…তেমন সীতার আঁকশি দিয়ে পাবলিক টেনে আনতে হবে। এল নতুন সীতা। লীলবতী কাষ্ঠ বেশ নাদুসনুদুস। রং ফরসা। চোখজোড়া টানা টানা। কাজল পরিয়ে দিলে তার মোহিনী জৌলুস লকলকিয়ে ওঠে। দাম একটু বেশি। তা হোক, সরেস মালের দাম তো বাড়বেই।…
….এর মধ্যে কেলোর কীত্তি। হারমোনিয়ামের নিবারণখুড়োর মতিগতি ভালো ঠেকে না। বয়েস ভাটির দিকে ঢলে পড়লে কী হয়, ঢলানির দিকে পাক্কা ঝোঁক এখনও। জুল জুল করে কেমন তাকা লীলাবতীর দিকে। তৈবীচারা না সোনাডাঙা কোথায় নাকি চানের সময় ভুলুক মেরেছিল মানুষটা। ভিজে কাপড় ঝাপট মেরে পুরুষ্টু বুক বেসামাল হয়ে উঠেছিল। নিবারণখুড়ো চুকচুক করে বুঝি পুরে দুধের ভাণ্ডদুটোই সাবাড় করেছিল চোখে। ভয়ে লজ্জায় পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে পড়েছিল লীলাবতী। বেলেল্লাপনা দেখে একসময় মুখঝামটাই মেরেছিল। বলেছিল, ‘কী ভীমরাই ধরল দাদু–সরে যাও। পবন দাদা দেখলে কিন্তু কপালে খুয়াড় আচে।’
এক লহমায় মুখের নকশা পালটে যায় বুড়ো নিবারণ দত্তের। গলায় ঝাঁঝ এনে তরপানি জুড়েছিল, ‘ম্যালা পবন-পবন দ্যাকাসনে তো। বলি ও কি তোর ভাতার? নাকি নাঙ, শুনি? ও কি তোকে এমনি এমনি পুষচে নাকি-অ্যাঁ ! ও-সব ফষ্টিনষ্টির কতা কেউ বুজতে পারে না ভেবেছিস? পালার রাম-সীতে গভীর রাতে লবকুশের জন্যে হন্যে হয়ে পড়ে যায় সে কি বুঝি না ?’ একটু থামে নিবারণ বুড়ো তারপর গলা নামিয়ে বলে, ‘বরঞ্চ বলি কী, অ্যাটা স আয়। পয়সা রুজগার কত্তে এয়েচিস – নিবি খেপ পিচু বল ?”
এ সব নোংরা কথা শুনলে কার না মেজাজ ঝাল মারে? কিন্তু বুদ্ধি করে ছুনে ও পথ ধরে না। হালকা করে বলে, ‘সে সুমায়মতো বলব বুনি পাইলে তো যাচ্চি না। অ্যাকুন পত ছাড়ো দিকি।
ভরসা পায় তিন-কাল- খাওয়া নিবারণ । এ ভাবেই তো হয়—একটু একটু করে খেলিয়ে তারই রুই-টাই ডাঙায় তুলতে হয়। সুরুৎ করে মুখের জমা জল পেটে পাচার করে হাসি মুখে হড়বে যার পথ থেকে।
যেমনটা ভাবা তেমনটা করা। নিশুতি রাতে রামচন্দ্র সীতাদেবীর শয্যায় ঢুকে পড়ল। জেগেই শুয়ে ছিল ছুনে এমন একটা সময়ের অপেক্ষায়। আলগোছে উঠে বসল। মেয়েমানুষের এত কাছাকাছি জীবনে এই প্রথম। পবন কী বলবে কী করবে বুঝতে পারে না। কেমন তালগোল পাকিয়ে যায়। জবুথবু মেরে চুপটি করে বসে থাকে।…..
…..ছুনে বোধহয় একটু কাছে আসে। কেমন করে যেন তাকায়। তারপর পবনের দাবনায় হাত রেখে দু-চারবার ঘষটায়। জ্যাবজেবে গলায় বলে, ‘কী যেন করা বললে, কও। ‘
‘হ্যাঁ, কবো তো। কিন্তু কী যেন কবো সেটাই তো অ্যাকুন—’
“বুজেচি।’ ছুনে দুহাতে পবনকে ধরে শুইয়ে দিল। নিজের বালিশটা সরিয়ে পবনের ঘাড়ের নীচে গুঁজে দিল। ‘শোও, আমি তুমার সেবা করি।’ ছুনে এবার মানুষটার উদোম বুকে হাত বোলাতে থাকে। ‘কও, আর কুতায় সেবা করব?”
“ইটু নিচু পানে।”
ছুনে এবার ওপর ভুঁড়ি জুড়ে হাত বোলায়।
‘আরিট্রু নীচে নামতে পারো না ? ”
“কেন পারব না। পুরুষ মানুষ কী চায় আমি জানি।’ ‘কী করে জানলে গ? তুমার তো বিয়েই হয়নি।’ ‘মাসতুতো জামাইবাবু সব শিকিয়েছে। তার কাচেই তো আমার নাড়া বাঁদা।’ ফিক করে হাসল লীলাবতী। একসময় তলপেটে হাত নামায়। লুঙ্গির গিঁট হাতে পায়। কী করবে বুঝতে পারে না। থমকায়। নিজের গরম নিঃশ্বাস টের পায়। নিঃশ্বাস না লু! ছুনে এক টানে ব্লাউজটা খুলে ফেলে। পবনের হাত দুটো পাকড়াও করে ওপরের দিকে তুলতে থাকে। ‘ন্যাও, কী করবা করো।’
কিন্তু পবন মন্ডল কিছুই করতে পারে না। হঠাৎ কাটা পাঁঠার মতো দারুণভাবে কাঁপতে থাকে। আর তখনই অসহায় গলায় বলে ওঠে ‘যা-যা, হয়ে গেল!’
‘কও কী! অকস্মার ঢেঁকি! এই তুমি মরদ?’ বুঝি খেপে যায় ছুনে। অভিমানী রাগে গজ গজ করে। এক ধাক্কায় পবনকে দূরে ঠেলে দিয়ে বলে, ‘যা ভাগ, হারামি কুতাকার। তুই অ্যাট্টা পুরুষ মানুষ, না খাসি ? ভাগ শ্লা!’…..
