প্রেম আমার প্রেম – সা’দত হাসান মান্টো

›› অনুবাদ  ›› উপন্যাসের অংশ বিশেষ  

অনুবাদঃ আখতার-উন-নবী

…….একবার বাজারে একটি যুবতী মেয়ে দেখেছিলো সে। মেয়েটির উচু বুক দেখে তার মনে হয়েছিলো বুঝি দু’টি বড় বড় শালগম তার ঢোলা কুর্তার ভেতরে লুকিয়ে আছে। শালগম সে খুব পছন্দ করে। শীতকালে মা যখন লাল লাল শালগম কেটে ছাদে শুকোতে দিতত, সে প্রায়ই দু’এক ফালি কাচা শালগম তুলে নিয়ে খেতাে। মেয়েটিকে দেখেও তার জিহ্বায় সেই শালগমের ফালি চিবোনাের স্বাদ এসে পড়ে।…….

…….হামিদা বেশ সুন্দরী সরল প্রকৃতির মেয়ে। বয়েস বড় জোর পনের। সব সময় হাসিমুখে থাকে। ছিপছিপে গড়নের, দেখতে মনে হয় সাদা চিনির তৈরী পুতুল। ঝরঝরে, হাত লাগালেই বুঝি গুড়ো হয়ে যাবে। ছােট্ট বুকের ওপর স্তনজোড়ার উচ্চতাকে দেখতে মনে হয় যেন কোন হাল্কা রাগের ভেতর দু’টি সুর অনিচ্ছা সত্বেও চড়া হয়ে গেছে।……….

……….রাজকুমারীকেই, যে ওদের দুজনের চেয়ে ছােট—তার খুব পছন্দ। ওর ঠোট দুটো, শ্বাস-প্রশ্বাস কম বলে যেগুলাে সব সময়ই ঈষৎ খােলা থাকে, তার বড় পছন্দসই। দেখে তার কাছে সব সময় মনে হয় যেন একটা চুমু ঠোটগুলােকে স্পর্শ করেই সামনে বেরিয়ে গেছে। একবার রাজকুমারীকে, যার বয়েস সবেমাত্র চৌদ্দর কোঠা অতিক্রম করছে—এদের তিন তলার স্নানাগারে স্নান করতে দেখে। বাড়ীর ঝর্ণা দিয়ে সাইদ যখন ওকে প্রথম দেখে তখন তার কাছে মনে হয় যেন নিজেরই কোন অস্পশ্য কল্পনা মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে সামনে এসে দাড়িয়েছে। সূর্যের মােটা মােটা কিরণ, যার ভেতর সুন্দর সুন্দর অসংখ্য অণুপরমাণুর সােনানী তার বিচ্ছুরিত হচ্ছিলো–ওর নগ্ন দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই কিরণগুলাে ওর ফুস। দেহখানাকে যেন সােনার পাতে মুড়ে দিয়েছে। বালতির ভেতর থেকে মগ বের করে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ও যখন শরীরের ওপর পানি ঢালতে শুরু করে তখন ওকে সােনার পুতুলের মতাে দেখাচ্ছিলো। বড় বড় পানির ফোঁটা পড়তে থাকে ওর শরীর থেকে টপ টপ করে, যেন গলে গলে পড়ছে।……..

……..সেই……সেই মেয়েটি, অর্থাৎ সওদাগরের চাকরানী, লাইট পােষ্টের নীচে দাঁড়িয়ে আছে, স্রেফ একটি সাদা গেঞ্জি গায়ে। বিদ্যুতের সাদা আলােতে মনে হয় যেন মেয়েটির শরীরে বরফের পাতলা স্তর জমে আছে। গেঞ্জির নীচে তার বেঢপ স্তনযুগল নারকেলের মতো ঝুলে আছে। মেয়েটি এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন এইমাত্র কারো সাথে কুস্তি লড়ে এসেছে।………

……..রাজুর কাধ পর্যন্ত খােলা নগ্ন বাহু দু’টি বড় বিশ্রীভাবে ঝুলে আছে। পুরুষােচিত গেঞ্জির উন্মুক্ত গােল গলা দিয়ে ওর আধাে উন্মুক্ত ডবল রুটির মতাে মােটা নরম স্তনযুগল এমনভাবে বাইরে উকি মারছে যেন তরি-তরকারীর কোন ভাঙ্গা টুকরি থেকে মাংসের ডেলা বেরিয়ে পড়েছে। অধিক ব্যবহারের দরুন পাতলা গেঞ্জির নীচের অংশ কুচকে উপরের দিকে খিচে আছে, ফলে ওর আটার খামিরার মতাে স্ফীত উদরের ওপর নাভীর গর্তটা এমনভাবে দেখা যাচ্ছে যেন কেউ আঙ্গল বসিয়ে দিয়েছে।………

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *