তুর্কি হারেমের বন্দিনী ২ (দ্য লাস্টফুল টার্ক) – এমিলি বারলো

›› অনুবাদ  ›› উপন্যাস  ›› ১৮+  

অনুবাদঃ পৃথ্বীরাজ সেন

আলিকে লেখা মুজরার চিঠি

আলি,

তােমার পাঠানাে শ্বেতাঙ্গিনী ক্রীতদাসী নিক্ষেপ করেছে আমাকে নরকের অন্ধকারে। ভাবতেই পারবে না তুমি, কিভাবে সে নিয়েছে প্রতিশােধ তার হারানাে কুমারীত্বের। এর আগে এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয় নি আমার।

আলি, একমাত্র আমার জীবনই বােধহয় সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারে তাকে। মনে হচ্ছে অচিরেই পূর্ণ হবে নিৰ্মম অভিলাষ তার। পাখি বুঝি আর থাকছে চাইছে জীবনের পিঞ্জরে। বুঝতে পারছি আমি ডানা মেলবে সে অসীম নীলাকাশে।। আগেই জানিয়েছিলাম  তোমায়, ক্রমশ অস্তমিত হচ্ছে উদগ্র অভিমানের তেজ তার। আমার প্রতি অধিকতর মাত্রায় হয়ে পড়ছে সে নির্ভরশীলা। আমিও মনের আনন্দে করছি তার কামনার উদ্যানে অনধিকার প্রবেশ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার দিনের বেলা উপগত হয়েছি তার ওপর। কিন্তু রাতে সে হয়নি আমার শয্যাসঙ্গিনী। এই রহস্যের অবগুণ্ঠন উন্মােচনে এক ভয়ঙ্কর যামিনীতে পা রাখি তার নিভৃত বিলাসকক্ষে। কি বলব আলি, আমায় শখে চোখের তারায় ফুটে ওঠে অদৃষ্টপূর্ব আনুগত্যের শপথ!

এই প্রথম নিজের হাতে একে একে খুলে নেয় আমার সব পাশাক। তারপর মৃদুচুম্বন এঁকে দেয় পৌরুষের দীর্ঘধ্বজায় । আমি অবাক হই তার মনােভাবের এই আকস্মিক পরিবর্তনে। এখন বুঝতে পারছি, এ সবই হলাে তার ছলনার কামকুশলতা।

শুরু হয় আমাদের সম্মিলিত সম্ভোগের বাঘবন্দি খেলা। অচিরেই আমরা দুজনে উপনীত হই চরমরতির মুহূর্তে। একরাশ নিদ্রা এসে সহসা গ্রাস করে আমাকে। নিজেকে তার মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট রেখে ঘুমিয়ে পড়ি আমি। ঘুম ভাঙে প্রচণ্ড যন্ত্রণার শিহরণে। অবাক হয়ে দেখি আমি, সে উন্মাদিনীর মতাে আঘাত করছে আমায় তীক্ষ ছুরিকায়। মুখে তার পিশাচিনীর হাসি। চিৎকার করছে সে এই এলে—আমার হারানাে কুমারীত্বের পুরস্কার।

আঘাত করে তলদেশে। রক্তাক্ত হই আমি। —আমার শারীরিক নির্যাতনের প্রতিশােধ। আবার নেমে আসে তীক্ষ ছুরিখানি তার।

—আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যতবার তুমি করেছাে আমায় ধর্ষণ, তার প্রত্যেকটির জ্বন্যে এমনভাবেই নির্মম আঘাত করব তােমায়। এই বলে সেবারংবার আঘাত করতে থাকে আমার সর্বাঙ্গে। আমি সাহায্যের জন্যে চিৎকার করি অসহায়ভাবে। ছুটে আসে আমার দুজন দেহরক্ষী। তাদের একজনকে সরাসরি ঢুকে আঘাত করে শয়তানী মেয়েটি। সঙ্গে সঙ্গে, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।

অনেক কষ্টে নিরস্ত্র করা হয় তাকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অত্যন্ত ক্লান্ত তখন আমি। তবু অনুরােধ করি সহচরদের, তাকে যেন কোনও না শাস্তি দেওয়া হয় এই জঘন্য কাজের জন্যে। পালন করা হয় নির্দেশ আমার। যদি এই আঘাতেই মৃত্যু হয় আমার, তাহলে মেয়েটিকে হয়তাে বা হত্যা করবে আমার পরিচারকরা। তাই পাঠাচ্ছি তাকে তােমার কাছে।

এই মুহূর্তে আর বেশি কিছু লিখতে পারছি না, যদি ঢলে পড়ি আমি অনন্তশয্যায়, দোহাই তােমাকে মেয়েটির কোনও কতি কোরাে না তুমি। বিদায়, চিরবিদায়।

তােমার
মুজরা

এই চিঠিখানা পড়ে কি যে আনন্দ হল আমার কি করে বাঝাই তােকে! এলিজা আবার ফিরে এসেছে শুনে উৎফুল্ল হয়ে উঠি নামি। তার মানে আবার দেখা হবে তার সঙ্গে। অনুরােধ করি সম্রাটকে, সে যেন এলিজার সঙ্গে দেখা করার সুযােগ দেয় নামায়। রাজি হয় সম্রাট। খবর পেয়েছি আমি টিউনিসের রাজা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু ভবিষ্যতে সে নিশ্চয়ই এলিজাকে আর চাইবে না তার হারেমে। প্রিয়তমা সিলভিয়া আমার, এখন জানাই তােকে বিদায় ম্ভাষণ।

এমিলি বারলাে

এমিলি বারলােকে লেখা সিলভিয়া ক্যারির চিঠি
তুলো, ফ্রান্স

এমিলি

কি ভেবেছিস তুই, কেন এমনভাবে আঘাত করছি আমায় বারবার তাের নির্লজ্জ চিঠির আক্রমণে?

কি অপরাধ করেছি আমি যে এমনভাবে বিধ্বস্তা করছি অনুভূতি আমার, তাের শারীরিক রিরংসার নির্লজ্জ বর্ণনায়। তুই ঐ নরপশুটার সঙ্গে লিপ্ত ছিলি যেসব কুৎসিত ভঙ্গি মায় তা বর্ণনা করে কি লাভ তাের? ভাবতে পারছি না আমি, কী করে এতখানি পাল্টে গেছিস তুই! প্রথমে ভেবেছিলাম সবই বুঝি কল্পনা তাের, কিন্তু চিঠির ভাষারা জানিয়ে দিল এসব প্রত্যক্ষ স্বীকারােক্তি।

ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ, চিঠিগুলি সরাসরি হস্তগত হয়েছে আমার। নাহলে তাের উদ্দাম যৌনাচারের নির্লজ্জ ঘটনা ঘটাতে একটি অনভিপ্রেত আত্মহত্যা করত হতভাগ্য ভাইটি আমার। সে তাে প্রায়ই পােস্ট অফিসে যায় চিঠি সংগ্রহ করতে।

যদিও ঠিকানাতে লেখা আছে নাম আমার, তাহলেও নিশ্চয়ই চিনতে পারত সে হাতের লেখা তাের, সঙ্গে সঙ্গে কৌতূহলের আতিশয্যে খুলে ফেলতাে বন্ধ খামখানি। কিন্তু ঘটেনি এমনটি। কেননা তুই পাের্টসমাউথ থেকে সমুদ্রযাত্রা করার পর হেনরী অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসক মত দেন যে, উষ্ণতর আবহাওয়ায় জীবনযাপনই বাঁচিয়ে তুলতে পারে তাকে এই কঠিন অসুখ থেকে। তাই আমরা মনস্থ করি দক্ষিণ ফ্রান্সে কাটাব গরমের দিনগুলি। এই শহরের উপকণ্ঠে নির্ধারিত হয় আমাদের অস্থায়ী বাসস্থান। তাের মাও হতে চান আমাদের সহযাত্ৰিনী। পালাক্রমে আমরা এসে পৌছই এখানে। ভাড়া করা হয় একটি নয়নাভিরাম কুটির, জায়গাটা শহর থেকে একটু দূরে। যেখান থেকে শােনা যায় সমুদ্রের গর্জন।

হেনরী ক্রমেই হয়ে উঠছে সুস্থ। মা, বাবা অপেক্ষায় আছেন তার সার্বিক রােগ প্রশমনে, জানে সে তুই গেছিস ভারত ভ্রমণে, তাই এখনও সে উন্মুখ তাের সংবাদ জানতে। তাহলেই ভাব, কি বার্তা বহন করত তাের কলঙ্ক কাহিনী! বাধ্য হয়ে আমি জানিয়েছি সব ঘটনা মাকে তাের। নিজের মেয়ের এই নিদারুণ ভাগ্যবিপর্যয়ে হয়েছেন তিনি বাহারা। অনুরােধ করেছি তুলোর পোেস্ট মাস্টারকে, তিনি যেন হেনরীর হাতে কোনও চিঠি না দেন। তাই এখন আমরা সুনিশ্চিত যে তাের বিষাদঘন ইতিহাস সম্পূর্ণ অজানা থাকবে তার কাছে।

অনেক কষ্টে তাের মা সংবরণ করেছেন নিজেকে। হেনরীর সামনে এখনও কোনও কথা বলেননি তিনি।

এই চিঠিখানি পাঠাচ্ছি। আমি আলজিরিয়ার বন্দরগামী জাহাজে। এই জাহাজ বহন করছে কয়েকজন মিশনারীকে, চলেছেন তারা ক্রীতদাসদের মুক্ত করতে। তাের, ঘটনা শুনে তাের মা হয়ে পড়েছেন কিংকর্তব্যটি বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন তিনি। আমিও ঠিক উপলব্ধি করতে পারছি না তাের মনােভাব। তুই এমনভাবে ঐ নরপশুর দ্বারা আত্মিক ও শারীরিকভাবে সমাচ্ছন্ন যে, আশঙ্কা হচ্ছে আমার, হয়তাে তুই নিষ্ক্রান্তা হতে চাস না ওই নরক থেকে। যদি মায়ের কথা এতটুকু মনে পড়ে তাের, যদি অবশিষ্ট থাকে কুমারীত্বের শেষতম অহঙ্কার, তাহলে অবিলম্বে জানাস তাের মনােবাসনার কথা।

বন্ধুত্বের নিখাদ অঙ্গীকারে করছি শপথ আমি, চেষ্টা করব আপ্রাণ পরিসমাপ্তি ঘটাতে এই তমিস্রাঘন অন্ধকারের।

সিলভিয়া ক্যারি
(এমিলির সর্বশেষ চিঠিখানি হস্তগত হবার আগেই সিলভিয়া লিখেছিল এই চিঠিটি।)

আবদুল্লাকে লেখা রাজার চিঠি

আবদুল্লা,

কদিন আগে দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে একদল মিশনারী এসে উপস্থিত হয়েছে এখানে। তারা এসেছে ফরাসী দেশের বৃদ্ধ ক্রীতদাসদের মুক্ত করে স্বদেশে নিয়ে যাবে বলে। তারা আমার কাছে চেয়েছিল, অনুমতি যেন দিই আমি তুলো বন্দর থেকে প্রথম জাহাজটি পাঠানাের। আমি তােমাকে দিতে চাইছি সেই দায়িত্ন তুমি ওদের ফরাসী দেশে পৌঁছে দিও। মনে রাখবে এরূ ভঙ্গুর বুদ্ধিসম্পন্ন। তাই ওদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করবে যাতে তােমার দুরভিসন্ধির কথা বুঝতে না পারে এরা। এই দলের সঙ্গে আছেন ফাদার অ্যাঞ্জেলাে নামে এক বৃদ্ধ পাদরি। উনি তােমাকে তুল্মের শহরতলির বাসিন্দা এক ব্রিটিশ পরিবার সম্বন্ধে অনেক কথা জানাবেন। এই পরিবারে আছে সিলভিয়া ক্যারি নামে একটি তরুণী। তুমি তাকে সঙ্গে করে  আলজিয়ার্সে নিয়ে এসাে।

যে ক্রীতদাস এই চিঠিখানি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে, সে তােমাকে একটি গােপন চিহ্ন উপহার দেবে। এই চিহ্নখানি তুমি ফাদার অ্যাঞ্জেলােকে দেখিও। তাহলেই তুমি ওনার মুখ থেকে সবকিছু শুনতে পারবে। তবে একটা কথা মনে রেখাে, মেয়েটিকে সঙ্গে না নিয়ে ফিরবে না। প্রথম দর্শনেই তার প্রেমে পড়েছি আমি। তার প্রতি কোনও অসৎ আচরণ কোরাে না। মনে রেখাে সে শুধু আমার।

আলি

অ্যাঞ্জেলােকে লেখা পেভ্রার চিঠি.

অ্যাঞ্জেলাে,

মনে আছে তােমার, তুমি জানিয়ে ছিলে আমায় যে, মেজিয়ার মারকুইসের সুন্দরী তরুণী কন্যাটিকে উরসুলাইন কনভেন্টে মুখ ঢাকতে হচ্ছে ওড়নায়। মনে হচ্ছে, আমার রূপের অহঙ্কারই আনছে ডেকে বিপদ তার। এর থেকে বাঁচবার উপায় আছে একটাই। তাকে অচিরেই আবদ্ধ হতে হবে বিবাহবন্ধনে। না হলে অনতিবিলম্বে সে আক্রান্ত হবে দস্যুদের দ্বারা।

এই কথাটা কিছুতেই অনুধাবন করতে পারছেন না মারকুইস। তিনি ভাবছে সবই আমার কল্পনা। আমি বুঝতে পারছি বেশ সতেরাে বছর বয়সে জুলিয়া মেজিয়া এতখানি রূপবতী হয়ে উঠেছে যে, তার কামনা-মদির দেহবল্লরীকে ধর্মীয় কাজে উৎসর্গ করাও ঠিক নয়। কিন্তু এমনটি করার চেষ্টা হচ্ছে। অ্যাঞ্জেলাে, ভেবে দেখাে, যে সৌন্দর্য পৌরুষের অহংকারের পরিপূরক হতে পারত, তাকে অনায়াসে হত্যা করা হচ্ছে কনভেন্টের বেদিমূলে।

এর আগেই তােমাকে আমি সেই দুঃখজনক ঘটনাবলীর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছি। এখন থেকে মেয়েটির রূপ আর লাবণ্যকে থাকতে হবে নিদ্রিত। সুদৃঢ় দেওয়াল আর লৌহকঠিন দরজার আড়ালে। প্রাকৃতিক নিয়মেই সে অকারণে আবিষ্টা হবে প্রচণ্ড ক্ষুধার। তাই হয়তাে একবার চেয়েছিল সে মুক্ত হতে এই বদ্ধ কারাগার থেকে। হয়তাে নিষ্ক্রান্ত হতে পারত সে। কিন্তু এক সিস্টারের বিশ্বাসঘাতকতায় সফল হল না প্রয়াস তার।

তুমি তাে ভালভাবেই জানেনা, এর শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড, যদি না ক্ষমা এসে উদ্ধার করে তাকে। যদি তেমনটি না হয় তাহলে তাকে আমি গ্রহণ করব আমার সঙ্গিনী হিসেবে। এই কথাটাই তােমাকে বােঝাতে হবে মেজিয়া পরিবারের সকলকে।

অ্যাঞ্জেলাে, এই প্রস্ফুটিত গােলাপটিকে দংশন করার অধিকার শুধুমাত্র আমারই। অচিরেই তাকে আনা হবে বিচারের জন্যে এবং বলা হবে যেন তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা । সেই রিপাের্টটি পাঠানাে হবে। গ্রান্ড ভাইকারের কাছে। তিনি তা পৌঁছে দেবেন সর্বোচ্চ মঠাধ্যক্ষকে। তখনই আমি চেষ্টা করব যাতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযােগগুলি খণ্ডন করতে পারি।

এখনকার মর্তে জানাই তােমায় বিদায় সম্ভাষণ। অচিরেই তুমি আমার সফলতার সংবাদ পাবে।

পেড্রো, সেন্ট ফ্রান্সিসের অ্যাবট

অ্যাঞ্জেলােকে লেখা পেড্রোর চিঠি

সে হল আমার—তার আত্মার গহন গভীরতায় শরীরের তাৎক্ষণিক উপস্থিতিতে লেখা আছে নাম আমার। তাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি কনভেন্টের গােপন প্রকোষ্ঠে। সেখানে তার মনােহারিণী উত্তেজক সৌন্দৰ্যসুধাপানে মত্ত হয়েছি আমি। লাজনতা কুমারী কন্যার মতাে ধরা দিয়েছে সে আমার দুরন্ত দুর্বার আলিঙ্গনের কাছে।

হায় অ্যাঞ্জেলাে, কি করে বােঝাব তােমাকে তার মহার্ঘ কুমারীত্ব হরণের স্বপ্নাতুর অব্যক্ত অনুভূতিগুলিকে! সতীচ্ছেদের প্রহরে কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত কোমল বেদনার শব্দাবলী মধুবর্ষণ করেছিল কর্ণকুহরে আমার। তাকে দেখে সর্বদাই অনুরণিত হয়েছে এই শব্দগুলিসে শুধু আমার।

সারারাত ধরে আমি ছিলাম মগ্ন তার শরীরের আনন্দে। তার সদ্যপ্রস্ফুটিত স্তনবৃন্ত নিশ্চিত নিরাপত্তায় আশ্রয় নিয়েছিল আমার প্রশস্ত পৌরুষের লোমশ খাঁচায়। চিবুকখানি পড়ে ছিল তার আমার গালে। মাঝে মধ্যে তার অসম্ভব রক্তিম ঠোটদুটি শিহরিত হচ্ছিল চুম্বন স্পর্শে।

বাহিত হলাে স্বপ্নময় অস্থিরতায়, যেন কোনদিন বিস্মৃতির। অতল তলে তলিয়ে না যায় মধুযামিনীর ঘটনাবলী। আগেই বলেছি তােমায়, কনভেন্ট থেকে নিয়ে যাবার জন্যে তার হয়েছিল বিচার সেখানে। তার বিরুদ্ধে এই অভিযােগ আনা হয় যে, এমন নিন্দাই কাজ করে সে কলুষিত করেছে ধর্মীয় অনুশাসনকে। অতএব নিতে হবে শাস্তি তাকে।

সেন্ট উরসুলাইনের অ্যাবেস ডাকলেন বিচারসভা। সেখানে ডাকা হল হতভাগ্য তরুণীর পিতা, ভাই আর বন্ধুদের। ডাকা হল সিস্টার সসাফিয়াকে, যার প্রতি এই তরুণী। ছাত্রীটি অকারণে আরােপ করেছিল অনন্ত বিশ্বাস তার।

জুলিয়াকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন সে এই পৃথিবীর কন্যা নয়। সর্বসমক্ষে দোষী সাব্যস্ত করা হল তাকে। স্বপক্ষে বলার মতাে কিছুই ছিল না তার। আমরা সবাই বুঝতে পারছিলাম যে, কি লেখা আছে ভাগ্যে তার!

সে কিন্তু নস্যাৎ করে দিল আশঙ্কা আমাদের। দৃপ্তকণ্ঠে জানাল, কোনদিন সে পছন্দ করেনি এই জীবন। বাবা আর ভাই-এর যুগপৎ আক্রমণে তাকে সাজতে হয়েছে সন্ন্যাসিনীর বেশে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে ঢাকতে হয়েছে মুখ ওড়নার আড়ালে।

তুমি তাে বুঝতেই পারছ অ্যাঞ্জেলাে, তার এই বিস্ফোরক স্বীকারােক্তিতে কতখানি আনন্দিত হয়েছিল মন আমার। 

ধীরে ধীরে এগিয়ে এল ভয়ংকর সেই মুহূর্ত। বিশ্বাসঘাতিনী রমণীকে এবার নিক্ষেপ করা হবে মৃত্যুর গহূরে। শুরু হয় প্রস্তুতি তার। সেন্ট উরসুলাইন কনভেন্টে আছে একটি ভয়ংকর কয়েদখানা যেখানে তার মতাে শাস্তিপ্রাপ্তদের রাখা হয়। অনাহারের অত্যাচারে জীবন পৌঁছে যায় নিশ্চিত মৃত্যুর উপত্যকায়।

এর থেকে মুক্তি নেই কারুর। ফুলের মতাে সুন্দরী সেই মেয়েটিকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বধ্যভূমিতে, তার হৃদয়বিদীর্ণ আর্তনাদে ভরে যাচ্ছে আকাশ বাতাস, প্রাণপণে চেষ্টা করছে সে নিজেকে মুক্ত করার, প্ৰধ পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হচ্ছে না সফল এই অসম লড়াইতে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে আমি দেখছি তার বিয়ােগান্ত ট্র্যাজিক পরিণতি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তীক্ষ্ণ ছিৎকার তার পরিণত হল চাপা গােঙানিতে। তারপর আর শােনা গেল না তাও। বুঝতে পারলাম তাকে প্রবেশ করানাে হয়েছে মারাত্মক মৃত্যু গহ্বরে। দেহটা তার দড়ি দিয়ে বেঁধে ধীরে ধীরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই বদ্ধ প্রকোষ্ঠে। বন্ধ হয়ে গেছে দরজা চিরদিনের মতাে। নেই কোনও মুক্ত বাতায়ন যেখান দিয়ে ভােরের আলাে এসে স্পর্শ করবে তাকে।

নিমজ্জিত সে এখন নিচ্ছিদ্র অন্ধকারের রুদ্ধকারায়। চলে গেল ঘাতকবাহিনী। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে উভিন্না যৌবনা কিশােরী এখন প্রতীক্ষার বীভৎস জীবন অন্তের।

তােমাকেই বলছি অ্যাঞ্জেলাে, একমাত্র তুমিই জানাে যে, আছে এক গােপন সুড়ঙ্গপথ—আমার কক্ষ থেকে যা প্রসারিত মৃত্যু কারাগার পর্যন্ত। মনে মনে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকি আমি।

ধীরে ধীরে মেয়েটিকে অনাহারের মধ্যে রেখে করতে হবে অবসন্ন। নিশ্চিত মৃত্যু এসে দাঁড়াবে তার চোখের সামনে। নিরাশার শেষতম প্রান্তে উপনীত হবার পর অসহায় আর্তনাদে সে খুঁজবে মুক্তির পথ। আমার যে কোন প্রস্তাবে রাজি হতে হবে তাকে। অনেকদিন ধরে আমি মনে মনে ছিলাম এই মুহূর্তটির জন্যে প্রতীক্ষারত।

এ তিন তিনটি দিন অতিবাহিত করি অদ্ভুত আবেগে এক। প্রতিমুহূর্তে মনে হয় ছুটে যাই তার কাছে জ্বেলে দিই কামনার দীপশিখাগুলিকে। অনেক কষ্টে সংযত্ন করি নিজেকে। অবশেষে অবসান হয় প্রতীক্ষার। কাঞ্চিত,মুহূর্ত এসে দাঁড়ায়।

তখন মধ্যরাত। নিদ্রামগ্ন কনভেন্টের সবাই। জেগে আছি আমি একা। জুলছে মনের মধ্যে লালসার দাউ দাউ আগুন। ঘুম আসে না দুচোখে আমার। হাতে তুলে নিই প্রজ্জ্বলিত লণ্ঠন। ধীর পায়ে এগিয়ে যাই সুড়ঙ্গ পথে। উত্তেজনায় থরােথরাে কাপছে বুক। বেঁচে আছে তাে মেয়েটি ? কেমন আছে সে?

অবশেষে পৌঁছে যাই মৃত্যুপ্রকোষ্ঠে। ঘনীভূত অন্ধকার দূর হয় লণ্ঠনের মায়াবী আলােয়। দেখি প্রশস্ত ঘরের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছে সে, আলুলায়িত কুঞ্চিত কেশদামে জমাট বাঁধা বিষাদে যেন শশাকের প্রতিচ্ছবি এক।

মৃদুকণ্ঠে ডাকি তার নাম ধরে। দীর্ঘ অনাহারে মৃত্যুপথযাত্রিনী সেই হতভাগ্য রমণীর গভীর নিদ্রার দরজায় ব্যর্থ করাঘাত করে আমার কণ্ঠস্বর। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর হাঁটু মুড়ে বসি তার পাশে, হাত রাখি কপালে।

হাতের স্পর্শ পাওয়ামাত্র ভেঙে যায় নিদ্রা তার। এক নিমেষে উঠে যায় সে, ফিরে পায় হারানাে সম্বিৎ। আমায় দেখে অবাক হয় সে। ভাবে, কি করে আমি প্রবেশ করেছি এই মৃত্যু তারপর অবরুদ্ধ কান্নায় ভেঙে পড়ে আমার করতলে। অশ্রুভেজা কন্ঠে আকুল আর্তনাদে বলে সে-দোহাই আপনাকে, আমাকে উদ্ধার করুন, ফাদার। আমাকে বাঁচান নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে।

লণ্ঠনের কম্পমান নিষ্প্রভ শিখায় আলাে-আঁধারির আধিভৌতিক পরিবেশে রহস্যের ছায়া কাপে তন্দ্রাতুর মুখে তার। স্পর্শ করি নরম গ্রীবা, প্রশ্রয়ী স্থাত ইতস্তত খেলা করে স্বেদসিক্ত কপালে তার, তখনও শেষ হয়নি ভয়ংকর খেলা আমার। বাঘ যেমন ধীরে ধীরে আক্রমণ করে হরিণ শিশুকে তেমনভাবে সেই অসহায় কিশােরীটিকে অধিকার করতে চলেছি আমি।

কুটিল, হাসির ঢেউ খেলে যায় ওষ্ঠে আমার। চিবিয়ে চিবিয়ে বলি আমি করতে পারি উদ্ধার তােমায় এই গহর থেকে, যদি তুমি রাজি থাক শর্তে আমার। তারপর ধীরে ধীরে বিবৃত করি আসঙ্গ অভিলাষের ইচ্ছাকে।

এক লহমায় পাল্টে যায় সে। নিদারুণ লজ্জা এসে গ্রাস করে তাকে। দুহাতে মুখ ঢেকে গােপন করতে চায় লজ্জা তার।

হেসে উঠি আমি অট্টহাসে। হাসির তরঙ্গধ্বনিত, প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে শক্ত গ্রানাইটের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে। চিৎকার করে বলি—তবে থাকো তুমি বন্দিনী এই রুদ্ধকারায়। তিলে তিলে প্রতীক্ষা কর নিশ্চিত মৃত্যুর।

এই বলে দ্রুত নিষ্ক্রান্ত হবার ভান করি আমি। আবার ছুটে আসে সেই অসহায়া নারী। জড়িয়ে ধরে পা’দুটি আমার। কান্নাভেজা কন্ঠে বলে-অবাধ্য হব না আপনার কথায়, পুরণ করব সব আকাঙক্ষা। দয়া করে মুক্তি দিন আমায়।

—ঠিক করে ভেবে দেখ সুন্দরী, কখনও কোনদিন। তােমাকে মুক্তি দেব না আমি আমার শরীরের কারাগার থেকে। উদগ্র কামনার আগুনে দগ্ধ করব তােমায়, হবে তুমি আমার গােপন কুঞ্জবনের রাজরাণী।

এবার আর কোনও কথা বলে না সে! সম্মতির চিহ্ন ফুটে ওঠে স্তব্ধ মৌনতায়। কাজ করতে হবে কৌশলে। যদি কোনও সময়ে কনভেন্টের রক্ষীরা এসে দূর থেকে তাকিয়ে থাকে মৃত্যুপ্রকোষ্ঠের দিকে, তাহলে যেন তারা বুঝতে না পারে যে, অন্তর্হিত হয়েছে বন্দিনী সেখান থেকে, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে আমায়।

আদেশ করি তাকে খুলে ফেলতে সন্নাসিনীর পােশাক। বুঝিয়ে বলি সব পরিস্থিতি। আমার কথায় অবাক হয় সে। কিছুতেই রাজি হয় না আমার প্রস্তাবে। অবশেষে আমাকেই নিতে হয় আগ্রাসী ভূমিকা। হাত রাখি পিঠের বােতামে তার। বাধা দেবার মৃদু চেষ্টা করে সে। ফলপ্রসূ হয় না সেই প্রয়াস।

কিছুক্ষণের মধ্যে সম্পূর্ণ নগ্না করি তাকে। চোখে বেঁধে দিই রুমাল যাতে নিজের নগ্নতার প্রতিফলনে লাজবতী সে না হতে পারে। যথাস্থানে রাখি পােশাক তার। এমনভাবে সাজাই যাতে দেখলে হঠাৎ মনে হবে নিচে তার শায়িতা বন্দিনী কন্যা।

শুরু হয় সুড়ঙ্গপথে আমাদের নিশি-অভিসার। চলতে চলতে স্পর্শ লাগে বে-আব্রু দেহের। অনিমেষ নয়নে তাকিয়ে থাকি আমি তার পেলব কোমল তনুর দিকে। মনের মধ্যে বেজে ওঠে কামনার সঙ্গীত। অবশেষে পৌঁছে যাই প্রশস্ত বেডরুমে আমার। বসাই তাকে কৌচে। খুলে দিই চোখের বাঁধন। নিজেকে সম্পূর্ণ নগ্না দেখে আরও একবার শিহরিত হয় সে। গােপন লজ্জার কালাে মেঘ।

ঢাকে মুখের আকাশ তার। আমি তাকে পাঠিয়ে দিই টয়লেটে। বেরিয়ে আসে সে সুন্দর রাতপােশাকে সজ্জিতা করে নিজেকে। শুরু হয় আমাদের নৈশ আহার। তিনদিন ধরে সে ছিল সম্পূর্ণ অভুক্তা। অচিরেই শেষ করে সুস্বাদু খাদ্যকণা। পরিতৃপ্তির চিহ্ন লেগে থাকে মুখে তার।

পাশে এসে বসে সে আমার। তখনও একরাশ লজ্জা আর। আদিগন্ত অভিমান কাপতে থাকে তার চোখের তারায়। নিজের সৌভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে। এবার শুরু হবে সর্বনাশা খেলা আমার। অবিলম্বে স্পর্শ। করি দুটি ঠোট তার। অনেকক্ষণ ধরে বাসনার পাখিরা ডানা ঝাপটায় মনের আকাশে। অকারণে সিক্তা করি ওষ্ঠ দুটি তার। পরশ রাখি আলগা সুখের, তার চিবুকে।

লােভী হাত খেলা করে বুকের উপত্যকায়। তার দস্যুকে বাধা দেবার মতাে ক্ষমতা হারিয়েছে সে অখর্ন হচ্ছে রূপান্তরিত আমার ইচ্ছার দেবদূতীতে। * আদেশ করি তাকে প্রস্ফুটিত করতে নিজেকে। আমার কথায় আবার যেন অবাক হয় জুমি। কিছুক্ষণ থাকে সে নিশ্চল।

আবার আমাকে নিতে হল আগ্রাসীর ভূমিকা। ধীরে ধীরে। উন্মােচিত করি তাকে। পূর্ণ প্রকাশিত হয় কটিদেশ তার। সদ্য প্রস্ফুটিত লাল গােলাপের মতাে উথিত দুটি কোমল সুডৌল স্তন আমাকে আকর্ষণ করে বার বার।

সম্পূর্ণ নগ্না করি তাকে। দাঁড় করাই উজ্জ্বল আলাের সামনে। তারপর ধীরে ধীরে লেহন করতে থাকি সর্বাঙ্গ তার। আবেশে দুচোখ বন্ধ এখন, বুঝতে পারি আমার সুখের ছোঁয়া। লেগেছে তার মনে, ভেঙে যাচ্ছে প্রতিরােধের ঠুনকো বাঁধের। আস্তরণ, মহাপ্রলয়ের শব্দ যাচ্ছে শােনা।

সেখানেই থামিয়ে দিই খেলা আমার। নিজেকে বিছিন্ন । করি তার থেকে। বসাই তাকে বিচিত্র আসনে। স্পর্শ করি কামনামদির প্রত্যঙ্গ-গুলিকে। ক্ষণে ক্ষণে শিহরিত হয় সে। বুঝতে পারি বেশি দেরি নেই আর শেষ সংকেতের।

হাত রাখি কোমরে তার, আঙুলগুলাে করে খেলা নাভিমূলে।।

স্তনবৃন্তে ঠোট রেখে পান করি স্বর্গসুধা। নিজেকে নিষ্পেষিত করি তার সঙ্গে। আর বুঝি স্থির থাকতে পারছে না পৌরুষের অহঙ্কার। আসন্ন বৃষ্টিপাতের উন্মাদ নেশায় মত্ত সে এখন।

হঠাৎ কান্না এসে আঁকড়ে ধরে আঁখি দুটি তার। স্পর্শসুখের এই প্রহরে ক্রন্দসী জুলিমা অকারণে ভারাক্রান্ত করে মন। তার মরালী গ্রীবায় ঠিকরে পড়ে রাতের আলাে। হাতির দাঁতের মতাে ধবল কঁাধে লুকনাে আছে আশ্চর্য ঠিকানা।

কৌচে বসাই তাকে। হাঁটু গ্রেড়ে বসি আমি পদমূলে। প্রসারিত করি উরু দুটি তার। উদ্ভাস হয়ে ওঠে গােপন কামনার বিস্তীর্ণ জলাভূমি—স্বেদসিঞ্জা, আবেগ মথিতা, স্পন্দন শিহরিতা। ঐ দাঁতে দাঁত চেপে উচ্চারণ করি কঠিন শপথ এক—যদি সে হয় অবাধ আমার, আবার তাকে নিক্ষেপ করব বন্ধ কারায়। 

বুঝি সে অনুভব করতে পারে অনুভূতি আমার, থাকে তাই আত্মনিমগ্না। নিশ্চিত আক্রমণে মেতে উঠি আমি। অনাস্বাদিত আনন্দ এক গ্রাস করে মন। জাগ্রত দণ্ডটিকে ঘিরে উদগ্রীব হয় মন।

ধীরে ধীরে সেটিকে প্রবেশ করাই কামনার সুড়ঙ্গপথে, তার শেষ-বিন্দুতে পৌঁছে যায় সে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরি। তাকে। উন্মাদের মতাে লেহন করতে থাকি চোখের পাতা, চিবুক আর কানের লতি।

কিশােরী কন্যার তাজা তারুণ্যে ভরা পয়ােধর দুটি লেপটে। থাকে প্রশস্ত বুকে আমার। অনেকক্ষণ ধরে সােহাগের যাদুদণ্ড স্পর্শে শিহরিতা করি ।

জুলিমা এতক্ষণে সাড়া দিতে শুরু করেছে আমার আগ্রাসী নিমন্ত্রণে। আঁকছে সুখের জলছবি সে সর্বংসহা শরীরে তার। হচ্ছে আমার একরাশ কামনার অনুগামিনী, দুরন্ত ইচ্ছার ছায়াসঙ্গিনী।

ধীরে ধীরে আমরা দুজন প্রবেশ করি মধুকূপী ভালবাসার স্বপ্নময় উদ্যানে। তােমাকে কী করে বােঝাব কি সুখ অনভিজ্ঞ রমণীরমণে! এর কাছে বুঝি ম্লান হয়ে যায় স্বর্গের সমস্ত আনন্দ। তাছাড়া তুমি তাে জানাে, কামকলাতে আমার মতাে পারদর্শী খুব কম আছে এই পৃথিবীতে। নিত্যনতুন ভঙ্গিমাতে সঙ্গম করি তার সাথে।

আমার পূর্ববর্তী সব অভিজ্ঞতা ম্লান হয়ে গেল এই প্রাকযুবতীর কাছে, যদিও আরক্তিম লজ্জা এসে প্রতি মুহূর্তে ঢেকেছিল মুখ, থরাে থরাে মদির কামনার আবহসঙ্গীত বেজেছিল নেপথ্যে। প্রথম প্রণয়ের মুঠো মুঠো আবির ছড়িয়ে ছিল তার মুখমণ্ডলে, তবুও লাভ কর আমি অনাস্বাদিত অভিজ্ঞতা এক।

দীর্ঘদিন ধরে যে দেহ ছিল উন্মুখ, মন ছিল তৃষিত, আজ তা পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির স্বর্ণশিখর প্রাঙ্গণে রেখেছে পা। সাধ্যমত সাড়া দিচ্ছে সেও, যদিও ক্ষণে বিক্ষণে অনভিজ্ঞতা এসে গ্রাস করছে তাকে।

ভালাে লাগছে এই কামপিয়াসীর নিত্যনতুন খেলা। এক লহমায় উদ্ভাসিত নিলাজ আলােয়, পরক্ষণেই গভীর গােপন অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে মুখখানি তার কৃষ্ণমেঘের আবরণে, আবৃত হচ্ছে সােনালি চন্দ্রিমা। পরমুহূর্তে স্থানচ্যুত হচ্ছে সদা সঞ্চরণশীল মেঘমালা। উদ্ভাস হচ্ছে বেদনাজর্জরিত সুখদ্রাবী মুখখানি তার।

অবশেষে নিরুচ্চার রক্তের স্রোতে বন জাগে। সর্বগ্রাসী ভালবাসা এসে গ্রাস করে আমাকে। ছুটে আসে জীবনরস, পৌঁছে যায় তার মােহিনী সুড়ঙ্গের অন্তিম প্রান্তে। কেঁপে ওঠে সে—ব্যথায়, লজ্জায়, অনুশােচনায়, দ্বিধায়, তৃপ্ত হই আমি অহঙ্কারে, আবিলতায়, আচ্ছন্নতায়, সন্তুষ্টিতে। বাজে বুকে তার পরাজয়ের ভায়ােলিন। শুনি আমি বিজয়ের ক্ল্যারিওনেট।

প্রথম মিথুন লগ্ন-অন্তে অলসতা এসে গ্রাস করে আমাদের দুজনকে। তার পাখির মতাে শীর্ণ দেহখানি দুহাতে তুলে স্থাপন করি সুখশয্যায়। অনতিবিলম্বে পৌঁছে যায় সে আবেশী নিদ্রার নিশ্চিত নিরাপত্তায় ।

তখন সবে প্রথম প্রভাত খেলছে হােলি; মুঠো মুঠো আবিরের রক্তরাগে। নিজের এই অযাচিত সৌভাগ্যে নিজেই হই আত্মহারা। মদমত্ত হাতির মতাে আমি প্রবেশ করেছি কমলবনে। এখন বারংবার সুঘ্রাণ নেব, তৃপ্ত হব, ভেঙেচুরে তছনছ করব। সবকিছু, তবেই মিটবে আমার আদিগন্ত কামপিপাসা।

তাকিয়ে থাকি অনেকক্ষণ তারু দিকে। ঈশ্বরের অপূর্ব সৃষ্টি সে। কাচ-বসানাে বাতায়ন দিয়ে ছুটে আসা তরুণ তপনের আলােকমালায় অনন্যা রূপী এক নিদ্রামগ্না এই মুহূর্তে। লােভী তস্করের মতােদুচোখ ভরে দেখি অনন্যা সৌন্দর্য তার। দেহখানি ঢাকা আছে হাল্কা রাতপােশাকের আবরণে। নিঃশ্বাসে ফুলছে নিটোলবর্তুল বুক দুটি তার। এখনও সম্পূর্ণ পরিপুষ্ট হয়নি স্তনশীর্ষ গােলাপি মায়ামেশাননা বৃন্তে কাপছে চিরন্তনের দুর্মর আকর্ষণ।

কটিদেশ তার বুঝি ঘন অরণ্যানীর মধ্যে দিয়ে ছুটে যাওয়া চঞ্চলা তটিনীর আবেশ মাখা, সেখানে দাঁড়ালে আমি শুনতে পাব নিরবচ্ছিন্ন জলপ্রপাতের শব্দ। তারই নিচে মৃত্যুহীন গ্লেসিয়ারের হাতছানি, আকর্ষণে যার মানুষ যুগযুগান্তরে হয়েছে উতলা। তবুও শেষ হয়নি অন্তহীন অন্বেষণ।

নাসিকাচুড়ায় রােমান ভাস্কর্যের ছাপ, লাজনতা দুটি গালে ফুটন্ত গােলাপের আভা, দাঁত যেন প্রাচ্যদেশীয় মুক্তোর মতাে ঝলমল করছে, কামনা-নিষিক্ত ঠোটদুটিতে প্রথম ভােরের মায়াবি আলাের আলিম্পন।

মুখমণ্ডলে তার গ্রিসিয়ান সৌন্দর্যের চকিত পরশ, কটিদেশ-কাধ-গলা-সবখানে ছড়ানাে আছে পবিত্রতম হাতির। দাঁতের চিহ্ন বুঝি। তাকিয়ে থাকি স্তনদুটির মধ্যবর্তী উপত্যকায় সেখানে তখনও আমার কামজৰ্জর প্রণয়খেলার নিদর্শন রয়েছে। দংশনের গােলাপি চিহ্ন। আর স্থির থাকতে পারি না আমি। ঘুমন্ত কিশােরীকে চুম্বন করি। জিভ দিয়ে লেহন করতে থাকি সমস্ত মুখমণ্ডল তার, তখনও সে ছিল সুপ্তিমগ্না, তারপর অকস্মাৎ ভেঙে যায় ঘুম।

আমাকে এমনটি করতে দেখে অবাক হয় সে। কিন্তু তুলে ধরে না প্রতিবাদের ধ্বজা। কেননা ভালভাবেই জানে সে, শর্ত অনুসারে প্রতিরােধের সামান্য প্রয়াসে তাকে আমি ফিরিয়ে দেব অন্ধকুঠুরির অন্ধকারে। জীবনের জাগ্রত আস্বাদনের বিনিময়ে কিনে নিয়েছি সমস্ত যৌবন তার। এখন সেখানে হব আমি একক সম্রাট। বিচরণ করব নির্ভয়ে তার শরীরের উপত্যকায়।

তার একটি হাত স্থাপন করি আমার গলার ওপর। নাবিয়ে আনি মুখখানি আমার, স্পর্শ করি বিস্ফারিত দুটি ঠোট, চোষণ করতে থাকি উন্মাদের মতো। জীবনের সমস্ত স্পন্দন এসে জমা হয় এই যৌনক্রীড়ার মধ্যে। সত্তার মধ্যে বাজতে থাকে দুরন্ত মাদল এক পান করতে থাকি তার সিক্ত মুখের জীবনরস। মনে হয় আমার সমস্ত সত্তা যেন একীভূত হয়েছে তার সঙ্গে। 

হঠাৎ কাঠিন্য ফিরে পায় স্তনশীর্ষ তার। বুঝতে পারি ঘুম ভাঙছে নিদ্রিত আগ্নেয়গিরির। এতক্ষণ ছিল যা সংযমের আড়ালে নিদ্রামগ্ন, সুপ্তি থেকে উথিতা হয়ে সে আমার কামনাকুহক পরশে হবে মনােমােহিনী। প্রথম রমণ প্রহরে ছিল একরাশ বেদনা। সদ্য কুমারীত্ব হারাবার হাহাকারে হয়েছিল মন উতলা তার। আমি চাই দ্বিতীয় মৈথুনলগ্নে সে হােক আমার প্রতি সম্পূর্ণভাবে আত্মনিবেদিতা। অনীহা বা অনিচ্ছুক এসে ঢাকবে না মুখমণ্ডল তার। সাড়া দেবে সে আমার ডাকে। এমন করেই যৌবন জলতরঙ্গে ভাসব আমরা দুজন। জীবনের বাকি দিনগুলি সে বিস্মৃত হতে পারবে না স্বর্গসুখের এই অনুভূতি।

ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে কামনার রিরংসা। নিজেকে আমি নিঃশেষে স্থাপন করি তার মধ্যে। তার আগ্রাসী ঠোট স্পন্দিত স্তন, স্বেদসিক্ত কুক্ষিদেশ, কামনামদির নিম্ননাভি ডাব দেয়—বলে এসাে প্রিয়, পবিত্র হও ধারাস্নানে। চিবুক ঢাকে মুখ লজ্জায়। গাঢ়তর চেতনা এক ক্রমেই গ্রাস করে চোখদুটি। শুয়ে থাকে সে আবেগী, আয়েসী, বিলাসিনী রমণীর মতাে নিঃসাড়, নিশ্চপ, নিশ্চল। প্রবেশ করাই আমার অহংকারের অঙ্গটি তার সিক্ত গিরিবর্জ্যে।

এই প্রথম সাড়া দেয় সে। অধীর আগ্রহে আমায় জড়িয়ে ধরে উন্মাদিনীর মতাে। ঠোট দুটি চিহ্নিত করে আশ্চর্য চুম্বনে শিহরিত হই আমি এই প্রথম তার ভালবাসার চুম্বনে। দোল লাগে আমার সমস্ত সত্তায়। অবশেষে সে দিয়েছে সাড়া আমার ভালবাসায়।

অনেকক্ষণ এমনভাবে দুজন ছিলাম নিরুচ্চার। অশ্রুত কথারা প্রকাশিত হচ্ছিল অর্ধনিমীলিত চোখের তারায়। ধীরে ধীরে আমি স্পর্শ করি কুঞ্চিত কেশরাশি তার। পরম আবেগে আমাকে জড়িয়ে ধরে অভিমানী বালিকার মতাে শুয়ে থাকে সেই ভীরু কিশােরী। এবার শুরু হয় আমার খেলা। ধীরে ধীরে আন্দোলিত করতে থাকি কটিদেশ আমার। ছন্দে ছন্দে স্পন্দন জাগে পৌরুষের প্রান্ত সীমায়। প্রচণ্ড আবেগে তা স্পর্শ করে গহূরের অন্তিমতাকে। ঘর্ষণজনিত সুখসাগরে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যাই রহস্যদ্বীপে, যেখানে আমার জন্যে অপেক্ষা করে আছে – যৌবনের অনেক উন্মাদনা।

আগের মতাে আর শিথিলতার স্পর্শ মাখা নয় স্তনদুলি তার, জেগেছে তারা কামজৰ্জর শিহরণে, সুদৃঢ় হয়েছে বৃন্তদুটি আমার নিষ্পেষণে ভুলেছে লজ্জা তারা, প্রত্যুত্তরের মগ্ন প্রয়াসে চমকিত হয়েছে তারা।

সারাদেহে তার স্বাগত সম্ভাষণের চিহ্ন মাখা, জ্বেলেছি প্রদীপ সে সারাদেহে তার। সংক্ষেপে জানাই তােমায়, কিশােরী কন্যার এহে আত্মনিবেদনের মধুর সঙ্গীত শুনতে শুনতে, পান করতে করতে তার রসসিক্তা দেহের, উত্তাপ নিতে নিতে পৌঁছে যাই আমি কাঙ্ক্ষিত চরমরতির মুহূর্তে।

ওয়ারড্রোব থেকে পােশাক এনে সাজাই তাকে আপনমনে। আবরণের আড়াল থেকে স্ফীতা তার দুটি স্তন প্রবলভাবে আকর্ষণ করে সমস্ত সত্তা আমার। হাঁটা চলা কাপনে তরঙ্গ জাগে সেখানে। নিজেই সে এসে বসে পাতে আমার।।

ধীরে ধীরে মুখখানি তার দুহাতে ধরে রাখি আমি। মাথ নিচু করে স্পর্শ করি কামনামদির ঠোট দুটি তার। অদ্ভুত আবেশে চোখ দুটি বন্ধ করেছে সে। বুঝি ভেসে যাচ্ছে অদ্ভুত খেলায়। দীর্ঘ চুম্বন-অন্তে মগ্ন হয়ে বসে থাকি ক্ষণকাল। সে এনে ভাঙিয়ে দেয় আমার এই ইচ্ছাকাতর মুহুর্তের তন্ময়তা। জীবনে অনেক নারীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছি আমি। তাদের অনেকে কামকুশলতায় হারিয়ে দিতে পারে কিশােরী এই কন্যাটিকে কিন্তু অনিন্দ্য রূপলাবণের জোয়ারে ভাসমান এই মেয়েটি মতাে সৌন্দর্যের এতখার্নি পরিপ্লাবিত বহিঃপ্রকাশ এর আশে দৃশ্যমান হয়নি আমার।

হস্তী দন্ত-সুলভ শ্বেতশুভ্র আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত তনুবাহাতার। প্রকাশিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নীল উপশিরা, বহমান রক্তধার প্লাবিত করেছে সমস্ত দেহখানি তার। সমস্ত সত্তা জুড়ে সউপলব্ধ ভালবাসার রিমঝিম বৃষ্টিপাতের শব্দ। এইমা হারিয়েছে কুমারী জীবনের লজ্জাকে, শুনেছে যৌবনে জলপ্রপাতের শব্দ, কামনার সিঞ্চিত বারিধারায় স্নাতা হল হয়েছে সে আমার ইচ্ছে আকাশের দুরন্ত কবুতর। কামতৃপ্ত কপােতীর মতাে মুখখানি তার শায়িতা আমার প্রশস্ত বুকে।

আবার কামনামদির বিহ্বলতা এসে গ্রাস করে আমাকে সম্পূর্ণ নতুন ভঙ্গিতে রমণ করতে ইচ্ছে জাগে আমার। ধীরে ধীরে দাঁড় করাই তাকে, দেওয়ালের সামনে তুলে ধরি স্কান খানি তার। প্রকাশিত হয় সেই গভীর গােপন সুড়ঙ্গদেশ। ইতিমধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ উন্মােচিত করি আমি। উথিত দণ্ডখানি নিষ্ফল আক্রোশে মাথা নাড়ে।

জড়িয়ে ধরি তাকে, পরম আবেশে বন্ধ করি চোখ তারপর ধীরে ধীরে এই অবস্থায় আমার লৈঙ্গিক অহঙ্কারকে প্রবেশ করাই তার গহূরে। মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে সে। তারপর সাড়া দেয় আমার আদিম নগ্নতায়।

এই অবস্থায় ধীরে ধীরে আন্দোলিত করতে থাকে নিতম্ব আমার। সাড়া দিতে শুরু করে সে, স্পন্দনে কাঁপতে থাকে দুন্নি দেহ। অনেকক্ষণ ধরে চলে এই আদিরসের খেলা। শরীরের তুর্কি নাচনে ভরে ওঠে মন। সে জড়িয়ে ধরে গলা আমার চুষতে থাকে ঠোটদুটি। উন্মুক্ত করি ঠোটদুটি আমার। তাকিয়ে থাকি তার দিকে, জিভে জিভে শুরু হয় অনাপ্ত খেলা। অদম্য আনন্দ এক গ্রাস করে সারা দেহ। আমার ভালবাসার জলপরী এখন নিজেকে নিবেদিত করেছে আমার কাছে। প্রচণ্ড উত্তেজনায় যেন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায় তার। মুখ থেকে নিঃসৃত হয় আবেগসঞ্জাত শিহরিত শব্দাবলী। আমি প্রবল থেকে প্রবলতর করি দেহের বাঁধন আমার। ধাপে ধাপে তাকে পৌঁছে দিই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটির দিকে।

অবশেষে একসঙ্গে রাগমােচন হয় আমাদের দুজনের। মুখ হই আমরা চরমরতির বিরলতম আস্বাদনে। অ্যাঞ্জেলাে, ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এই সুখস্মৃতি রােমন্থনের আর প্রয়ােজন আছে কি কোনও ?

কখনও কখনও ক্লান্ত অবসরে ভেবেছি আমি তাকে নিয়ে তাকে কি আমি চিরদিনের জন্যে বন্দিনী করে রাখতে পার আমার গােপন প্রকোষ্ঠে ? একদিন না একদিন খুলে দিতে হবে স্বর্ণপিঞ্জরের দরজা। নীল আকাশে আপন খেয়ালে ডানা মেলে দেবে মুক্ত বিহঙ্গিনীর মতাে, এটাই ভবিতব্য। এর থেকে মুক্তি নেই আমাদের কারও।

কিন্তু আসন্ন বিচ্ছেদ বেদনায় কেঁপে ওঠে মন। চরম এই টাকে স্বীকার করতে পরায়ুখ হই আমি। দ্বিধাগ্রস্ত চ্ছন্নতা এসে গ্রাস করেছে আমার পৌরুষ। স্থির সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারছিনা আমি। অ্যাঞ্জেলো, তুমিই বলে দাও  কি করা উচিত এখন আমার। অচিরেই পত্র মারফত পাঠিও নার মহার্ঘ উপদেশ।

তােমার বিশ্বস্ত বন্ধু
পেড্রো

পেড্রোকে লেখা অ্যাঞ্জেলোর চিঠি

পবিত্র সেন্ট পিটার,

আমাকে ক্ষমা করুন। তােমার মধ্যে কি বেলজেবাব ভর করছে? তুমি কি করে এই কামনা-মদির রমণীকে বিচ্ছিন্ন করবে তােমার জীবন থেকে? তুমি কি ভুলে গেছ ক্যামিলার কথা? রােসা সেন্ট পিটারকে মনে পড়ে তােমার? দরিদ্র লের মেয়ে বিনাকা? আরও হাফ ডজন মেয়েকে আমি পাঠিয়েছি সমুদ্রযাত্রায়-আলজিরিয়া এবং টিউনিসের হারেমে। পরিবর্তে ফ্রিকার সােনার ঝঙ্কার শােনা গেছে আমার পকেটে।

পনেরাে দিনের মধ্যে আবার চিঠি লিখাে আমায়। জানিও তুমি কামজরে জর্জরিত কিনা। তােমার নতুন-পাওয়া সুন্দরীকে ঠিকমতাে উপভােগ করতে একমাসই যথেষ্ট। ততদিনে তােমার কামনার বহ্নিশিখা ধীরে ধীরে নির্বাপিত হয়ে আসবে। দু’সপ্তাহের মধ্যে তাকে আলজিয়ার্সে পাঠাতে হবে। শর্ত নুসারে পনেরাে দিন সে থাকবে আমাতে উপগত। তারপর তাকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রপথে আলজিরিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেব আমি। এই সমুদ্রযাত্রার সময়টি এত সংক্ষিপ্ত যে অনভিজ্ঞয়েরা প্রায়শই আক্রান্ত হয় স্নায়বিক দুর্বলতায়। তাই তখন তাদের ঠিকমত ভােগ করা সম্ভব হয় না। সম্ভব হলে তুমি আলজিরিয়ার সম্রাটের জন্যে দু-একজন কুমারী পাঠাও। যে কোনো মূল্যে সম্রাট তাদের কিনে নিবে। নথ ভাঙার খেলাতে ওস্তাদ সে। তবে এ ব্যাপারে তােমার কৃতিত্বও কম নয়। চিঠির মাধ্যমে জানিও কিশােরী মেজিয়া কবে আমার অঙ্গসায়িনী হবে।

অ্যাঞ্জেলাে

অ্যাঞ্জেলােকে লেখা পেড্রোর চিঠি

তুমি ঠিকই বলেছাে বন্ধু। অসীম অধিকার সময়ের অনুবর্তনে এনে দেয় শুধুই বিতৃষ্ণা। নিভে যায় কামনার আগুন, পড়ে থাকে মুঠো মুঠো ছাই। তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে কিশােরী মেজিয়ার কুমারীত্ব হরনে প্রহর থেকে। তারপর প্রতিরাতে সে হয়েছে আমার কণ্ঠলগ্না। কিন্তু প্রথম রাতের কুহকমায়া পরিণত হয়েছে ন্তিকর ধারাবাহিকতায়। শরীরে শরীর রাখলে আর জ্বলে না আগুন আগের মতো। বিরত্তিকর সঙ্গম অন্তে নেমে আসছে  শুধুই হতাশা। মেজিয়া এখন অতিমাত্রায় চিন্তিত তার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে। হায় কণ্ঠে বারবাৱ জানতে চায় কোথায় পাঠানাে হবে তাকে।

হতভাগি কিশােরীর চোখের তারায় ফুটে ওঠে আকুল আর্তি এক অব্যক্ত প্রার্থনায়, অনুচ্চারিত উচ্চারণে হতে চায় সে বন্দিনী আমার সুখের খাঁচায়। কিন্তু তাতাে আর সম্ভব নয়। মিথ্যে করে বলেছি তাকে, যাবে সে আয়ার্ল্যাণ্ডে, যেটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত। এখানকার অধিকাংশ মানুষই মান ক্যাথলিক মতবাদে বিশ্বাসী। তাই কোন অসুবিধে হবে তার। গভীর প্রত্যয়ে সে বিশ্বাস করেছে আমার মুখনিঃসৃত পাবলী। কেননা ক্যাথলিক ধর্ম অনুসারে একজন পাদরীর পর ন্যস্ত হয়েছে অসীম ক্ষমতা, ইচ্ছে করলে তিনি নারীত্বের অবমাননার জন্যে প্রাণদণ্ড পর্যন্ত দিতে পারেন শয়তান। এবার সত্যি সত্যি তাকে আমি বিদায় জানাতে চলেছি।

বালিকার উৎসাহে সে ব্যস্ত এখন তার পােশাক পরিচ্ছদ গোছাতে। এ ব্যাপারে দারুণ উদার আমি, দিয়েছি তাকে দামী নী আবরণ আর বহুমূল্য রত্নরাজির অলঙ্কার। তুমি তাে জানো, এমন ভাবেই মেয়েদের মন ভােলাই আমি।

সত্যি বলতে কি মেয়েটি অসামান্যা সুন্দরী। কুমারীত্ব পাক বা না হারাক বিক্রি হবে সে অনন্ত অর্থমূল্যে। লজিরিয়াতে তাকে কুমারী বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কোরাে কেন না সম্রাটের অভিজ্ঞ অনুচরদের ধূর্ত চোখ ধরে ফেলবে এই জগন্য প্রতারনা। আর একটা কথা বলি তোমাকে তাকে বলেছি তুমি আমার বােন, কনভেন্ট সেন্ট থেরেসার লেডি বস। কাজেই তুমি কয়েক ঘণ্টার জন্যে তােমার পুরােনাে বেশ ধারণ করাে, তাহলেই অতি সহজে পা রাখতে পারবে তার শারীরিক উপত্যকায়।

তােমার অভিযানের সাফল্য কামনায়

পেড্রো

পেড্রোকে লেখা অ্যাঞ্জেলাের চিঠি

খুব বুঝতে পারছি বন্ধু, ব্যথার করুণ রাগিনী বাজছে তােমার নর ভায়ােলিনে।

ঈর্ষা হচ্ছে তােমায়, তুমিই সেই প্রথম ভ্রমর, যে বসেছে রি মধুকুঞ্জে আর হরণ করেছে কুমারীত্ব তার। তুমিও তাে কেড়েছ কিশােরী গােলাপটিকে, ঘ্রাণ নিয়েছ সুরভির। নিরাপদেই সে এসে পৌঁচেছে এখানে। তােমার কথামতাে জেছি আমি লেডি অ্যাবেসের,হেবেশে। বেচারি মেজিয়া জানতেই পারেনি আমার আসল পরিচয়। যখন তার চিবুকে আঁকি স্বাগত চুম্বন, ঢেলে দিই তাতে মিনামদির উষ্ণতা, কিছুই বােঝেনি সে। জানাই তাকে যে, মন ভাবে সে নিষ্ক্রান্ত হয়েছে মৃত্যু প্রকোষ্ঠ থেকে জানা পছে সে খবৰ অমার। তখন চোখে তার ফুটে ওঠে অশ্রুসজল

রাতের খাবার শেষ হলে জানাই তাকে যে এই কনভেন্ট ল অত্যন্ত নির্জন জায়গা, তাই আজ শােব আমরা শশাপাশি। তুলে দিলাম হাতে শয়নকক্ষের চাবিখানি। আমার বর্তমানে সে নিশ্চয়ই শুয়ে পড়বে বিশাল শয্যাটিতে। সাত-আট মিনিটের মধ্যেই আমি দ্বিতীয় চাবিটি নিয়ে বেশ করি শয়নকক্ষে। দেখি আনমনে পােশাক ছাড়ছে সে। খন আয়নাতে প্রতিফলিত তার প্রায় অনাবৃতা দেহবল্লরী। টিয়ে খুঁটিয়ে সে পর্যবেক্ষণ করছে ঈশ্বরের অকৃপণ নানা ভঙ্গিমায় নিজেকে করে তুলছে আরও বেশি ত্তেজক। সমস্ত রক্ত জমা হয় হৃদপিণ্ডে আমার। অচিরেই সে য়ে পড়ে শয্যায়। একটু পরেই পা রাখে নিদ্রার জগতে।

নিমেষের মধ্যে নিজের পােশাক খুলে ফেলি আমি। উন্মােচিত হয় আমার পৌরুষ সত্তাটি।

ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ি তার পাশে। তাকাই তার নিদ্রামগ্ন খের দিকে। উথিত হয়ে ওঠে দণ্ডটি আমার। পাশ ফিরে শােয় কন্যাটি। আনমনে অজান্তে হাত রাখে আমার অহংকারের দিকে। কেঁপে ওঠে সারা শরীর। গভীরভাবে জড়িয়ে ধরি তাকে।

হঠাৎ বুঝি ঘুম ভেঙে যায় তার। এই অভাবিত আবিষ্কারে হরিত হয় সে। মুখ দিয়ে তার নির্গত আর্ত চিৎকার। অতি ত মুখে হাত চাপা দিই আমি। বােঝাই তাকে, এই আর্ত চিৎকারের পরিণতি কী হতে পারে! এমন কি এর ফলে যে ত্যুদণ্ডও হতে পারে সে সম্বন্ধে অবহিত করি তাকে।

তাকে আমি আরও জানাই যে, তােমার আর্ক,তার মধ্যে ঘটে যাওয়া মারাত্মক সব ঘটনা জানি আমি। লজ্জায় অবদনে সে একথা শুনে।

বুঝতে পারি আর বিলম্ব করা উচিত হবে না আমার। খুবই চরম আঘাত হানতে হবে তার ওপর। তাই আর এক মুহুর্তও অপেক্ষা না করে প্রসারিত করি তার উরুযুগলকে এবং বিষ্ট করাই আমার অহংকারের দণ্ডটিকে। তােমার সুখস্পর্শে মনে হয়েছে অভিজ্ঞা অনেকখানি। এখন আর প্রতিবাদের ভাষা চারিত হয় না সর্বাঙ্গে তার। বরং চেষ্টা করছে সহযােগিতা করার।

তুমি সত্যি বলেছ বন্ধু, রমণী হিসেবে মেজিয়া কন্যা তুলনীয়া। জীবনে অনেক নারীর সংস্পর্শে এসেছি আমি, পলাবণ্যের জোয়ারে তাদের অনেকেই হারিয়ে দেবে এই কিশােরী মেয়েটিকে। কিন্তু ক্ষণে বিক্ষণে আবেগ আর অনুভূতির মনতর স্ফুরণ দেখিনি আমি অন্য কোন রমণীর ক্ষেত্রে।

আকস্মিক আবিষ্কারের বিহুলতায় শিহরিতা কন্যাটি, তবুও ধ্যমত চেষ্টা করছে হতে আমার অনুবর্তিনী। চাপা কান্না, যৎ উত্তেজনা, প্রস্ফুটিত অভিমান, নীরব আত্মনিবেদন, নিষিক্ত মিনা—সবকটি অনুভূতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

দেহের সঙ্গে দেহের মিলন হলে আনন্দ যে কতখানি বব্যাপী হতে পারে আগে বুঝিনি তা। অবশেষে আমরা দুজনে পৌঁছে যাই পরম কাঙ্ক্ষিত মােচনের মুহূর্তে। প্রচণ্ড বর্ষার অশান্ত বারিধারার মতাে ছুটে সে জীবনরস আমার, পিচ্ছিল করে দেয় যােনিপথ তার।

আবেগে আশ্লেষে চোখদুটি বন্ধ করে সে শুয়ে থাকে পাশে আমার। তখনও বিযুক্ত হয়নি দুটি শরীর। আলস্যভরা যৎ কাপনে উত্তেজিত হচ্ছে গােপন গহরখানি। সেই উত্তেজনার ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে সারা অঙ্গে তার। আরও বিড়ভাবে সে জড়িয়ে ধরছে আমার গলা। আর মাঝে মাঝে চুস্বনচিহ্ন আঁকছে শরীরের এখানে ওখানে। কীটবিদ্ধ গােলাপ হয়ে শুয়ে আছে আমার বুকের ছায়ায়।

একমাস ধরে ছিলাম আমি নারী সংস্পর্শহীন। সর্বদা মনের রেখেছিলাম সেই আবেগের। তিরিশ দিনে জমিয়ে রাখা প্রক্ষোভ যেন শান্তি লাভ করল মেয়েটির জন্যে।

সারা রাত ঘুম ছিল না চোখে। যৌবনের কামসূত্রে আছে যতগুলি ভংগিমা তার সবকটি প্রয়োগ করলাম আমরা। কখন নিল সে আগ্রাসী ভূমিকা, আমি হলাম নিষ্ক্রিয়, আবার কখনও হলাম আমি প্রবল পরাক্রমশালী আক্রমণকারী, দুরন্ত দুর্বার ভাবে অনুসরণ করলাম তাকে।

জানতে চাইল সে, আমার ছদ্মবেশের কারণ। বললাম আমি, এমন করেই চমক জাগাতে চেয়েছিলাম মনে তার। আয়াল্যাণ্ড সম্বন্ধে অনেক কৌতুহল জমে আছে তার মনে। মথ্যে করে তাকে বললাম, আয়ার্ল্যাণ্ডে গিয়ে তাকে আবদ্ধ করব বিবাহ বন্ধনে।

বেচারি মেজিয়া কন্যা বিশ্বাস করল আমার মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে। শুরু হল আমাদের শরীর দেওয়া নেওয়ার খেলা।

সারাদিন আমি থাকতাম উন্মুখ, কখন আসবে কাঙ্ক্ষিত সময়, আর আমি হব পরিব্রাজক তার দেহের উপত্যকায়। তটি মৈথুন এনে দিত নতুনতর আনন্দ এক। এর আগে আর কোন রমণী এমন করে উজ্জীবিত করতে পারেনি কামনার আবেগ আমার। পারে অনেককিছু শেখাতে পারে আমায়, ভালবাসার অদ্ভুত বিরণে ঢাকা প্রচণ্ড উত্তপ্ত বাসনা তার। মাঝেমধ্যে ক্লান্তি এসে স করে আমাকে।

এখানেই শেষ করি চিঠি। এবার আমায় যেতে হবে সমুদ্রপথে আলজেরিয়ায়। সম্রাটের হাতে তুলে দিতে হবে জিয়া কন্যাকে, আর কোনদিন সে হবে না বন্দিনী আমার বীরের পিঞ্জরে, তবুও বাকি দিনগুলি কাটবে আমার শুধুই রিই স্মৃতি রােমন্থনে।

অ্যাঞ্জেলাে

মারিয়া উইলিয়ামকে এমিলি বালাের চিঠি
লণ্ডন ৮ই মে, ১৮১৬

প্রয়তমা মারিয়া,

তােমার আগের চিঠিতে তুমি অনুরােধ করেছাে আলজিয়ার্সে আমি যে জীবন অতিবাহিত করেছি সে সম্বন্ধে বশদভাবে জানাতে তােমায়।

এর আগেই আমি সবকথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছি সিলভিয়া শ্যারিকে। সঙ্গে পাঠিয়েছি ফাদার অ্যাঞ্জেলােকে উদ্দেশ্য করে লেখা একগােছা পত্রাবলী। উনি হলেন একজন রােমান ক্যাথলিক পাদরী।

এই চিঠি গুলো ভুলঃবশত তিনি ফেলে যান আবদাল্লার জাহাজে।

আবদাল্লার পরামর্শ অনুসারে-ঈার্ট একে নিযুক্ত করেন সিলভিয়াকে নিয়ে যাবার জন্যে এই ব্যাপারে সম্রাট একটি চিঠি দিয়েছিল আবদাল্লাকে (সিলভিয়ার শেষ চিঠি পাবার পর “থকে ঘটে গেছে যে ঘটনাবলী এখন তারই ধারাবাহিক ইতিকথা তুলে ধরছি তােমার সামনে।

সম্রাটের উদাসীনতা অতিক্রম করে চরমসীমা, সময় কাটায় সে অন্য নারীর সুখসান্নিধ্যে, শুনেছি আমি সে নাকি এক ইংল্যান্ডনয়া।

সম্রাটের গতিবিধি ক্রমেই সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে। সতি সত্যি সে যে কার প্রতি অনুরক্ত তা ঠিকমতাে বােঝা যাচ্ছে না জানিয়েছে প্রধান অনুচর তার, যদি আমি সঙ্গোপনে প্রত্যন্ত করতে চাই সম্রাটের রঙ্গলীলা, তাহলে সুযােগ করে দেবে সে প্রথম থেকেই আমি ঐ অজানা শ্বেতকন্যার প্রতি ছিলাম অতিমাত্রায় ঈর্ষিতা, কেননা সেই তার অসম্ভব শারীরিক উপস্থিতিতে হারিয়ে দিয়েছে আমাকে, হয়েছি আমি সম্রাটের অবহেলার পাত্রী। তবুও ঔৎসুক্য এসে গ্রাস করে চেতনা আমার। অবশেষে আমি রাজি হই অনুচরের এই প্রস্তাবে।

সে আমাকে সন্তর্পণে নিয়ে যায় সম্রাটের রমণকক্ষে। বিশাল সেই ঘরটির মধ্যে রয়েছে ভারী পর্দা, তার ফাকে চোখ রাখি আমি। দেখি কৌচে শায়িতা সম্পূর্ণ নগ্না রমণী, রিদৃশ্যমান শরীরের মারাত্মক খাঁজগুলি সব, সম্রাট ধীরে ধীরে পরম মমতায় হাত বােলাচ্ছে তার অনাবৃতা শরীরের এখানে খানে।

এই মুহূর্তে হঠাৎ সম্রাট দেখতে পায় আমাকে। বিস্ময়ে নামি হই চিত্রার্পিত। সে ধীরে ধীরে মেয়েটিকে বসায় কৌচে।

প্রিয়তম মারিয়া আমার, বুঝতে পারছাে তুমি এই পরিবেশে সিলভিয়াকে দেখে কতখানি উত্তেজিত হয়ে পড়ি আমি। যে আমাকে লিখেছিল অমন চিঠিখানি, সেই এখন শায়িতা হারেমের সুখশয্যায়। সঙ্গে সঙ্গে অবচেতনের অন্ধকার এসে গ্রাস করে আমার চেতনা। একটু করে জ্ঞান ফিরতে দেখি শায়িতা আমি বছানাতে, আর সিলভিয়া আছে বসে মাথার পাশে। শান্তকণ্ঠে সে বলে—প্রিয় বান্ধবী এমিলি, ক্ষমা করিস আমায়। শুধু শুধু তাের প্রতি দোষারােপ করেছি আমি। তখনও পর্যন্ত জানতাম না যে দুষ্ট শয়তান সম্রাটের অঙ্কশায়িনী হতে হবে আমাকে একদিন। ভেবে পাচ্ছি না কেমন করে তুই এত নিলাজ বর্ননা দিয়েছিলি তোর অন্তরঙ্গ রমণ খেলার। সত্যি বলতে কি আমিও মজেছি প্রেমে তার। তার মুখ থেকেই শুনবি সেই আশ্বর্য কাহিনি।

পরের দিন আমি বসেছিলাম সােফাতে, সম্রাট এসে ঢুকল মামার আপার্টমেন্টে। ভেবেছিলাম সে বুঝি রাগ করেছে আমার ওপর। কিন্তু আগের মতােই আছে সে। কয়েকমুহুর্তের মধ্যেই নিজেকে উন্মােচিত করে এবং পরিদৃশ্যমান হয় সুখ ও বেদনার সেই গােপন অঙ্গটি। আমাকে ঘনিষ্টভাবে আলিঙ্গন করে সম্রাট।

তারপর বলতে শুরু করে—বুঝতে পারছি প্রিয়তমা আমার, উৎকণ্ঠিতা তুমি জানতে আমার গােপন হারেমে কেমন করে হয়েছে বন্দিনী সিলভিয়া।

বােকা মেয়ে কোথাকার, তুমি ভাবছ যে, লিখতে তুমি এসব অন্তরঙ্গ চিঠি সিলভিয়াকে, না পড়ে ডাকে দিতাম সেগুলাে আমি? সিলভিয়ার পাঠানাে চিঠিও খুলে পড়তাম আমি। চিঠির শব্দগুলি পড়ে হাসিতে ভরে উঠতাে আমার মুখ। আমাকে তুমি গালাগাল দিয়েছ পশু বলে আর উপহাস করেছ আমার অদম্য যৌন ক্ষমতাকে। সিলভিয়াও তার চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে তার রাগ, বিরক্তি আর ঘৃণা।।

তখন থেকেই মনে মনে শপথ করেছিলাম আমি, সুযােগ পেলেই সিলভিয়াকে করব আমার শয্যাসঙ্গিনী। মিলে গেল সুযোগ অভাবিত ভাবে। আমি দায়িত্ব দিলাম আবিদাল্লাকে দায়িত্ব দিলাম, সে যেন সুন্দরী তরুণীটিকে অপহরণ করে নিয়ে আসে। এর জন্যে তাকে ভালভাবে পুরস্কৃত করা হবে।

আবদাল্লা ভালভাবেই সমাধা করল তার কাজ। প্রায় একমাস আগে সে আলজিরিয়াসে এসে পৌছেছে ঐ শ্বেতাঙ্গিকে নিয়ে। সিলভিয়াকে কেমনভাবে আমি আমার কামনার অগ্নিশিখায় দগ্ধ করব, ভেবে পাচ্ছিলাম না কোন পন্থা গ্রহণ করতে হবে আমাকে।

অবশেষে ঠিক হল যে, তাকে হাজির করা হবে ক্রীতদাসীদের হাটে। সেখানে সর্বসমক্ষে উন্মােচিত করা হবে যৌবন তার। সম্ভাব্য ক্রেতারা নিবিষ্ট চোখে নিরীক্ষণ করবে তাকে। এমনভাবেই হানতে হবে আঘাত ঐ লজ্জাশীলা রমণীটির ওপর।

আমার আদেশমতাে আবদাল্লা মেয়েটিকে হাজির করল নীতদাসীর হাটে। এক নিমেষে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করা হল তাকে। তারপর দেওয়া হল তাকে এক টুকরাে সিল্কের ওড়না যা দিয়ে সে কোনমতে নিবারণ করতে পারে লজ্জা তার।

এরপর এল আমার অনুচরেরা, দেখল তাকে খুঁটিয়ে। সত্যিই সে আমার অঙ্কশায়িনী হবার উপযুক্ত কি না। খুলতে বলা হলাে ওড়নাটি। রাজি হয়নি প্রথমে সে। ছিল সেখানে চারজন নিগ্রো পরিচারক আমার, জোর করে তারা খুলে নিল সিলভিয়ার স্বল্পতম আবরণ। বসানাে হল তাকে কৌচে। নিগ্রো পরিচারকরা শক্ত করে চেপে ধরে রইল হাত পা তার। প্রধান সহচর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করল তার কুমারীত্ব। ভয়ে, যন্ত্রণায়, অপমানে আর্তনাদ করে উঠল সে।

হাসান, আমার বিশ্বস্ত অনুচর, এ ব্যাপারে অত্যন্ত পারদর্শী। আঙুলের সামান্য স্পর্শে সে সহজেই বুঝতে পারে যে মেয়েটির সতীচ্ছদ অটুট আছে কিনা।  পর্যবেক্ষণ শেষ হলে আবদাল্লাকে ফরাসী ভাষায় প্রশ্ন করে যে, এই মেয়েটির জন্যে কত অর্থ দিতে হবে? আবদাল্লা একই ভাষায় উত্তর দেয় যে এর দাম হল বারাে পার্স। এতে হাসান সন্দেহ প্রকাশ করে বলে যে, মেয়েটি হয়তাে সম্পূর্ণ কুমারী নয়, আর আমাকে ঠিকমতাে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। পরক্ষণেই জানতে চায় সে যে, মেয়েটি কোন দেশের বাসিন্দা। এর উত্তরে আবদাল্লা জানায় যে, সে হলাে ব্রিটিশ তনয়া। এতে অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে হাসান। বলে সে, ইতিমধ্যেই আমি জুলিমা নামে এক ইংরেজ রমণীকে গলা টিপে মেরে ফেলেছি তার দুর্বিনীত আচরণের জন্যে। কাজেই নতুন করে আর কোনও ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গিনীকে স্থান দেব না হারেমে।

থিয়ােডেরা (তার এই নতুন নামকরণ করেছি আমি) বুঝতে পারে কথাবার্তা, অনুধাবন করতে পারে মর্ম তার। তােমার সম্ভাব্য মৃত্যুসংবাদ শুনে মূৰ্ছিত হয় সে। একটু পরে চেতনা ফিরে আসে তার। তখনও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে সে। হাসান তাকে কিনতে অসম্মত হয়ে বাজার ছেড়ে চলে যায়। এমনভাবে আসে আরও অনেক ক্রেতা, সবাই পরীক্ষা করে তাকে, তারপর কোনও না কোনও অজুহাতে বাতিল করে দেয় শ্বেতললনাকে। কেউ বলে—দামটা অত্যন্ত বেশি, কারাে চোখে যথার্থ সুন্দরী নয় এ মেয়েটি।

সবই আমার সাজানাে নাটক। এসব করা হচ্ছে ভাঙতে তার আত্মবিশ্বাস। অবশেষে আবদাল্লা বুঝতে পারে যে, এমনভাবে উন্মুক্ত বাজারে শত সহস্র লােভীদৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে, নারীত্বের গােপন অঙ্গে ধারাবাহিক আক্রমণ পেতে পেতে ক্রমশই ভেঙে পড়বে সে এবং ধরা দেবে আমার ফাঁদে।

আবদাল্লা এখন নিজস্ব ভাষায় মেয়েটিকে দোষারােপ করতে থাকে। এমন কুৎসিত রমণী যে স্থান পাবে নরকের আস্তাকুঁড়ে—এমন মন্তব্যও করে সে।

পরিকল্পনা মতাে এই মুহূর্তে সেই রঙ্গমঞ্চে আকস্মিক প্রবেশ ঘটে আমার। সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে আমি পরীক্ষা করতে শুরু করি তাকে। প্রথম স্পর্শ করি তার হাতির দাঁতের মতাে সাদা পেলব বর্তুল স্তন-দুটিকে, ইচ্ছে করে অনেকক্ষণ মর্দন করি ঈষৎ বাদামি স্তনদুটি। অকারণে হাত চলে যায় সাটিনের মতাে মসৃণ নার্ভিদেশে। নেমে আসে আমার আঙুল নির্লোম নাভিমূলে।

বেচারি মেয়েটি নীরবে সহ্য করে নারীত্বের এই চরম অপমান। প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা তখন নেই তার। অচিরেই আমি পিচ্ছিল স্ত্রীঅঙ্গে প্রবেশ করাই আমার তর্জনী। এমনভাবেই শেষ হয় আমার অনুসন্ধান।

এরপর আবদাল্লার কাছে জানতে চাই যে, কত দাম দিতে হবে তার জন্যে?

আবদাল্লা সবিনয়ে জানায় যে, যদিও তার আসল দাম বারাে পার্স, কিন্তু এখন আট পার্স পেলেই তাকে বিক্রি করতে রাজি আছে সে। আমি দর হকি সাত পার্স। এতে রাজি হয় আবদাল্লা। উত্তরে আমি জানাই এর বেশি অর্থ দেবার মতাে সাধ্য নেই আমার কাছে। তারপর জানতে চাই যে, কোন দেশ থেকে আনা হয়েছে তাকে।

আবদাল্লা জানায় যে—সে হল ফরাসী তনয়া। এতে আমি যেন অবাক হই অনেকটা। ফরাসী ভাষায় প্রশ্ন করি তাকে– সত্যি সত্যি সে ঐ দেশের কন্যা কিনা।

পরিচ্ছন্ন ফরাসীতে মেয়েটি জবাব দেয়—সে ব্রিটিশ তনয়া। কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে আসে তার সজল আবেগে। অনুরােধ করে সে, ঐ দাম দিয়ে কিনে নিতে তাকে, প্রতিশ্রুতি দেয় আমার চরম শারীরিক সন্তুষ্টির। শব্দাবলীতে তার পুলকিত হবার ভান করি আমি। জানতে চাই বংশমর্যাদা। অনেক কথাই বলে সে। বারবার অনুরােধ করে আমায়, যেন তাকে এমনভাবে একলা রেখে চলে না যাই আমি। তাকে যেন রক্ষা করি আবওঁ বেশি অপমানের হাত থেকে।

চোখের জলে মন ভিজে যায় আমার। রাজি হই আবদাল্লার কথায়। মেয়েটিকে পরিত্যাগ করতে পেরে খুশির ঝিলিক ঝলসে ওঠে, আবদাল্লার চোখে। আমি বলি তার জন্যে আনতে পাল্কী দিয়ে যাই কিছু অর্থ, পােশাক কেনার। তারপর ফিরে যাই আমার নতুন বাসগৃহতে।

ইতিমধ্যে আমি ছদ্মবেশ নিয়েছি এক ফরাসী ডাক্তারের। এমনভাবেই মন জয় করব তার। আমার চেম্বার থেকে গােপন একটি পথ আছে শশাবার ঘর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পথেই শুরু হবে আমার পরিভ্রমণ। সেই ঈপ্সিত মুহূর্তটি আগতপ্রায়।

আমার অবর্তমানে আবদাল্লা তাকে জানায় যে, আমি হলাম আলজিরিয়ার সবচেয়ে নাম করা ফরাসী চিকিৎসক। শুধু তাই নয় আমি ফ্রান্সের ডেপুটি কনসালের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। আবদাল্লা তাকে জানাতে ভােলে না যে, ভাগ্যক্রমেই সে এমন এক খদ্দের পেয়েছে।

ফিরে এসে দেখি আমি, আমার কিনে দেওয়া পােশাক তার পরনে। দেখে তাকে মনে হচ্ছে স্বর্গের কোনও পরী বুঝি। ভুল করে নেমে এসেছে মতো। নিরুদ্দেশ মনের ভাবনা তার। ওড়নার আড়ালে প্রস্ফুটিত লাবণ্যে ঢলঢল মুখখানি। চড়ে বসল সে পালকিতে। অনতিবিলম্বে পৌঁছে গেল আমার গােপন বাসগৃহে। সুন্দর করে সাজানাে হয়েছে বিরাট ঘরটিকে। করা হয়েছে তাকে আমার মতাে পদমর্যাদা সম্পন্ন মানুষের থাকার পক্ষে মানানসই।

পাশেই আছে ছােট একটি ঘর। মাঝে ঝুলছে সিল্কের পর্দা। সেই ঘরটিতে রচিত হবে আমার সুখের শয্যা। তার হাতে হাত রাখতে দেখি, থরথর করে কাপছে করতলদুটি। এখনও প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে সে। বলি তাকে—এবার থেকে এখানেই থাকতে হবে তাকে। জানাই তাকে এখুনি আমার এক রমণী এসে নিযুক্ত হবে তার পরিচর্যায়।

আমার কথা শুনে অবাক হয় থিয়ােডেরা। জানতে চায় একথার মানে। জানাই তাকে এদেশের নিয়মানুসারে একজন পুরুষ নিজস্ব অর্থ ও ক্ষমতা অনুযায়ী যত খুশি মেয়েকে কিনতে পারে, যেমনভাবে আমি কিনেছি তাকে। এমন আরও দুটি রমণী আছে আমার আঁলবাসার রাজপ্রাসাদে। যেহেতু আমি প্রােটেস্ট্যান্ট খ্রীষ্টান, তাই মুসলিম রমণীর পাণিগ্রহণ করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।

ধীরে ধীরে অনেক সহজ সরল হয়ে আসে থিয়ােডেরার কথা বার্তা। সে সলাজ চোখে তাকায় আমার মুখের দিকে। জানতে চায় আমি তার করুণ অবস্থার সুযােগ নিয়ে করব কি তাকে শয্যাসঙ্গিনী আমার? অপেক্ষা করে সে নিঃশ্বাস বন্ধ করে।

আমি ধীরে ধীরে হাত রাখি তার হাতে, কটিদেশ জড়িয়ে ধরি। আশ্বাসী গলায় বলি—তােমার কোনও ভয় নেই শ্বেতাঙ্গিনী, আমার কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদেই থাকবে তুমি। কিনেছি আমি তােমায় এই কারণে যে, ফিরিয়ে দেব তােমাকে তােমার স্বদেশভূমিতে।

এই বলে তাকে আর কোনও কথা বলার সুযােগ না দিয়ে ঠোট-দুটি স্পর্শ করি উত্তপ্ত চুম্বন পরশে। বেশ বুঝতে পারি আমি, অনেকখানি আশ্বস্ত হয়েছে সে, সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করছে আমার কথার ওপরে। পাঠিয়ে দিই কর্সিকার এক সুন্দরীকে তার ব্যক্তিগত সহচরী হিসেবে। যেহেতু মেয়েটি মাতৃভাষা ছাড়া জানে না। আর কিছুই, তাই কোন ভাবেই সে প্রকাশ করতে পারবে না। মনােভাব তার। আমার আসল পরিচয় উন্মুক্ত হবে না থিয়ােডেরার কাছে। মেয়েটিকে আমি বলে দিয়েছিলাম কেমনভাবে সাজাবে শ্বেতসুন্দরীকে। একঘণ্টা পর কাজ শেষ করে ফিরে আসে সে। ধীরে ধীরে আমি প্রবেশ করি থিয়ােডেরার আপন কক্ষে তাকে দেখে চোখে ধাঁধা লাগে আমার। কর্সিকার মেয়েটি তােকে সাজিয়েছে প্রাচ্যদেশীয় বারবিলাসিনীর বেশে। হার ‘কৃষ্ণবর্ণ চুলেরা অনায়াস অবহেলায় পড়ে আছে শঙ্খধবল কপােল।

চিৎকার করে উঠি আমি তোমার মত সুন্দরীকে কি করে উপেক্ষা করেছে সম্রাটের প্রধান অনুচব ভাবতেই পারছি আমি না। ও আমার মুখে সম্রাটের কথা শুনে অকস্মাৎ বেদনার ছায়া কাপে তার দুটি চোখের তারায়। সে বসে পড়ে তার কৌচের ওপর। তারপর অরুদ্ধ কণ্ঠস্বরে মিনতি জানায় আমাকে। এরপর আর কোনদিন আমি যেন তার সামনে সম্রাটের নাম উচ্চারণ না করি।

শপথ করি আমি, শুনব তার কথা। তারপর কণ্ঠস্বরে অজ্ঞতার আবরণ এনে জানতে চাই, কেন সে এতখানি বিরক্তি বােধ করছে সম্রাটের কথায়। যার সম্বন্ধে সে জানে না কিছুই সেই অচেনা পুরুষ কি করে বহন করছে এতখানি ক্রোধ? থিয়ােডেরা জানায়—সম্রাটের সব খবর জানা আছে আমার।

তারপর ধীরে ধীরে সে আমার অনুরােধে বলতে থাকে সব কাহিনী। কেমনভাবে তুমি আক্রান্ত হয়েছিলে আমার দ্বারা। ধর্ষণ করেছি আমি বারবার তােমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তার কথার ফাকে ফাকে আমি প্রকাশ করি বিস্ময়-শব্দ। জানায় সে সবকিছু; শুধু সুকৌশলে গােপন করে যায় তার শেষ চিঠিখানির কথা। তারপর সে জানতে চায় আজ সকালে আবদাল্লা আর হাসানের কথাবার্তার মধ্যে যে শােকসংবাদটি পোঁচেছে তার কাছে, তার সত্যতা কতখানি। সত্যিসত্যিই কি সম্রাট গলা টিপে হত্যা করেছে তার প্রিয়বান্ধবী এমিলিকে?

প্রত্যুত্তরে আমি জানাই—কোনকিছুই অসম্ভব নয় সম্রাটের পক্ষে। বিশেষ করে কোনও রমণী যদি তার বিরুদ্ধাচরণ করে তাহলে অনায়াসে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে তাকে। দেখি এতে আরও শঙ্কিত হয়েছে সে। তার প্রিয়তমা বান্ধবীর শােকাবহ পরিণতিতুে সত্যিসত্যিই ব্যথা পেয়েছে মেয়েটি।

পাশাপাশি বসে বধ করি নৈশ আহার। জানাই তাকে, আগামীকাল সকাল থেকে ব্যস্ত থাকব আমি আমার রােগীদের নিয়ে। বিকেলে সময় হলে চিঠি পাঠাব ফ্রান্সে তার বন্ধুদের কাছে। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। তাকে আমি সমুদ্র পার্শ্ববর্তী উদ্যানে নিয়ে যাই। আমার নির্দেশে সেখানে আর কারুর প্রবেশের অধিকার নেই। হাতে হাত রেখে নিঃশব্দ পদচারণায় আমরা পার হই বিস্তীর্ণ বেলাভূমি।

ক্রমশ থিয়ােডেরা ফিরে পায় তার হারানাে শক্তি আর সাহসকে। অনেকক্ষণ ধরে এমনভাবে হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে ক্লান্তি এসে গ্রাস করে আমাদের। আমরা প্রবেশ করি নিষিদ্ধ হারেমে। এসেছিল সে নম্র সকালের আলােয়। এখন তাতে মধ্যদিনের উজ্জ্বলতা। পাঠিয়ে দিই তাকে তার নিজস্ব আপার্টমেন্টে।

করতল স্পর্শ করি চুম্বনে। আশ্বস্ত করি তাকে যে, আগামীকাল যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি পেশাগত কর্তব্য সম্পাদন করে আসব ফিরে তার কাছে। তারপর তারই সেবাতে অতিবাহিত হবে আমার বাকি সময়। এই সেবা’র আসল পরিচয় যে কি তা ভাবতেই পারেনি বেচারি মেয়েটি।

নিয়ােজিত করি এক বাদীকে তার যত্নের জন্যে। বলতে পারে সে ফরাসী ভাষা। ধীরে ধীরে শেষ হয় পরের সকালটি।

আসন্ন সন্ধ্যার প্রাকমুহূর্তে হাজির হই তার নিজস্ব কক্ষে। চেয়ারে বসে লিখতে শুরু করি থিয়ােডেরার ফরাসী বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে। সামনে বাতায়ন পথে উন্মুক্ত বালুকাবেলা। হঠাৎ আমার এক পরিচারক সঙ্কেত-ডাকে শিহরিত করে আমাকে। গবাক্ষপথে চোখ মেলে তাকাই আমি। বিস্মিত হয়ে বলি, ও এখানে কি করছে?

থিয়ােডেরা দেখতে পায়, অলিন্দ পথে ছুটে আসছে হাসান। আসন্ন দুর্যোগের ঘনঘটমি কঁপতে থাকে শীর্ণা তনুবাহার তার। সে সজোরে আঁকড়ে ধরে আমাকে। গলা জড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে ঈশ্বরের দোহাই রক্ষা করুন, রক্ষা করুন আমায় ঐ পাষণ্ড নরপিশাচের হাত থেকে।

—মনে হচ্ছে কোন কিছুই আর করতে পারব না আমি। কিন্তু এখনও এতটা উৎকণ্ঠিত হবার কোনও কারণ ঘটেনি তােমার।

তারপর ডাকি আমার পার্শ্বচরকে। তাকে বলি, যদি হাসান। এসে আমার খোঁজ করে তাহলে সে যেন জানায় তাকে যে, আমি আমার এক ক্রীতদাসীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছি ছুটি কাটাতে।

এই বলে থিয়ােডেরাকে নিয়ে আমি প্রবেশ করি গােপন প্রকোষ্ঠে। কিছুক্ষণ পরেই শুনতে পাই প্রচণ্ড চিৎকারের শব্দ। হাসানকে সঙ্গে নিয়ে আমার পার্শ্বচর প্রবেশ করে সেই কুঠুরিতে।

— দেখছ তাে এখানে লুকিয়ে নেই প্রভু আমার।

—সম্রাটের আদেশ অনুসারে এখুনি হাজির করতে হবে সেই ব্রিটিশ রমণীটিকে। কাল ক্রীতদাসীর হাট থেকে তাকে কিনিনি বলে অত্যন্ত রাগ করেছেন উনি। হাসান দ্রুতস্বরে উচ্চারণ করে আসন্ন মৃত্যুর ছায়া তার সর্বাঙ্গে।

হাসানের কথায় অতিমাত্রায় সচকিত হয়ে আরও জোরে আঁকড়ে ধরে আমাকে থিয়ােডেরা। ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে সে। আমি ঠোটের স্পর্শে থামাই তার বােবা কান্নাকে। জানাই তাকে জীবন দিয়েও রক্ষা করব সম্মান তার। কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যায় হাসান। যাবার আগে জানিয়ে যায় আমার সন্ধানে সে যাবে গ্রামের বাড়িতে শ্বেতাঙ্গিনী মেয়েটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত উদ্ধার নেই তার।

হাসান চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসি আমার চোরা কুঠুরি থেকে। পাঁচ ছ’ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসবে হাসান। যা করার করতে হবে তার আগে। এত তাড়াতাড়ি আলজিরিয়া থেকে চলে যাওয়া সম্ভব নয়।

” হারিয়ে গেছে চেতনা আমার কি করব বুঝে উঠতে পারছি না। এমনই ভান করতে হলাে আমাকে। তখনও আমাকে জোরে আঁকড়ে বসে আছে থিয়ােডেরা। কাঁদতে কাদতে বলছে—সম্রাটের হাতে তুলে না দিয়ে তাকে যেন হত্যা করি আমি।

দেখতে দেখতে কেটে যায় সময়। তিন তিনটি ঘণ্টা হল অতিবাহিত। প্রতি মুহূর্তে তার হতাশা ক্রমেই বেড়ে উঠছে। শায়িতা সে আমার পাশে এখন। তার কপালে আমার প্রশ্রয়ী হাত। হঠাৎ আমি চিৎকার করে ডাকি আমার পরিচারককে, জানতে চাই সে সত্যিকারের ধার্মিক কিনা। জবাবে সে জানায় যে—যে হলাে ধর্মানুরাগী।

তখন আমি উদ্বিগ্নভাবে জানতে চাই, তােমাদের কোরাণে লেখা আছে একজন সৎ মুসলমান অন্যের স্ত্রীর সতীত্ব হরণ করে না।

—ঠিকই বলেছেন আপনি। এটাই আল্লার নির্দেশ।

আমার আদেশে নিয়ে আসা হয় পবিত্র গ্রন্থ কোরাণ। পরিচারক উন্মুক্ত করে সঠিক অংশটি। ফরাসী অনুবাদ করে শােনায় থিয়ােডেরাকে। যদি বাঁচতে চাও তাহলে একটাই পথ খােলা আছে তােমার কাছে। কণ্ঠস্বরে গম্ভীরতা এনে বলি আমি। জানতে চায় সে, কি করতে হবে তাকে।

–এখুনি বিয়ে করতে হবে আমায়। তাহলেই তুমি রক্ষা পাবে সম্রাটের কামের আগুন থেকে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয় সে। এছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না তার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে চিঠি পাঠাই আমি ইংলিশ কর্মল ফ্যামিলির প্রােটেস্ট্যান্ট মিনিস্টারের কাছে। আমার নির্দেশে চিঠিতে সই করে থিয়ােডেরা। আমিও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করি। পাঠানাে হয় চিঠিখানি। এই সবই করা হচ্ছে তার বিশ্বাস উৎপাদনের জন্যে। এর কোনােকিছুরই নেই কোনও সত্যতা।

অনতিবিলম্বে এসে হাজির হয় হীরের ব্যবসায়ী ইংলিশ ইহুদি বেন আইজ্যাক, আগে থেকেই বলা ছিল তাকে। সাজবে সে পাদরীর বেশে। তার সাহায্যে শেষ হবে আমার ষড়যন্ত্র। তৈরি ছিল বিয়ের আংটি। ঘােষিত হয় শর্তাবলী। নিয়মানুসারে আলাদাভাবে ডাকা হয় থিয়ােডেরাকে।

কিছুক্ষণ পরে ইহুদি ডেকে পাঠায় আমাকে। পরে তার কাছ থেকে জেনেছিলাম যে, থিয়ােডেরা জানতে চেয়েছিল সত্যি সত্যিই আমি খ্রীষ্টান কিনা। এই সন্দেহের অবসান করেছিল ইহুদি। তখন পরিপূর্ণভাবে রাজি হয় থিয়ােডেরা।

শুরু হল সাজানাে বিয়ের অনুষ্ঠান। ধীরে ধীরে থিয়ােডেরা উচ্চারণ করে শপথ বাক্য। অনুষ্ঠান শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে আবেগের আতিশয্যে সে জ্ঞান হারায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিদায় জানাই আইজ্যাক ও তার অনুচরদের।

থিয়ােডেরার অচেতন দেহটি কোলে করে নিয়ে যাই শােবার ঘরে। কৌচে শুইয়ে দিই তাকে। হাত রাখি তার কামনার গােপন ত্রিভুজে। চুম্বনচিহ্ন এঁকে দিই সেখানে। ঠোটের স্পর্শে চেতনা ফিরে আসে তার। তার অসম্ভব কালাে চোখের তারায় ফুটে ওঠে করুণ অনুরােধ এক। পরক্ষণেই লজ্জার আবেশে চোখ বন্ধ করে সে।

ধীরে ধীরে জানাই তাকে, এদেশের নিয়ম অনুসারে যতক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীর গােপন অঙ্গে স্বামীর যৌবনদণ্ড স্থাপিত না হচ্ছে ততক্ষণ বিবাহ লাভ করে না তার বৈধতা। এমনকি যদি এখন ফিরে আসে হাসান তাহলে সে আমাকে নিয়ে যেতে পারে সম্রাটের কাছে। কাজেই নিজের জীবনের স্বার্থেই থিয়ােডেরার উচিত আমার সঙ্গে মগ্ন হওয়া যৌনখেলায়।।

আমার কথায় মিশেছিল এমর্ম কর্তৃত্ব সহজেই রাজি হল সে। যদিও এই নিবেদনের মধ্যে অন্তঃসলিলা নদীর মতাে প্রবাহিনী ছিল গভীর অভিষ্ণ, তবুও নিজেকে সে উন্মিলিত করল তার স্বামীর কাছে। শুরু হল আমার প্রণয় অভিসার। ধীরে ধীরে তাকেঞাস করেছি আমি লােভী উর্ণনাভের মতাে। এখন দীর্ঘক্ষণ ধরে চলবে আমার পঙ্কিল প্রণয় পালা।

সত্যি তারিফ করার মতাে সৌন্দর্য আছে মেয়েটির। তােমরা যারা দূরদ্বীপবাসিনী ঈশ্বর কি তাদের সৃষ্টি করেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে? মাথায় একরাশ মায়াবি চুলের বন্যা, অমানিশা রাত্রির মতাে কৃষ্ণ অক্ষিপটে লুকিয়ে আছে নিঝুম, নিখাদ রহস্য এক, বর্তুলাকার সুডৌল স্তন দুটি ডাক দেয় মধ্যরাতে দুরন্ত অভিযানে, দুর্মর কামনার আবেশী আতিশয্যে ভরা নাভিদেশে ঢল নেমেছে। প্রথম যৌবনের বিধ্বংসী টাইফুনের মতাে সৃষ্টিকে লণ্ডভণ্ড করার সংকেত লেখা আছে নাভিমূলে তার।

আদর সােহাগে তাকে ভরিয়ে তুলছি উন্মাদের মতাে। মাঝে মাঝে অস্ফুট আর্তনাদে সে প্রকাশ করছে তার লজ্জানত। মনের আবেগকে। যদিও সাজানাে বিয়ের মাধ্যমে হয়েছে সে। আমার ধর্মপত্নী, কিন্তু অতি দ্রুত ঘটে যাওয়া এতগুলি ঘটনার চমকে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারছে না অসহায়া নারীটি। তার ওপর মনের মধ্যে সদাসর্বদা জাগ্রত আছে, সম্রাটকর্তৃক নির্যাতিতা হবার গভীরতম আশঙ্কা এক।

শরীরের খেলায় অভিজ্ঞ খেলােয়াড় হয়ে কর্ষণ করছি। উর্বর জমি তার। জানি আমি, আজকের পরিশ্রমে উৎপন্ন হবে সােনালি ফসল। চারুশীলা, মণীয়া মেয়েদের এমনভাবেই ধীরে ধীরে অধিকার করতে হয়, ভাঙতে হয় তাদের কুমারীত্বের অহংকার, জাগিয়ে তুলতে হয় কামনা বাসনার ধিকিধিকি অগ্নিশিখা। তখন তার শরীর রক্তের স্বাদে হয়ে ওঠে হিংস্র বাঘিনী।

শুয়ে আছে সে পাশে আমার। স্তন দুটি আনমনে খেলা করে আমার প্রশস্ত বুকে। নিঃশ্বাম্বুেলেছে স্তনশীর্ষ। একহাত দিয়ে দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে ধরেছি, কৈ, অন্য হাত খেলা করছে এখানে ওখানে। কখনও ছুয়ে যাচ্ছে চিবুক তার, কখনও আবার আনমনে স্পর্শ করছে কানের লতি। কখনও আবার মর্দন করছে গােলাপি স্তনাগ্র তার। অবশেষে হাত রাখি কামনার গােপন সুড়ঙ্গে। পিছিল যােনিপথে প্রবাহিত হয় আঙুল আমার।

থরােথরাে করে কাঁপতে থাকে সে। ভারী হয়ে উঠতে থাকে নিঃশ্বাস। অনুরােধ করে সে, সরিয়ে নিতে আমার হাত। প্রার্থনা করি একটি চুম্বনের। কথা শােনে সে আমার। হয়ে উঠি আমি আরও বেশি আগ্রাসী। শুরু হয় শরীরের মারাত্মক যুদ্ধ। আমার প্রচণ্ড কামনার কাছে পরাজিত হয় নারীটি। মাঝে মাঝে অস্ফুটে উচ্চারণ করে—দোহাই তােমাকে, এখনি নয়। আজ রাতে কিছু কোরাে না আমায়। কথা রাখি না তার। প্রবল প্রয়াসে প্রসারিত করি উরুদুটিকে। নিক্ষেপ করি আমার উথিত দণ্ডটিকে। দুজনেই ভাসতে থাকি কামনা প্রবাহে।

দীর্ঘায়িত করতে চাই খেলা আমার। ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। প্রত্যুত্তর দিচ্ছে আমার আক্রমণের। দুজনের ধারাবাহিক স্পন্দনে দলিত, মথিত, স্পর্শিত হতে থাকে অহংকারের চিহ্নটি আমার। অবশেষে উত্তপ্ত লাভাস্রোত নির্গত হয় সেখান থেকে, প্রশমন হয় কামনা আমার। তখনও পাশে শায়িতা সে একেবারে বে-আব্রু হয়ে। এবার তাকে আদেশ করি করতলে বন্দি করতে আমার দণ্ডটিকে।

এতক্ষণ নীরবে অত্যাচার অনেক সয়েছে সে আমার। এবার অরুদ্ধ কণ্ঠে বলে-ভগবানের দোহাই, আর আমাকে কষ্ট দিও না। দয়া করাে, এতটুকু করুণা করাে এই হতভাগিনী রমণীটিকে। তখন আর কিছুই করণীয় নেই আমার। নগ্ন নারীর শরীরের স্পর্শে উদগ্র কামনায় ছটফট করছে পুংদণ্ডটি। জোর প্রয়ােগ করতে হল তার ওপর। তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আবার প্রবেশ করাই তা ঈপ্সিত গহ্বরে। প্রবলভাবে মন্থন করতে থাকি লোভনীয় স্তনযুগল। নিষ্পেষণের চাপে দমবন্ধ হয়ে আসে তার। মুখ দিয়ে নিঃসৃত হয় প্রবলতর দুঃখের অস্ফুট শব্দ, প্রথম প্রয়াসে পুরােপুরি অপ্রবিষ্ট হয় না দণ্ডটি আমার। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সে পৌঁছোয় গভীর গােপন সুড়ঙ্গে। পরবর্তী স্পন্দন তাকে ঠেলে পাঠিয়ে দেয় দুরতম জলজ অরণ্যে। চতুর্থ বা অন্তিম প্রয়াস সম্পূর্ণ করে এই দূরন্ত অভিযান। আমার সমস্ত সত্তা এখন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে তার সাথে, কোথাও এতটুকু ফাক বা ফঁাকি নেই তার। শিহরিত উত্তেজনায় চোখ দুটি বন্ধ করে সে।

প্রবলতর আক্রোশে আমি বারবার ঝড় তুলি আমার সারা দেহে। ঝড়ের সেই মারাত্মক সঙ্কেতে পথ হারায় শ্বেতাঙ্গিনী কন্যাটি। আবার পরিপূর্ণ হয় যােনিদেশ তার জীবনের রসে। অনেকক্ষণ থাকি তার প্রতি উপগত। নিজেকে তার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ঘােষণা করি দৃপ্তকণ্ঠে– শেষ হয়েছে খেলা আমার। হারাবার মতাে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তােমার। ছিলে তুমি অস্পর্শিত কুমারী, পরিণত হয়েছ এখন অনুগতা শয্যাসঙ্গিনীতে। ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে একমাত্র কর্তব্য তােমার, স্বামীর দেহের চাহিদা পূরণ করার। তােমার সার্বিক সহযােগিতা ছাড়া আনন্দঘন হবে না মিথুনের এই রােমাঞ্চিত মুহূর্তগুলি। তুমিই পারবে তােমার ভালবাসায় ভরিয়ে তুলতে অন্তর আমার।

দেখবে তুমি যন্ত্রণাদগ্ধ হবে না মন আর। শরীরের সর্বত্র রিমঝিম বৃষ্টির মতাে বাজবে অনাস্বাদিত সুখের অনুভূতি।কথা বলতে বলতে শুরু হয় আমার কাজ। এবার আমি হরণ করতে চলেছি তার দ্বিতীয় কুমারী পথের লজ্জা। আমাকে এমনভাবে অগ্রসর হতে দেখে শিহরিত হয়ে ওঠে সে। সাধ্যমতাে চেষ্টা করে সৃষ্টি করতে রাধার প্রাচীর। আগের মতােই পরাস্ত হয় এই প্রয়াসে। ধীরে ধীরে আমি স্থাপন করি আমার উদ্ধত, দুর্বিনীত অঙ্গটিকে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কঁকয়ে কেঁদে ওঠে সে। অস্পর্শিত এই সুড়ঙ্গে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে শক্তিশালী অস্ত্রটি আমার। যখন সেটি সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে তার ভেতরে, সমস্ত শরীর ঠার উদ্ভাসিত হয় নবলব্ধ সুখের জ্যোতিপ্ৰভায়। আমরা দুজনে পা রাখি অদ্ভুত এক শিহরণের জগতে।

কতক্ষণ কেটে গেছে এইভাবে জানি না। চেতনা ফিরতে দেখি থিয়ােডেরা তখনও আত্মনিমগ্না। স্বপ্নসুখে নিমীলিত চোখ দুটি তার। ঘন কালাে আঁখি পল্লবে জমেছে উত্তেজনার ক্লান্ত শ্রান্ত স্বেদবিন্দু। ভালবাসার আশ্লেষে জড়িয়ে ধরি তাকে। জিভ দিয়ে স্পর্শ করি স্বেদ- বিন্দুগুলিকে। লবণাক্ত স্বাদে চমৎকৃত হই আমি। নগ্নিকা ভেনাসের প্রতিমূর্তি আমার থিয়ােডেরা, সদ্য| হারানাে কুমারীত্বের বিয়ােগ ব্যথায় জর্জরিতা, তখনও উদ্ভাসিতা সে প্রথম প্রেমের মায়াবি আলাের আলিম্পনে।

অনেকখানি পাল্টে গেছে থিয়ােডেরা। এখন আর আগের মতাে অকারণে দুঃখ প্রকাশ করছে না সে। বরং সাধ্যমতাে চেষ্টা করছে সহযােগিতা করতে আমায়। তার প্রশ্রয়ে আবার হয়ে উঠি অসংযমী। ক্ষণিকের বিহ্বলতায় চেষ্টা করি আবার তাকে দিতে স্বর্গসুখের সন্ধান। এবার সত্যি সত্যিই কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

—আমি আর পারছি না সহ্য করতে অত্যাচার তােমার। ক্ষমা করাে, আমায়। এতটুকু শান্তি দাও। আমাকে এমনভাবে টুকরাে টুকরাে কোরাে না রক্তাক্ত আঘাতে। এই বলে প্রবলভাবে চেষ্টা করে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে আমার থেকে। আগের মতাে আমি থাকি হৃদয়হীন। তৃতীয় বারের ঘটনাটিও ঘটে যায় মসৃণভাবে। নতুনতর ছন্দে দোলাই নিজেকে। করি অবগাহন তার কামনার সমুদ্রে।

সেই রাতে আরও দু’বার ধর্ষণ করেছিলাম তাকে। এমনভাবে সে মধুযামিনীতে সঁপেছিল নিজেকে আমার কাছে, পাঁচটি ভয়ঙ্কর স্পন্দনে। ধীরে ধীরে ভাের হয়ে আসে। এই ভাবে পৌঁছে যায় সে নিদ্রার জগতে আমি পৌঁছে যাই বাইরে। এবার আমায় দেখা করতে হবে হাসানের সঙ্গে।

সময়মতাে এসে হাজির হয় হাসান। সঙ্গে সঙ্গে ভাঙিয়ে দিই নিদ্রা তার। পরিস্থিতি বর্ণনা করি অতি দ্রুত। বলি তাকে—সম্রাট এখনও নিঃসন্দেহ নয় যে সত্যি সত্যিই তাকে আমি বিয়ে করেছি কিনা। শুধু বিয়ে করা নয়, তার ওপর স্থাপিত করেছি কিনা স্বামিত্বের সমস্ত অধিকার। এ জন্যে তাকে আবার দাঁড়াতে হবে হাসানের সামনে। এই শেষবারের মতাে কোনও পরপুরুষের সামনে উন্মােচিত হবে সে।

থিয়ােডেরা জানে বাধা দেওয়া মানে নিজেকে নিঃশেষে মৃত্যুর হাতে সমর্পণ করা। তাই নীরবে মেনে নেয় আমার সমস্ত নির্দেশ। হাসান এসে প্রবেশ করে শয়নকক্ষে তার। এক নিমেষে উন্মােচিত করে তাকে। প্রসারিত করে উরুদুটি, হাত দিয়ে স্পর্শ করে অনুভব করতে চায়, সত্যি সত্যি তার কুমারী জীবনের আবরণ ছিন্ন হয়েছে কিনা! অবশেষে নিঃসন্দেহ হয় সে, বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রবেশ করি সেখানে। দেখি তখনও কান্নার সমুদ্রে ভাসছে সে। মুছিয়ে দিই চোখের জল রেশমী রুমালে আমার। আদেশ করি ক্রীতদাসীকে করতে শুশ্রুষা তার। পাঠাই তার জন্যে সাদা সাটিনের পােশাক, হীরের দুল আর মুক্তোর কণ্ঠহার। সঙ্গে একটি চিঠিতে লেখা—প্রিয়তমা থিয়ােডেরা আমার, পাঠালাম তােমায় বিবাহের সামান্য উপহার।

বসে থাকি আমি পাশের ঘরে, একটু বাদে পরিচারকের দেহে ভর দিয়ে এসে সে দাঁড়ায় আমার সামনে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আমি বসাই আমার পাশে। সারা দেহে এঁকে দিই স্নিগ্ধ কোমল মায়াবি চুম্বনের শতসহস্র চিহ্ন।

ঝড়ের রাতে নিদহাৱা বিহঙ্গের মতাে মুখ বুজে সে পড়ে থাকে আমার বুকে নিরাপদ আশ্রয়ে। হাবভাব দেখে মনে হয় যে, সে ভুলেই গেছে সেই চরম সত্যটি—আমি রক্তাক্ত অভিসারে হত্যা করেছি তার কুমারী জীবনের সমস্ত স্বপ্নকে অথবা জেনেশুনে ক্ষমা করেছে আমাকে। অথবা কী বা করার আছে সেই অবলা নারীর ?

শেষ হয় নৈশ আহার। আর একটি তমিস্রাঘন রাত্রি এসে দাঁড়ায় আমার চোখের সামনে। নিজেকে প্রস্তুত করি উপভােগ করতে তাকে। দেখি তখনও প্রচণ্ড ক্লান্তিতে নিমগ্ন সে। দুঘণ্টার জন্যে ছুটি দিই তাকে। আদেশ করি, সে যেন এই অবসরে পা রাখে সুষুপ্তির জগতে আর শক্তি সঞ্চয় করে আসন্ন রমণক্রিয়ার জন্যে। ফিরে আসি ঠিক দু ঘণ্টা বাদে। দেখি সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গভীর ঘুমে অচেতনা থিয়ােডেরা। মাথাটি রেখেছে তার প্রসারিত হাতের ওপর। অন্য হাতটি মাথার ওপর তােলা। উন্মুক্ত কুক্ষিদেশ তার, প্রকাশিত কামনাবিহুল স্তনাগ্র দুটি।  ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ি তার পাশে, অনুভব করি নিঃশ্বাসের তপ্ততা। লালাসিক্ত চুম্বনে ভরিয়ে দিই ঈষৎ বিস্ফারিত ঠোটদুটি তার। অনিমেষ নয়নে প্রত্যক্ষ করি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রূপলাবণ্যকে।

গভীর দীর্ঘশ্বাস উৎসারিত হয় ভরাট বুক থেকে তার। অস্ফুটে কি যেন উচ্চারণ করে সে। তখনও ভাঙেনি ঘুম তার। আমার ধারাবাহিক দংশনের প্রাবল্যে ক্রমশ ঘুম ভাঙে তার। অর্ধনিমীলিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে সে। পড়তে পারে চোখের ভাষা, বুঝতে পারে কি ঘটতে চলেছে এখন। সৃষ্টি করে না বাধার প্রাচীর। মনে হয় সে যেন উঠে এল এক স্বপ্নভরা ঘুমের মায়াবি জগৎ থেকে। আবেগী কণ্ঠস্বরে জানতে চায় সত্যিসত্যিই তাকে আমি ভালবাসি কিনা। নিজেই পেয়ে যায় এই প্রশ্নের উত্তর। এ তার আত্মার গভীরে বেড়ে ওঠে দুরন্ত দামামা এক। সাড়া দেয় সে আমার ডাকে, হয় আমার অনুবর্তিনী। চোখের কোণে। ফুটে ওঠে আত্মনিবেদনের চাউনি।

আমার দেহের সঙ্গে নিষ্পেষিত করি তাকে। উচ্চারণ করি ভালবাসার শুদ্ধতম শব্দাবলী—থিয়ােডেরা, আমি জানতাম না তুমি সুন্দরী এত। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সম্পদ আহরণ করে বিধাতা গড়েছেন তােমায়। হবে তুমি আমার ইহজীবনের অঙ্গ কার। তােমার শরীর স্পর্শে আমি খুঁজে পাব অমরত্বের ঠিকানা।

এর আগে কত না রমণীর সাথে অতিবাহিত করেছি নিদ্রাবিহীন রাত্রি। থিয়ােডেরা যেন একেবারে অন্যরকম তাদের চেয়ে। তার স্নিগ্ধ, শান্ত সজল সৌন্দর্যের অন্তরালে নিঃসীম ব্যথার মৃদুমন্দ মূছনা। শুরু হয় আমার অলৌকিক অভিসার।

থিয়ােড়েরা, এখন তার তূণে তুলেছে কামনার বিষাক্ত তীর, চোখে জ্বলছে তার কামনার দুরন্ত আগুন, নিঃশ্বাসে মিশে যাচ্ছে নিঃশ্বাস, প্রকৃতির ডাকে দিয়েছি সাড়া আমরা। আত্মার গভীরে বেজে ওঠে মােহিনী অর্কেস্ট্রা। অতিরিক্ত সুখের আতিশয্যে, চোখ বন্ধ করি আমরা। নিমীলিত নেত্রে প্রত্যক্ষ করি আশ্চর্য দৃশ্যাবলী। মনে হয় আমার স্বর্গের সােপান দিয়ে নেমে আসছে নিষ্প্রাণ তরুণী এক, হাতে তার যৌবনের উজ্জ্বল দীপশিখা।

তার কানের কাছে ঠোট এনে জানতে চাই আমি সত্যি করে বলতাে আমায় কতখানি ভালবাসাে তুমি। আবেশে বন্ধ চোখ দুটি তার। অস্ফুট আর্তনাদ করে সে, ঘাড় নাড়ে অভিমানী কিশােরীর মতাে।

—এতেই কি তুমি সন্তুষ্ট হয়েছ? বল আর কি করে আমি খুশি করতে পারি তােমাকে। জানতে চায় থিয়ােডেরা।

তার প্রশ্নের কোনও জবাব দিই না আমি। বন্য হয়ে ওঠে আদিম লিপ্সা আমার। কোমল আনন্দ এসে অধিকার করে চেতনা আমার। আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি তার শিহরণ, কম্পন, অনুরাগ, উৎপ্রেক্ষা আর শৃঙ্গারের শতধাবিভক্ত ধারায়। ডুবে যাই বাসনার চোরাবালিতে। কামনার টাইফুন এসে আঘাত করে আমাকে। অবশেষে আমরা দুজনেই পথ হারাই শরীর সঙ্গমের রুক্ষ্ম মরু প্রান্তরে।

তারপর ঘটেছিল যে ঘটনা বিবরণ দিয়ে তার অকারণে ভারাক্রান্ত করতে চাই না তােমার মন। তবে জেনে রেখাে তুমি, নয় সে তােমার মতাে পরিশীলিত মনের অধিকারিণী, তাই সহজেই সাড়া দিয়েছে আমার বিকৃত সুন্দর আমন্ত্রণে।

সকাল হতে দেখি, অর্ধউলঙ্গ হয়ে সে শুয়ে আছে পাশে আমার। আনমনে পৌরুষের অহংকারকে বন্দি করছে করতলে তার। হঠাৎ পাশ ফিরে শােয় সে, অস্ফুটে উচ্চারণ করে হতভাগ্য এমিলি।

বুঝতে পারি আমি মন তার আচ্ছন্ন এখন যার চিন্তায়, আঁখি পল্লব থেকে গড়িয়ে পরে মুক্তো কণার মতাে চোখের জল তার। জানতে চাই আমি অসীম দুঃখের উৎস কোথায়। আমার বুকে মুখ লুকিয়ে বলে সে ছিলাম আমি অনভিজ্ঞ এক রমণী। তুমি আমায় শিখিয়েছ কামনার বর্ণমালা। রাঙিয়েছ মন আমার, তােমার পৌরুষের বাসনাও নীলরঙে। হতভাগ্য আমার, এসব ঘটনাকে বিদ্রুপ করে লিখছি চিঠি এমিলির কাছে। সত্যি কি সম্রাট গলা টিপে হত্যা করেছে তাকে?

জানতে চায় সে আকুল হয়ে সত্যি সত্যি আমি তাকে ভালবাসি কিনা।

উত্তরে বলি আমি–আমার আচরণে কি লেখা নেই অনন্ত ভালবাসার প্রতিশ্রুতি। লজ্জায় অবনত হয় মুখখানি তার।

তারপর সে জানতে চায় সম্রাট কি এত নিষ্ঠুর যে এমিলিকে হত্যা করেছে গলা টিপে? ঠোটের কোণে ফুটে ওঠে রহস্যমাখা হাসি।

এ ব্যাপার্কে, শেষ কথা বলার অধিকার নেই আমার। তবে সম্রাট যে ধরনের রাগী প্রকৃতির মানুষ, হতেই পারে এমনটি। নারীদের ঔদ্ধত্য সে কোনমতে সহ্য করতে পারে না। সে চায় পৃথিবীর সমস্ত রমণী ভালবাসবে তাকে, যােগ দেবে তার শরীরের খেলায়। আছে কি এমন কোনও রমণী যে নিবেদন করবে প্রেম তার প্রতি ? আবার জানতে চায় মেয়েটি।

মৃদু হেসে আমি জবাব দিই—তবে জেনে রাখাে, এমন কোনও নারী নেই যে সম্রাটের কামনার আগুনে জ্বলবে না, এটাই হল তার বিশেষত্ব। তাছাড়া রমণীমনের অতলে ডুব দিলে দেখবে তুমি, হল তারা বিচিত্ররূপিণী। প্রথমে যার প্রতি পােষণ করে তীব্র বিরক্তি, পরে সেই হয়ে ওঠে হৃদয়ের অধীশ্বর তার।

এই বলে তাকে আমি প্রগাঢ়ভাবে চুম্বন করি আর বলতে থাকি—যেমন ধর তােমার কথা। প্রথমে তুমি কত না অভিসম্পাত দিয়েছ আমায়, তারপর ভালবেসে ফেলেছ এই পাষণ্ড শয়তানটিকে। কি, আমি সত্যি বলছি তাে?

এই প্রশ্নের কোনও জবাব ছিল না থিয়ােডেরার কাছে। মুখ নামিয়ে নেয় সে লজ্জায়। বুঝতে পারি আমি সময় প্রস্তুত হয়েছে এবার। আমি অতি দ্রুত আলিঙ্গন করি তাকে। ঠোটে এঁকে দিই চুম্বনচিহ্ন। হাত রাখি ঊরুদেশে। এখন তারা আর প্রতিবাদী নয়। বরং আমন্ত্রণী কামনায় দীর্ঘ প্রসারিত। মনে মনে চাইছে থিয়ােডেরা কখন আমি মিলিত হব তার সঙ্গে এনে দেব অসাধারণ সুখের সন্ধান।

আমার অত্যন্ত দীর্ঘ অস্ত্রটি এবার ধীরে ধীরে প্রবেশ করাই তার মধ্যে। হাসিমুখে সে গ্রহণ করে এটিকে। বাসনাব্যাপকতায় রুদ্ধ হয়ে আসে কণ্ঠ তার। নিশ্বাস বন্ধ করে পড়ে থাকে সে। তার আবেশী চোখে, সিক্তা ঠোটে, মুখনিঃসৃত শীৎকারে লেখা আছে সুখী-সম্পৃক্ত রতিচিহ্ন। মনে হয় এক সংবেদনশীল রমণীর মতাে বারে বারে সে নিবেদন করছে নিজেকে আমার কাছে।

চলতে থাকে আমার আন্দোলন। উথাল পাথাল করে দিই। সমস্ত শরীর তার। সহ্য করতে পারে না সে এই কামনামদির বিহুলতাকে। নানাধরনের শব্দ বেরিয়ে আসে মুখ থেকে তার। ধাপে ধাপে পৌঁছে দিই তাকে সন্তুষ্টির সূর্বোচ্চ শিখরে। তারপর নির্গত করি জুলন্ত লাভাস্রোত আমাৰ তৃপ্ত হয় সে, সুখ এসে ধরা দেয় তার কাছে। এই প্রথম সে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিমগ্না থাকে আমার প্রতি। শেষ হয় এই রমণ অভিসার। নিজেকে বিচ্ছিন্ন করি তার থেকে। তখনও বন্ধ ঠোটদুটি তার। ঠোঁটের কোণে হাল্কা হাসির ছোঁওয়া। বুঝি সেই সদ্যসমাপ্ত সম্ভোগের স্মৃতি রােমন্থন করছে সে।

এইভাবে যে আমি কতবার থিয়ােডেরাকে করেছি আমার অঙ্কশায়িনী কে তার খবর রাখে। এমন করে পূরণ করেছি। প্রতিহিংসা আমার। আমায় যে চিহ্নিত করেছিল হৃদয়হীন পাষণ্ড হিসেবে এখন সেই ক্ষণে বিক্ষণে তৃপ্তা হচ্ছে আমার পৌরুষের আক্রমণে।

শেষ হয়েছে খেলা আমার। এবার আর প্রয়ােজন নেই। ছদ্মবেশ ধারণের। বরং তােমার সঙ্গে মিলিত করতে হবে তাকে। জানি আমি তাকে দেখে তােমার চোখে জমবে মুক্তবিন্দুর মতাে অশ্রুকণা, হয়তাে তুমি মনে মনে অভিসম্পাত দেবে তাকে, কেননা তাকে পাওয়ার পর আমি মাতি না তােমার শরীরের অরণ্যে মত্ত মৃগয়ায়।

তিন সপ্তাহ এইভাবে থিয়ােডেরাকে উপভােগ করার পর ভাবলাম আমি, আর প্রয়ােজন নেই অকারণে অবগুণ্ঠনখানি ঝুলিয়ে রাখতে। এবার উন্মােচিত ‘হােক সবকিছু। দেখি এক নাটকীয় সংঘাত। তাই আমি হাসানকে আদেশ করলাম নিয়ে আসতে তােমাকে থিমেরার গােপন প্রকোষ্ঠে। হয়েছে সে এখন ইচ্ছার অনুগামী আমার। তাই তাকে আমি বসাই কীচে সম্পূর্ণ উন্মােচিতা করি তাকে। নিজেও উলঙ্গ হই একেবারে। শােয়াই তাকে, মুখখানি রাখি নিচের দিকে, ফাক করে দিই উরুদুটি, উন্মুক্ত হয় প্রবেশ তােরণ, পুরুষদণ্ডটি স্থাপন করি সেখানে।

ঠিক এমন সময় প্রবেশ ঘটে তােমার। প্রথমে তােমরা কেউ কাউকে চিনতে পার না। তারপর চোখের সামনে সিলভিয়াকে দেখে অচেতন হয়ে যাও। হাসান তােমাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। আমি আবার শুরু করি আমার খেলা। জানতে চাই আমাকে ছেড়ে সে অন্য কোথাও যেতে ইচ্ছুক কি না! এমনকি যদি সম্রাট এসে দখল করে তার দেহ, তাহলেও কি সে আঁকড়ে থাকবে আমাকে?

কাপতে থাকে সমস্ত শরীর তার। সভয়ে সে প্রশ্ন করে –তুমি একথা বলছ কেন? —মনে কর সম্রাট আছে তােমার কাছাকাছি। –কি বলছ তুমি?

তখন জানাই তাকে নির্মম সত্যটি। গত একুশ দিন ধরে তুমি যার হাতে বারবার ধর্ষিতা হয়েছ সে আর কেউ নয়, সম্রাট। সেই তােমাকে দোহন করেছে বার বার, রাঙিয়েছে মন ভালবাসার রঙে। আমার কথায় একরাশ আবেগ এসে গ্রাস করে থিয়ােডেরাকে। নিমেষে নিশ্চল হয়ে যায় সে।

শুরু করি আমি খেলা আবার। ফিরে আসে চেতনা তার। বলতে থাকি আমি—এমিলিকে পাঠানাে তােমার চিঠিগুলি পড়েই আমি শপথ নিয়েছিলাম যে একদিন না একদিন করব তােমায় শয্যাসঙ্গিনী আমার। আজ পুর্ণ হয়েছে সেই অভিলাষ।

আরও জানাই তাকে—যে রমণীকে তুমি দেখলে একটু আগে, সে আর কেউ নয় শ্রোমার প্রিয় বান্ধবী এমিলি।

একথা শুনে আৱাত মুখ লুকোয় সে অচেতনতার অন্ধকারে। নির্গত হুমকণ্ঠ থেকে তার বিস্ময়সূচক শব্দের ঝংকার। এ কয়েকটি স্পন্দিত আলােড়নে আবার জাগাই তাকে। বলি—এবার মিলিত হও তােমরা দুজন। শেষ হােক এই মধুর খেলা। এর পরের কাহিনী জানা আছে তােমার। শেষ হয় সম্রাটের বক্তব্য।

বলতে দ্বিধা নেই আমার যতক্ষণ কথা বলছিল সে ততক্ষণ আমি আনমনে খেলা করছিলাম অহংকারের প্রতীকটি নিয়ে। আমার হাতের স্পর্শে সেটি এখন সুদৃঢ় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন বাদে তাকে গ্রহণ করার জন্যে উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠি আমি। সম্রাট অচিরেই পূরণ করে ইচ্ছে আমার।

এরপর শুরু হয় আর এক বিচিত্র অভিসার। পালা করে সম্রাট আমাকে আর সিলভিয়াকে ভােগ করতে থাকে। কখনও বা আমরা তিনজন একসঙ্গে অংশ নিই শরীরের এই খেলাতে। এমনটি চলতে থাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি আর সিলভিয়া পরিপ্লাবিত হই অনন্ত আনন্দে।  তারপরই ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা এক। শেষ হয় আমাদের অবিমিশ্র সুখের প্রহর।

এক ক্যাপ্টেন সম্রাটকে উপহার দিয়েছিল গ্রীক রক্ষিতা। মেয়েটি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করে সম্রাটের কাছে। প্রতিবাদের ভাষা ছিল না তার মুখে। কিন্তু যখন সম্রাট আক্রমণ করে তার দ্বিতীয় গহূরে, ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। জেগে ওঠে মনের মধ্যে হারকিউলিসের শক্তি যেন।

কোথা থেকে সংগ্রহ করে তীক্ষ ছুরি, তারপর এক আকাঙিক্ষত মৈথুনপর্বের প্রাক্‌মুহূর্তে বারবার আঘাত করে সম্রাটের পুংদণ্ডটির ওপর। সেটিকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে শরীর থেকে তার। রক্তের স্রোতে ভাসতে থাকে সম্রাট। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি নিজের বুকে বসিয়ে দেয় তীক্ষ্ণ ছুরিকাখানি, পৌঁছে যায় মৃত্যুর অন্ধকারে।

ছুটে আসে সবাই। অসীম প্রয়াসে বন্ধ হয় সম্রাটের উৎক্ষিপ্ত রক্তধারা। অনুরােধ করে সে ডাক্তারকে সম্পূর্ণ কর্তন করতে অঙ্গটি তার। যে অস্ত্রটি ছিল তার আদিগন্ত পৌরুষের দৃপ্ত প্রতীক এখন আর অবশিষ্ট নেই সেটি। বেশ কিছুদিন বাদে সম্রাট ডেকে পাঠায় আমাদের। দেখি তার কর্তিত দণ্ডটি সযত্নে রক্ষিত আছে কাচের বােতলে বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়। সেই দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সম্রাট। আমাদের জানায়, কয়েকদিনের মধ্যেই একটি জাহাজ যাত্রা করবে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। যেহেতু আমাদের কোনদিন আর প্রয়ােজন হবে না তার তাই চাইছে সে সেই জাহাজে করে পাঠাতে আমাদের স্বদেশভূমিতে। তার এই অভাবিত ঔদার্যে আমার হঠাৎ গর্ভপাত হয়ে যায়। দু সপ্তাহ ধরে আমি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। সিলভিয়া মায়ের যত্নে সারিয়ে তােলে আমাকে।

অবশেষে ধীরে ধীরে এসে উপস্থিত হয় বিদায় নেবার মুহূর্তটি। সম্রাট আমাদের হাতে তুলে দেয় কাচের বােতল যাতে সাজানাে তার নিহত অহংকার। সে আরও অনেক মূল্যবান উপহার সামগ্রী দেয় আমাদের। জানায় বিদায়, প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে আমরা যেন উপযুক্ত জীবনসঙ্গীর সন্ধান পাই। আর কাটাতে পারি জীবনের বাকি দিনগুলি অনন্ত আনন্দে।

আমরা জাহাজে উঠে বসি। নিরাপদে পৌঁছে যাই স্বদেশভূমিতে। বন্ধুরা জানত যে, আমরা ফ্রান্সের এক আবাসিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছিলাম এতদিন। জানে না তারা যে। আমাদের দিন কেটেছে আলজিরিয়ার সম্রাটের হারেমে।

কিছুদিন বাদে সিলভিয়া বিয়ে করে এক ব্যারনেটকে। শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে করে তার সঙ্গে অদ্ভুত অভিনয়। নিজের কুমারীত্ব অটুট আছে এমন ভান করে সে। মধুচন্দ্রিমার প্রথম দুটি রাতে অধর্ষিতা থাকার তৃতীয় রাতে উন্মুক্তা করে নিজেকে।

আমার কথা বলব কি আর।

তুমি তাে জানো কতখানি আবেগী আর সংবেদনশীল আমি। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি এই ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হব যে, আমার ভালবাসার মানুষ তার প্রচণ্ড শারীরিক দক্ষতা এবং মানসিক প্রশান্তিতে আমার শরীর এবং মন থেকে সম্পূর্ণ উৎপাটিত করতে পারবে সম্রাটের ছায়া, ততক্ষণ পর্যন্ত হব না। আমি কারও জীবনসঙ্গিনী।

আছে আমার তরুণী পরিচারিকা এক। নিজেই দায়িত্ব নিয়েছে সে ঘােচাতে আমার কুমারী জীবনের কলঙ্ক। একে একে দশ জন সুপুরুষ সুপ্রতিষ্ঠিত যুবক এসেছে আমার পাণিপ্রার্থী হয়ে। বর্তমানে আমি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট এক আইরিশ আর্লের ওপর। জানি না হয়তাে তাকেই শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে হবে।

তুমি নিশ্চয়ই জানতে চাও যে কি করেছি আমরা ঐ কাচের জার নিয়ে। সিলভিয়ার আছে এক বান্ধবী যে লন্ডনের বুকে চালায় অভিজাত আবাসিক বিদ্যালয়। আমরা জারটি উপহার দিয়েছি তাকে। বলেছি এটি আমরা পেয়েছি স্কুলে ভালাে আচরণের জন্যে।

ভাবতে কেমন লাগে বল, যখন ছােট ছােট মেয়েরা তাকিয়ে থাকে এর দিকে আর প্রতিজ্ঞা করে সৎ জীবনধারণের ! তােমাকে জানাই অনেক অনেক শুভকামনা।

তােমার প্রিয় বান্ধবী

এমিলি বারলাে

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *