গলনাঙ্ক – সৈকত মুখোপাধ্যায়

›› গল্পের অংশ বিশেষ  

….একটু আগে ফরেস্ট-বাংলোর ঘরের মধ্যেই তপু ওর মুখটা টেনে ধরে অনেকগুলো এলোপাথাড়ি চুম খেয়েছে। এই প্রথম এমন পাগলামি করল ও। তৃণা সেই চুম্বনে কোনো স্বাদ পায়নি, পাওয়ার কথাও নয়।
তপু ওর বুকেও হাত রেখেছিল। তৃণার মনে হয়েছিল, ডুবে যাবার আগে মানুষ যখন খড়কুটো খোঁজে, তখন বোধহয় তার মুঠো এইভাবেই ঢেউ হাতড়ে বেড়ায়। শেষ অবধি তৃণাই কাপড়ের নিচ দিয়ে তপুর বাঁ-হাতটা নিজের ডান স্তনের ওপরে বসিয়ে ওর মুঠোর ওপরে নিজের হাত দিয়ে চাপ দিয়েছিল।
একটু পরেই ধাক্কা মেরে সরিয়েও দিয়েছিল অবশ্য।….

….বড় করে বুক ভরে কয়েকবার শ্বাস টানলো তৃণা। বুঝতে পারলো অনেকদিন বাদে আবার তার ইচ্ছে করছে। তাহলে কি তপুর দু-মিনিটের গুন্ডামি তাকে জাগিয়ে দিয়ে গেল?
তপু? নাকি এই পুরুষালি অরণ্য? ধন্দে পড়ে গেল তৃণা। অরণ্যই হবে। কারণ গায়ে হাত হয়তো তপু এই প্রথম দিল, কিন্তু চোখের স্তবে তো তপু ওকে অনেকদিন ধরেই অভিষিক্ত করে চলেছিল। ঘোরলাগা চোখে তৃণার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতো।
হবার হলে তখনই হত। হয়নি তো।
তৃণা বোঝে তার নিশ্বাস গরম হয়ে উঠছে। টান লাগছে তলপেটে। উরুর ভেতরদিকগুলোয় নিশ্চয় সিঁদুরের ছিটে লেগেছে এতক্ষণে। নিজের অবস্থা দেখে নিজেই লজ্জা পেল তৃণা।….

….কিন্তু একটু বাদেই তৃণা বুঝতে পারল, গত সাত-আটমিনিটে যেটুকু উত্তাপ জমেছিল তার শরীরে, সেটুকুকে সরিয়ে দিচ্ছে একটা ভয়ের ঠান্ডা হাত। এই ভয়টা তার চেনা। এটা তার চাকরির জায়গা, মানে খড়্গাপুর রেসকিউ সেন্টার থেকে তার বুকে ঢুকে গেছে। তৃণা পরিষ্কার বুঝতে পারে, তার উরুসন্ধির পাপড়ির ফাঁকে আজ অনেকদিন বাদে সামান্য যেটুকু মধু জমেছিল, উদ্যোগপর্বেই তা শুকিয়ে গেল। এখন সে আবার শিরিষ-কাগজের মতন শুকনো।….

….হায়রে সিমপ্যাথি, হায়রে আদর। ফুলশয্যার রাতেই বুঝতে পেরেছিলাম, লোকটার জীবনে আমি প্রথম মেয়ে নই। একদম পোক্ত শিকারীর মতন লক্ষ্যভেদ করতে গিয়েছিল। আমি ব্যথায় ককিয়ে উঠেছিলাম। আমার নতুন বর রাগে আর বিরক্তিতে গরজে উঠেছিল – বাইরে থেকে দেখে তো মনে হয় রসে টইটম্বুর। ভেতরে এরকম শুকনো কাঠ কেন?….

…..তৃণা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে বালতি থেকে এক মগ জল মাথায় ঢেলে নিজের বুকের দিকে তাকালো। দেখলো, মসৃণ মোমের মতন ত্বক বেয়ে জলের ধারা নেমে যাচ্ছে। সাহেবি আমলের মার্বেল পাথরের মেঝের ওপর দিয়ে নালি বেয়ে সেই জল বেরিয়ে যাচ্ছে বাইরে।
কোথায় যাচ্ছে ওই জল? নিচের সেই ঝর্নাটায় গিয়ে পড়ছে নিশ্চয়। তারপর?
তৃণা পাগলের মতন মগের পর মগ ভর্তি করে ঠান্ডা জল গায়ে ঢালতে লাগল আর চোখ দিয়ে অনুসরণ করতে লাগল সেই জলের গতি। তার চিবুক, কানের লতি, বাহুমূল, স্তনবৃন্ত আর যোনির ত্রিভূজ থেকে জলের ধারা প্রপাতের মতন মেঝের ওপরে ঝরে পড়ছিল। তারপর নালির গভীরে গুবগুব শব্দ তুলে হারিয়ে যাচ্ছিল….
কেমন করে আবার জানবে? তৃণার ঠোঁটদুটো কৌতুকে বেঁকে যায়। ফেরোমনের কথা জানে না নাকি সে? আজ সন্ধেয় তার শরীরের যৌনগ্রন্থিগুলো থেকে কামনাবিধুর ফেরোমনের অণু ধুয়ে নিয়ে তার স্নানজল এই দুধিয়ার আনাচে কানাচে বয়ে যায়নি নাকি? সেই তো যথেষ্ট সংকেত।…..