কোকোজান – সা’দত হাসান মান্টো

›› অনুবাদ  ›› গল্পের অংশ বিশেষ  

অনুবাদঃ এ.বি.এম কামালউদ্দিন শামীম

চোখ

…….ডাক্তার সাদেক, পাঁচ-ছ’ মিনিট পর্যন্ত তাকে পরীক্ষা করল। তারপর সুইচ অফ করে দিল এবং আলাে জ্বালিয়ে বলল, বুক অত্যন্ত পরিষ্কার। মেয়েটি কি বুঝল কে জানে, পুরুষ্ট বুকে ওড়না পরিপাটি করে জড়িয়ে বােরখা খুজতে লাগলাে।…….

বাচনি

ধাঙ্গড়দের সম্পর্কে কথা হচ্ছিল। বিশেষত বিভাগ পূর্বকালে যেসব ধাঙ্গড় অমৃতসরে বাস করতাে তারাই ছিল আলােচ্য বিষয়। মজিদের বিশ্বাস অমৃতসরের ধাঙ্গ ডুদের মত উদগ্র যৌবন মেয়ে আর কোথাও পাওয়া যায় না। বিভাগ পরবর্তীকালে তারা কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে কে জানে!

রশীদ গুজরি ধাঙ্গড়দের প্রশংসা করছিল। মজিদকে সে বলল, অমৃতসরের ধাঙ্গড়রা যৌবনকালে অত্যন্ত আকর্ষণীয় থাকে এটা অস্বীকার করছি না, কিন্তু তাদের এ যৌবন বেশীদিন থাকে না। যুবতী হওয়ার পর দেখতে না দেখতেই তাদের যৌবন চলে যায়, তাদের যৌবন কোন চোর চুরি করে নেয় কি জানে! আমাদের ওখানে একটা ধাঙ্গড় কাজ করতাে, তার যৌবনের চমক দেখে নিজের দুর্বল যৌবনকে তুচ্ছ মনে হতো, এ জন্যে তার সাথে কখনাে কথাই বলতাম না! নাম ছিল ফাতেমা। খৃস্টান মিশনারীরা তাকে নিজেদের ধর্মে দীক্ষিত করে নেয়। ফাতেমা নাম হলেও বাড়ীতে তাকে ফাতু বলে ডাকা হতাে। কিন্তু খস্টান হয়ে যাওয়ার পর খৃস্টান মিশনারীর লোকেরা তার নাম রাখলাে মিস ফাতু। সকালে সে ব্রেকফাষ্ট করতো, দুপুরে লাঞ্চ এবং রাতে ডিনার। | কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা গেল তার উদগ্র যৌবন যেন বিগলিত হয়ে পড়েছে। তার উন্নত বুক করুণভাবে ঢলে পড়ল। অথচ তার তুলনায় আমাদের ঘরে উপল নিয়ে আসা মেয়েটির যৌবন অটুট ছিল। ধামন্তরিত ধাঙ্গড় আয় উপল নিয়ে আসা ধাঙ্গড় উভয়ের বয়স ছিল একই রকম। তিন বছর সে আমাদের এখানে কাজ করেছে, অথচ এর মধ্যে তার যৌবনের যেন কোন পরিবর্তনই হয়নি। পরে তার বিয়ে হয়ে যায়। তার কোমরের, ঘাড়ের একটুখানি স্পন্দনও ছিল দেখার মতাে। বিয়ের পর সে তিনটি সন্তানের মা হয়, অথচ সে যেন ঠিক আগের মতই রয়েছে। এজন্য বলছি গুজরি বাঙ্গড়দের কোন তুলনা হয় না, আমাদের এ কথা তােমাকে মানতেই হবে।………….

Please follow and like us:

Leave a Reply