মাঝের মানুষ – প্রিতম মুখোপাধ্যায়

›› গল্পের অংশ বিশেষ  

…..হ্যাঙ্গার থেকে কোট তুলে গুছিয়ে নিল হাতের ওপর। আয়নার নিরে তাকাল । বুঝতে পারল একটু বেশিই ভয় পেয়েছে। নিজের শুকনো, কাে ঠোট দুটো পর্যন্ত ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করেছে । ভয়টা কাটানোর জন্য দু বন্ধ করে নবনীতার শরীরটা মনে করতে চেষ্টা করল। এর আগেও অনে সময় এইভাবে পরিত্রাণ পেয়েছে সে। নবনীতার কথা ভেবে বহু বির বাস্তবতা কাটাতে পেরেছে সুব্রত। আশ্চর্য, বিয়ের আট বছর পরও এই একটিমাত্র নারীশরীর একইভাবে আকর্ষক থেকে গেল। আয়নার নিরে চেয়ে সামান্য হাসল সুব্রত। কারণ এমন এক বিপজ্জনক অবস্থার মধেও নবনীতাময় সেই যৌনতার কার্যক্ষমতা এতটুকু কম নয় | মনে করার দুই করল গতরাতের সেই দৃশ্য। ড্রেসিংটেবিলের সামনে নবনীতা । পরনে স্বচ্ছ নাইটি । টুইজার দিয়ে ভ্রুর বাড়তি লোমগুলি তুলে ফেলছে এইটুকুই যথেষ্ট । চিন্তাটা মাথায় রেখে চেম্বারের বাইরে এল সুব্রত….

….রাতে নবনীতা যখন ড্রেসিংটেবিলের সামনে, তখন বিছানায় আধশোয়া সুব্রত পরপর যুক্তিগুলো সাজিয়ে নিচ্ছিল নিজের মধ্যে। বারবার চোখ চলে যাচ্ছে নবনীতার দিকে। দেখছিল টুইজারের চকিত বিকর্ষণ। মৃদু যন্ত্রণায় কুঁচকে ওঠা মুখমন্ডল, নাক। চকচক করছে ঠোঁট ও গালের চূড়াগুলি ।
টুইজার রেখে মুখময় আর এক প্রস্থ ক্রীম ঘষছে নবনীতা । মাথা হেলিয়ে দিয়েছে পেছনে । নৃত্যভঙ্গিতে হাত নেমে আসছে গলায়, ঘাড়ে ও বুকের ঊর্ধ্বাংশে । নাইটির ফাঁকে উপচে ওঠে স্তন। মোহিত দৃষ্টিতে লক্ষ্য করছিল সুব্রত । যৌন আলোর প্রচন্ড ঝলকানিতে ভেঙে যাচ্ছিল সমস্ত যুক্তিবোধ। সুব্রতর মনে হয়েছিল চরম আনন্দের জন্য এই মোহময়ী নারীটিকে তার এখনই দরকার। এই মুহূর্তে এবং যে কোনো মূল্যে। আর সঙ্গে সঙ্গে আয়নার মধ্যে প্রতিফলিত নবনীতার চোখ লক্ষ্য করে বাড়িয়ে দিয়েছিল আনুগত্যের হাসি। বিনিময়ের হাসি।
নবনীতা যেন জানত যে, এইভাবেই সাড়া দেবে সুব্রত ; তাই সেও হেসেছিল। আর পারেনি সুব্রত। নিজেকে অস্বীকার করেই বলেছিল, তাহলে ডাঃ মুখার্জির সঙ্গে কথা বলি । নষ্ট যদি করতেই হয়, লেট করা ঠিক হবে না।
নবনীতার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই । কোমরের কাছে নাইটির বেল্ট খুলে আরো শক্ত করে বাঁধল। তারপর ধীর পায়ে হেঁটে গেল সংলগ্ন বাথরুমে । জুন্টা ঘুমোচ্ছে একপাশে । রাতের আলো জ্বেলে শুয়ে পড়ল সুব্রত । প্রায় বারো ঘন্টা ধরে যে যুক্তিগুলি সে গুছিয়ে নিয়েছিল এখন সবই তার কাছে অর্থহীন এবং বাড়তি বলে মনে হচ্ছে। বাথরুম থেকে নবীনতা ফিরে আসার পর সেই নবলব্ধ আনুগত্যের সুরে বলল, নীতু, প্লীজ আর রাগ কোরো না লক্ষ্মী মেয়ে ।
আর প্রত্যুত্তরে লক্ষ্মী মেয়ের মতই তার জাদু শরীরটিকে মেলে ধরেছিল নবনীতা। এবং বিশেষ পুরস্কার বরূপ অন্য দিনের থেকে আরো সক্রিয়ও হয়েছিল সেই রাতে। চোখ বুজে রাতভোর সেই সম্ভোগদৃশ্যের কথা চিন্তা করছিল সুব্রত । গাড়ি চলছে। এখন অনেকটা ঝরঝরে লাগছে । ফুরফুরে হাওয়া খেলে যাচ্ছে চুলের অভ্যন্তরে। ঘনিয়ে আসা ভয়টাকে কাটাতে পেরে বেশ তাজা বোধ হচ্ছে।…..