নুবিয়ান, নাইলাহ, এবং মেহেদি

›› অনুবাদ  ›› সম্পুর্ণ গল্প  

অনুবাদ: অপু চৌধুরী

প্রাচীনকালে নীল নদের তীরে, মিশর ও সুদানের মধ্যবর্তী এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নুবিয়ান সভ্যতা সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। তাদের সংস্কৃতি ছিল প্রাণবন্ত, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ—যা যুগের পর যুগ ধরে বিশ্ববাসীর কল্পনাকে মুগ্ধ করে এসেছে। বর্তমান যুগে, বাহাদুর নামের এক আধুনিক স্থপতি নুবিয়ানদের এই মোহনীয় আকর্ষণে বিমোহিত হন। প্রাচীন জ্ঞানের একনিষ্ঠ এই সাধক অতীতের বিস্ময়গুলো স্বচক্ষে দেখার মানসে মিশরে পাড়ি জমান। কিন্তু মিশরীয় সভ্যতার বিশালতায় অবগাহন করেও বাহাদুর সুদানের প্রতিবেশী ভূমির প্রতি এক অদম্য চৌম্বকীয় আকর্ষণ অনুভব করছিলেন, যেখানে নুবিয়ানদের প্রকৃত বাস।

সেই কৌতূহল মেটাতে বাহাদুর সুদানে ভ্রমণ করেন। খার্তুমের ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ রাজপথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় নাইলাহ নামের এক তরুণী ও প্রতিভাবান অনুবাদকের সাথে। আরবি ও নুবিয়ান—উভয় ভাষাতেই নাইলাহর গভীর দখল বাহাদুরকে তাঁর জ্ঞানান্বেষণে এক অমূল্য দিশারী উপহার দেয়। নাইলাহর হাত ধরে বাহাদুর নুবিয়ান সম্প্রদায়ের অন্দরমহলে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি আবিষ্কার করেন এমন এক জগৎ, যা শৈল্পিক দক্ষতা, সাংস্কৃতিক গর্ব এবং অটুট সাম্প্রদায়িক বন্ধনে ভরপুর। তিনি জানতে পারেন, নুবিয়ানরা ইসলামকে তাদের প্রধান ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করলেও নিজেদের প্রাচীন শেকড় বিস্মৃত হয়নি।

অঞ্চলটি অন্বেষণের সময় বাহাদুর নুবিয়ান নারীদের মেহেদি শিল্পের জাদুকরী সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। তাদের সুনিপুণ হাতে আঁকা জটিল নকশাগুলো প্রেম, উৎসব আর আধ্যাত্মিকতার নীরব গল্প বলছিল। নাইলাহ বাহাদুরকে তাদের মাতৃবংশীয় ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, যেখানে বংশপরম্পরা ও আত্মীয়তা প্রবাহিত হয় নারীর মাধ্যমে। নুবিয়ান সমাজে নারীরা ছিলেন শ্রদ্ধার উচ্চাসনে আসীন এবং সমাজ গঠনে তাঁদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

দ্বিতীয় পর্ব: প্রেম ও পরীক্ষার দিনলিপি

নুবিয়ানদের স্থাপত্যশৈলী বাহাদুরকে মুগ্ধ করে। তাদের ঐতিহ্যবাহী বাসগৃহ, যা ‘টুলিউলস’ নামে পরিচিত, ছিল অনন্য। মাটির ইটের দেয়ালে আঁকা উজ্জ্বল রঙ এবং প্রাচীন লোককাহিনীর চিত্রায়ন যেন অতীতের কথা বলত। জটিল নকশা করা কাঠের দরজা-জানালাগুলো ছিল নুবিয়ানদের আভিজাত্যের প্রতীক। বাহাদুর দেখলেন, পূর্বপুরুষদের জ্ঞান তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তারা কতটা বদ্ধপরিকর। গল্প বলা, সঙ্গীত, মৃৎশিল্প থেকে বয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেছে।

নাইলাহ ও বাহাদুর যখন নুবিয়ান রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত, তখন তাঁদের হৃদয়ে এক সূক্ষ্ম অনুরাগের জন্ম হয়। ইতিহাস ও শিল্পের প্রতি তাঁদের যৌথ ভালোবাসা এক গভীর বন্ধন তৈরি করে। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ আর প্রাণবন্ত বাজারের ভিড়ে বাহাদুর কেবল নুবিয়ান সংস্কৃতিতেই নয়, নাইলাহর কমনীয়তা ও বুদ্ধিমত্তাতেও মুগ্ধ হয়ে পড়েন। নাইলাহর উজ্জ্বল হাসি আর আমন্ত্রন জানানো চোখের ভাষা বাহাদুরকে প্রেমের বাঁধনে জরায়।

কিন্তু তাঁদের এই প্রেমের পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নাইলাহর রক্ষণশীল সমাজ ভিনদেশি ও বহিরাগতদের ব্যাপারে ছিল সর্বদা সতর্ক। তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন যখন পরিবার ও প্রতিবেশীদের কানে পৌঁছাল, তখন সন্দেহ আর উদ্বেগের মেঘ জমল। তারা ভয় পেল, এক বহিরাগতের আগমন হয়তো তাদের নিবিড় সমাজব্যবস্থায় ফাটল ধরাবে। কিন্তু বাহাদুর দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি নাইলাহর সমাজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে এক কঠিন সাধনায় ব্রতী হলেন। তিনি নুবিয়ান ভাষা শিখলেন, তাদের রীতিনীতি আত্মস্থ করলেন এবং জীবনাচরণের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন। তাঁর এই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা ধীরে ধীরে নাইলাহর পরিবার ও প্রতিবেশীদের মন গলাতে শুরু করল। অন্যদিকে, নাইলাহ নিজেও নিজের সমাজ আর ভালোবাসার মানুষের মধ্যে দোলাচলে ভুগে শেষ পর্যন্ত সাহসের সাথে নিজের ভালোবাসার পক্ষেই দাঁড়ালেন।

তৃতীয় পর্ব: মিলন ও মেহেদি বিলাস

সূর্য যখন দিগন্তে ঢলে পড়ছিল, এক বিকেলে নীল নদের তীরে বাহাদুর নাইলাহকে অবাক করে দিয়ে এক মায়াবী পিকনিকের আয়োজন করেন। মৃদু সঙ্গীতের সুর আর নদীর ঢেউয়ের কলতান মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় বাহাদুর তাঁর হৃদয়ের অব্যক্ত কথাগুলো প্রকাশ করলেন। আরেক সন্ধ্যায়, এক ঐতিহ্যবাহী নুবিয়ান উৎসবে বাহাদুর স্থানীয় নৃত্যের ছন্দে নাইলাহকে চমকে দিলেন। ড্রামের তালে তালে তাঁদের হৃদয়ও যেন এক সুরে নেচে উঠল।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—বিয়ের লগ্ন। নুবিয়ান বিয়ের রীতি অনুযায়ী কনের সাজসজ্জার জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত অপেক্ষা করছিল। নাইলাহর জন্য আনা হলো আমিলা নামের এক প্রখ্যাত মেহেদি শিল্পীকে। মেহেদির সুগন্ধে ভরপুর এক কক্ষে, রঙিন কাপড় আর ফুলের সজ্জায় নাইলাহ বসেছিলেন। আমিলা, যার বয়স ত্রিশের কোঠা পেরিয়েছে, ছিলেন এই শিল্পের এক জাদুকর। সাহারার তীব্র রোদ তাঁর ত্বকে ছাপ ফেললেও তাঁর হাতের স্পর্শ ছিল অত্যন্ত কোমল।

আমিলা তাঁর কাজের সুবিধার্থে নাইলাহকে সম্পূর্ণ পোশাকমুক্ত হতে বললেন। প্রথমে অনিচ্ছুক হলেও, প্রথা মেনে নাইলাহ নিজেকে সমর্পণ করলেন। সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় নাইলাহ যখন লজ্জায় নিজের হাত দিয়ে বক্ষ ও গোপনাঙ্গ ঢাকার চেষ্টা করলেন, আমিলা তাঁর হাত সরিয়ে দিয়ে অভয় দিলেন। একটি সরু কোণ বা টিউব দিয়ে আমিলা নাইলাহর শরীরে আঁকতে শুরু করলেন এক অপরূপ শিল্পকর্ম। নাইলাহর আঙুলের ডগা থেকে কব্জি পর্যন্ত আঁকা হলো সম্মোহনী সব নকশা, যা সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার প্রতীক।

গরমের দুপুরে নাইলাহর কপালে ও স্তনের ভাঁজে ঘাম জমছিল। আমিলা পরম মমতায় সেই ঘাম মুছে দিচ্ছিলেন। নাইলাহ নিজের ঠোঁট চাটলেন এবং নোনা ঘামের স্বাদ পেলেন। আমিলা এরপর নাইলাহর হাত ও পায়ে লতা-পাতা ও প্রস্ফুটিত ফুলের নকশা আঁকলেন, যা উর্বরতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করছিল। এরপর নাইলাহকে উপুড় হয়ে শুতে বলা হলো। আমিলা তাঁর পিঠ ও কাঁধজুড়ে আঁকলেন শক্তি ও সুরক্ষার প্রতীকী নকশা।

সবশেষে, আমিলা নাইলাহকে ঘুরে দাঁড়াতে বললেন। তাঁর নাশপাতি-আকৃতির শরীরটি এখন সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত। আমিলা যখন জিজ্ঞাসা করলেন যে তিনি স্তন ও যোনিতেও মেহেদি লাগাতে চান কি না, নাইলাহ বিভ্রান্ত হলেন। তখন আমিলা নিঃসঙ্কোচে নিজের পোশাক খুলে তাঁর মেহেদিরাঙা সুডৌল স্তন ও গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করলেন। তিনি নাইলাহর হাত ধরে নিজের স্তনে রাখলেন এবং হেসে বললেন, “তুমিও অনুভব করতে পারো! মনে রেখো, স্তন এমন এক জিনিস যা তোমার স্বামী কখনও যথেষ্ট পাবে না।”

নাইলাহ লজ্জায় লাল হয়ে গেলেও ভেতরে এক অদ্ভুত উত্তেজনা অনুভব করলেন। মেহেদি ও ধূপের মিশ্রিত গন্ধে এক কামোদ্দীপক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। যদিও নাইলাহ চেয়েছিলেন সাদাসিধে থাকতে, তবু আমিলার ছোঁয়ায় তাঁর দেহ হয়ে উঠছিল এক জীবন্ত ক্যানভাস। ঘরের অন্য নারীরাও সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় নিজেদের দাম্পত্য জীবন, কামনা-বাসনা ও অতৃপ্তির গল্প করছিলেন। মেহেদি শুকানোর অপেক্ষায় থাকা এই নারীদের কাছে মেহেদির নকশাগুলো ছিল তাদের আশা, স্বপ্ন, কামুকতা ও নারীত্বের প্রতীক।

মেহেদি শুকিয়ে যাওয়ার পর, নাইলাহর ব্রোঞ্জরঙা ত্বক লাল, কমলা ও কালো রঙের বিচিত্র ছোপে রঞ্জিত হলো। এটি ছিল স্বামীর জন্য তাঁর উপহার। একাকী সত্তা থেকে দ্বৈত সত্তায়, ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’ হওয়ার এই রূপান্তরে নাইলাহ নিজেকে এক নতুন রূপে আবিষ্কার করলেন।

চতুর্থ পর্ব: পূর্ণতা ও বাসর

বিয়ের দিনটি ছিল আনন্দ ও উল্লাসে পরিপূর্ণ। বর্ণিল শোভাযাত্রা, নাচ-গান এবং ঐতিহ্যবাহী ‘নিকাহ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাহাদুর ও নাইলাহ একে অপরের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। সোনালি পোশাকে ও স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত নাইলাহকে দেখাচ্ছিল রানীর মতো। উৎসব শেষে নবদম্পতি তাঁদের সুসজ্জিত গৃহে প্রবেশ করলেন।

মোমবাতির মৃদু আলোয় বাহাদুর যখন নাইলাহকে দেখলেন, তিনি বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। নাইলাহ নিজেকে উন্মোচিত করলেন, এবং তাঁর সর্বাঙ্গে আঁকা মেহেদির জটিল নকশাগুলো যেন এক মহাকাব্য হয়ে ধরা দিল। চাঁদের আলোয় তাঁর মেহেদিরাঙা শরীর এক অপার্থিব আভা ছড়াচ্ছিল। বাহাদুর পরম ভক্তি ও ভালোবাসায় কম্পিত হাতে সেই নকশাগুলোর ওপর আঙুল বোলাতে শুরু করলেন। তাঁর স্পর্শ ছিল পূজারীর মতো পবিত্র অথচ প্রেমিকের মতো কামনার্ত।

বাহাদুর নাইলাহর পিঠ, কাঁধ এবং মেরুদণ্ড বরাবর আঙুল বোলাতে বোলাতে তাঁর বক্ষদেশের দিকে এগুলেন। নাইলাহর সুডৌল স্তন এবং টানটান স্তনবৃন্ত দেখে তিনি মোহিত হলেন। তিনি নত হয়ে নাইলাহর কপালে চুম্বন করলেন, তারপর তাঁর তর্জনী ধীরে ধীরে ক্লিভেজ বেয়ে নাভির দিকে নামল। চন্দন কাঠের সুবাস আর মেহেদির গন্ধে মাতোয়ারা বাহাদুর তাঁর প্রেমিকার প্রতিটি ভাঁজ ও বাঁক আদর করতে লাগলেন।

যখন তিনি নাইলাহর উরুসন্ধিতে পৌঁছালেন, নাইলাহ আশঙ্কিত চোখে তাকালেন। কিন্তু বাহাদুরের স্পর্শে তিনি শিহরিত হলেন। বাহাদুর আলতো করে তাঁর গোপনাঙ্গে আঙুল ছোঁয়ালেন এবং ভেজা অনুভব পেতেই নিজেকে সংবরণ করলেন।

সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সময় যেন থমকে গিয়েছিল। বাহাদুর নাইলাহকে কাছে টেনে নিলেন, তাঁদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। বাহাদুর নাইলাহর মেহেদিরাঙা ঘাড় ও স্তনে চুম্বন করতে করতে আমিলার সেই কথাটি স্মরণ করলেন—”স্বামী কখনও এর যথেষ্ট পাবে না।” তিনি তৃষ্ণার্তের মতো নাইলাহর স্তন পান করতে লাগলেন, যেন অমৃতের সন্ধান পেয়েছেন।

বিছানায় শুয়ে বাহাদুর যখন আধিপত্য করতে চাইলেন, নাইলাহ তাঁকে থামিয়ে দিয়ে নিজেই ওপরে উঠে বসলেন। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে বাহাদুর অবাক হলেও খুশি মনে আত্মসমর্পণ করলেন। নাইলাহ তাঁর দীর্ঘ কালো চুল এলিয়ে দিয়ে, বাহাদুরের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেন। সেই মিলনে তাঁরা যেন সপ্তম স্বর্গে আরোহণ করলেন।

প্রেম ও কামনার সেই ঝড়ের রাতে মেহেদির নকশাগুলো তাঁদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের সাক্ষী হয়ে রইল। নাইলাহ ও বাহাদুর কেবল দুটি শরীরের মিলন ঘটাননি, তাঁরা দুটি সংস্কৃতি, দুটি ইতিহাস এবং দুটি আত্মাকে একাকার করে ফেলেছিলেন। তাঁদের এই গল্প ছিল প্রেম, ঐতিহ্য এবং নুবিয়ান চেতনার এক শাশ্বত উদযাপন।