আলেফ – পাওলাে কোয়েলহাে

›› অনুবাদ  ›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  

অনুবাদঃ প্রিন্স আশরাফ

…….আমার বিপরীতে ইয়াে নয়, হিলাল দাঁড়িয়ে। আমি ওর হাতকে আঁকড়ে ধরলাম। তারপর ওর ব্লাউজের বােতাম খােলা শুরু করলাম।…..আমার কল্পনা আবারও অনেক দূর থেকে ঘুরে এলাে। আমি আবার বিছানায় ফিরে গেলাম। ওর ব্লাউজ খুলে ফেলেছি। ওর ছােট ছােট স্তন আর শক্ত স্তনবৃন্ত বেরিয়ে পড়েছে। আমি ঝুঁকে স্তনবৃন্তে চুমু খেলাম। ও আনন্দ আর উত্তেজনায় ছটফট করতে লাগল।……কিন্তু তৎক্ষণাৎ আমার মনে হতে থাকে আমরা চুম্বন করার সময় ও আমার ঠোট কামড়ে ধরেছে। আমার হাঁটু জোড়া এখন আর জ্যর বাহুর নিচে নেই। ওর হাত আমাকে কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরেছে। ওর নখ আমার পিঠে আঁচড়ে দিচ্ছে। আমি বাম কানে ওর গােঙানির শব্দ শুনতে পাচ্ছি। ওর দাত আমার ঠোট কামড় ছেড়ে দিয়েছে। ওর মাথা আস্তে করে এক পাশে ঘুরে গেল। ও আমাকে চুম্বন করল।………ধীরে ধীরে আমার কল্পনা সেই বিছানা থেকে, ছােট্ট স্তন আর শক্ত স্তনবৃন্তের নারী থেকে, যে আমার ট্রাউজারের চেন খুলছিল, একই সাথে আমার পুরুষাঙ্গের ওপর চাপড় দিচ্ছিল। আমি নিজের সাথে লড়াই করতে লাগলাম। যেকোনাে মূল্যে আমাকে এ লড়াইয়ে জিততে হবে। তাতে যদি আমাকে বারবার উঠতে আর পড়তেও হয়। চুম্বন কখনাে দেয়া হবে না, চরম যৌনানন্দ কখনােই আসূকনা। বুনাে, আবেগী, রােমান্টিক, বেপরােয়া যৌনতা সবকিছুই চলে যাবে।……..

……….‘তােমার অন্য কাপড়-চোপড়ও খুলে ফেল। মেয়েটি এখনাে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ও হাত তুলে ওর নীল শেমিজের দড়ি ধরে টান দিয়ে খুলে ফেলল। এই শেমিজই ওর শরীরটাকে ঢেকে রেখেছিল। এখন ওটা মেঝেতে পড়ে গেল। ওর চোখ আমার দিকে অনুনয়ের দৃষ্টিতে তাকাল যাতে যা ঘটছে তা থেকে আমি ওঁকে রক্ষা করতে পারি। আমি মাথাটা একটু নুইয়ে সাড়া দিলাম। বােঝাতে চাইলাম চিন্তার কোনাে কারণ নেই সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে।
‘শয়তানের চিহ্ন খুঁজে দেখ। তদন্তকারী আমাকে বনে।
একটা মােমবাতি তুলে নিয়ে আমি মেয়েটার কাছে গেলাম। ওর ছােট্ট স্তনের স্তনবৃন্ত বেশ শক্ত হয়ে দৃঢ় হয়ে আছে। আমি বুঝতে পারলাম না কেন এমনটি হয়েছে। ওর ঠাণ্ডার মধ্যে এক দঙ্গল পুরুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওর গায়ের লােম খাড়া হয়ে আছে। উঁচু জানালার ভারী কাচের মধ্য দিয়ে খুব কম আলােয় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে। কিন্তু সেই আলােতে ওর সাদা ত্বক যেন অন্যরকম দ্যুতি ছড়াচ্ছে। আমার খুব জোর দিয়ে দেখার কিছু নেই। আমি ওর যৌনাঙ্গের দিকে তাকালাম। আমি খুব যৌনতাড়িত হয়ে পড়ি। আমি প্রায়ই ওর যৌনাঙ্গে চুম্বন করছি এরকমটি কল্পনা করতাম। আমি ওর যৌনকেশের নিচে শয়তানের চিহ্ন দেখতে পেলাম। বাম পাশের দিকে। ব্যাপারটা আমাকে ভয় পাইয়ে দিল। সম্ভবত তদন্তকারীই ঠিক। মেয়েটি শয়তানের সাথে যৌন সংসর্গ করেছে। আমার মধ্যে ভয়, দুঃখ, রাগের মিশ্র অভিব্যক্তি প্রকাশ পেল। আমার নিশ্চিত হওয়া দরকার। আমি ওর নগ্ন শরীরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলাম। আবারও সেই চিহের দিকে তাকালাম। একটা ক্রিসেন্ট আকৃতির দাগ।
‘আমার জন্ম থেকেই এই জন্ম-দাগটি আছে।’……..
……..ঠাণ্ডা আর সেতসেঁতে সত্ত্বেও ওর শরীর ঘামে ভেজা। অন্য মেয়েদের মতাে চিৎকার করেনি। ও খুব কমই পালানাের চেষ্টা করেছে। গার্ড শেষ পর্যন্ত ওকে ধরে ফেলতে পারল। সেই সময় ওর ছােট্ট স্তনে স্পর্শ করল। চুলে যৌনাঙ্গ ঢেকে গেছে।…….
…….আমি বিছানার মাথার কাছে গেলাম। বহু ব্যবহারে জীর্ণ কাঠের ওপরে আমার হাত রাখলাম। আরেকজন মানুষ সামনের দিকে ঝুঁকে ছিল। নগ্ন মেয়েটির দুই পা ফাক করে বিছানার ওপর চিত করে শুইয়ে রাখার দৃশ্যটা একসাথে নারকীয় এবং স্বর্গীয়। শয়তান আমাকে লােভ ধরিয়ে প্রলুব্ধ করছিল।………

…….হিলাল লাইটের সুইচের কাছে হেঁটে গেল। ভেঙে যাওয়া বাত্বের কারণে। শর্টসার্কিট হয়ে গেছে। রুম অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে। ও বেড সাইড টেবিলের কাছে গিয়ে টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে দিল। এখন আপনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।’ আমার চোখ আলােয় অভ্যস্ত হয়ে গেলে, আমি দেখতে পেলাম ও পুরােপুরি নগ্ন হয়ে দাড়িয়ে আছে। ওর দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত। ওর দুই হাতে তীরধনুক আর ভায়ােলিন।…..

………আমি ওকে সবকিছুই খুলে বললাম। সেই ভূগর্ভস্থ কক্ষে যা কিছু ঘটেছিল তার সবকিছুই বর্ণনা করে বললাম। আমার নিজের কাপুরুষতা। সেই মেয়েটি যাকে এখন ঠিক এই মুহূর্তে হিলালের মতােই লাগছিল? নগ্ন। শুধু ওর হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। তীরধনুক অথবা ভায়ােলিন থেকে ও অনেক দূরে ছিল। ও নীরবে শুনছিল। ওর দুই হাত প্রসারিত ছিল। আমার প্রতিটি কথা শুনছিল। আমরা দুজনই রুমের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ছিলাম । ওর শরীর এতটাই সাদা যে মনে হয় যেন পনেরাে বছরের সেই কর্ডোভার মেয়েটি। আমি ওকে রক্ষা করতে পারব না। আমি জানি সেও তার বন্ধুদের মতাে অগ্নিশিখার মধ্যে। ভস্মীভূত হয়ে যাবে। এ ঘটনা একবার ঘটেছে। বারবার ঘটবে। দুনিয়া যত। দিন টিকে থাকবে ততদিন ঘটবে। আমি ওর কাছে উল্লেখ করেছিলাম ওই মেয়েটির যৌনকেশ ছিল। যাই হােক, ও তা শেভ করে ফেলেছে, যা আমি ঘৃণা করি, যাতে মনে হতে পারে সব পুরুষই এরকম একটা মেয়ের দিকে তাকাচ্ছে যে যৌন সংসর্গ করেছে। আমি ওকে এরকমটি আবার না করতে বললাম। ও আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করল আর করবে না।……“আপনি কি আমাকে কামনা করেন? “হ্যা। আমি তােমাকে চাই। আমরা এই গ্রহের এরকম অদ্বিতীয় এক জায়গায় একাকী আছি। তুমি আমার সামনে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তােমাকে খুব বেশি কামনা করি।’……..আমি রুমের একটা চেয়ারে বসে পড়লাম। ওকে আমার কোলের মধ্যে বসতে বললাম। অত্যধিক গরমের কারণে ওর শরীর ঘামে ভেজা। ও ওর হাতে ভায়ােলিন আর ধনুক ধরে রেখেছে।……হিলাল উঠে দাঁড়িয়ে বাজাতে শুরু করল। স্বর্গবাসীরা এই সংগীত শুনছে। দেবদেবীরা আমাদের সংগীত শুনতে স্বর্গ থেকে নেমে আসছে। তারা দেখছে এই নগ্ন মেয়েটি কিছু সময় মূর্তির মতাে দাঁড়িয়ে কিছু সময় শরীরটাকে মিউজিকের তালে দুলিয়ে ভায়ােলিন বাজাচ্ছে। আমি ওকে কামনা করলাম। ওর সাথে ভালােবাসাবাসি করলাম। ওকে কোনােরকম স্পর্শ না করেই বা ওকে অর্গাজম না দিয়ে। ভালােবাসলাম। এ কারণে নয় যে আমিই জগতের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষ, কিন্তু ওভাবেই আমাদের শরীর মিলিত হয়—দেবীরা তা প্রত্যক্ষ করেন।……

…….সেই রাতে, ও আমার পাশে শুয়ে ছিল। আমার হাত ওর স্তনের ওপরে, আমরা নিঃশব্দে শুয়ে রইলাম। এরকমভাবে শুয়েছিলাম যেন আমাদের আত্মা একে-অন্যকে চেনে। কথার কোনাে দরকার নেই। শুধু শারীরিক সংযােগই যথেষ্ট।……….

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *