিরকালের জন্য ধরে রেখেছেন, ‘পাঞ্চালরাজকুমারী দ্রৌপদী তার পীনােন্নত গােলাকার শুভলক্ষণ স্তনদ্বয়কে দুঃখজন্য অশ্রুবিন্দু সমূহের দ্বারা অভিষিক্ত করিলেন।……….

………রুক্মিণী চলেছেন মন্দিরে পুজো দিতে। মন্দির দেখা যাচ্ছে, আর সামান্য দূর। এমন সময় আপনি তাকে দেখতে পেলেন। এ কী রূপ! যেন প্রদীপ্ত অনল শিখা, যেন মূর্তিমতী পৃথিবী, যেন চন্দ্রের কিরণমালা। তার বর্ণ শ্যামশুক্ল। চোখ দুটি দীর্ঘ। অপাঙ্গ ওষ্ঠ। আঙুলের নখ তাম্রবর্ণ। হৃদুটি অতি মনােহর। কেশজাল নীল, কুঞ্চিত। নিতম্ব ও পরােধর অতি পীন। দন্তগুলি সমান, সূক্ষ্ম ও অতিশয় শুভ্রবর্ণ। মুখমল পূর্ণ চন্দ্রের মতাে।……..

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *