গার্ল হু প্লেইড উইথ ফায়ার – স্টিগ লারসন

›› অনুবাদ  

অনুবাদঃ রাই শিল্পী

……..রুমে ফিরে ওয়ার্ডরােবের দরজার আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে দেখতে লাগলাে অবাক হয়ে। এখনাে তার ওজন নব্বই পাউন্ডেরও কম আর উচ্চতা চার ফুট এগারাে। এটা ঠিক এর জন্য তেমন কিছু করেও না সে। নরম আঙ্গুল, ছােট ছােট হাত আর চিকন পাছা-অনেকটা যেন পুতুলের মত।

তবে এখন ওর স্তন হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত ওর বুক ছিলাে সমান, যেন পিউবার্টি আসে নি। খুব হাস্যকর লাগতাে ব্যাপারটা, নিজেকে নগ্ন দেখতে সবসময় অস্বস্তি হতাে।

এখন, হঠাৎ করেই স্তন হয়েছে তার। ওগুলাে একেবারেই বিশাল নয়-ও ঠিক এরকম কিছু চায় নি, তার চর্মসার শরীরে ওগুলাে হাস্যকরই লাগার কথা-তবে ওগুলাে বেশ আঁটোসাঁটো, মাঝারি আকারের গােলাকার স্তন। বৃদ্ধিটা ঠিকমতই হয়েছে, আর শরীরের অনুপাতে আকারটাও ঠিকই আছে। তবে পরিবর্তনটা নাটকীয়, যেমন বাহ্যিক রূপের ক্ষেত্রে, তেমনি তার আত্মবিশ্বাসের জন্য।

জেনােয়া শহরের বাইরে একটা ক্লিনিকে সে পাঁচ সপ্তাহ কাটিয়ে এসেছে যেখানে ওর স্তনের এই নতুন আকার দেয়া হয়েছে ইমপ্লান্টের মাধ্যমে। ইউরােপের মধ্যে ঐ ক্লিনিক এবং ওখানকার ডাক্তারদের বিশেষ খ্যাতি আছে। তার যে ডাক্তার ছিলাে, কঠোর হৃদয়ের চমৎকার মহিলা, নাম আলেজান্দ্রা পেরিনি, তাকে বলেছিলাে যে অস্বাভাবিকভাবেই তার স্তন আর বাড়েনি, চিকিৎসায় এটা বাড়ানাে যেতে পারে ।

অপারেশন থেকে সেরে ওঠাটা মােটেও ব্যথাহীন ছিলাে না, তবে ওর স্তনজোড়া একদম স্বাভাবিক দেখাচ্ছে এবং অনুভুতি হচ্ছে। আর দাগগুলােও এতদিনে মুছে গেছে। ও সন্তুষ্ঠ। এক সেকেন্ডের জন্যও এই সিদ্ধান্তেরে ব্যাপারে কোনাে অনুতাপ হয়নি। প্রায় ছয় মাস পরেও আয়নার সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় না থেমে পারে না সে। খুশি লাগে এই ভেবে যে সে তার জীবনের গুনগতমানের উন্নতি ঘটিয়েছে।………

……..ছেলেটা যে তার উপিস্থতিতে প্রভাবিত হচ্ছে তা সালান্ডারের চোখ এড়ালাে না, সে বুঝে পাচ্ছিলাে না কিভাবে ওকে আপ্যায়ন করবে। ও আচমকাই সিদ্ধান্ত নিলাে ছেলেটাকে প্রলুব্ধ করতে দেবে। এটা তৈরি হলাে একটা যন্ত্রণাদায়ক বিক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে যাতে ছেলেটা নিশ্চিতভাবে ওর ইঙ্গিত বুঝে ফেললাে, তবে বুঝতে পারছিলাে না কিভাবে এর জবাব দেবে। অবশেষে সালাভার ধৈর্য হারিয়ে ওকে জোর করে বিছানায় ফেলে দিয়ে ওর শার্ট আর প্যান্ট খুলে ফেললাে।

ইতালিতে অপারেশনের পর এই প্রথম সালান্ডার কারাে সামনে নিজেকে নগ্ন করলাে। ক্লিনিক থেকে সে বেরিয়েছিলাে যন্ত্রণা নিয়ে। অনেকদিন লেগেছিলাে এটা উপলদ্ধি করতে যে তার দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। সাধারণত অন্য মানুষ কি ভাবলাে না ভাবলাে তার তােয়াক্কা করে না সে, আর এখন কেন নার্ভাস বােধ করছে তার জন্যেও উদ্বিগ্ন হলাে না । | এই তরুণ নিজবি ব্লন্ডের জন্য একটা নতুন স্বত্ত্বার যথাযথ সূচনা হলাে। শেষপর্যন্ত যখন (একটু উৎসাহ যােগানাের পরে) সে তার ব্রা খুলতে সক্ষম হলাে তৎক্ষণাৎ সে ল্যাম্পটা নিভিয়ে দিয়ে নিজের পােশাক খুললাে। সালান্ডার বুঝতে পারলাে সে লজ্জা পাচ্ছে, ল্যাম্পটা আবার জ্বালিয়ে দিলাে সে। ছেলেটা যখন তাকে আড়ষ্ঠভাবে স্পর্শ করলাে খুব কাছে থেকে তার অভিব্যক্তি দেখতে লাগলাে সালান্ডার । অনেকক্ষণ পরে যখন বুঝতে পারলাে ওর স্তন স্বাভাবিকই আছে তখনই নিশ্চিত হলাে। অন্যদিকে ছেলেটা ওর মতাে এটা তুলনা করতে পারলাে না।……

………দুই ঘণ্টা পর মিম্মি কফি বানালাে, বিছানার উপর সালান্ডার নগ্ন হয়ে ঘর্মাক্ত শুয়ে আছে। সিগারেট খেতে খেতে সে দরজার ফাক দিয়ে মিম্মিকে দেখছিলাে। মিম্মির শরীরটাকে ঈর্ষা করে সে। তার শরীরটা বেশ পেশীবহুল। সপ্তাহে তিন দিন সন্ধ্যায় সে জিমে ব্যায়াম করে, একদিন থাকে থাই বক্সিং কারাটে, এগুলাে তার শরীরটাকে দারুন আকৃতি দিয়েছে।

ও হলাে বেশ মজাদার। মডেলদের মত সুন্দর না, তবে সত্যিকারের আকর্ষণীয়। কাউকে উসকে দিতে আর ফ্লার্ট করতে পারে। পার্টিতে পােশাক পরে গেলে যে কাউকে সে তার প্রতি আগ্রহী খুঁজে পাবে। সালাভার জানে না মিম্মি কেন ওর মত একটা হাঁসকে পাত্তা দেয়। নাটকীয় এই সেক্সে সালান্ডার বেশ আরাম পেলাে আর উপভােগ করলাে। ও যা চেয়েছে আদায় করে ফিরিয়েও দিয়েছে।

দুইটা মগ হাতে মিমি ফিরে এলাে। বিছানার দিকে হামাগুড়ি দিয়ে সালান্ডারের নিপলের দিকে ঝুঁকলাে ।

“এগুলােতে কাজ হবে,” সে বললাে।

সালান্ডার কিছু বললাে না। সে মিম্মিব স্তনের দিকে তাকালাে, মিম্মির স্তনও ছােট, তবে একবারে স্বাভাবিক মনে হয়।

“আমি যদি সত্যি কথা বলি, লিসবেথ, তােমাকে দারুন দেখাচ্ছে ।”

“এগুলাে কিছুই না। আমার স্তন দুটি তেমন কোনাে পার্থক্য আনছে না, তবে শেষ পর্যন্ত আমি কিছু একটা পেয়েছি।”…….

……..একজন মানুষ যে বােঝে ব্লমকোভিস্টের সাথে বার্গারের সেক্স করার আকাংখা, সে তার স্বামী, আর সে বােঝে এই কারনে যে বার্গার তার চাহিদাগুলাে নিয়ে আলােচনা করে তার সাথে । এটা ঠিক অবহেলা নয়, আকাঙ্খা । ব্লমকোভিস্টের সাথে সেক্স করে যে আনন্দ সে পায় তা আর কোন পুরুষ দিতে পারে না, এমন কি তার স্বামীও।

সে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে সে কৌমার্য হারায়, টিনএজ বয়সের অনেকটা সময় পরিপূর্ণ তৃপ্তির পেছনে ছুটেছে সে। সবকিছু চেষ্টা করে দেখেছে, ক্লাসমেটদের সাথে স্পর্শের খেলা, এক শিক্ষকের সাথে ফোনসেক্স আর কৃত্রিম লিঙ্গ দিয়ে মৈথুন। যৌনতার সবকিছুই যা তাকে আনন্দ দিয়েছে সে চেষ্টা করে দেখেছে। ক্লাব এক্সটুমের সদস্য হয় সে যেটি সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বিভিন্ন পার্টির আয়ােজন করতাে। কখনাে কখনাে মহিলাদের সাথেও সেক্স করার চেষ্টা করেছে আর হতাশ হয়ে ভেবেছে মেয়েরা তাকে মােটেই উত্তেজিত করতে পারে না পুরুষদের মত করে। বেকম্যানের সাথে করার সময় সে দু’জনের সাথে সেক্স আবিষ্কার করেছে-একজন গ্যালারি মালিক-সে দেখলাে বেকম্যানের উভকামীতা আছে। দু’জন মানুষের একইসাথে তাকে তৃপ্ত করে দেয়া তাকে আনন্দে রীতিমত অবশ করে দিলাে, আর যে বিষয়টি আবিষ্কার করলাে তা হলাে এমন এক আনন্দ যা ব্যখ্যা করা যায় না, তার স্বামী অন্য এক পুরুষের স্পর্শে উত্তেজিত হচ্ছে। সে আর বেকম্যান একই আনন্দের পুণরাবৃত্তি ঘটিয়েছে আরাে দু’জন নিয়মিত সঙ্গীর মাধ্যমে। এমন নয় যে স্বামীর সাথে তার যৌনজীবন বিরক্তিকর অথবা অতৃপ্ত। এটা শুধু এই যে, ব্লমকোভিস্ট তাকে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা দেয়।………

Please follow and like us:

Leave a Reply